তিপ্পি ডিগ্রি (Tippi Degre): আধুনিক যুগের মোগলী
জন্ম:
তার বাবা-মা ফ্রান্সের নাগরিক হলেও তার জন্মটা হয় আফ্রিকা মহাদেশের নামিবিয়াতে। তার বাবা-মা দুজনই ছিলেন ফটোগ্রাফার। তাদের ছবি তোলার বিষয় ছিল জীববৈচিত্র্য। নামিবিয়াতে বসবাসকালীন সময়ে তাদের ঘরে জন্ম নয় একটি মেয়ে সন্তান। যার নাম রাখা হয় “তিপ্পি ডিগ্রি (Tippi Degre)”।
পশুপাখির সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠার গল্প:
একটি ছবিতে দেখা যায় তিনি ঘুরে ঘুরে ফিডার খাচ্ছেন আর তার চারপাশে হাতির দল ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ তার মধ্যে ভয়ের কোনো ব্যাপার নেই। কিংবা হাতিগুলো তাকে কোনো আঘাত করছে না। আফ্রিকান শিশুদের সাথেই বেড়ে ওঠেন তিনি। তাদের সাথে বনে-বাদাড়ে ঘুরে বেড়ান ছোটবেলা থেকেই। তারাই তাকে গড়ে তোলেন তাদের মতো করে। বন্য প্রাণীদের সাথে ছোট্ট এক শিশুর সখ্যতা খুব তাড়াতাড়িই তাকে সারা বিশ্বে পরিচিত করে তোলে। বনের এমন কোনো জাতের প্রাণী নেই যার সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠেনি ছোট্ট এই শিশুটির। জ্যান্ত বাঘের সাথে খেলা করছেন, কিংবা হাতি তার শুড়ের সাথে পেচিয়ে তাকে নিয়ে ছুটে চলেছেন, জলজ্যান্ত সাপ গলায় পেচিয়ে রেখেছেন।
পশুপাখির সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠার কারণ:
তারা যে এলাকাটিতে থাকতেন সেখানে মানুষ জনের খুব একটা বসবাস ছিল না। তার খেলার সাথী তেমন কেউ ছিল না। তাই ছোট্ট শিশুটি বনের পশুপাখিকে খেলার সাথী ভেবে তাদের কাছে ছুটে যান। স্বভাবত হিংস্র হিসেবে পরিচিত হলেও পশুপাখিও অবুঝ শিশুটির দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেন।
উপরে যে ঘটনার বর্ণনা করা হয়েছে তা ১৯৯২-১৯৯৩ সালের। বর্তমানে “তিপ্পি ডিগ্রি (Tippi Degre)” একজন প্রাপ্ত বয়স্ক নারী। তবে ছোট্টবেলার মতো প্রাণীদের সাথে তার এখনো সখ্যতা রয়েছে। প্রাণীদের নিয়ে তিনি কয়েকটি বই লিখেছেন।
ভিডিও:
Post a Comment