বছর জুড়েই সরব ছিল ছোটপর্দা। ঈদ, পূজা, ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে প্রচুর নাটক নির্মিত হয়েছে। পাশাপাশি বছরজুড়েই নাটকের একটা স্রোত ছিল। প্রতিষ্ঠিত নির্মাতারা যেমন বানিয়েছে, তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নতুনরাও সমানে কাজ করেছে। দুর্বল চিত্রনাট্যের কারণে বেশিরভাগ নাটকই মুখ থুবড়ে পড়েছে। তবে প্রাপ্তির খাতায় কিছু নাটক যে ছিলোই না তা কিন্তু না। বেশ কিছু নাটক সাড়া ফেলেছিল। প্রচারের আগে তো বটেই প্রচারের পরেও আলোচনায় ছিল। অভিনয়, নির্মাণ শৈলীতে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। তেমনই দশটি নাটক নিয়েই আমাদের এই আয়োজন।

► অনিমেষ আইচের নাটক ‘বুবুনের বাসর রাত’
নিতু নামে এক মেয়ের বাসর রাতের গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে নাটকটি। নিতু চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন ভাবনা। সঙ্গে অনিমেষ আইচের নির্মাণশেলী তো ছিলই। সবমিলিয়ে দর্শকদের মন জয় করতে পেরেছিল।
নিখাঁদ প্রেমের নাটক। নাটকটিই অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে সংগীতশিল্পী জন কবির ও অপর্ণাকে। রাফার মুখে ‘আমি আকাশ পাঠাবো’ গানটিও এখন সবার মুখে মুখে।
►সুমন আনোয়ারের ‘গুলবাহার’
ভিন্নধর্মী গল্প আর তিশার অনবদ্য অভিনয় ছিল চোখে পড়ার মতো। ন্যাচারাল অ্যাক্টিং করেছেন তিশা। বিপরীত ধর্মের একজন তরুণের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জটিলতা তৈরি এ নিয়েই। নাটকে নারীর অধিকার, সংগ্রাম, স্বাধীনতা প্রভৃতি বিষয় তুলে ধরেছেন নিখঁতভাবে। নাটকে নিশো, মামুনুর রশিদের অভিনয়ও প্রসংসার দাবী রাখে।
কোরবানীর ঈদের বেশিরভাগ নাটকই মুখ থুবড়ে পড়েছে দুর্বল চিত্রনাট্যের কারণে। থুবড়ে পড়া নাটকের ভিড়েও ঠিকেই কিন্তু দাঁড়িয়ে গেছে ‘দুষ্টু ছেলের দল’। স্ট্রং গল্পেই দর্শকতে ধরে রেখেছিল। সাধারণ ছয় সাত পর্বের নাটকগুলো নির্দিষ্ট সময়ে দর্শকরা দেখতে পারেনা। কিন্তু দর্শকরা অপেক্ষায় ছিল নাটকটির। পর্বগুলো এমনভাবে সাজানো ছিল একটার পর আরেকটা না দেখলেই মিস! তারকাবহুল নাটক বলা যেতে পারে। মোশাররফ করিম, ইশতিয়াক আহমেদ রুমেল ভালো অভিনয় করেছেন। মিথিলা, বাঁধনও মন্দ করেননি।
► সাগর জাহানের ‘সিকান্দার বক্স এখন নিজ গ্রামে’
সিকান্দার বক্স গত পাঁচবছরে একটি ব্র্যান্ডে পরিনত হয়েছে। সিকান্দার বক্স সিরিজের নাটকগুলো দর্শকরা লুফে নিচ্ছে। এবারের ঈদে প্রচারিত হয়েছে সিকান্দার বক্স সিরিজের শেষ নাটক ‘সিকান্দার বক্স এখন নিজ গ্রামে’। একই ডায়লগ বারবার দেখায় দর্শক খানিকটা বিরক্ত হলেও নাটকের দর্শকপ্রিয়তায় কোন কমতি ছিলনা। বরং বছরের দর্শকপ্রিয় নাটকগুলোর লিস্ট করলে উপরের সারিতেই থাকবে নাটকটি।
