Showing posts with label বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি. Show all posts

অদ্ভুতুড়ে 5:28 AM

বাংলাদেশের কয়েকটি নামীদামী ই কমার্স সাইট।


বাংলাদেশের কয়েকটি নামীদামী ই কমার্স সাইট।


আমাদের মাননীয় অর্থমন্ত্রী গতবছর কয়েকটি অনুষ্ঠানে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে ২০১৩ সালের মধ্যেই বাংলাদেশে পেপাল সেবা চালু করা হবে। কিন্তু বছর গড়িয়ে নতুন E-commerceআরেকটি বছর চলে এলেও এই ব্যাপারে আর কিছু শোনা যাচ্ছে না। ব্যস্ততার মধ্যে মাননীয় মন্ত্রী হয়তো ভুলেই গেছেন তার প্রতিশ্রুতির কথা! এর ফলে দেশের ফ্রিল্যান্সারদের অনেক অসুবিধা হলেও, ই-কমার্স সেক্টরের কিন্তু অতটা সমস্যা হচ্ছে না, বিশেষত আমরা যারা ক্রেতা বা ব্যবহারকারী, তাদের। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে যে আমাদের দেশে বেশ কয়েকটি ভাল ক্যাশ-অন-ডেলিভারি ই-কমার্স সাইট আছে, যার মাধ্যমে ক্রেতারা নিজেদের বাসায় বা অফিসে বসে নিজহাতে পণ্য গ্রহণ করে তারপর মূল্য পরিশোধ করতে পারে। আর এজন্য তাদের বাড়তি কোন খরচই বলতে গেলে হয়না। নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করছি এরকম কয়েকটি সাইটের কথা।

১. এখনই

ক্যাশ-অন-ডেলিভারি ই-কমার্স সাইটের কথা বলতে গেলে এখনই ডটকম এর নাম নিতেই হবে। অনেকেই বলেন এখনই ডটকম হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম ও সর্ববৃহৎ বিটুসি (বিজনেস টু কনজিউমার) ই-কমার্স সাইট। দেশের ই-কমার্স সেক্টরের সাথে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় হয় এই সাইটের মাধ্যমেই। এখানে জামাকাপড়, প্রসাধনী সামগ্রী, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, বই, বিভিন্ন রকমের উপহারসামগ্রী, গয়না ইত্যাদি আরও অনেক রকম জিনিস কিনতে পাওয়া যায়। সাইটটি সহজবোধ্য; সকল পণ্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সাজানো, যাতে ক্রেতারা সহজেই নিজের পছন্দসই জিনিস খুঁজে বের করতে পারে। এখান থেকে জিনিস কিনতে হলে প্রথমে প্রয়োজনীয় জিনিসটি পছন্দ করে ফোনে অথবা অনলাইনে অর্ডার করতে হয়। তারপর ঠিকানা দিয়ে দিলেই জায়গামত পৌঁছে যাবে পণ্য। তবে পণ্য ডেলিভারি চার্জ দিতে হয়, ঢাকার ভেতর হলে ৪৫ টাকা, আর ঢাকার বাইরে ৬০ টাকা।

২. প্রিয়শপ

গত বছর যাত্রা শুরু করা প্রিয়শপ ডটকম ইতোমধ্যেই বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এখানে পোশাক-আষাক, প্রসাধনী, মানিব্যাগ, বই, মগ, সিডি-ডিভিডি, জুতা, এন্টি ভাইরাস, জুয়েলারিসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়া যায়। এছাড়া ক্ষেত্রবিশেষে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্যের উপর পাওয়া যায় ৯০% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট। ঢাকার ভেতর ২৪ ঘণ্টায় ক্যাশ অন ডেলিভারি সুবিধাসহ সারা দেশে হোম ডেলিভারি করছে সাইটটি। আর ডেলিভারি চার্জ ৪০ টাকা, সে ঢাকার ভেতরেই হোক আর বাইরেই হোক।

৩. বাংলাদেশ ব্র্যান্ডস

দেশের নামকরা সব প্রতিষ্ঠানের সাথে পার্টনারশিপের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্র্যান্ডস ডটকম ক্রেতাদের অফার করে ব্র্যান্ডেড পোশাক থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক্স পণ্য, বই, গিফটসামগ্রী, জুতা, জুয়েলারি, ব্যাগ ইত্যাদি। অন্যান্য দেশি অনলাইন শপিং সাইটগুলো থেকে এই সাইটের একটি মৌলিক পার্থক্য হল, এটি দেশের ভেতর থেকে শুরু করে বিদেশেও পণ্য ডেলিভারি দিতে সক্ষম। তবে সবধরণের পণ্য আবার ক্যাশ-অন-ডেলিভারি সুবিধার মাধ্যমে পাওয়া যায়না। আর ডেলিভারি চার্জও নির্দিষ্ট নয়। আপনার পণ্যের ওজনের উপর নির্ভর করে চার্জ ৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে (দেশের ভেতর)। দেশের বাইরে ডেলিভারি চার্জ নির্ভর করবে ডিএইচএল আর ফেডএক্স এর চার্জ এর উপর।

৪. ফুডপান্ডা

শুধুমাত্র পাঁচমিশালী পণ্যের সমাহারমূলক সাইটই নয়, বাংলাদেশে এখন শুধুমাত্র নির্দিষ্ট এক ধরণের পণ্য নিয়েও অনলাইন শপিং সাইট আছে, তাও আবার পুরোপুরি আন্তর্জাতিক সাইট! এরকমই একটি সাইট হচ্ছে ফুডপান্ডা ডটকম। এটি একটি সুপরিচিত ও স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক ই-কমার্স সাইট। আমাদের দেশে মাত্রই গত বছর চালু হওয়া এই সাইটের কাজ হল ক্রেতার এলাকার আশেপাশের ভাল রেস্তোরাঁগুলোর সুস্বাদু খাবারের আইটেমগুলো তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। এজন্য ক্রেতাকে আগে সাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে নিজের এলাকার ঠিকানা দিতে হবে। তাহলেই ফুডপান্ডা দেখাবে সেই এলাকার আশেপাশের সব রেস্তোরাঁর নাম আর তাদের সব খাবারের আইটেম। এরপর সেখান থেকে অর্ডার করলেই বাসায় পৌঁছে যাবে খাবার, একেবারে কোন ডেলিভারি চার্জ ছাড়াই! এজন্য অবশ্য একটি ন্যূনতম পরিমাণ মূল্যের খাবার অর্ডার করতে হয় (সাধারণত সর্বনিম্ন ৩০০ টাকার)। আর মূল্য পরিশোধের জন্য ক্যাশ-অন-ডেলিভারি সুবিধা তো আছেই! তবে ঢাকার বাইরের অধিবাসীরা এখনই ফুডপান্ডার সেবা পাচ্ছেন না, কারণ এটি আপাতত শুধু ঢাকার মধ্যেই সেবা প্রদান করছে।

