সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে জানানো হয়েছে, পালমিরা নগরী থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের বেশিরভাগকেই সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
ইসলামিক স্টেট যোদ্ধারা বিখ্যাত এই শহর দখল করে নেয়ায়, মধ্যপ্রাচ্যে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের জন্য সুপরিচিত এই নগরীর ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
শহরটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে, ওমার হামজা নামে স্থানীয় একজন বাসিন্দা বিবিসিকে বলছিলেন, “প্রশাসন সমস্ত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। শহরের পশ্চিমে হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণ এখন আইএস এর হাতে। তারা পালমিরার উত্তরাঞ্চল পুরোপুরি দখলে নিয়েছে। রাস্তায় কোনও সাধারণ মানুষের দেখা নেই। অনেকেই স্কুল ঘরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন”।
এর আগে আইএস যোদ্ধারা অন্যান্য এলাকা দখলের পর বহু প্রত্নতাত্ত্বিক প্রাচীন নিদর্শন ধ্বংস করে ফেলেছিল ।
ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষিত পালমিরা অঞ্চলের প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোকেও গুড়িয়ে দেয়া হতে পারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনেস্কো।
এদিকে সিরিয়ার পুরাতত্ত্ব বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ওই এলাকার জাদুঘর থেকে কয়েকশো মূল্যবান শিল্পকর্ম সরিয়ে নেয়া হলেও, বিশাল আকৃতির বিভিন্ন স্থাপনা সরিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
ইরাকে সশস্ত্র সুন্নিপন্থী সংগঠন আইএস’র তান্ডব আর তাদের কাছ থেকে পুনর্দখল নিতে গিয়ে সরকারিবাহিনীর বোমার আঘাতে ধ্বংস হয়ে গেছে একের পর এক প্রাচীণ শহর। মসুল, নিমরুদ, হাতরাসহ গুঁড়িয়ে যাওয়া শহরের তালিকায় যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম। চলতি মাসেই অ্যাসিরীয় সভ্যতার বিখ্যাত রাজধানী শহর, ২৭০০ বছরের পুরনো খোরসাবাদ তছনছ হয়ে গিয়েছে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের আশঙ্কা, এবার সেই তালিকায় জুড়তে চলল সিরিয়ার পালমাইরা-র নামও।

বুধবার ইরাকি সেনাকে হটিয়ে সিরিয়ার ঐতিহাসিক শহর পালমাইরার দখল নেয় আইএস। শহরের এক তৃতীয়াংশই এখন তাদের হাতে। ইউনেস্কোর ‘হেরিটেজ সাইট’, দু’হাজার বছরের পুরনো এই সৌধশহরে দিনভর সংঘর্ষ শেষে কার্যত পালিয়ে বাঁচে সেনাবাহিনী। সিরিয়ার তরফে গোটা বিশ্বের কাছে আকুল আবেদন জানানো হয়েছে, এই ঐতিহ্যশালী শহরকে রক্ষা করতে সকলে যেন এগিয়ে আসেন।
দুপক্ষের ক্ষমতার পাল্টাপাল্টি দাপটে ইতিহাস-নিধনের এই ধারা অবশ্য নতুন নয়। আফগানিস্তানে ১৭০০ বছরের পুরনো বেলেপাথরের বামিয়ান বুদ্ধমূর্তি উপড়ে ফেলতে না পেরে ডায়নামাইট বোঝাই লরি এনে গোটা কাঠামোটা উড়িয়ে দিয়েছিল তালেবান। আবার ২০০৩ সালে ইরাকে সাদ্দাম বিরোধী অভিযানের সময় ব্যাবিলনকে যে ভাবে ফোঁপরা করে দিয়েছিল মার্কিন মিত্রসেনা, সেই স্মৃতিও ফিকে হয়নি আজও।

বহু দিন ধরেই সশস্ত্রদের নিশানায় ছিল পালমাইরা। গেলো শনিবারও এখানে ঢুকে পড়েছিল আইএস বাহিনী। তবে সে যাত্রায় ২৪ ঘণ্টার বেশি শহরটা নিজেদের হাতে না রাখতে পারলেও বুধবার সফল হয় তারা।
পালমাইরার যে রাস্তা এখন সেনা-আইএস যুদ্ধক্ষেত্র, এক কালে সেই পথেই নামত ব্যবসায়ীদের ঢল। ভূমধ্যসাগরের অ্যান্টিয়োক থেকে ইউফ্রেটিসের পথে উটের পিঠে মাল বোঝাই করে নিয়ে যেতেন সওদাগররা। পথের ধারে তাঁদের জিরিয়ে নেওয়ার জায়গা ছিল এই শহর। এ শহরের স্থাপত্যে মিশে ছিল গ্রেকো-রোমান আর পার্সি শৈলী। পালমাইরীয় সাম্রাজ্যের প্রতিপত্তি বাড়তে থাকে খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকে রানি জেনোবিয়ার আমলে। আশপাশের এলাকা জয় করে ধীরে ধীরে নিজের রাজ্যের পরিধি বাড়ান ক্লিওপেট্রার এই বংশধর। ২৭১ সালে রোম সম্রাট অরেলিয়ানের কাছে পরাজিত হন জেনোবিয়া। সম্রাটের সঙ্গেই বন্দিনী জেনোবিয়াকে নিয়ে আসা হয় রোমে।

