খাওয়ার মজা লুকিয়ে আছে স্বাদের মাঝে । কিন্তু অনেক ডায়াবেটিস ও হার্টের রোগী রয়েছেন যাদের মিষ্টি বা লবণ খাওয়া একদম বারণ। অনেকে আবার অতিরিক্ত ওজনের ভয়ে মিষ্টি খেতে পারেন না। তবে লবণ, চিনি বা টক ছাড়া কিছু খাবারের স্বাদও কেমন যেন ফিকে হয়ে যায়। এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই মধ্য প্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবু ধাবির নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির বিশিষ্ট গবেষক নিমেশা রণসিংঘের নের্তৃত্বে গঠিত গবেষকদল উদ্ভাবন করেছেন এক বিশেষ ধরনের ইলেকট্রিক চামচ। এই চামচে খেলে বিস্বাদ খাবার গুলিও মুখে সুস্বাদু লাগবে, অর্থাত্ এর মাধ্যমে ইলেকট্রিক কারেন্ট ও ফ্রিকোয়েন্সিতে পরিবর্তন ঘটিয়ে মুখের স্বাদগ্রহন অনুভুতি বাড়ানো যাবে। যার ফলে খাবারে শর্করা আথবা লবণের ভাগ কম থাকলেও সঠিক মাত্রায় স্বাদ পেতে উপযোগী হবে এই চামচ।
যদিও চামচটি ‘ডিজিটাল টেস্ট স্টিমূলেটর’ হিসেবেই মুখ্য কাজ করে। তবে স্বাদের পাসপসি সেই খাবারের রং, ঘ্রাণ ও রূপ প্রতিটি বিষয়কে মাথায় রেখে এটি তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি বেশ কিছুসংখ্যক মানুষের মধ্যে চামচটির ব্যবহারিক প্রয়োগ করেছেন ওই গবেষকদল, সে সমীক্ষা থেকে জানা যায়-এই চামচের ব্যবহার করে তারা বিভিন্ন খাবারের ৪০-৮৩ শতাংশ স্বাদ পেতে সক্ষম হয়েছেন। তবে এদের মধ্যে আবার কিছুজন চামচটির মেটাল ইলেক্ট্রোডের স্বাদ বেশি পেয়েছেন যার সমাধান শীঘ্রই সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকদল। একইসঙ্গে খাবারের স্বাদবর্ধক বিভিন্ন প্রকার ফ্লেভার যুক্ত করে চামচটির গুণমান আরও বাড়ানো হবে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। এ মাসের গোড়ার দিকে আমেরিকার ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত এসিএম মাল্টিমিডিয়া কনফারেন্সে এলেক্ট্রিক চামচটির পরীক্ষিত ব্যবহার প্রদর্শিত হয়েছে। ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস ও হার্টের রোগীদের সুস্বাদু খাবার গ্রহণের সুরাহা হবে এই চামচ –এমনটাই আশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকমহল।
Post a Comment