৫. রকমারি

সাহিত্য ও সংস্কৃতি অনুরাগীদের মধ্যে রকমারি ডটকম সাংঘাতিক রকম জনপ্রিয় একটি অনলাইন শপ। এখান থেকে ক্রেতারা বই, গানের অ্যালবাম, ছায়াছবি ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানের সিডি/ডিভিডি কিনতে পারেন। অদূর ভবিষ্যতে অন্যান্য আরও অনেক রকম পণ্য যোগ করার পরিকল্পনা আছে রকমারি ডটকম এর। তবে আপাতত বর্তমান সেবাগুলো নিয়েই এই সাইটের নিয়মিত ব্যবহারকারীরা সন্তুষ্ট। বাংলাদেশের যে কোন স্থান থেকে অনলাইন/ফোনে অর্ডার দিয়ে ৩০ টাকা পরিবহন চার্জের বিনিময়ে এখান থেকে জিনিস কেনার সুযোগ পান ক্রেতারা। সকল পণ্যের উপর ৩০ দিনের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টিও দেয় রকমারি ডটকম। বর্তমানে একুশে বইমেলা উপলক্ষে এখানে সকল বইয়ের উপর ২৫% ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

৬.লেসপ্রাইশবিডি (lesspricebd)


সম্প্রতি এই ই-কমার্স সাইটটি সকল নামীদামী AC, LED TV. ও Smart Phone-এর উপর অবিশ্বাস্য অফার দিচ্ছে যা ইতিমধ্যেই দেশজুরে ভালোই সাড়া পাচ্ছে। lesspricebd-তাদের product-এর উপর ১ বসছের পুরো replacement warranty এবং ৫ বছর servie warranty দিচ্ছে। যা এক কথায় অবিশ্বাস্য। 

অদ্ভুতুড়ে 5:58 AM
গরমে শীতল অনুভূতি এনে দিতে পারে এসি। ভ্যাপসা গরম তাড়াতে কিনতে পারেন এয়ার কন্ডিশনার বা এয়ার কুলার।  আমাদের দেশে অনেকের কাছে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে এয়ার কন্ডিশনার একটি অতি প্রয়োজনীয় ঘরের কাজে ব্যবহৃত ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্র। এসি কেনার সামর্থ্য না থাকলে কিনতে পারনে এয়ার কুলার। মাত্র ৬ হাজারেও পেতে পারেন এয়ার কুলার। এয়ার কুলার ঘর ঠাণ্ডা না রাখলেও, ঠাণ্ডা বাতাস দেয়। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এয়ার কুলার বাজারে পাওয়া যায়। দরদাম, ব্যবহার পদ্ধতি এবং কিছু প্রাথমিক জ্ঞান থাকলে এয়ার কন্ডিশনার কেনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হবে।


 গরমে উত্তাপেও আপনার সংসারে থাকুক শীতল শান্তি



প্রাথমিক ধারণা
প্রথমতো বাড়ির ধরন বুঝে এসি কিনতে হবে। যে রুমে এসি লাগাবেন তাতে যদি জানালা থাকে তবে পছন্দ অনুসারে ভালো ব্র্যান্ড দেখে ‘উইন্ডো এসি’ কিনে নিতে পারেন। ঘরের আকার যদি ছোট হয় তবে এই ধরনের এসি কেনা যেতে পারে। এক্ষেত্রে দামটাও তুলনামূলক কম। তবে ঘরের আকার যদি বড় হয় কিংবা ঘরে যদি কোনো জানালা না থাকে তবে ‘স্প্লিট এসি’ কিনতে হবে। মূলত বসার ঘর কিংবা  অফিসের বড় রুমে ব্যবহারের জন্য ‘স্প্লিট এসি’ কেনা হয়। এছাড়াও এয়ার কন্ডিশনার কেনার আগে অবশ্যই ঘরের আকার সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।

কিন্তু এয়ার কন্ডিশনার কেনার পূর্বে বেশ কিছু বিষয় খেয়াল করা উচিত। যাতে করে বাজেটের মধ্যে আপনি আপনার জন্য সবচেয়ে কার্যকরী পণ্যটা পেতে পারেন। কেমন এসি চাই বাসাবাড়ি, অফিস, শ্রেণীকক্ষ বা হলরুমে ব্যবহার করা হয় এয়ার কন্ডিশনার বা এসি। কত বড় এসি দরকার তা নির্ভর করে ঘরের আকার-আয়তনের উপর। কক্ষের আয়তন ১০০-১২০ বর্গফুট হলে ১ টন এসি। সর্বনিম্ন দাম ৪৭ হাজার টাকা। আয়তন ১৫০-২০০ বর্গফুট হলে দেড়টন এসি। সর্বনিম্ন দাম ৫১ হাজার টাকা। ১৮০-২২০ বর্গফুট আয়তনের কক্ষের জন্য প্রয়োজন হবে ২ টন এসি। সর্বনিম্ন দাম ৬১ হাজার টাকা। ৩৫০ বর্গফুট আয়তনের কক্ষের জন্য ৩ টন এসির প্রয়োজন হবে। দাম ১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা থেকে শুরু। পোর্টেবল এয়ার কন্ডিশনারের দাম ৪৫ হাজার টাকা থেকে শুরু। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের উপর দাম কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। 




এয়ার কন্ডিশনারের দরদাম এলজি, সিঙ্গার, ওয়ালটন, সিমেন্স, গ্রি, ট্রান্সটেক, হাইয়ার, জেনারেল ইলেক্ট্রনিক্সসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের এয়ার কন্ডিশনার বাজার ভর্তি। সিলিং, স্প্লিট ও উইন্ডো ছাড়াও পোর্টেবল এয়ার কন্ডিশনার বাজারে পাওয়া যায়। একেক ব্র্যান্ডের এয়ার কন্ডিশনারের দাম একেকরকম। এয়ার কুলারের দরদাম ঘরের আদ্রতা স্বাভাবিক রাখতে এয়ার কুলারের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। দামও কম। সহজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করা যায়। এয়ার কুলারের মাধ্যমে ঘরের আদ্রতা সহনীয় মাত্রায় রাখা হয়। এজন্য বরফ কিংবা পানি ব্যবহার করে এয়ার কুলারের মাধ্যমে ঠাণ্ডা বাতাস বের করা হয়। এতে ঘর ঠাণ্ডা হয় কম, তবে বাতাস দেয় ঠাণ্ডা। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এয়ার কুলার বাজারে পাওয়া যায়। মডেল ভেদে দাম ৬ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা।

নিম্নে এয়ার কন্ডিশনার কেনার আগের ১০ টি লক্ষ্যণীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে যা আশা করি আপনার কাজে আসবে। 

১. অফার বা কম দামের জন্য শীতকালে এয়ার কন্ডিশনার কিনুনঃ সাধারণত শীতকালে কম মানুষ এয়ার কন্ডিশনার কিনে। তাই যদি আপনি শীতকালে এয়ার কন্ডিশনার কিনেন সাধারণত কিছু ব্র্যান্ড অফার পাবেন কিংবা কোন ইলেক্ট্রনিক্সের দোকান থেকে কিনেন তাহলে তারা কিছুটা কম লাভে পণ্যটা দিবেন । কারণ এই সময়ে খুব বেশী মানুষ এয়ার কন্ডিশনার কিনেন ।

২. কেনার পূর্বে আপনার রুমটা পরিমাপ করে নিনঃ আসলে রুমটা বড় হলে বেশী ক্যাপাসিটির এয়ার কন্ডিশনার লাগবে আর ছোট হলে কম ক্যাপাসিটির এয়ার কন্ডিশনার হলেও চলবে ।

৩. এরপর ক্যাপাসিটিটা যাচাই করে নিনঃ রুম পরিমাপ ঠিকভাবে করলে কত ক্যাপাসিটির এয়ার কন্ডিশনার লাগবে এটা বুঝা সহজ হয়ে যাবে। এটা মূলত টনে হিসাব হয়। যত বেশী টনের এয়ার কন্ডিশনার তত বেশী জায়গা এটি ঠান্ডা রাখতে সক্ষম ।