পালমাইরার পথে-ঘাটে, সৌধের দেওয়ালে কান পাতলে মনে হয় যেন এখনও শোনা যায় ইতিহাসের সেই শব্দ। সিরিয়ার প্রত্ন-তত্ত্ব বিভাগের প্রধান মামুন আব্দুল করিম আক্ষেপ করে বলেন, সশস্ত্রদের ধ্বংসলীলায় এ বার হয়তো গুঁড়িয়ে যাবে দু’হাজার বছরের স্মৃতিভাণ্ডার। ধারণা করা হয়ে থাকে, আন্তর্জাতিক বাজারে গেল কিছুদিন ধরে প্রাচীন জিনিসপত্রের যোগান যে ভাবে বেড়ে গিয়েছে, তার সিংহভাগই আসছে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। চোরাপথে ইতিহাসের সামগ্রী চড়া দামে বেচে আইএস নিজের রসদ সংগ্রহ করে থাকে বলেও খবর প্রকাশ হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।

ইতিহাসবিদদের আক্ষেপ, জমি দখলের লড়াইয়ে বরাবরই প্রথম বলি ইতিহাস। আক্রমণকারী যে পক্ষেরই হোক না কেন! আপাতত পালমাইরা বাঁচবে কি না, হয়তো পরিষ্কার হয়ে যাবে ক’দিনের
- See more at: http://www.priyo.com/2015/05/21/1488202184309#sthash.LER7fC0E.dpuf
বুধবার ইরাকি সেনাকে হটিয়ে সিরিয়ার ঐতিহাসিক শহর পালমাইরার দখল নেয় আইএস। শহরের এক তৃতীয়াংশই এখন তাদের হাতে। ইউনেস্কোর ‘হেরিটেজ সাইট’, দু’হাজার বছরের পুরনো এই সৌধশহরে দিনভর সংঘর্ষ শেষে কার্যত পালিয়ে বাঁচে সেনাবাহিনী। সিরিয়ার তরফে গোটা বিশ্বের কাছে আকুল আবেদন জানানো হয়েছে, এই ঐতিহ্যশালী শহরকে রক্ষা করতে সকলে যেন এগিয়ে আসেন।
দুপক্ষের ক্ষমতার পাল্টাপাল্টি দাপটে ইতিহাস-নিধনের এই ধারা অবশ্য নতুন নয়। আফগানিস্তানে ১৭০০ বছরের পুরনো বেলেপাথরের বামিয়ান বুদ্ধমূর্তি উপড়ে ফেলতে না পেরে ডায়নামাইট বোঝাই লরি এনে গোটা কাঠামোটা উড়িয়ে দিয়েছিল তালেবান। আবার ২০০৩ সালে ইরাকে সাদ্দাম বিরোধী অভিযানের সময় ব্যাবিলনকে যে ভাবে ফোঁপরা করে দিয়েছিল মার্কিন মিত্রসেনা, সেই স্মৃতিও ফিকে হয়নি আজও।
বহু দিন ধরেই সশস্ত্রদের নিশানায় ছিল পালমাইরা। গেলো শনিবারও এখানে ঢুকে পড়েছিল আইএস বাহিনী। তবে সে যাত্রায় ২৪ ঘণ্টার বেশি শহরটা নিজেদের হাতে না রাখতে পারলেও বুধবার সফল হয় তারা।
পালমাইরার যে রাস্তা এখন সেনা-আইএস যুদ্ধক্ষেত্র, এক কালে সেই পথেই নামত ব্যবসায়ীদের ঢল। ভূমধ্যসাগরের অ্যান্টিয়োক থেকে ইউফ্রেটিসের পথে উটের পিঠে মাল বোঝাই করে নিয়ে যেতেন সওদাগররা। পথের ধারে তাঁদের জিরিয়ে নেওয়ার জায়গা ছিল এই শহর। এ শহরের স্থাপত্যে মিশে ছিল গ্রেকো-রোমান আর পার্সি শৈলী। পালমাইরীয় সাম্রাজ্যের প্রতিপত্তি বাড়তে থাকে খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকে রানি জেনোবিয়ার আমলে। আশপাশের এলাকা জয় করে ধীরে ধীরে নিজের রাজ্যের পরিধি বাড়ান ক্লিওপেট্রার এই বংশধর। ২৭১ সালে রোম সম্রাট অরেলিয়ানের কাছে পরাজিত হন জেনোবিয়া। সম্রাটের সঙ্গেই বন্দিনী জেনোবিয়াকে নিয়ে আসা হয় রোমে।
পালমাইরার পথে-ঘাটে, সৌধের দেওয়ালে কান পাতলে মনে হয় যেন এখনও শোনা যায় ইতিহাসের সেই শব্দ। সিরিয়ার প্রত্ন-তত্ত্ব বিভাগের প্রধান মামুন আব্দুল করিম আক্ষেপ করে বলেন, সশস্ত্রদের ধ্বংসলীলায় এ বার হয়তো গুঁড়িয়ে যাবে দু’হাজার বছরের স্মৃতিভাণ্ডার। ধারণা করা হয়ে থাকে, আন্তর্জাতিক বাজারে গেল কিছুদিন ধরে প্রাচীন জিনিসপত্রের যোগান যে ভাবে বেড়ে গিয়েছে, তার সিংহভাগই আসছে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। চোরাপথে ইতিহাসের সামগ্রী চড়া দামে বেচে আইএস নিজের রসদ সংগ্রহ করে থাকে বলেও খবর প্রকাশ হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।
ইতিহাসবিদদের আক্ষেপ, জমি দখলের লড়াইয়ে বরাবরই প্রথম বলি ইতিহাস। আক্রমণকারী যে পক্ষেরই হোক না কেন! আপাতত পালমাইরা বাঁচবে কি না, হয়তো পরিষ্কার হয়ে যাবে ক’দিনের
- See more at: http://www.priyo.com/2015/05/21/1488202184309#sthash.LER7fC0E.dpuf
ইরাকে সশস্ত্র সুন্নিপন্থী সংগঠন আইএস’র তান্ডব আর তাদের কাছ থেকে পুনর্দখল নিতে গিয়ে সরকারিবাহিনীর বোমার আঘাতে ধ্বংস হয়ে গেছে একের পর এক প্রাচীণ শহর। মসুল, নিমরুদ, হাতরাসহ গুঁড়িয়ে যাওয়া শহরের তালিকায় যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম। চলতি মাসেই অ্যাসিরীয় সভ্যতার বিখ্যাত রাজধানী শহর, ২৭০০ বছরের পুরনো খোরসাবাদ তছনছ হয়ে গিয়েছে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের আশঙ্কা, এবার সেই তালিকায় জুড়তে চলল সিরিয়ার পালমাইরা-র নামও।

