খুব বোল্ডলি পৃথিবীর সব মিডিয়া এবার কান খাড়া রেখেছেন ‘সেরা অভিনেতা’র পুরস্কারটি নিয়ে। কারণ এবার অস্কারে ৬ষ্ঠবারের মত ‘সেরা অভিনেতা’র পুরস্কারের জন্য চূড়ান্ত লড়াইয়ে মনোনয়ন পেয়েছেন হলিউডের মেগাস্টার লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। এর আগে পাঁচবার সেরা অভিনেতার মনোনয়ন পেয়েও অস্কার বঞ্চিত হওয়ায় এবার অস্কারের জন্য এককভাবে সবচেয়ে বেশি দাবীদার হয়ে উঠেছেন ডিক্যাপ্রিও। এরইমধ্যে গোল্ডেন গ্লোব, বাফটা, স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড জয় করে অস্কার কমেটি ব্যাপক চাপে রেখেছেন তিনি।
গেল বছরে হলিউডের মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম আলোচিত ছবির নাম আলেজান্দ্রো গঞ্জালেস ইনারিতুর পরিচালনায় ‘দ্য রেভিনেন্ট’। যে ছবিতে অভিনয়ের জন্য মনে করা হচ্ছে অস্কার না পাওয়ার যে খরা ক্যাপ্রিওর আছে, তা ঘুচতে পারে এবার। অস্কারে সেরা অভিনেতা হিসেবে মনোনয়ন নিয়ে যখন চারদিকে চলছে হৈচৈ, তখন জেনে চলুন জেনে নেই আরো কিছু সুপারস্টারদের অস্কারে বেশি সংখ্যকবার মনোনয়ন পাওয়ার গল্প। যারা কখনোই ডিক্যাপ্রিওর চেয়ে জনপ্রিয়তা কিংবা দক্ষ অভিনেতা হিসেবে কম ছিলেন না। তাদের কেউ কেউ দেখা যায় দশবার অস্কারে মনোনয়ন পেয়ে মাত্র একবার অস্কারের স্বাদ পেয়েছেন।
এই হিসেবে বলা যায়, দূর্ভাগা শুধু ডিক্যাপ্রিও একা নন, তারচেয়ে অনেক বিশাল বিশাল তারকারাও অসংখ্যবার মনোনয়ন পেয়েও বঞ্চিত হয়েছেন অস্কার জয়ের স্বাদ নিতে। কিংবা এমনও হয়েছে যে দশবার মনোনয়ন পেয়ে পুরস্কার পেয়েছেন মাত্র একবার! হলিউড রিপোর্টারে প্রকাশিত এমন জরিপ অবলম্বনে এখানে দেখে নিন এমন দশ সুপারস্টারের কথা:
ডাস্টিন হফম্যান:
অসাধারণ এক অভিনেতার নাম ডাস্টিন হফম্যান। ক্যারিয়ারে অস্কারের জন্য মোট ৭বার অস্কারে সেরা অভিনেতা হিসেবে মনোনয়ন পেয়ে দুইবার অস্কার জেতেন তিনি। ১৯৮০ সালে ‘ক্র্যামার ভার্সেস ক্র্যামার’ এবং ১৯৮৯ সালে ‘রেইন ম্যান’ ছবিতে অভিনয় করে সেরা অভিনেতা হিসেবে অস্কার জেতেন তিনি।
রবার্ট ডি নিরো:
পৃথিবীর ইতিহাসে জনপ্রিয় অভিনেতাদের নাম নিলে সয়ংক্রিয়ভাবেই চলে আসে রবার্ট ডি নিরো’র নাম। অথচ তিনিও ডাস্টিন হফম্যানের মত ৭বার অস্কারে সেরা অভিনেতা হিসেবে মনোনয়ন পেয়ে দুইবার সেরা অভিনেতার অস্কার জয় করেন। ১৯৭৫ সালে ‘গডফাদার ২’ এবং ১৯৮১ সালে র্যাগিং বুল ছবির জন্য অস্কার জিতে নেন তিনি।
পিটার ও’টোল:
চলচ্চিত্রের লিজেন্ডারি অভিনেতা বলা হয় পিটার ও’টোলকে। ক্যারিয়ারে সর্বমোট আটটার অস্কার মনোনয়ন পেয়ে মাত্র একবার অস্বার জয়ের স্বাদ পান তিনি। তাও সেরা অভিনেতা হিসেবে নয়, বরং চলচ্চিত্রে তার অবদানের জন্য ২০০৩ সালে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার দেয় অস্কার কমেটি।