৪. এয়ার কন্ডিশনারের ই.ই.আর রেটিং চেক করে নিনঃ ই.ই.আর রেটিং মূলত বুঝায় এয়ার কন্ডিশনার কত কম শক্তিক্ষয় করবে । ই.ই.আর রেটিং যত বেশী হবে তত কম এটি শক্তিক্ষয় করবে। তাই এয়ার কন্ডিশনার কেনার আগে এর ই.ই.আর রেটিংটা চেক করে নিন।

৫. বাতাস যাতে রুমের সব অংশে পৌঁছায়ঃ এয়ার কন্ডিশনারের বাতাস যেন রুমের সব অংশে পৌঁছায় এই বিষয়টা এয়ার কন্ডিশনার কিনার আগে খেয়াল করতে হবে।

৬. এয়ার কন্ডিশনারের কোন বিশেষ ফিচার থাকলে সেটা দেখুনঃ কিছু কিছু এয়ার কন্ডিশনারের বিশেষ ফিচার থাকে যা বেশ কাজের। এর মধ্যে একটা কাজের ফিচার হচ্ছে টাইমার। এর দ্বারা দিনের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন তাপমাত্রা সেট করতে পারেন । এমন কি আপনি কাজ থেকে ঘরে ফেরার আগে এয়ার কন্ডিশনারটা চালু করে দিতে পারেন যার ফলে আপনি এয়ার কন্ডিশনার ঠান্ডা হওয়ার অপেক্ষা না করে ঘরে আসা মাত্রই সুন্দর বাতাস উপভোগ করতে পারেন ।

৭. পূর্বে ব্যবহারকারীদের প্রশ্ন করুন এবং মতামত নিনঃ আপনার আগে যারা এয়ার কন্ডিশনার কিনেছেন এমন কাউকে প্রশ্ন করুন তাদের কি ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে । তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিন এবং সেই অনযায়ী সিদ্ধান্ত নিন।
৮. ইকমার্স সম্পর্কিত সাইট দেখুন এবং এই বিষয়ক ফোরাম সাইটে প্রশ্ন করুনঃ আপনি ঘরে বসে বিভিন্ন ইকমার্স সম্পর্কিত সাইটে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এয়ার কন্ডিশনারের ফিচারগুলো যাচাই করতে পারেন। এছাড়া আপনি আমাদের দাম.কম.বিডি এর পাগল কমিউনিটিতে আপনার এয়ার কন্ডিশনার বিষয়ক কোন প্রশ্ন থাকলে করতে পারেন, যেখানে আপনি অনেক প্রযুক্তি প্রেমিক পাবেন যাদের থেকে একটা ভালো উত্তর আপনি আশা করতে পারেন। প্রশ্ন করার জন্য আপনাকে এই পেইজের বামদিকে ফেসবুক আইকনে ক্লিক করার মাধ্যমে ফেসবুক দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন ।

৯. কেনার পূর্বে দোকানে এয়ার কন্ডিশনারটা একবার চেক করে নিনঃ কেনার আগে দোকান থেকে একবার চেক করে নেয়া ভালো । তাহলে কোন সমস্যা পেলে সরাসরি দোকানদারকে দেখাতে পারবেন এবং প্রয়োজনে চেঞ্জ করে নিতে পারবেন ।

১০. কেনার পূর্বে নিশ্চিত হয়ে নিন কিভাবে এটা ইন্সটল করবেনঃ ইন্সটল কিভাবে করতে হবে এটা কেনার পূর্বেই নিশ্চিত হয়ে নিন। যদি নিজে নিজে ইন্সটল করতে সমস্যা অনুভব করেন তাহলে যে দোকানে ইন্সটলেশন সার্ভিস দেয়া হয় এমন দোকান থেকে কিনুন কিংবা ভালো ইন্সটলেশন করতে পারে এমন প্রফেশনালের সার্ভিস নিন ।

আশা করি এই লেখাটি পরে বুঝতে পেরেছেন এয়ার কন্ডিশনার কিনার পূর্বে কি কি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেয়া জরুরী। এসব বিষয় মাথায় রেখে কিনলে আশা করা যায় সাধ্যের মধ্যে ভালো জিনিসটা কিনতে পারবেন।

শহরের বিভিন্ন এয়ার কন্ডিশনার শো রুমের বিক্রয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল এসির ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হল ‘কুলিং’ বা ঠাণ্ডা করার ক্ষমতা কমে যাওয়া। এক্ষেত্রে এসির ভেতরের নেট খুলে ডাস্ট ক্লিনিং করে নিতে হবে। ব্যবহারকারী নিজেই সাধারণ উপায়ে এসির ইনডোর খুলে নেট ওয়াশ করে নিতে পারেন। এছাড়া কুলিং একেবারে বন্ধ হয়ে গেলে বুঝতে হবে এসির ভেতরে গ্যাস ফুরিয়ে গেছে। এক্ষেত্রে সংশিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সেবা প্রদানকারী প্রতিনিধিদের মাধ্যমে গ্যাস রিফিল করে নিতে পারেন। বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদানের সময় পার হয়ে গেলে সার্ভিস চার্জ প্রদান করতে হবে।

কোথায় পাবেন: আপনার নিকটস্থ যে কোনো ইলেকট্রনিক্স দোকানেই পেয়ে যাবেন l দেশী-বিদেশী নানান ব্র্যান্ড আছে এসির l ব্র্যান্ড অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়ে থাকে l অনলাইনে কিনতে চাইলে খোজ করে দেখতে পারেন Lesspricebd-তেl তাদের রয়েছে এয়ার কন্ডিশনের বিশাল কালেকশন l

অদ্ভুতুড়ে 11:50 PM

সারা পৃথিবীকে আরও উন্মুক্ত এবং সংযুক্ত করতে ১০ বছরের রূপকল্প তৈরি করেছে ফেসবুক (Facebook)। ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ এফ৮ কনফারেন্সে এই রূপকল্পের ঘোষণা দেন। কনফারেণ্সটি যু্ক্তরাষ্ট্রের স্যান ফ্যান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত হয়। এই রূপকপ্লের সারমর্ম জুকারবার্গ তার ভেরিফায়েড পেজে প্রকাশ করেছেন।

জুকারবার্গ জানান, ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে যোগাযোগ আরও সহজ করার জন্য ফেসবুক নতুন প্রযুক্তি মেসেঞ্জার বটস উন্মুক্ত করেছে। এই মেসেঞ্জার বটস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে কাজ করবে।

জুকারবার্গ বলেন,আমরা লাইভ এপিআই চালু করেছে। যা মাধ্যমে ভিডিও সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে। আমরা একই সঙ্গে বিমান এবং স্যাটেলাইট তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছি। এগুলোর সাহায্যে সবাইকে ইন্টারনেটের আওতায় আনা হবে।

জুকারবার্গ আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের বিভিন্ন পরিষেবার সঙ্গে খুব সহজভাবে সংযুক্ত করবে। অন্যদিকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি নতুন অভিজ্ঞতা দেবে।

জুকারবার্গ তার বক্তব্যে জানান, তিনি ভবিষ্যত নিয়ে খুবই উত্তেজিত। যে ভবিষ্যৎত সকলে মিলে তৈরি করা হচ্ছে।

জুকারবার্গের বক্তব্য ও ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন এই লিংকে: https://www.facebook.com/zuck

অদ্ভুতুড়ে 12:25 AM

আজ থেকে প্রায় এগারো বছর আগে, ১৯ শে অক্টোবর ২০০৩ সালে অস্কার মুনজ নামের এক লোক চিলির ‘এটাকামা’ মরুভূমিতে খুঁজে পায় ভীষণ অদ্ভুত একটি জিনিস। সাদা কাপড়ে মোড়ানো ছয় ইঞ্চি লম্বা বল পয়েন্ট কলমের সমান একটি আস্ত কঙ্কাল!  


