স্মার্টফোনের মাধ্যমেই যেহেতু এখন মোটামুটি ভালো মানের ছবি তোলা যায়, তাই ডিজিটাল ক্যামেরা নাকি স্মার্টফোন, ফটোপ্রেমীরা নিজের সঙ্গে কোনটি বহন করবেন সে নিয়ে বিভ্রান্ত থাকেন।জেনে নিন স্মার্টফোন এবং ডিজিটাল ক্যামেরা- দুটিরই কিছু সুবিধা ও অসুবিধার বিষয়গুলো। আর তারপরে নিজেই সিদ্ধান্ত নিন দৈনন্দিন ছবি তোলায় কোনটি ব্যবহার করবেন, স্মার্টফোন নাকি ডিজিটাল ক্যামেরা।
ডিজিটাল ক্যামেরার সুবিধা :
অপটিক এবং সেন্সর : স্মার্টফোনের চেয়ে অপটিক্যাল জুম এবং সেন্সরে অনেক এগিয়ে ডিজিটাল ক্যামেরা। এমনকি বাজারে খুব সাধারণ যে ডিজিটাল ক্যামেরা রয়েছে, সেগুলোতেও ৫এক্স অপটিক্যাল জুম থাকে, আর দামী ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে জুম করা যায় ৩০এক্স পর্যন্ত। এছাড়া স্মার্টফোনের সেন্সরও ডিজিটাল ক্যামেরার সেন্সরের তুলনায় ছোট থাকে, যার প্রভাব পড়ে ছবির কোয়ালিটিতে।
সহজ ব্যবহার: স্মার্টফোনের তুলনায় ডিজিটাল ক্যামেরার অপশন ব্যবহার অনেক সহজ। স্মার্টফোনে বিভিন্ন ধরনের ছবি তোলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন মেন্যু থেকে বিভিন্ন অপশন ব্যবহার করা লাগে। কিন্তু ডিজিটাল ক্যামেরার অপশনগুলো এমনভাবে থাকে যে, তা সহজেই ব্যবহার করা যায়।
ম্যাক্রো শট: একটা সাধারণ ডিজিটাল ক্যামেরা যতটা উন্নত ম্যাক্রো শট নিতে পারে, সে বিবেচনা করলে দেখা যায় অনেক দামি স্মার্টফোনের ক্যামেরায়ও ম্যাক্রো শট ততটা উন্নত তুলতে পারে না।
ব্যাটারি লাইফ: স্মার্টফোনে যদি শুধু ছবি তোলা হয়, তাহলে হয়তো তার ব্যাটারি চার্জ খুব দ্রুত শেষ হয় না। কিন্তু স্মার্টফোনে যদি ভিডিও ধারণ করা হতে থাকে, তাহলে চার্জ খুব দ্রুত ফুরোয়। এ দিক দিয়ে ডিজিটাল ক্যামেরা ঢের ভালো। অনেক ডিজিটাল ক্যামেরায় এক চার্জেই টানা কয়েক ঘণ্টা ভিডিও ধারণ করা যায়।
পাওয়ারফুল ফ্ল্যাশ-লাইট: স্বল্প আলোতে ছবি তোলার ক্ষেত্রে ডিজিটাল ক্যামেরার সঙ্গে তুলনাই করা চলে না স্মার্টফোনের। ডিজিটাল ক্যামেরার সেন্সর বড় থাকায় বেশি আলো ধারণে সক্ষম, এর উচ্চ আইএসও রেঞ্জ স্বল্প আলোতেও পরিষ্কার ছবি তুলতে পারে। অধিকাংশ স্মার্টফোনের এলইডি ফ্ল্যাশ লাইট থাকে কিন্তু ডিজিটাল ক্যামেরার থাকে জেনন ফ্ল্যাশ যা এলইডির চেয়ে অনেকগুণ বেশি শক্তিশালী।
স্মার্টফোনের সুবিধা :
দ্রুত এডিটিং: ফটো এডিটিং-এর ক্ষেত্রে ডিজিটাল ক্যামেরার তুলনায় এগিয়ে স্মার্টফোন। ডিজিটাল ক্যামেরা খুব সাধারণ কয়েকটি এডিট অপশন থাকে তাই এডিটিংয়ের প্রয়োজন পড়লে তা কম্পিউটারে নিয়ে সফটওয়্যারের সাহায্যে এডিট করতে হয়। কিন্তু স্মার্টফোনের অ্যাপস দিয়ে খুব দ্রুতই ছবি এডিট করা যায়।
দ্রুত শেয়ারিং ও ব্যাকআপ: এক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে স্মার্টফোন আর অনেক পিছিয়ে ডিজিটাল ক্যামেরা। কেননা স্মার্টফোনে ছবি তোলার সঙ্গে সঙ্গেই তা খুব দ্রুত ইমেইল, সোশ্যাল মিডিয়া অথবা চ্যাটিং অ্যাপসের মাধ্যমে শেয়ার করা যায়। এছাড়া ক্লাউড সুবিধার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবির ব্যাকআপ রাখা যায় ক্লাউডস্টোরে।
উন্নত ডিসপ্লে: স্মার্টফোনের ডিসপ্লে বর্তমানে অনেক বেশি আধুনিক ও উন্নত। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বড় স্ক্রিনের স্মার্টফোনও রয়েছে বাজারে। ছবি এডিটিং ও নিখুঁতভাবে কালার ইফেক্ট ঠিক করা যায় স্মার্টফোনে। টাচস্ক্রিন সুবিধার হওয়ায় সহজে জুম-ইন ও উন্নত ভিউতে রোটেট ছবি তোলা যায়।
বহনযোগ্যতা: বহনের ক্ষেত্রে ডিজিটাল ক্যামেরার চেয়ে স্মার্টফোন সুবিধাজনক। কেননা পকেটে সহজে বহন করা যায়। অন্যদিকে ডিজিটাল ক্যামেরা আলাদা করে ব্যাগে বহন করতে হয়। জরুরি কোনো মুহূর্তের ছবি তোলার ক্ষেত্রে ব্যাগ খুলে ডিজিটাল ক্যামেরা বের করার চেয়ে পকেটে থেকে স্মার্টফোন তুলে ছবি তোলাটাই বেশি দ্রুততর।
সেলফি সুবিধা: এই সুবিধা নিয়ে নতুন করে বলা কিছু নেই। স্মার্টফোন ব্যবহারকারী মাত্রই জানেন। অন্যদিকে বেশিরভাগ ডিজিটাল ক্যামেরায় সেলফি সুবিধা নেই।
Post a Comment