বুধবার ইরাকি সেনাকে হটিয়ে সিরিয়ার ঐতিহাসিক শহর পালমাইরার দখল নেয় আইএস। শহরের এক তৃতীয়াংশই এখন তাদের হাতে। ইউনেস্কোর ‘হেরিটেজ সাইট’, দু’হাজার বছরের পুরনো এই সৌধশহরে দিনভর সংঘর্ষ শেষে কার্যত পালিয়ে বাঁচে সেনাবাহিনী। সিরিয়ার তরফে গোটা বিশ্বের কাছে আকুল আবেদন জানানো হয়েছে, এই ঐতিহ্যশালী শহরকে রক্ষা করতে সকলে যেন এগিয়ে আসেন।
দুপক্ষের ক্ষমতার পাল্টাপাল্টি দাপটে ইতিহাস-নিধনের এই ধারা অবশ্য নতুন নয়। আফগানিস্তানে ১৭০০ বছরের পুরনো বেলেপাথরের বামিয়ান বুদ্ধমূর্তি উপড়ে ফেলতে না পেরে ডায়নামাইট বোঝাই লরি এনে গোটা কাঠামোটা উড়িয়ে দিয়েছিল তালেবান। আবার ২০০৩ সালে ইরাকে সাদ্দাম বিরোধী অভিযানের সময় ব্যাবিলনকে যে ভাবে ফোঁপরা করে দিয়েছিল মার্কিন মিত্রসেনা, সেই স্মৃতিও ফিকে হয়নি আজও।

বহু দিন ধরেই সশস্ত্রদের নিশানায় ছিল পালমাইরা। গেলো শনিবারও এখানে ঢুকে পড়েছিল আইএস বাহিনী। তবে সে যাত্রায় ২৪ ঘণ্টার বেশি শহরটা নিজেদের হাতে না রাখতে পারলেও বুধবার সফল হয় তারা।
পালমাইরার যে রাস্তা এখন সেনা-আইএস যুদ্ধক্ষেত্র, এক কালে সেই পথেই নামত ব্যবসায়ীদের ঢল। ভূমধ্যসাগরের অ্যান্টিয়োক থেকে ইউফ্রেটিসের পথে উটের পিঠে মাল বোঝাই করে নিয়ে যেতেন সওদাগররা। পথের ধারে তাঁদের জিরিয়ে নেওয়ার জায়গা ছিল এই শহর। এ শহরের স্থাপত্যে মিশে ছিল গ্রেকো-রোমান আর পার্সি শৈলী। পালমাইরীয় সাম্রাজ্যের প্রতিপত্তি বাড়তে থাকে খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকে রানি জেনোবিয়ার আমলে। আশপাশের এলাকা জয় করে ধীরে ধীরে নিজের রাজ্যের পরিধি বাড়ান ক্লিওপেট্রার এই বংশধর। ২৭১ সালে রোম সম্রাট অরেলিয়ানের কাছে পরাজিত হন জেনোবিয়া। সম্রাটের সঙ্গেই বন্দিনী জেনোবিয়াকে নিয়ে আসা হয় রোমে।