কঙ্কালটি দেখতে অবিকল মানুষের মত, তবে মাথাটা দেহের অনুপাতে বেশ বড় এবং সামনের দিকে ঝোঁকা। দেহের সাথে মাথার খুলির অনুপাত মানুষের চেয়ে প্রায় তিনগুন বেশি এবং উপরের দিকে স্ফিত। চোয়ালের হার এবং অক্ষিকোটরের গঠনও বেশ অস্বাভাবিক (সংযুক্ত ছবিগুলো দেখুন)। কঙ্কালটি দেখতে আসলেই অনেকটা কাল্পনিক 'এলিয়েনের' মতোই। মিডিয়ার বদৌলতে চারদিকে খবরটি ছড়িয়ে পড়ল যে এলিয়েনের কঙ্কাল আবিস্কৃত হয়েছে! আর এই তথাকথিত এলিয়েন কঙ্কালটি 'এটাকামা হিউম্যানোইড'(Atacama Humanoid) নামে পরিচিতি পেয়ে গেল। 

মাত্র ৬ ইঞ্চি কঙ্কাল! এটা কি এলিয়েনের কঙ্কাল নাকি মানুষের?

তবে, আসলেই কি কঙ্কালটি এলিয়েনের?

আবিষ্কারের দশ বছর পর কঙ্কালটি উন্মুক্ত করা হয় বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য। পৃথিবীর বিখ্যাত স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালের একদল বিজ্ঞানী ছয় মাস ধরে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষা চালায় এটাকামা কঙ্কালটির উপর। গোটা কঙ্কালটিকে তারা এক্স-রে এবং সিটিস্ক্যান করে। বুকের পাঁজর থেকে হাড় নিয়ে ডিএনএ টেস্ট করে। বিশেষজ্ঞ দল কঙ্কালটির বাহ্যিক অবয়ব পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে নিরীক্ষণ করে। বিশেষজ্ঞ দলটির নেতৃত্ব দেন বিশিষ্ট চিকিসক ড. স্টেফেন গ্রীর। মলিকিউলার বায়লোজি এক্সপার্ট প্রফেসর ড. গ্যারি নোলান করেন ডিএনএ এবং জেনেটিক এনালাইসিস, আর রেডিওলোজি এবং অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ ড. লেচম্যান করেন এক্স-রে এবং সিটিস্ক্যান এনালাইসিস। গবেষণার পুরো রিপোর্টি পাওয়া যাবে এই লিঙ্কে।

প্রথমেই বিজ্ঞানীরা যেটা দেখেন সেটা হলো কঙ্কালটি আসল না নকল। তারা বুকের পাজরের অস্থিতে অস্থিমজ্জার প্রমান পান এবং সিটিস্ক্যানে পরিস্কার ভাবে হাড়-এর বৈশিষ্ট্য যাচাই করেন। সিটিস্ক্যানে তারা কঙ্কালটির বক্ষ কোটরে ফুসফুস এবং হৃদপিন্ডও দেখতে পান। তারা বুঝতে পারেন, গোটা প্রাণীটিই কোনো না কোনো ভাবে মমিতে পরিনত হয়েছে। এভাবে, শুরুতেই তারা নিশ্চিত করেন যে কঙ্কালটি নকল নয়, আসল।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল যে কঙ্কালটি হয়ত অপরিণত গর্ভপাতে নষ্ট হওয়া মানব শিশু বা ফিটাস (Aborted foetus) যা কোনো কারণে মমিতে পরিনত হয়েছে; অথবা কঙ্কালটি কোনো শিম্পাঞ্জি বা বানরের; অথবা এলিয়েনেরও হতে পারে! একটা অপরিপূর্ণ মানব শিশু বা ফিটাস এর কঙ্কাল এর দৈর্ঘ্য ছয় ইঞ্চি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

তবে কঙ্কালটির এক্স-রে রিপোর্ট অনুযায়ী ওটা কোনো ফিটাসের কঙ্কাল হতে পারে না। কঙ্কালটির অস্থি এবং অস্থিসন্ধি সম্পূর্ণ ভাবে সুগঠিত এবং পরিপক্ক (Matured), এবং সেই সাথে নিচের পাটিতে দাঁতও রয়েছে! গর্ভাবস্থায় একটা মানব শিশুর হাঁটু (Knee joint) থাকে তরুনাস্থি দিয়ে গঠিত। ভূমিষ্ঠ হওয়ার ৬-৭ বছর পর এই তরুনাস্থি শক্ত (Calcified) অস্থিতে পরিনত হয়। এক্স-রে’তে দেখা এটাকামার হাঠুর গঠন সম্পূর্ণ ভাবে মিলে যায় ৬ থেকে ৮ বছরের মানুষের হাঠুর গঠনের সাথে। অর্থাৎ এটাকামা কোনোভাবেই ফিটাস (গর্ভের শিশু) ছিল না। সে ছিল হেঁটে-চলে বেড়ানো ৬ থেকে ৮ বছরের কোনো মানুষ (অথবা এলিয়েন?) যার উচ্চতা ছিল মাত্র ৬ ইঞ্চি! আর বিজ্ঞানীদের বিস্ময় এখানেই। কেননা, ৬ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে কোনো মানুষ বাঁচতে পারে না।

তাহলে কি এটাকামা ডোয়ারফিজম (Dwarfism) বা প্রোজেরিয়া (Progeria) সিন্ড্রম জাতীয় কোনো রোগে ভুগছিল? এটাকামার উপরে করা রেডিওলোজির রিপোর্টের ভিত্তিতে এ বিষয়ের এক্সপার্ট ড. লেচম্যান বলেন যে এটাকামার ডোয়ারফিজম অথবা প্রোজেরিয়া সিনড্রমে ভোগার সম্ভবনা নেই বললেই চলে। কেননা, এ সমস্ত রোগে যে আনুষঙ্গিক শরীরক অস্বাভাবিকতা থাকার কথা তা এটাকামার এক্স-রে এবং সিটিস্ক্যানে অনুপস্থিত। উপরন্তু, যে জেনেটিক মিউটেশন এর কারণে এসব রোগ হয়ে থাকে সে ধরনের কোনো জেনেটিক মিউটেশন এটাকামার ডিএনএ বা জিন এনালাইসিস এ পাওয়া যাইনি। এছাড়া চিকিত্সা বিজ্ঞানের ইতিহাসে ডোয়ারফিজম রোগে ভোগা সবচেয়ে ছোটো যে মানুষটির সন্ধান পাওয়া যায় তার উচ্চতা ছিল ১ ফুট ৮ ইঞ্চি। অতএব, সব দিক বিচার করে বিজ্ঞানীগণ মনে করেন এটাকামা হয়ত অন্য কোন জেনেটিক মিউটেশন জনিত রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

এক্স-রে তে দেখা যায়, এটাকামার পাঁজর এর হাড়ের সংখ্যা মাত্র দশ জোড়া; যেখানে মানুষের থাকে ১২ জোড়া। তবে কিছু বিরল ক্ষেত্রে ১০ বা ১১ জোড়াও থাকতে পারে, কিন্তু সে ক্ষেত্রে অন্যকোন অস্থি বিকৃতি থাকার কথা না। এটাকামার পাঁজরের হাড়ের অস্বাভাবিকতার সাথে রয়েছে মস্তিস্কের হাড়ের অস্বাভাবিকতাও। এটাকামার কপাল থেকে খুলির শীর্ষ পর্যন্ত উচ্চতার অনুপাত একজন মানুষের থেকে ৩ গুন বেশি। এটাকামার হাত পা এবং দেহের অন্যান্য অংশের গঠন স্বাভাবিক মানুষের মত হলেও মস্তিষ্কের গঠন একেবারেই মানুষের সাথে বিসাদৃশ্য! কেন এমন তার উত্তর আপাতত বিজ্ঞানীদের জানা নেই!

