Showing posts with label রাজনীতি. Show all posts

অদ্ভুতুড়ে 12:13 AM

চট্টগ্রাম: বেসরকারি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্রতা রক্ষার জন্য সর্বাত্মক ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত এবং সর্বোচ্চ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পিছপা হবেন না বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা ও বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

মঙ্গলবার (০৫ এপ্রিল) সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে থাকা মহিউদ্দিন চৌধুরীর একান্ত সচিব মুহাম্মদ ওসমান গনির পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমি মাঠের মানুষ। আজীবন রাজনীতি করে গেছি লাঞ্ছিত-বঞ্চিত মানবতার অধিকারের জন্য। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন থাকলেও পরাধীন মাতৃভূমিতে আমাদের জন্য উপরে ওঠার সিঁড়ি পর্যাপ্ত ছিল না। তাই আমাদের আগামী প্রজন্মের সন্তানরা যেন বিশ্বব্রহ্মাণ্ড প্রদক্ষিণের যাত্রা শুরু করতে পারে, যে জন্য প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। এ যেন এক নতুন সূর্যোদয়। এই সূর্যের আলোকপানে আকাশসম প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে পুরো চট্টগ্রাম। এই আলোতে পথচলার প্রত্যয়কে বুকে ধারণ করেছে এই শহরের মানুষগুলো। সুন্দরতম মঙ্গলপানে তাকিয়ে আছে নগরবাসী। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় যেন মঙ্গলগ্রহের ভূমিতে ছুটে চলা মার্স পথফাইন্ডার। ব্যক্তি ও গোষ্ঠী  স্বার্থ কেন্দ্রিক সমাজ ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এরূপ প্রাগ্রসর জনকল্যাণমুখী চিন্তা ও বাস্তবায়ন ব্রিটিশ লেখিকা জেকে রাউলিং রচিত ঐন্দ্রজালিক ‘হ্যারি পটার’ কাহিনিকেও হার মানিয়েছে। এটা চট্টগ্রামের প্রতিটি মানুষ তথা দেশের মানুষেরই জয়যাত্রা।

প্রাচীনকাল থেকে চট্টগ্রাম ব্যবসা বাণিজ্যেও প্রাণকেন্দ্র। পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন বন্দরনগরী। একটি কিংবদন্তি চালু আছে যে, শ্রীলংকার গোড়াপত্তনকারী রাজা বিজয় সিংহ চট্টগ্রাম হয়ে সিলনে যান। সিলন এবং পরবর্তীতে শ্রীলংকা শব্দটি তার নাম থেকে এসেছে। বিখ্যাত পরিব্রাজক মার্কো পোলো ও ইবনে বতুতা চট্টগ্রাম ভ্রমণে আসেন। তারা উভয়ে আমাদের প্রিয় এই নগরীর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। পর্তুগিজ বণিকরা চট্টগ্রাম বন্দরকে পোর্তগ্রান্ডে বা বড় বন্দর বলে আখ্যায়িত করেছিল। ব্যবসা হলো বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি। ব্যবসা বাণিজ্যের যথাযথ গতি প্রকৃতির ওপর যে কোনো দেশের জাতীয় উন্নয়ন নির্ভর করে। ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবসার প্রতি চট্টগ্রামের মানুষের আকর্ষণ দুর্নিবার। চাকরি এবং চাকরির নিমিত্তে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে চট্টগ্রামের মানুষের মধ্যে একটা নেতিবাচক মনোভাব কাজ করে। সেই হিসেবে এই অঞ্চলে ব্যবসায় প্রশাসন ও অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাঠদান একটি দুঃসাহসী পদক্ষেপ।