পালমাইরার পথে-ঘাটে, সৌধের দেওয়ালে কান পাতলে মনে হয় যেন এখনও শোনা যায় ইতিহাসের সেই শব্দ। সিরিয়ার প্রত্ন-তত্ত্ব বিভাগের প্রধান মামুন আব্দুল করিম আক্ষেপ করে বলেন, সশস্ত্রদের ধ্বংসলীলায় এ বার হয়তো গুঁড়িয়ে যাবে দু’হাজার বছরের স্মৃতিভাণ্ডার। ধারণা করা হয়ে থাকে, আন্তর্জাতিক বাজারে গেল কিছুদিন ধরে প্রাচীন জিনিসপত্রের যোগান যে ভাবে বেড়ে গিয়েছে, তার সিংহভাগই আসছে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। চোরাপথে ইতিহাসের সামগ্রী চড়া দামে বেচে আইএস নিজের রসদ সংগ্রহ করে থাকে বলেও খবর প্রকাশ হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।

ইতিহাসবিদদের আক্ষেপ, জমি দখলের লড়াইয়ে বরাবরই প্রথম বলি ইতিহাস। আক্রমণকারী যে পক্ষেরই হোক না কেন! আপাতত পালমাইরা বাঁচবে কি না, হয়তো পরিষ্কার হয়ে যাবে ক’দিনের
- See more at: http://www.priyo.com/2015/05/21/1488202184309#sthash.LER7fC0E.dpuf
বুধবার ইরাকি সেনাকে হটিয়ে সিরিয়ার ঐতিহাসিক শহর পালমাইরার দখল নেয় আইএস। শহরের এক তৃতীয়াংশই এখন তাদের হাতে। ইউনেস্কোর ‘হেরিটেজ সাইট’, দু’হাজার বছরের পুরনো এই সৌধশহরে দিনভর সংঘর্ষ শেষে কার্যত পালিয়ে বাঁচে সেনাবাহিনী। সিরিয়ার তরফে গোটা বিশ্বের কাছে আকুল আবেদন জানানো হয়েছে, এই ঐতিহ্যশালী শহরকে রক্ষা করতে সকলে যেন এগিয়ে আসেন।
দুপক্ষের ক্ষমতার পাল্টাপাল্টি দাপটে ইতিহাস-নিধনের এই ধারা অবশ্য নতুন নয়। আফগানিস্তানে ১৭০০ বছরের পুরনো বেলেপাথরের বামিয়ান বুদ্ধমূর্তি উপড়ে ফেলতে না পেরে ডায়নামাইট বোঝাই লরি এনে গোটা কাঠামোটা উড়িয়ে দিয়েছিল তালেবান। আবার ২০০৩ সালে ইরাকে সাদ্দাম বিরোধী অভিযানের সময় ব্যাবিলনকে যে ভাবে ফোঁপরা করে দিয়েছিল মার্কিন মিত্রসেনা, সেই স্মৃতিও ফিকে হয়নি আজও।
বহু দিন ধরেই সশস্ত্রদের নিশানায় ছিল পালমাইরা। গেলো শনিবারও এখানে ঢুকে পড়েছিল আইএস বাহিনী। তবে সে যাত্রায় ২৪ ঘণ্টার বেশি শহরটা নিজেদের হাতে না রাখতে পারলেও বুধবার সফল হয় তারা।
পালমাইরার যে রাস্তা এখন সেনা-আইএস যুদ্ধক্ষেত্র, এক কালে সেই পথেই নামত ব্যবসায়ীদের ঢল। ভূমধ্যসাগরের অ্যান্টিয়োক থেকে ইউফ্রেটিসের পথে উটের পিঠে মাল বোঝাই করে নিয়ে যেতেন সওদাগররা। পথের ধারে তাঁদের জিরিয়ে নেওয়ার জায়গা ছিল এই শহর। এ শহরের স্থাপত্যে মিশে ছিল গ্রেকো-রোমান আর পার্সি শৈলী। পালমাইরীয় সাম্রাজ্যের প্রতিপত্তি বাড়তে থাকে খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকে রানি জেনোবিয়ার আমলে। আশপাশের এলাকা জয় করে ধীরে ধীরে নিজের রাজ্যের পরিধি বাড়ান ক্লিওপেট্রার এই বংশধর। ২৭১ সালে রোম সম্রাট অরেলিয়ানের কাছে পরাজিত হন জেনোবিয়া। সম্রাটের সঙ্গেই বন্দিনী জেনোবিয়াকে নিয়ে আসা হয় রোমে।
পালমাইরার পথে-ঘাটে, সৌধের দেওয়ালে কান পাতলে মনে হয় যেন এখনও শোনা যায় ইতিহাসের সেই শব্দ। সিরিয়ার প্রত্ন-তত্ত্ব বিভাগের প্রধান মামুন আব্দুল করিম আক্ষেপ করে বলেন, সশস্ত্রদের ধ্বংসলীলায় এ বার হয়তো গুঁড়িয়ে যাবে দু’হাজার বছরের স্মৃতিভাণ্ডার। ধারণা করা হয়ে থাকে, আন্তর্জাতিক বাজারে গেল কিছুদিন ধরে প্রাচীন জিনিসপত্রের যোগান যে ভাবে বেড়ে গিয়েছে, তার সিংহভাগই আসছে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। চোরাপথে ইতিহাসের সামগ্রী চড়া দামে বেচে আইএস নিজের রসদ সংগ্রহ করে থাকে বলেও খবর প্রকাশ হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।
ইতিহাসবিদদের আক্ষেপ, জমি দখলের লড়াইয়ে বরাবরই প্রথম বলি ইতিহাস। আক্রমণকারী যে পক্ষেরই হোক না কেন! আপাতত পালমাইরা বাঁচবে কি না, হয়তো পরিষ্কার হয়ে যাবে ক’দিনের
- See more at: http://www.priyo.com/2015/05/21/1488202184309#sthash.LER7fC0E.dpuf
ইরাকে সশস্ত্র সুন্নিপন্থী সংগঠন আইএস’র তান্ডব আর তাদের কাছ থেকে পুনর্দখল নিতে গিয়ে সরকারিবাহিনীর বোমার আঘাতে ধ্বংস হয়ে গেছে একের পর এক প্রাচীণ শহর। মসুল, নিমরুদ, হাতরাসহ গুঁড়িয়ে যাওয়া শহরের তালিকায় যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম। চলতি মাসেই অ্যাসিরীয় সভ্যতার বিখ্যাত রাজধানী শহর, ২৭০০ বছরের পুরনো খোরসাবাদ তছনছ হয়ে গিয়েছে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের আশঙ্কা, এবার সেই তালিকায় জুড়তে চলল সিরিয়ার পালমাইরা-র নামও।