এটাকামার অস্থি থেকে স্যাম্পল নিয়ে যে ডিএনএ বা জেনেটিক এনালাইসিস করা হয় তাতে দেখা যায় যে মানুষের সাথে এটাকামার জিনগত অমিল রয়েছে শত করা ৯ ভাগ। যেখানে মানুষের সাথে শিম্পাঞ্জির জিনগত অমিল মাত্র শতকরা ৩ ভাগ। উপরন্তু, বানর অথবা শিম্পাঞ্জির সাথে এটাকামার জিনগত মিল খুবই কম। দৈহিক এবং জিনগত অমিলের কারণে বিজ্ঞানীগণ একমত পোষণ করেন যে এটাকামা কোনো বানর অথবা শিম্পাঞ্জির কঙ্কাল নয়। আবার বিজ্ঞানীদের হাতে এ যাবত যে তথ্য আছে তাতে করে তারা শতভাগ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না যে এটাকামা একটি ৬ ইঞ্চি উচ্চতার মানব ছিল। তবে যেটুকু নিশ্চিত হয়ে জানা গেছে তা হলো এটাকামা মানব ফিটাস ছিল না; এটাকামা বানর অথবা শিম্পান্জিও ছিল না।

তাহলে কি এটাকামা কোনো নতুন ধরনের মানুষরুপী প্রাণী (New species) ছিল যারা বসবাস করত ১০০ থেকে ১০০০ বছর পূর্বে এই পৃথিবীতেই। যদি তাই হয়, তাহলে তো আরো এটাকামার মত কঙ্কাল পাওয়ার কথা। বিজ্ঞানীরা আসলে এখন তাই খুঁজছে। তারা যদি আরো কয়েকটি এটাকামার মত কঙ্কাল আবিষ্কার করে তাহলে হয়ত উপরের প্রশ্নের উত্তর মিলে যাবে। আর যদি না খুঁজে পায় তাহলে কি ধরে নেয়া হবে যে এটাকামা আসলে ভিন দেশের কোনো এলিয়েনেরই কঙ্কাল? 

√ উতসাহীগণ এটাকামার উপর একটি সুন্দর ভিডিও দেখতে - 

অদ্ভুতুড়ে 12:17 AM

প্রতিনিয়ত মানব সভ্যতাকে নতুন নতুন গবেষণা আর আবিষ্কার দিয়ে এগিয়ে নিয়ে চলেছে বিজ্ঞান। বিজ্ঞানীদের বেশিরভাগ গবেষণার বিষয়বস্তু আর ফলাফল বেশ গুরুগম্ভীর হলেও মাঝে মধ্যে আবিষ্কারটি এতোই অদ্ভূত হয় যে, স্বয়ং বিজ্ঞানীরাও অবাক হয়ে যান। লাইভ সায়েন্স অবলম্বনে ২০১২ সালের এমন অদ্ভূত ১০টি বৈজ্ঞানিক ঘটনা আর আবিষ্কার নিয়ে আজকের বিশেষ আয়োজন। 


 
ডিএনএর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি

বংশগতির ধারক ও বাহক ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিয়িক অ্যাসিড (ডিএনএ) স্থানান্তরের মাধ্যমে প্রজনন ছাড়াই বংশবৃদ্ধি করে বিডিলয়েড রোটিফার ওয়ার্ম নামের একজাতের বিশেষ কেঁচো। প্রজনন ছাড়াই বংশবৃদ্ধি করতে পারে, প্রাণীজগতে এমন উদাহরণ একেবারেই হাতে গোনা। যৌনক্রিয়ার মাধ্যমে একদিকে বাড়ে জিন বৈচিত্র, তেমনি প্রতিরোধ হয় ক্ষতিকারক জিন বিবর্তন। কিন্তু কোনো রকমের যৌনক্রিয়া ছাড়াই ৮ কোটি বছরেরও বেশি সময় ধরে টিকে আছে বিডিলয়েড রোটিফার ওয়ার্ম নামের একজাতের বিশেষ কেঁচো। এজাতের কেঁচোগুলোর মধ্যে পুরুষ কোনো কেঁচো নেই, বরং সবগুলোই স্ত্রী লিঙ্গের। খাবার হিসেবে এদের পছন্দ বিভিন্ন ফাংগাস আর ব্যাকটেরিয়া। ফাংগাস আর ব্যাকটেরিয়া ডিএনএ নিয়ে নিজের জেনেটিক কোডে মিশিয়ে নেয় রোটিফার ওয়ার্ম। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ওই ডিএনএর অ্যান্টিওক্সিডেন্টের কারণেই টিকে রয়েছে রোটিফার ওয়ার্ম।


রঙিন মধু

হঠাৎ করে নীল আর সবুজ রঙের মধু তৈরি করা শুরু করে ফরাসী মধুচাষীদের বেশ ভড়কে দিয়েছিলো মৌমাছিরা। এই রঙিন মধু তৈরির কারণটি ছিলো আরো অদ্ভুত, মৌমাছিদের চকলেট আসক্তি! ফুলের নির্জাস সংগ্রহ করা বাদ দিয়ে চকলেট ফ্যাক্টরি আর বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের বর্জ্য থেকে চিনি সংগ্রহ করা শুরু করেছিলো মৌমাছিরা। যার ফলাফল, রঙিন মধু।


মায়ের মস্তিষ্কে শিশুর কোষ

২০১২ সালে যে আবিষ্কারগুলো বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বেশি অবাক করে দেয় তার একটি হলো মায়ের মস্তিষ্কে গর্ভের শিশুর কোষের উপস্থিতি। এমনকি গর্ভের শিশুটি ভূমিষ্ঠ হবার পরও কয়েক দশকেরও বেশি সময় মায়ের মস্তিষ্কে থেকে যায় ওই কোষগুলো। এমনকি ৯৪ বছর বয়সী এক মৃত নারীর মস্তিষ্কে তার সন্তানের কোষের উপস্থিতি খুঁজে পান বিজ্ঞানীরা। ওই কোষগুলো দীর্ঘদিন ধরে মায়ের মস্তিষ্কে থেকে কি করে সে বিষয়ে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত না হলেও, কোষগুলো গর্ভপরবর্তী অবস্থায় মায়ের শরীরের টিস্যুগুলোকে মেরামত করে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।