দৃঢ়ভাবে আশা করা যায় ব্যবসা ও শিল্প-বাণিজ্যে দুঃসাহসিক ঝুঁকি গ্রহণে আমাদের ছাত্ররা কলম্বাস, ভাস্কো-দা-গামা কিংবা সিন্দাবাদের চেয়ে পিছিয়ে থাকবে না। সেদিন হয়তো বেশি দূরে নয়, যেদিন আমাদের ছাত্রদের মধ্যে থেকে উঠে আসবে ওয়ারেন বাফেটের মতো মানবতাবাদী ধনী লোক। এই মানুষটি কেবল সফল শিল্প-বাণিজ্য উদ্যোক্তাই নন, বরং গভীর মানবতা বোধ সম্পন্ন। মি. বাফেট ২০০৮ সালে মেক্সিকোর ধনকুবের কার্লোস স্লিম ও মাইক্রোসফটের কর্ণধার বিল গেইটস্কে পেছনে ফেলে সর্বশ্রেষ্ঠ ধনী হিসেবে স্বীকৃতি পান। কিন্তু অত্যন্ত সহজ সরল জীবনযাপনে অভ্যস্ত এই মানুটি পরম মমতা ও সেবামূলক মন নিয়ে দরিদ্র-অসহায় মানুষের জন্য অকাতরে খরচ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে এই দরদি মানুষটি কোনো ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী ব্যবহার করেন না। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে-তার কোন মোবাইল ফোন নেই। এমন কি তিনি কোনো ডেস্কটপ কিংবা ল্যাপটপ কম্পিউটারও ব্যবহার করেন না।

বিশ্বখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিক ড. অনুপম সেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য। তিনি একজন জ্ঞানতাপস। জ্ঞানচর্চা এবং পাঠদান তার রক্তের শিরা-উপশিরায় মিশে আছে প্রজন্ম পরম্পরায়। এমন কি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার পূর্বপুরুষ কর্তৃক সমৃদ্ধ ও উপকৃত হয়েছিলেন। তার প্রমাতামহ পণ্ডিত শরৎচন্দ্র ব্রিটিশ ভারতের দূত হিসেবে তিব্বত সফরে গিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে বৌদ্ধ ধর্মের অতি মূল্যবান প্রাচীন দলিল ও মহাকবি ক্ষেমেন্দ্রের ‘বোধিসত্ত্ব অবদান’ উদ্ধার করেন। তিনি বোধিসত্ত্ব অবদান অনুবাদ করেন। এই অনূদিত গ্রন্থকে অবলম্বন করে কবিগুরু বেশ কিছু নৃত্যনাট্য ও কবিতা রচনা করেন।

এই কথাগুলো বলার অর্থ হলো এটা বোঝানো যে, ড. অনুপম সেন আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যেও জীবন্ত স্মৃতিচিহ্ন। যদিও বা এই স্মৃতিচিহ্ন রক্তে-মাংসে গড়া। প্রাকৃতিক সূর্য উদিত হয় জাপানে। আর জ্ঞানের সূর্য যেন সদা উদীয়মান আমাদের প্রিমিয়ার বিশ্বিবিদ্যালয়ে। তিনি অনবরত বলে চলেছেন; লিখে চলেছেন-জাতীয় ঐতিহ্য ও গৌরবগাথা। গেয়ে যাচ্ছেন মানুষ ও মানবতার জয়গান। কী আকুতি! কী আবেগ সেই কথায়! প্রাচীন গ্রিক শিক্ষাকেন্দ্র লাইসিয়াম এ পড়ানোর আগে এরিস্টটল বিশ্বজয়ী আলেকজান্ডারকে পড়িয়েছিলেন। সেন স্যারও হয়তো খুঁজে ফিরেছেন-ভবিষ্যতের বিশ্বজয়ী বীরদের। জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতিসহ জীবনের সর্বক্ষেত্রে থাকবে এই বীরদের বিচরণ। কৃষ্ণাঙ্গ বারাক ওবামা পর পর দুইবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। এ যেন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র হিসেবে আমিও সর্বজনীনকে সেই স্বপ্ন ধারণ করেছিলাম। আর সেন স্যারের মতো মানুষ যেন স্বপ্ন পূরণের সারথি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীনে পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত সেবকের সন্তানেরাও আজ প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারছে।