বুধবার ইরাকি সেনাকে হটিয়ে সিরিয়ার ঐতিহাসিক শহর পালমাইরার দখল নেয় আইএস। শহরের এক তৃতীয়াংশই এখন তাদের হাতে। ইউনেস্কোর ‘হেরিটেজ সাইট’, দু’হাজার বছরের পুরনো এই সৌধশহরে দিনভর সংঘর্ষ শেষে কার্যত পালিয়ে বাঁচে সেনাবাহিনী। সিরিয়ার তরফে গোটা বিশ্বের কাছে আকুল আবেদন জানানো হয়েছে, এই ঐতিহ্যশালী শহরকে রক্ষা করতে সকলে যেন এগিয়ে আসেন।
দুপক্ষের ক্ষমতার পাল্টাপাল্টি দাপটে ইতিহাস-নিধনের এই ধারা অবশ্য নতুন নয়। আফগানিস্তানে ১৭০০ বছরের পুরনো বেলেপাথরের বামিয়ান বুদ্ধমূর্তি উপড়ে ফেলতে না পেরে ডায়নামাইট বোঝাই লরি এনে গোটা কাঠামোটা উড়িয়ে দিয়েছিল তালেবান। আবার ২০০৩ সালে ইরাকে সাদ্দাম বিরোধী অভিযানের সময় ব্যাবিলনকে যে ভাবে ফোঁপরা করে দিয়েছিল মার্কিন মিত্রসেনা, সেই স্মৃতিও ফিকে হয়নি আজও।

বহু দিন ধরেই সশস্ত্রদের নিশানায় ছিল পালমাইরা। গেলো শনিবারও এখানে ঢুকে পড়েছিল আইএস বাহিনী। তবে সে যাত্রায় ২৪ ঘণ্টার বেশি শহরটা নিজেদের হাতে না রাখতে পারলেও বুধবার সফল হয় তারা।
পালমাইরার যে রাস্তা এখন সেনা-আইএস যুদ্ধক্ষেত্র, এক কালে সেই পথেই নামত ব্যবসায়ীদের ঢল। ভূমধ্যসাগরের অ্যান্টিয়োক থেকে ইউফ্রেটিসের পথে উটের পিঠে মাল বোঝাই করে নিয়ে যেতেন সওদাগররা। পথের ধারে তাঁদের জিরিয়ে নেওয়ার জায়গা ছিল এই শহর। এ শহরের স্থাপত্যে মিশে ছিল গ্রেকো-রোমান আর পার্সি শৈলী। পালমাইরীয় সাম্রাজ্যের প্রতিপত্তি বাড়তে থাকে খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকে রানি জেনোবিয়ার আমলে। আশপাশের এলাকা জয় করে ধীরে ধীরে নিজের রাজ্যের পরিধি বাড়ান ক্লিওপেট্রার এই বংশধর। ২৭১ সালে রোম সম্রাট অরেলিয়ানের কাছে পরাজিত হন জেনোবিয়া। সম্রাটের সঙ্গেই বন্দিনী জেনোবিয়াকে নিয়ে আসা হয় রোমে।

পালমাইরার পথে-ঘাটে, সৌধের দেওয়ালে কান পাতলে মনে হয় যেন এখনও শোনা যায় ইতিহাসের সেই শব্দ। সিরিয়ার প্রত্ন-তত্ত্ব বিভাগের প্রধান মামুন আব্দুল করিম আক্ষেপ করে বলেন, সশস্ত্রদের ধ্বংসলীলায় এ বার হয়তো গুঁড়িয়ে যাবে দু’হাজার বছরের স্মৃতিভাণ্ডার। ধারণা করা হয়ে থাকে, আন্তর্জাতিক বাজারে গেল কিছুদিন ধরে প্রাচীন জিনিসপত্রের যোগান যে ভাবে বেড়ে গিয়েছে, তার সিংহভাগই আসছে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। চোরাপথে ইতিহাসের সামগ্রী চড়া দামে বেচে আইএস নিজের রসদ সংগ্রহ করে থাকে বলেও খবর প্রকাশ হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।