দীর্ঘায়ু হতে লিঙ্গচ্ছেদ

১৮৯৪ সালের আগ পর্যন্ত কোরিয়ান পুরুষদের মধ্যে চালু ছিলো স্বেচ্ছায় লিঙ্গচ্ছেদের একটি প্রথা। সামাজিক মর্জাদা বৃদ্ধি এবং রাজপ্রাসাদে অবাধ যাতায়াতের সুযোগ পেতে এই স্বেচ্ছা লিঙ্গচ্ছেদের মধ্যে দিয়ে যেতেন তারা। সবচেয়ে অদ্ভূত ব্যপার হচ্ছে স্বাভাবিক পুরুষদের তুলনায় গড়ে ২০ বছর বেশি বাঁচতেন তারা। এর কারণ সম্পর্কে এখনও পরিষ্কার নন বিজ্ঞানীরা। তবে পুরুষ সেক্স হরমোন টেস্টোস্টোরেনের অনুপস্থিতির কারণে এমনটা হতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় টেস্টোস্টোরেন, এছাড়াও হৃদপিণ্ডকেও দুর্বল করে দেয় হরমোনটি।


ফিরে আসবে ফসিল ফরেস্ট

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির অপ্রত্যাশিত ফলাফল বলা চলে এটিকে। আর্কটিক অঞ্চলের পুরু বরফের নিচে ফসিলে পরিণত হয়ে চাপা পড়ে আছে প্রাচীন বন। উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে আর্কটিক বরফ গলে তার জায়গায় ফিরে আসতে পারে ২৫ লাখ বছরের ওই পুরণো বন।


জীবন বাঁচাতে তেলাপোকা

যে তেলাপোকা দেখে আপনি নাক শিটকান, সেই তেলাপোকাই বাঁচাতে পারে আপনার মূল্যবান জীবন। জীবন্ত তেলাপোকা ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছেন রিমোট কন্ট্রোলড সাইবর্গ ককরোচ। এই সাইবর্গ তেলাপোকার কাজ হবে ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত এলাকায় আহত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা।


ব্রিজ টু নোহোয়ার

ডার্ক ম্যাটারের উপস্থিতিটা কেবলমাত্র তার মাধ্যাকর্ষণ শক্তি দিয়েই খুঁজে পাওয়া যায়। পৃথিবী থেকে ২৭০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে দু’টি গ্যালাক্সির মাঝে উপস্থিতি দানবীয় এক ডার্ক ম্যাটার ব্রিজের। ২০০১ সালে হাওয়াইয়ের সুবারু টেলিস্কোপ ডার্ক ম্যাটারের ব্রিজটির উপস্থিতি ধরা পড়লেও তখন ব্যাপারটি আমলে নেননি কেউ। কিন্তু এ বছর বিজ্ঞানীরা পুরোদমে গবেষণা করে রহস্যময় ডার্ক ম্যাটারের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। যেখানে ডার্ক ম্যাটারের উপস্থিতি থাকে, সেখানে একাধিক গ্যালাক্সি জট বেঁধে থাকে, এ ত্বত্ত্বের স্বপক্ষে প্রমাণ এটি।


মৃতদেহ চিহ্নিত করবে ম্যাগোট
মানুষের মৃতদেহ খেয়ে শেষ করে ফেলা ম্যাগোট বা শূককিটের দেহ থেকেই জানা যাবে মৃতদেহের পরিচয়। সম্প্রতি মেক্সিকোর পুলিশ বিভাগের আবিষ্কৃত একটি মৃতদেহ আগুনে এতোটাই পুড়ে গিয়েছিলো যে, কোনোভাবেই মৃতদেহের পরিচয় নির্ধারণ করা সম্ভব ছিলো না। ওই মৃতদেহটিতে কয়েকটি শূককিট স্থাপন করেন বিজ্ঞানীরা। পরে ওই শূককিটগুলো থেকে পাওয়া মৃতদেহের ডিএনএ থেকে ওই ব্যক্তির পরিচয় নির্ধারণ করতে সক্ষম হন বিজ্ঞানীরা।


বেবি ক্রাইম ফাইটার

লন্ডনের অপরাধপ্রবণ এলাকা গ্রেভস্যান্ডের দোকানে লুট ঠেকাতে দোকানের সামনে ছোট্ট শিশুদের ছবি ঝোলাচ্ছেন স্থানীয় দোকানদাররা। তাদের আশা বাচ্চাদের ছবি দেখেই চুরি ডাকাতি ছেড়ে ঘরে ফিরে যাবে অপরাধীরা। ওই স্থানীয় দোকানদারদের এই পদক্ষেপ যে ভিত্তিহীন, তা কিন্তু নয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন, শিশুদের মিষ্টি মুখটি মানুষের মস্তিষ্কের আদুরে অংশটিকে চালু করে দেয়।


নতুন মানব প্রজাতি

নিন্ডারথাল আর হবিটরা ছাড়াও আধুনিক মানুষের পাশাপাশি পৃথিবীতে অস্তিত্ব ছিলো আরো একটি মানব প্রজাতির। বিজ্ঞানীরা রেড ডিয়ার কেভ পিপল নামের মানুষের নতুন একটি প্রজাতির কঙ্কাল আবিষ্কার করেছেন দক্ষিণ পশ্চিম চীনে। পৃথিবীতে অদ্ভূত আকৃতির এই মানুষদের অস্তিত্ব ছিলো ১১ হাজার বছর আগে, বরফ যুগের শেষ দিকে।

অদ্ভুতুড়ে 12:08 AM

পানি স্বাভাবিকভাবে তরল হলেও সম্প্রতি গবেষকরা শুকনো পানি তৈরি করেছেন। শব্দটি শুনতে পরস্পরবিরোধী এবং অবিশ্বাস্য মনে হলেও এ অসাধ্যই সাধন করেছেন বিজ্ঞানীরা। খবর টেলিগ্রাফ অনলাইন-এর। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, এ শুকনা পানির প্রতিটি দানা দেখতে অনেকটা চিনির দানার মতো। 




গবেষকরা জানিয়েছেন, শুকনো পানির প্রতিটি দানার ভেতরে রয়েছে এক বিন্দু পরিমাণ তরল পানি যা ঘিরে আছে সিলিকা বা বালি। তারা আরও জানান, এ শুকনো পানির দানার প্রতিটির মধ্যে ৯৫ শতাংশই তরল পানি।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, এ শুকনো পানির দানা বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে কার্যকারী ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়াও এ পানি তরল পানি অপেক্ষা বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড ধারণ করতে পারে।

এছাড়াও শুষ্ক পানিকে মিথেন এবং প্রাকৃতিক গ্যাস সংরক্ষণে জন্যও একটি কার্যকর মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করা যাবে। hypnotized hypnotized hypnotized hypnotized

লিভারপুল ইউনিভার্সিটির ড. বেন কার্টার বস্টনে অনুষ্ঠিত আমেরিকান কেমিকাল সোসাইটির ২৪০তম মিটিংয়ে তরল পানি নিয়ে গবেষণার ফল প্রকাশ করে। তিনি এ সম্পর্কে বলেন, ‘আমি এ পর্যন্ত এ ধরনের কোনো আবিষ্কার দেখি নি। আশা করি ভবিষ্যতে আমরা শুকনো পানির ঢেউ দেখতে পাবো।

অদ্ভুতুড়ে 1:53 AM

"অনেকদিন ধরে বিজ্ঞানীরা খোঁজ করছেন নতুন এন্টিবায়োটিকের। কিন্তু ওষুধ বিজ্ঞানীরা নতুন কোন এন্টিবায়োটিক আবিষ্কার করতে পারছিলেন না যুগের পর যুগ পার হয়ে যাওয়ার পরেও!"  বিবিসির সংবাদ।