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্রছাত্রী, সম্মানিত অভিভাবকগণ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর ধ্যান-জ্ঞান ও আবেগের কেন্দ্রবিন্দু যেন এই বিশ্ববিদ্যালয়। সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, এই বিশ্ববিদ্যালয় সঠিক ও সুন্দর মানুষগুলোর এক সম্মিলিত পরিবার। তাই সোহেলের মৃত্যু কেবল একটি মৃত্যুই নয়। তার মৃত্যুতে আমিও সন্তান হারা হয়েছি। তাকে কেন্দ্র করে কিছু কুচক্রী মহল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ধ্বংস করতে চেয়েছিল। নগরবাসীকে জিম্মি করে চেয়েছিল পুরো নগরকে ধ্বংস করতে। কিন্তু সচেতন এবং ন্যায়পন্থী চট্টলবাসী সেই ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছে। আমি বয়োবৃদ্ধ হলেও বুড়ো হয়ে যাইনি, আমি প্রবীণ হলেও বয়স্ক হইনি। যেকোনো ন্যায়মুখী সংগ্রামে আমি চট্টলবাসীর সাথে ছিলাম, আছি এবং থাকব। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি।

যুদ্ধাপরাধের বিচার নিশ্চিত করার জন্য এখনো রাজপথে আছি। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছি। কিছু কুচক্রী মাফিয়া আমাদের পরাস্ত করতে পারবে না। আমার সন্তান সোহেলের মৃত্যুতে সম্মানিত অভিভাবকগণ, আমাদের ছেলে-মেয়েরা, চট্টগ্রামবাসী এবং সুশীল সমাজকে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হতে দেখেছি। আমি তাদের দৃঢ় কণ্ঠে শুনাতে চাই-প্রিমিয়ার আপনাদেরই ভালোবাসার উজ্জ্বল সূর্য সন্তান। এটার আলো মুহূর্তের জন্যও নিভতে পারে না। আমরা গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিয়েছি। প্রশাসনিক কাজ এবং ক্লাস পুরোদমে চলছে। তবে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চালানো পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞের অ‌্যাসেসমেন্টের স্বার্থে প্রশাসনের পরামর্শে ব্যবসায় প্রশাসন আরও কয়েকদিন পর খুলে দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বীর ও ন্যায়পন্থী চট্টলাবাসী, সম্মানিত অভিভাবকগণ, শিক্ষার্থীরা ও সুশীল সমাজ ঘটনার পর যে অসাধারণ ধৈর্য, সাহস ও দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করেছেন তাতে তাদের এটা নতুন করে বলার দরকার নেই যে, আপনারা কোনো রূপ ভয় পাবেন না কিংবা আপনারা আতঙ্কিত হবেন না। বরং আমার মতো একজন মুক্তিযোদ্ধাকে আপনারা মুগ্ধ করেছেন। কিছু সংখ্যক বহিরাগত অবুঝ ছেলে অভদ্রতার প্রতিবাদে চট্টলবাসী এবং আমাদের সন্তানরা যে ভদ্রোচিত জবাব দিয়েছে তা-ও জাতির জন্য শিক্ষণীয়। অসুন্দর কখনো সুন্দর পরাস্ত করতে পারে না।

অসভ্যতা কখনো সভ্যতা হারাতে পারে না। অসত্য কখনো সত্যের ওপর বিজয় অর্জন করতে পারে না। আমি দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করছি-আমাদের সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আমৃত্যু লড়াই করে যাব। আর প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের শহরে পবিত্র জ্ঞানকেন্দ্রের আলোকিত শোভাযাত্রা যেখানে ভদ্রতা-সভ্যতা শিক্ষা দেওয়া হয়।

অদ্ভুতুড়ে 12:08 AM

বাপ-দাদার ভিটেমাটি আর জীবিকার প্রধান অবলম্বন কৃষিজমি ও লবণমাঠ হারানোর শংকা থেকেই মরণযুদ্ধ করছেন বলে জানিয়েছেন গণ্ডামারার মানুষ।


মঙ্গলবার দুপুরে (০৫ এপ্রিল) পশ্চিম গণ্ডামারার রহমানিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বাংলানিউজকে এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানান।

হাজারো মানুষের ভিড়ে মাঠের পশ্চিম প্রান্তে কথা হয় স্থানীয় কৃষক বাদশা মিয়ার সঙ্গে। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, আমার নিজের ভিটে ছাড়া আর কোনো জমিজমা নেই। বর্গা জমি নিয়ে চাষাবাদ করে কোনোরকমে জীবন কাটাই। এখন বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে বর্গা জমিগুলো হাতছাড়া হয়ে যাবে। তখন বাঁচবো কীভাবে?