ইতিহাসবিদদের আক্ষেপ, জমি দখলের লড়াইয়ে বরাবরই প্রথম বলি ইতিহাস। আক্রমণকারী যে পক্ষেরই হোক না কেন! আপাতত পালমাইরা বাঁচবে কি না, হয়তো পরিষ্কার হয়ে যাবে ক’দিনের
- See more at: http://www.priyo.com/2015/05/21/1488202184309#sthash.LER7fC0E.dpuf
বুধবার ইরাকি সেনাকে হটিয়ে সিরিয়ার ঐতিহাসিক শহর পালমাইরার দখল নেয় আইএস। শহরের এক তৃতীয়াংশই এখন তাদের হাতে। ইউনেস্কোর ‘হেরিটেজ সাইট’, দু’হাজার বছরের পুরনো এই সৌধশহরে দিনভর সংঘর্ষ শেষে কার্যত পালিয়ে বাঁচে সেনাবাহিনী। সিরিয়ার তরফে গোটা বিশ্বের কাছে আকুল আবেদন জানানো হয়েছে, এই ঐতিহ্যশালী শহরকে রক্ষা করতে সকলে যেন এগিয়ে আসেন।
দুপক্ষের ক্ষমতার পাল্টাপাল্টি দাপটে ইতিহাস-নিধনের এই ধারা অবশ্য নতুন নয়। আফগানিস্তানে ১৭০০ বছরের পুরনো বেলেপাথরের বামিয়ান বুদ্ধমূর্তি উপড়ে ফেলতে না পেরে ডায়নামাইট বোঝাই লরি এনে গোটা কাঠামোটা উড়িয়ে দিয়েছিল তালেবান। আবার ২০০৩ সালে ইরাকে সাদ্দাম বিরোধী অভিযানের সময় ব্যাবিলনকে যে ভাবে ফোঁপরা করে দিয়েছিল মার্কিন মিত্রসেনা, সেই স্মৃতিও ফিকে হয়নি আজও।
বহু দিন ধরেই সশস্ত্রদের নিশানায় ছিল পালমাইরা। গেলো শনিবারও এখানে ঢুকে পড়েছিল আইএস বাহিনী। তবে সে যাত্রায় ২৪ ঘণ্টার বেশি শহরটা নিজেদের হাতে না রাখতে পারলেও বুধবার সফল হয় তারা।
পালমাইরার যে রাস্তা এখন সেনা-আইএস যুদ্ধক্ষেত্র, এক কালে সেই পথেই নামত ব্যবসায়ীদের ঢল। ভূমধ্যসাগরের অ্যান্টিয়োক থেকে ইউফ্রেটিসের পথে উটের পিঠে মাল বোঝাই করে নিয়ে যেতেন সওদাগররা। পথের ধারে তাঁদের জিরিয়ে নেওয়ার জায়গা ছিল এই শহর। এ শহরের স্থাপত্যে মিশে ছিল গ্রেকো-রোমান আর পার্সি শৈলী। পালমাইরীয় সাম্রাজ্যের প্রতিপত্তি বাড়তে থাকে খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকে রানি জেনোবিয়ার আমলে। আশপাশের এলাকা জয় করে ধীরে ধীরে নিজের রাজ্যের পরিধি বাড়ান ক্লিওপেট্রার এই বংশধর। ২৭১ সালে রোম সম্রাট অরেলিয়ানের কাছে পরাজিত হন জেনোবিয়া। সম্রাটের সঙ্গেই বন্দিনী জেনোবিয়াকে নিয়ে আসা হয় রোমে।
পালমাইরার পথে-ঘাটে, সৌধের দেওয়ালে কান পাতলে মনে হয় যেন এখনও শোনা যায় ইতিহাসের সেই শব্দ। সিরিয়ার প্রত্ন-তত্ত্ব বিভাগের প্রধান মামুন আব্দুল করিম আক্ষেপ করে বলেন, সশস্ত্রদের ধ্বংসলীলায় এ বার হয়তো গুঁড়িয়ে যাবে দু’হাজার বছরের স্মৃতিভাণ্ডার। ধারণা করা হয়ে থাকে, আন্তর্জাতিক বাজারে গেল কিছুদিন ধরে প্রাচীন জিনিসপত্রের যোগান যে ভাবে বেড়ে গিয়েছে, তার সিংহভাগই আসছে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। চোরাপথে ইতিহাসের সামগ্রী চড়া দামে বেচে আইএস নিজের রসদ সংগ্রহ করে থাকে বলেও খবর প্রকাশ হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।
ইতিহাসবিদদের আক্ষেপ, জমি দখলের লড়াইয়ে বরাবরই প্রথম বলি ইতিহাস। আক্রমণকারী যে পক্ষেরই হোক না কেন! আপাতত পালমাইরা বাঁচবে কি না, হয়তো পরিষ্কার হয়ে যাবে ক’দিনের
- See more at: http://www.priyo.com/2015/05/21/1488202184309#sthash.LER7fC0E.dpuf
ইরাকে সশস্ত্র সুন্নিপন্থী সংগঠন আইএস’র তান্ডব আর তাদের কাছ থেকে পুনর্দখল নিতে গিয়ে সরকারিবাহিনীর বোমার আঘাতে ধ্বংস হয়ে গেছে একের পর এক প্রাচীণ শহর। মসুল, নিমরুদ, হাতরাসহ গুঁড়িয়ে যাওয়া শহরের তালিকায় যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম। চলতি মাসেই অ্যাসিরীয় সভ্যতার বিখ্যাত রাজধানী শহর, ২৭০০ বছরের পুরনো খোরসাবাদ তছনছ হয়ে গিয়েছে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের আশঙ্কা, এবার সেই তালিকায় জুড়তে চলল সিরিয়ার পালমাইরা-র নামও।