► মাহমুদ দিদার ‘ইটস মাই লাইফ’
শুরুতে নাম ছিল ‘রেইনবো’। পরে নাম পরিবর্তন করে ‘ইটস মাই লাইফ’ করা হয়। তিন নারীর জীবনের চাওয়া-পাওয়া নিয়ে নির্মিত নাটকটি প্রচারের আগেই তুমুল আলোচিত হয়। গোলাম আযমের ছেলেও নাটকটি প্রচারের নিষেধাজ্ঞার পক্ষে জনমত গড়ার চেষ্টা করে। তবে আটকে থাকেনি শেষ পর্যন্ত। প্রচার হয়েছে। তবে কিছু দৃশ্যের কাঁটছাট করে।
► ইউসুফ চৌধুরীর ‘ভালোবাসার বিশ বছর’
দীর্ঘদিন পর নাটকে জুটি বেধেছেন মৌসুমী-ওমর সানী। সাম্প্রতিককালে দুজনকে ক্যামেরার সামনে দেখা যায়নি খুব একটা। দুজনকে কাস্টিং করার পর থেকেই শুরু হয় আলোচনা। নব্বইয়ের দশকের আলোচিত জুটিকে একসঙ্গে পর্দায় দেখ মুখিয়ে ছিল দর্শকরা। স্বভাবতই নাটকটি নিয়ে প্রত্যাশাটা একটু বেশিই ছিল। তবে প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে গেছে নাটকটি। দুজনের সাবলিল অভিনয় মুগ্ধ করেছে।
► ইমরাউল রাফাতের ‘রুমডেট’
বছরের সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত নাটক। ফেসবুক-টুইটার ছেয়ে যায় সমালোচনায়। নাটকের অশ্লীলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সমালোচনাকে উস্কে দিয়েছিল নাটকের প্রমো। প্রমোতে আকার ইঙ্গিতে যৌনতাকে নির্দেশ করেছিল। কিন্তু নাটকটি রিলিজ হ্ওয়ার পর তার লেশমাত্র দেখা যায়নি। দর্শকরা নাটকটিকে যতোটা অশ্লীল ভেবেছিল আসলে ততোটা নয়। বরং গল্পটা প্রশংসিতই হয়েছে।
► ইমরান ইমনের ‘বয়সন্ধি’
ঈদুল আজহায় সমালোচিত হয়েছিল ‘রুমডেট’। পরের ঈদে থার্ডবেলের আরেক নাটক ‘বয়সন্ধি’ও শুরুতে সমালোচিত হয়। এক কিশোরের চা্ওয়া-পা্ওয়া নিয়ে এগিয়ে গেছে গল্প। গল্পের পাশাপাশি নিপুন অসাধারণ অভিনয় করেছেন। লোকেশনগুলোও ছিল চমৎকার।

► মাসুদ সেজানের ‘চলিতেছে সার্কাস’
মাসুদ সেজানের আগের দর্শকনন্দিত নাটক 'লং মার্চ' ও 'রেডসিগন্যাল'কেও ছাড়িয়ে গেছে নাটকটি। নাটকের গল্প, নির্মাণ মুগ্ধ করেছেন দর্শকদের। প্রচলিত অফিস কেন্দ্রিক গল্প থেকে বেরিয়ে এসে এবার সম্পুর্ণ পারিবারিক একটা গল্প বেধেছেন তিনি। নাটকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া হয়েছে আমাদের চারপাশে নানা ধরনের সার্কাস চলছে। আমরা শুধু দেখছি তা-ই নয়, নিজেরাও কখন যে সঙ সেজে সার্কাসের ভেতরে ঢুকে যাচ্ছি, টের পাচ্ছি না। তারকাবহুল এ নাটকে সবচেয়ে আলোচিত হয়েছেন মোশাররফ করিম ও মৌটুসী বিশ্বাস। দুজনের অভিনয়ই ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে ধারাবাহিকটিতে।
Post a Comment