তিনি বলেন, সাগর উপকূলে শত প্রতিকূলতার মধ্যে লড়াই করে টিকে আছি। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, খরার পর এখন আমাদের মরণযুদ্ধ চলছে। ভিটেমাটি হারিয়ে, জীবিকার প্রধান অবলম্বন বর্গা জমি হারিয়ে মরবোই যখন লড়াই করে মরি।

৪৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ উল্লাহর চোখেমুখে একরাশ ক্ষোভ। চোখ লাল। হয়তো কাল রাতে ঘুম হয়নি। মুখটাও শুকিয়ে গেছে। তবুও স্লোগানে ঠিকই তাল দিচ্ছে ‘হবে না রে হবে না, কয়লা বিদ্যুৎ হবে না।’



কেন হবে না জানতে চাইলে বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমার রক্ত দিয়েছি। জীবন দিয়েছি। এরপর কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে পারে না।’ বলে একটু থামলেন। গলা ধরে এসেছে তার। চোখে পানি। কিছুক্ষণ চুপ মেরে রইলেন। তারপর আবার বললেন, ‘লবণ মাঠে শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাই। এখন লবণ মাঠই যদি না থাকে কাজ করবো কোথায়? তাই এ আন্দোলনে অংশ নিচ্ছি। জীবন দিতে হলে দেবো তবুও লবণমাঠ রক্ষা করবো।’

গ্রামবাসীর ওপর পুলিশ-আনসার এবং সন্ত্রাসীদের হামলার প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন শত শত নারীও। সমাবেশে সাবেক চেয়ারম্যান লেয়াকত আলী ঘোষণা দেন, সরকার বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি হবে না এমন ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। 

 
এদিকে, বাঁশখালীর গণ্ড‍ামারায় এস আলম গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পক্ষে-বিপক্ষে দুই গ্রুপের উত্তেজনাকে ঘিরে পুলিশ-আনসার ও গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় ৫৭ জনের নাম উল্লেখসহ তিন হাজার জনকে আসামি করে তিনটি মামলা করা হয়েছে।



এর মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট-পুলিশ ও সরকারি লোকজনের ওপর হামলার ঘটনায় বাঁশখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাহার মিয়া বাদী হয়ে একটি, নিহত দুই সহোদর ও জামাতার পরিবারের পক্ষে বশির আহমদ বাদী হয়ে একটি এবং নিহত জাকেরের পরিবারের পক্ষে স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন।



থানা সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ বাদী হয়ে করা মামলায় ৫৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত সহস্রাধিক আসামি করা হয়েছে। বশির আহমদের মামলায় বসতভিটা ও কবরস্থান রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক, বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীসহ ছয় জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মনোয়ারার মামলায় অজ্ঞাত ১৫০০-১৮০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।



সোমবার (০৪ এপ্রিল) স্থানীয় হাজীপাড়া স্কুল মাঠে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পক্ষে-বিপক্ষে দুই গ্রুপের সমাবেশের মাইকিংকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। এরপরও দু’পক্ষের লোকজন সমাবেশস্থলে এলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। এ সময় গ্রামবাসী, আনসার ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। তবে স্থানীয় লোকজনের দাবি, তারা ১৪৪ ধারা জারির বিষয়ে কিছুই জানতেন না।



একই পরিবারের নিহত তিনজন হলেন গণ্ডামারা ইউনিয়নের চরপাড়ার আশরাফ আলী বাড়ির মর্তুজা আলী (৩৫) ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম (৪৪), তাদের বোনের স্বামী জাকের হোসেন (৩০)। রহমানিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা জাকেরকে সোমবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরা তিনজনই লবণের মাঠে কাজ করতেন। মর্তুজার চার মেয়ে-দুই ছেলে, আনোয়ারের তিন মেয়ে-এক ছেলে এবং জাকেরের তিন ছেলে-পাঁচ মেয়ে রয়েছে।