বুধবার ইরাকি সেনাকে হটিয়ে সিরিয়ার ঐতিহাসিক শহর পালমাইরার দখল নেয় আইএস। শহরের এক তৃতীয়াংশই এখন তাদের হাতে। ইউনেস্কোর ‘হেরিটেজ সাইট’, দু’হাজার বছরের পুরনো এই সৌধশহরে দিনভর সংঘর্ষ শেষে কার্যত পালিয়ে বাঁচে সেনাবাহিনী। সিরিয়ার তরফে গোটা বিশ্বের কাছে আকুল আবেদন জানানো হয়েছে, এই ঐতিহ্যশালী শহরকে রক্ষা করতে সকলে যেন এগিয়ে আসেন।
দুপক্ষের ক্ষমতার পাল্টাপাল্টি দাপটে ইতিহাস-নিধনের এই ধারা অবশ্য নতুন নয়। আফগানিস্তানে ১৭০০ বছরের পুরনো বেলেপাথরের বামিয়ান বুদ্ধমূর্তি উপড়ে ফেলতে না পেরে ডায়নামাইট বোঝাই লরি এনে গোটা কাঠামোটা উড়িয়ে দিয়েছিল তালেবান। আবার ২০০৩ সালে ইরাকে সাদ্দাম বিরোধী অভিযানের সময় ব্যাবিলনকে যে ভাবে ফোঁপরা করে দিয়েছিল মার্কিন মিত্রসেনা, সেই স্মৃতিও ফিকে হয়নি আজও।

বহু দিন ধরেই সশস্ত্রদের নিশানায় ছিল পালমাইরা। গেলো শনিবারও এখানে ঢুকে পড়েছিল আইএস বাহিনী। তবে সে যাত্রায় ২৪ ঘণ্টার বেশি শহরটা নিজেদের হাতে না রাখতে পারলেও বুধবার সফল হয় তারা।
পালমাইরার যে রাস্তা এখন সেনা-আইএস যুদ্ধক্ষেত্র, এক কালে সেই পথেই নামত ব্যবসায়ীদের ঢল। ভূমধ্যসাগরের অ্যান্টিয়োক থেকে ইউফ্রেটিসের পথে উটের পিঠে মাল বোঝাই করে নিয়ে যেতেন সওদাগররা। পথের ধারে তাঁদের জিরিয়ে নেওয়ার জায়গা ছিল এই শহর। এ শহরের স্থাপত্যে মিশে ছিল গ্রেকো-রোমান আর পার্সি শৈলী। পালমাইরীয় সাম্রাজ্যের প্রতিপত্তি বাড়তে থাকে খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকে রানি জেনোবিয়ার আমলে। আশপাশের এলাকা জয় করে ধীরে ধীরে নিজের রাজ্যের পরিধি বাড়ান ক্লিওপেট্রার এই বংশধর। ২৭১ সালে রোম সম্রাট অরেলিয়ানের কাছে পরাজিত হন জেনোবিয়া। সম্রাটের সঙ্গেই বন্দিনী জেনোবিয়াকে নিয়ে আসা হয় রোমে।

পালমাইরার পথে-ঘাটে, সৌধের দেওয়ালে কান পাতলে মনে হয় যেন এখনও শোনা যায় ইতিহাসের সেই শব্দ। সিরিয়ার প্রত্ন-তত্ত্ব বিভাগের প্রধান মামুন আব্দুল করিম আক্ষেপ করে বলেন, সশস্ত্রদের ধ্বংসলীলায় এ বার হয়তো গুঁড়িয়ে যাবে দু’হাজার বছরের স্মৃতিভাণ্ডার। ধারণা করা হয়ে থাকে, আন্তর্জাতিক বাজারে গেল কিছুদিন ধরে প্রাচীন জিনিসপত্রের যোগান যে ভাবে বেড়ে গিয়েছে, তার সিংহভাগই আসছে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। চোরাপথে ইতিহাসের সামগ্রী চড়া দামে বেচে আইএস নিজের রসদ সংগ্রহ করে থাকে বলেও খবর প্রকাশ হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।