আল পাচিনো:
আল পাচিনো। গড ফাদার হিসেবেই তার পরিচিতি। সাটের দশক থেকে অভিনয়ে আসা এই অসাধারণ অভিনেতা তার ক্যারিয়ার অসাধারণ সব সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এ পর্যন্ত অস্কার অ্যাওয়ার্ডের জন্যও মনোনিত হয়েছেন মোট আটবার। কিন্তু সেরা অভিনেতা হিসেবে তার ভাগ্যে অস্কার জুটেছে মাত্র একবার! তাও ‘গডফাদার’ সিনেমায় অনবদ্ধ অভিনয়ের জন্য নয়, বরং ১৯৯৩ সালে ‘সেন্ট অব অ্যা ওমেন’ ছবির জন্য।
জ্যাক লেমন:
ক্যারিয়ারে তুমুল জনপ্রিয় আর মেধাবী অভিনেতা জ্যাক লেমনও অস্কার অ্যাওয়ার্ড-এর জন্য মনোনয়ন পেয়েছিলেন মোট আটবার। পুরস্কারও জিতেছেন তিনি। একবার সেরা অভিনেতা হিসেবে ১৯৭৪ সালে, ‘সেভ দ্য টাইগার’ ছবির জন্য। আর অন্যবার ১৯৫৬ সালে সাপোর্টিং রোলে অভিনয় করে। ছবির নাম ছিল মিস্টার রবার্টস।
মার্লোন ব্র্যান্ডো:
মার্লোন ব্র্যান্ডো তার ক্যারিয়ারে অস্কারের চূড়ান্ত পর্বে মনোনয়ন পেয়েছেন মোট আটবার। জিতেছেন দুইবার। সেরা অভিনেতা হিসেবে ১৯৫৫ সালে ‘অন দ্য ওয়াটারফ্রন্ট’ এবং ১৯৭৩ সালে ‘দ্য গডফাদার’ সিনেমার জন্য।
স্পেন্সার ট্রেসি:
ধ্রপদী সিনেমার অন্যতম তারকা অভিনেতা স্পেন্সার ট্রেসি। জীবদ্দশায় তিনি অস্কারের জন্য মোট নয়বার মনোনয়ন পেয়ে মাত্র দুইবার স্বাদ নিতে পারেন অস্কারের! ১৯৩৮ সালে ক্যাপ্টেন কারেজিয়াস এবং ১৯৩৯ সালে বয়েস টাউন ছবির জন্য অস্কার জিতেন তিনি।
পল নিউম্যান:
মোট নয়বার অস্কারে সেরা অভিনেতার মনোনয়ন পেয়ে পুরস্কার জিতেছেন মাত্র একবার! ১৯৮৬ সালে ‘দ্য কালার অব মানি’ ছবির জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেন তিনি।
লরেন্স অলিভার:
ফিল্মের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী অভিনেতা লরেন্স অলিভার। ‘অস্কার অ্যাওয়ার্ড’-এ মনোনয়ন পাওয়া অভিনেতাদের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। মোট দশবার অস্কারের মনোনয়ন পেয়ে জিতেছেন মাত্র একবার। তাও অভিনেতা হিসেবে নয়, নির্মাতা হিসেবে। ১৯৪৮ সালে ‘হেমলেট’ নির্মাণ করে সেরা নির্মাতার পুরস্কার জিতেন তিনি।
জ্যাক নিকলসন:
ক্যারিয়ারে জৌলুসময় অধ্যায় কাটিয়েছেন জ্যাক নিকলসন। ছয় দশকে অসংখ্য ক্লাসিক সিনেমা তার দখলে। সেই তুলনায় তিনি অস্কারে মনোনয়নও পেয়েছেন সবচেয়ে বেশি। মোট ১২বার অস্কারে মনোনয়ন পেয়ে সেরা হওয়ার পুরস্কার জিতেছেন মোট তিনবার। ১৯৭৫ সালে ‘ওয়ান ফ্রিউ ওভার দ্য কুকো’স নেস্ট’ ছবির জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে, এবং বাকি দুইবার সাপোর্টিং রোলে অভিনয়ের জন্য অস্কার জিতেন তিনি।
বাংলামেইল২৪ডটকম/এমটিএল/আরএইচ
Post a Comment