অদ্ভুতুড়ে 10:44 PM

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১৫ টি স্বর্ণের বার ও ১৬টি স্বর্ণের চেইনসহ এম এইচ শিবলী (৪১) নামের একজনকে আটক করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউজ। আটক স্বর্ণের বাজারমূল্য আনুমানিক ৭৫ লাখ টাকা।


সোমবার রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে আসা একটি বিমান (ফ্লাইট- টিআর ২৬৫৬) থেকে নামার পর তাকে আটক করা হয়।

ঢাকা কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার শহীদুজ্জামান সরকার জানান, শিবলী বিমান থেকে নামার পর সন্দেহ হলে তাকে তল্লাশি করে স্বর্ণের বার এবং চেইনগুলো উদ্ধার করা হয়। স্বর্ণগুলো তার জুতার ভেতরে লুকানো ছিল। স্বর্ণের বারগুলো প্রতিটি ১০০ গ্রাম ওজনের। শিবলীর বাড়ি মাদারীপুরে।

আটকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

অদ্ভুতুড়ে 10:39 PM

রাজধানীর হাজারীবাগের ঝাউচরে পুলিশের গুলিতে মো. রিপন (২৮) নামে ডাকাতি মামলার এক আসামি আহত হয়েছেন। এ সময় রিপনসহ চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।


গ্রেফতাররা হলেন—মনির হোসেন (৩০), সজীব আহমেদ (২০) ও আল-আলিম (২২)। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জয়নাল আবেদিন জানান, চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি গুলশানের শাহজাদপুরের হাজী জমির উদ্দিন মার্কেটের একটি কাপড়ের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দোকান মালিক আলমঙ্গীর হোসেন বাদি হয়ে রিপনসহ গ্রেফতারকৃতদের আসামি করে মামলা করেন। এরপর থেকে আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালায় পুলিশ। তারা দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।

এদিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোরে গুলশান থানা পুলিশ হাজারীবাগের ঝাউচর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় আসামিরা পালাতে গেলে পুলিশ গুলি চালায়। তখন রিপনের ডানপায়ে গুলি লাগে। এ ছাড়া পিকআপসহ রিপনের তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। রিপনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের গুলশান থানায় নিয়ে আসা হয়েছে বলেও জানান এসআই জয়নাল।

অদ্ভুতুড়ে 10:37 PM

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মামলায় জামিন চাইতে আদালতে পৌঁছেছেন দেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।


মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৯টায় তিনি গুলশানের বাসা থেকে আদালতের উদ্দেশে রওয়ানা দেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

অদ্ভুতুড়ে 10:35 PM

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মামলায় জামিন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।


রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রোল বোমা মেরে যাত্রী হত্যা মামলায় আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করলে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

অদ্ভুতুড়ে 10:30 PM

ফরিদপুরের কানাইপুরে দু’দল ডাকাতের সংঘর্ষে নিহত হয়েছে আমজাদ হোসেন নামের এক ডাকাত। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে শহরতলীর কানাইপুরের লক্ষিপুরে।


পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে তিনটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু'দল ডাকাতের মাঝে গোলাগুলির খবর পেয়ে তারা সেখানে ছুটে যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলটি পুলিশের উপর গুলি চালায়। এসময় পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে। সকালে ঘটনাস্থল থেকে ১ ডাকাতের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তির নাম আমজাদ হোসেন। তার নামে কোতয়ালী থানায় ডাকাতিসহ ৭টি মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ১টি পিস্তল ও ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। নিহত ডাকাতের বাড়ী জেলার কানাইপুর ইউনিয়নের শোনপচা গ্রামে।