ইতিহাসবিদদের আক্ষেপ, জমি দখলের লড়াইয়ে বরাবরই প্রথম বলি ইতিহাস। আক্রমণকারী যে পক্ষেরই হোক না কেন! আপাতত পালমাইরা বাঁচবে কি না, হয়তো পরিষ্কার হয়ে যাবে ক’দিনের
- See more at: http://www.priyo.com/2015/05/21/1488202184309#sthash.LER7fC0E.dpuf
বুধবার ইরাকি সেনাকে হটিয়ে সিরিয়ার ঐতিহাসিক শহর পালমাইরার দখল নেয় আইএস। শহরের এক তৃতীয়াংশই এখন তাদের হাতে। ইউনেস্কোর ‘হেরিটেজ সাইট’, দু’হাজার বছরের পুরনো এই সৌধশহরে দিনভর সংঘর্ষ শেষে কার্যত পালিয়ে বাঁচে সেনাবাহিনী। সিরিয়ার তরফে গোটা বিশ্বের কাছে আকুল আবেদন জানানো হয়েছে, এই ঐতিহ্যশালী শহরকে রক্ষা করতে সকলে যেন এগিয়ে আসেন।
দুপক্ষের ক্ষমতার পাল্টাপাল্টি দাপটে ইতিহাস-নিধনের এই ধারা অবশ্য নতুন নয়। আফগানিস্তানে ১৭০০ বছরের পুরনো বেলেপাথরের বামিয়ান বুদ্ধমূর্তি উপড়ে ফেলতে না পেরে ডায়নামাইট বোঝাই লরি এনে গোটা কাঠামোটা উড়িয়ে দিয়েছিল তালেবান। আবার ২০০৩ সালে ইরাকে সাদ্দাম বিরোধী অভিযানের সময় ব্যাবিলনকে যে ভাবে ফোঁপরা করে দিয়েছিল মার্কিন মিত্রসেনা, সেই স্মৃতিও ফিকে হয়নি আজও।
বহু দিন ধরেই সশস্ত্রদের নিশানায় ছিল পালমাইরা। গেলো শনিবারও এখানে ঢুকে পড়েছিল আইএস বাহিনী। তবে সে যাত্রায় ২৪ ঘণ্টার বেশি শহরটা নিজেদের হাতে না রাখতে পারলেও বুধবার সফল হয় তারা।
পালমাইরার যে রাস্তা এখন সেনা-আইএস যুদ্ধক্ষেত্র, এক কালে সেই পথেই নামত ব্যবসায়ীদের ঢল। ভূমধ্যসাগরের অ্যান্টিয়োক থেকে ইউফ্রেটিসের পথে উটের পিঠে মাল বোঝাই করে নিয়ে যেতেন সওদাগররা। পথের ধারে তাঁদের জিরিয়ে নেওয়ার জায়গা ছিল এই শহর। এ শহরের স্থাপত্যে মিশে ছিল গ্রেকো-রোমান আর পার্সি শৈলী। পালমাইরীয় সাম্রাজ্যের প্রতিপত্তি বাড়তে থাকে খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকে রানি জেনোবিয়ার আমলে। আশপাশের এলাকা জয় করে ধীরে ধীরে নিজের রাজ্যের পরিধি বাড়ান ক্লিওপেট্রার এই বংশধর। ২৭১ সালে রোম সম্রাট অরেলিয়ানের কাছে পরাজিত হন জেনোবিয়া। সম্রাটের সঙ্গেই বন্দিনী জেনোবিয়াকে নিয়ে আসা হয় রোমে।
পালমাইরার পথে-ঘাটে, সৌধের দেওয়ালে কান পাতলে মনে হয় যেন এখনও শোনা যায় ইতিহাসের সেই শব্দ। সিরিয়ার প্রত্ন-তত্ত্ব বিভাগের প্রধান মামুন আব্দুল করিম আক্ষেপ করে বলেন, সশস্ত্রদের ধ্বংসলীলায় এ বার হয়তো গুঁড়িয়ে যাবে দু’হাজার বছরের স্মৃতিভাণ্ডার। ধারণা করা হয়ে থাকে, আন্তর্জাতিক বাজারে গেল কিছুদিন ধরে প্রাচীন জিনিসপত্রের যোগান যে ভাবে বেড়ে গিয়েছে, তার সিংহভাগই আসছে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। চোরাপথে ইতিহাসের সামগ্রী চড়া দামে বেচে আইএস নিজের রসদ সংগ্রহ করে থাকে বলেও খবর প্রকাশ হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।
ইতিহাসবিদদের আক্ষেপ, জমি দখলের লড়াইয়ে বরাবরই প্রথম বলি ইতিহাস। আক্রমণকারী যে পক্ষেরই হোক না কেন! আপাতত পালমাইরা বাঁচবে কি না, হয়তো পরিষ্কার হয়ে যাবে ক’দিনের
- See more at: http://www.priyo.com/2015/05/21/1488202184309#sthash.LER7fC0E.dpuf
Post a Comment