 
এবার সে কাজটিই করে দেখালেন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী। তাঁদের এই আবিষ্কার ছাপানো হয়েছে ইন দ্যা জার্নাল অব দ্যা ন্যাচারে।

এমন একটি এন্টিবায়োটিক বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করলেন প্রায় ৩০ বছর পর যার নাম টিক্সোব্যাক্টিন। এটিকে বিজ্ঞানীর বলছে "গেম চেঞ্জার এন্টিবায়োটিক"। টিক্সোব্যাক্টিন মানবদেহে ক্ষতিকারক জীবাণু ধ্বংস করতে ভালো সাড়া দেয়। এই আবিষ্কৃত এন্টিবায়োটিকটি পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে ইঁদুর ও অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীদের উপর। এখন মানুষের উপর প্রয়োগ করে এর ফল দেখা বাকী রয়েছে।

অদ্ভুতুড়ে 12:21 AM

প্রত্যেক আবিষ্কারকই একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে গবেষণা চালান। তিনি কি আবিষ্কার করতে যাচ্ছেন এবং তা করতে তার কি কি উপাদান লাগতে পারে সেটা আগে থেকেই চিন্তা ভাবনা করে রাখেন। যদিও সব ক্ষেত্রে একজন উদ্ভাবক সফলতা পান না; তবু তিনি কী আবিষ্কার করতে যাচ্ছেন তা তার কাছে স্পষ্ট এবং সেই লক্ষ্যেই তিনি কাজ করেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, পৃথিবীতে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস আবিষ্কৃত হয়েছে যা আসলে আবিষ্কার করতে চাননি আবিষ্কারক। যা হওয়ার তা হয়েছে দুর্ঘটনাবশত। এমন কিছু আবিষ্কার নিয়ে আজকের এই লেখা: 

 

ভায়াগ্রা:
ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানি ফাইজারের অধীনে ইংল্যান্ডের ওয়েলসে একদল গবেষক ১৯৮৫ সাল থেকে এনজাইনা (বুকে ব্যথা) ও হাইপার টেনশনের অধিক কার্যকরী ওষুধ আবিষ্কারের লক্ষ্যে গবেষণা চালিয়ে আসছিলেন। ১৯৯২ সালে তারা একটি নতুন ওষুধ আবিষ্কার করেন এবং পরীক্ষা চালানোর সময় তারা দেখতে পান, এনজাইনার ক্ষেত্রে এটি খুব অল্প কাজ করলেও দ্রুত লিঙ্গ উত্থানে এটি কাজ করছে। বিষয়টি গবেষকদের কাছে সম্পূর্ণ অভাবনীয় হলেও ততক্ষণে ওষুধ শিল্পের অন্যতম বৈপ্লবিক আবিষ্কারটি তারা করে ফেলেন; এবং এখন সারাবিশ্বে যৌন সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে গবেষকদের ভুলে আবিষ্কার হওয়া এ ওষুধটি। 

বিজ্ঞানীরা ভুলে যা আবিস্কার করে ফেলেছিল
মাইক্রোওয়েভ:
১৯৪৫ সালের কথা। আমেরিকান প্রকৌশলী পার্সি লেবারন স্পেন্সার কাজ করছিলেন ম্যাগনিট্র্রনস ডিভাইস নিয়ে। এই ডিভাইস কাজে লাগত রাডারে। মাইক্রোওয়েভ রেডিও সঙ্কেত তৈরির জন্য। কাজ করার প্রয়োজনে একটি চালু ডিভাইসের সামনে দাঁড়ানোর সময় স্পেন্সারের পকেটে ছিল চকোলেট বার। এ সময় তিনি টের পান, চকোলেটটি গলে গেছে। স্পেন্সার ঠিক বুঝে উঠতে না পারলেও মাইক্রোওয়েভ এর পেছনে কাজ করছে তা আন্দাজ করতে পারলেন। তিনি দ্রুত কিছু পপকর্ন এনে ডিভাইসটির সামনে রাখলেন। ফটফট শব্দ তুলে দ্রুতই রুমে ছড়িয়ে পড়ল পপকর্ন। স্পেন্সারের বুঝতে বাকি রইল না, হঠাত্ করেই নিজের অজান্তেই তিনি মাইক্রোওয়েভ ওভেন আবিষ্কার করে ফেলেছেন। 

বিজ্ঞানীরা ভুলে যা আবিস্কার করে ফেলেছিল
পটেটো চিপস:
দুনিয়াজুড়ে ভীষণ জনপ্রিয় এই খাবারটি তৈরি হয়েছে কিছুটা ভুল আর কিছুটা ক্ষোভবশত। আমেরিকার সারাটোগা স্প্রিংস শহরের এক হোটেলের বাবুর্চি ছিলেন জর্জ ক্রোম। ১৮৫৩ সালের ২৪ আগস্ট রাতে তার এখানে এক খদ্দের এসে আলু ভাজার অর্ডার দেন। সরবরাহ করার পর ভদ্রলোক তা ফিরিয়ে দেন এই বলেন যে, আলুগুলো খুব বেশি মোটা করে কাটা হয়েছে এবং এগুলো খুব বেশি আর্দ্র। আবার সরবরাহ করার পর খদ্দের আবার একই অভিযোগ করেন এবং সঙ্গে এও বলেন, খাবারে লবণও কম দেয়া হয়েছে। ম্যানেজারের ভর্ত্সনা শুনে এবার ক্ষেপে যান বাবুর্চি ক্রোম। তিনি এবার কাগজের মতো পাতলা করে আলুগুলো কাটলেন ও কড়া করে তেলে ভাজলেন যাতে খদ্দের কাঁটাচামচ দিয়ে খেতে না পারেন। সবশেষে আলু ভাজার ওপর ছড়িয়ে দিলেন মাত্রারিক্ত লবণ। সন্দেহ নেই, খদ্দেরকে শায়েস্তা করাই ছিল ক্রোমের উদ্দেশ্য। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, নিমেষেই আলু ভাজা সাবাড় করে ফেললেন ভদ্রলোক। অর্ডার দিলেন আরও এমন আলুভাজা নিয়ে আসার জন্য। এভাবেই জন্ম নিল মুখরোচক পটেটো চিপসের। 

বিজ্ঞানীরা ভুলে যা আবিস্কার করে ফেলেছিল
পেনিসিলিন:
একবার ভাবুন তো অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার হয়েছে সম্পূর্ণ ভুলবশত! কি চমক খেলেন? ঘটনা কিন্তু সত্যি। স্যার আলেক্সান্ডার ফ্লেমিং তখন গবেষণা করেন লন্ডনের সেন্ট মেরি হাসপাতালে। বিখ্যাত এই অণুজীব বিজ্ঞানীর গবেষণাগার ছিল খুবই নোংরা। ওই সময় তিনি কাজ করছিলেন স্ট্যাফাইলোকক্কাস ব্যাক্টেরিয়া নিয়ে। একবার সাপ্তাহিক ছুটিতে বাসায় চলে যাওয়ার আগে তিনি ব্যাক্টেরিয়ার পাত্রগুলোকে একটি স্থানে সন্নিবেশিত করে রাখেন। অসাবধানতাবশত একটি পাত্র পড়ে যায় নোংরার মাঝে। ৩ সেপ্টেম্বর ১৯২৮ সালে ছুটি থেকে ফিরে ফ্লেমিং লক্ষ্য করলেন নোংরায় পড়ে থাকা ওই পাত্রটি এক ধরনের ছত্রাকে আক্রান্ত হয়েছে। নমুনাটি অকাজে নষ্ট হলো ভেবে ফেলে দেবেন—ভাবতেই তিনি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন, এ পাত্রের ব্যাক্টেরিয়াগুলো মারা গেছে; যেখানে অন্য পাত্রগুলোর ব্যাক্টেরিয়া স্বাভাবিক রয়ে গেছে। ফ্লেমিং দ্রুত আবিষ্কার করেন ছত্রাকটি ছিল পেনিসিলিয়াম ক্রাইসোজেনাম প্রজাতির এবং এটি একাধিক প্রজাতির ব্যাক্টেরিয়া নিধনে কাজ করে। 