অদ্ভুতুড়ে 6:06 AM

মধ্য আমেরিকার দেশ পানামার একটি ল’ ফার্মের এক কোটি ১০ লাখ গোপন নথি ফাঁস হয়ে গেছে। আর এতে খসে পড়েছে বিশ্বের লুটেরা নেতাদের গোমর, যারা কর ফাঁকিসহ জালিয়াতি-লুটতরাজ করে গোপনে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। ‍

 
এদের মধ্যে রয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, সৌদি আরবের একজন বাদশাহ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ, মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক, লিবিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফি, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ও আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ডুর গুনলাউগসনের মতো লোকেরা। রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ কেউ কেউও। এমনকি ফুটবল বিস্ময় লিওনেল মেসি, বলিউডের কয়েকজন খ্যাতিমান তারকা, ভারতের কিছু শিল্পপতিও রয়েছেন। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন চলছে।

মোস্যাক ফনসেকা নামে নামে ওই ল’ ফার্মটির ফাঁস হওয়া নথিগুলো এখন নিরীক্ষা করছে বিশ্বের শীর্ষ সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলো। এ নিয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গোপনীয়তা রক্ষা করে কার্যক্রম চালানো প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মোস্যাক ফনসেকা অন্যতম। ফাঁস হওয়া নথিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, কীভাবে গোপনীয়তার আড়ালে ল’ ফার্মটি বিশ্বনেতাদের অর্থপাচার, নিষেধাজ্ঞা এড়ানো এবং কর ফাঁকিতে সহযোগিতা করেছে।

ফাঁস হওয়া নথিগুলোতে আরও উঠে এসেছে, স্বৈরশাসকসহ বিশ্বের সাবেক বা বর্তমান ৭২ রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের নিজেদের দেশ থেকে অর্থ লোপাটের ভয়াবহ চিত্র। এদের পাশাপাশি উঠে এসেছে শিল্পপতি, খেলোয়াড়, রুপালি পর্দার তারকা, বিশেষ ব্যক্তিত্বদেরও অর্থ কেলেঙ্কারির তথ্য।

যদিও মোস্যাক ফনসেকার দাবি, তারা বিগত ৪০ বছর ধরে সব প্রশ্নের উর্ধ্বে থেকে কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং সে কারণে কখনোই তাদের অভিযুক্ত হতে হয়নি।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন আইসিআইজে’র ডিরেক্টর জেরার্ড রাইল বলেন, নথিগুলোতে মোস্যাকের গত ৪০ বছরের প্রতিদিনকার কার্যক্রমের তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। যদি নথিগুলোর সত্যতা নিশ্চিত হয়, তবে তা  পুরো বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেবে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নাম সরাসরি কোনো নথিতে দেখা না গেলেও তার বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ একটি অর্থপাচার চক্রে জড়িত বলে স্পষ্ট হয়েছে। আর ওই চক্রের লোকেরা এক্ষেত্রে ব্যবহার করছিলেন একটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংককে।

তবে নথিগুলোর বিষয়ে তৎক্ষণাৎ কোনো মন্তব্য আসেনি অভিযুক্ত বিশ্বনেতা বা তারকাদের তরফ থেকে।

অদ্ভুতুড়ে 6:03 AM

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুজন মৃধা হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। এ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে পথচারীরা দুর্ভোগে পড়েন।


সোমবার (০৪ এপ্রিল) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে শাহবাগ মোড়ের রাস্তা অবরোধ ছিলো।


 
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সুজন হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক, সেই দাবিতে আমরা রাস্তায় নেমেছি।’

এদিকে, শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বাংলানিউজকে বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির পক্ষে আন্দোলন করছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করলে পুলিশ কোনো বাধা দেবে না।

অবরোধ চলকালে সুজন হত্যার বিচারের দাবিতে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক সৈকত কুমার রিপি বলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’


 
সুজনের নামে যে ব্যালট বাক্স চুরি আভিযোগ উঠেছে, তা মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক উল্লেখ তার পরিবারের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তিনি।

গত ৩১ মার্চ দেশে দ্বিতীয় দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলাকালে গুলির ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সুজন মৃধা নিহত হন। নিহত সুজনের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার দুরাইল ইউনিয়নে।