বিজ্ঞানীরা ভুলে যা আবিস্কার করে ফেলেছিল
স্যাকারিন:
জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে খনিজ আলকাতরা নিয়ে গবেষণা করছিলেন ইরা রেমসন ও সি ফাহালবার্গ। ১৮৭৮ সালে একদিন কাজ করে ক্ষুধার্ত রেমসন ও ফাহালবার্গ খেতে বসলেন। তড়িঘড়ি খেতে বসায় হাত ধুতে ভুলে গেলেন ফাহালবার্গ। খাওয়ার সময় উনি টের পেলেন খাবার মিষ্টি মিষ্টি লাগছে। রেমসনকে এ ব্যাপারে জানালে দুজনই টের পেলেন, যে পদার্থ নিয়ে তারা গবেষণা করছেন তা থেকে কৃত্রিম চিনি জাতীয় পদার্থ উত্পাদন করা সম্ভব। পরে ফাহালবার্গ এটি পেটেম্লট করে তার নাম দেয় স্যাকারিন। 


বিজ্ঞানীরা ভুলে যা আবিস্কার করে ফেলেছিল
এক্স-রে:
ক্যাথোড রে আবিষ্কার হয়েছিল অনেক আগেই। কিন্তু গবেষকরা তখনও জানতেন না এটি ব্যবহার করে মানবদেহের কঙ্কালের ছবি তোলা সম্ভব। ১৮৯৫ সালে জার্মান পদার্থবিদ উইলহেম রঞ্জন কালো কার্ডবোর্ডে ঢাকা গ্লাস টিউবে ক্যাথোড রশ্মি চালিয়ে পরীক্ষা করছিলেন। মূলত তার উদ্দেশ্য ছিল গ্লাস থেকে ক্যাথোড রে বের হয় কিনা তা দেখার জন্য। কিন্তু এ সময় তিনি লক্ষ্য করেন, যেখানে তিনি দাঁড়িয়ে আছেন তার কয়েক ফুট দূরে একধরনের আলোক রশ্মি দেখা যাচ্ছে। তিনি ধারণা করলেন কার্ডবোর্ড কোথাও ফেটে গিয়ে হয়ত আলো বের হচ্ছে। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখলেন, কার্ডবোর্ড ফেটে নয় বরং কার্ডবোর্ড ভেদ করে রশ্মি বের হচ্ছে। হঠাত্ তার মাথায় এলো, যে রশ্মি কার্ডবোর্ড ভেদ করতে পারছে তা মানবদেহ কেন পারবে না। তার স্ত্রীর হাত সামনে রেখে পরীক্ষা চালালেন এবং প্রথম কেউ না কেটেই মানবদেহের কঙ্কালের ফটোগ্রাফিক ইমেজ তৈরিতে সক্ষম হলেন। পরে তিনি এর নাম দেন এক্স-রে। অনেকে অবশ্য একে তার নাম অনুসারে রঞ্জন রশ্মি নামেও ডাকে। 

বিজ্ঞানীরা ভুলে যা আবিস্কার করে ফেলেছিল
সুপার গ্লু:
আমরা যে আঠাকে সুপার গ্লু নামে চিনি তার নাম হচ্ছে সিয়ানোএক্রিলেটস। ১৯৪২ সালে কোডেক ল্যাবরেটরিসে কাজ করছিলেন ড. হ্যারি কুভার ও তার সহকারী ফ্রেড স্বচ্ছ প্লাস্টিক আবিষ্কারের জন্য। তখন তিনি দেখতে পান নতুন তৈরি হওয়া পদার্থটি খুব বেশি আঠালো এবং তা সবকিছুতেই শক্তভাবে লেগে যাচ্ছে। ফালতু ভেবে প্রজেক্ট বাতিল করলেন কুভার। এর ঠিক ৬ বছর পর আবার একদিন কুভার কাজ করছিলেন বিমানের ককপিটের ওপর স্বচ্ছ আচ্ছাদন তৈরির জন্য। এক্ষেত্রেও তিনি সিয়ানোএক্রিলেটস ব্যবহারে একই সমস্যায় পড়েন। কোনো তাপ বা চাপ ছাড়াই এটি খুব বেশি আঠালো লাগছিল কুভারের কাছে। এবার আর ভুল করলেন না কুভার। প্রজেক্ট বাতিল না করে ৬ বছর আগের কথা মনে পড়ায় দুটি গ্লাসকে সিয়ানোএক্রিলেটস দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করে সফল হলেন। ১৯৫৮ পেটেম্লট নিয়ে সুপার গ্লু নামে বাজারে ছাড়লেন নতুন এ আঠাকে। 


বিজ্ঞানীরা ভুলে যা আবিস্কার করে ফেলেছিল
ব্রান্ডি:
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই পানীয় আবিষ্কার হয়েছে সম্পূর্ণ ভুলবশত। মধ্যযুগে ব্যবসায়ী বা নাবিকরা ওয়াইন জাহাজে করে সরবরাহ করার আগে ওয়াইন থেকে পানি বের করে নেয়ার জন্য বয়েল করত। কিন্তু একবার এক নাবিক যাকে ওয়াইন সিদ্ধ করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল সে ভুলবশত তা না করেই কাঠের বাক্সে সংরক্ষণ করে। দীর্ঘদিন পর পান করার সময় তারা টের পায় এর টেস্ট সম্পূর্ণ আলাদা এবং আরও উপাদেয়। এভাবেই তৈরি হয় প্রথম ব্রান্ডি। 


বিজ্ঞানীরা ভুলে যা আবিস্কার করে ফেলেছিল
পেসমেকার:
অবাক করা ব্যাপার, পেনিসিলিনের মতোই আরেকটি জীবন রক্ষাকারী উপাদান পেসমেকারও তৈরি হয়েছে ভুলবশত। আমেরিকান প্রকৌশলী উইলসন গ্রেটব্যাচ একটি ডিভাইস তৈরি করেছিলেন যা দ্বারা অনিয়মিত হৃত্স্পন্দন রেকর্ড করা যেত। একবার ভুলবশত যন্ত্রটিতে অন্য একটি রেজিস্টার লাগানো হলে গ্রেটব্যাচ দেখতে পান, যন্ত্রটি একবার স্পন্দিত হয়ে থেমে আবার স্পন্দন দিচ্ছে। গ্রেটব্যাচের মনে হলো এটি মানুষের হৃত্স্পন্দনের অনুরূপ। পরীক্ষা করে তিনি দেখলেন, যা তিনি ভেবেছিলেন তাই ঠিক এবং তৈরি করলেন প্রথম ইমপ্লানটেবল কার্ডিয়াক পেসমেকার; যা বাঁচিয়ে দিচ্ছে লাখ লাখ দুর্বল হার্টের রোগীকে।





Powered by Blogger.