ওই গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল, কনস্টেবল মাসুদ ও হারুন অর-রশিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।

মঙ্গলবার (০৫ এপ্রিল) সকাল ১১টায় একই দাবিতে শাহবাগ মোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও জানান তারা।

অদ্ভুতুড়ে 6:00 AM

হত্যার শিকার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুর প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের (কুমেক) ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কামুদা প্রসাদ সাহা। সোমবার (৪ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে তিনি এ তথ্য জানান।


উল্লেখ্য, ২০ মার্চ রাতে তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ওই দিনগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জেলার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাড়িতে তনুকে দাফন করা হয়। হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পর মামলাটি কুমিল্লা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হলে মরদেহ পুনঃময়নাতদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর আলম এ আবেদন করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জয়নাব বেগম মরদেহ উত্তোলনের আদেশ দেন। ৩০ মার্চ বেলা পৌনে ১২টায় তনুর মরদেহ উত্তোলন করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পুনঃময়নাতদন্ত করে ওই দিনই পুনরায় দাফন করা হয়। এদিকে, ২৯ মার্চ মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অদ্ভুতুড়ে 4:52 AM

মুক্তিযোদ্ধা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা শহীদুল ইসলাম খোকনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শহিদুল ইসলামের আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

চলচ্চিত্র নির্মাতা খোকনের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক


সোমবার (০৪ এপ্রিল) সকালে ঢাকার উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শহীদুল ইসলাম খোকন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের অসুস্থতার কথা জানতে পেরে তার পরিবারকে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দিয়েছিলেন। আশি ও নব্বইয়ের দশকের দিকে চলচ্চিত্র নির্মাতা শহীদুল ইসলাম খোকন অ্যাকশনধর্মী সিনেমা নিমার্ণ করে খ্যাতি অর্জন করেন।

অদ্ভুতুড়ে 4:49 AM

তাসকিনকে বিশ্বকাপে ফিরিয়ে আনতে কম চেষ্টা করেনি বিসিবি। টি-২০ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে এই পেসারের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে ম্যাচ অফিসিয়ালদের সন্দেহের প্রেক্ষিতে চেন্নাইয়ের রামাকান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োমেকানিক্স পরীক্ষায় বসতে হয়েছে তাঁকে। সেখানকার রিপোর্টে কিছু কিছু ডেলিভারিতে হাতের কনুই ১৫ ডিগ্রির বেশি ভেঙ্গে যাওয়ায় আইসিসি নিষিদ্ধ করে তাসকিনকে।  তবে যথাযথ নিয়ম মেনে পরীক্ষা করা হয়নি, এই অভিযোগ এনে আইনজীবীর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত পুর্নবিবেচনায় আইসিসি’র জুডিশিয়াল কমিশনের কাছে আবেদন করেছিল বিসিবি।  কিন্তু ওই আবেদনে কাজ হয়নি, তাসকিনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত বহালই রেখেছে আইসিসি।


আইসিসি চেয়ারমান, সিইও’র সঙ্গে কথা বলে জুডিশিয়াল কমিশনে আবেদন করে আইসিসি’র সহানুভূতি আশা করেছিলেন বিসিবি সভাপতি। তবে তাসকিন ইস্যুতে আইসিসি যখন কোনও সহানুভুতি দেখাতে পারেনি, তখন কি আর চুপ থাকা যায়? আইসিসি’র বিরুদ্ধে তাই মুখ খুলেছেন বিসিবি সভাপতি।  শুক্রবার কলকাতার এক পাঁচতারা হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলনে তাসকিনের উপর অবিচারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তাসকিনের সঙ্গে যা করা হল, তা ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বপ্রথম। এরকম ঘটনা এর আগে কখনও ঘটেনি। কোনও বোলার যদি ম্যাচে কোন অবৈধ ডেলিভারি করে, সে ক্ষেত্রে ওই বোলার বহিস্কৃত হতে পারে। কিন্তু  ম্যাচে একটি বলও অবৈধ না করে সাসপেন্ড হতে পারে কোনও বোলার,  ক্রিকেট ইতিহাসে এ বারই  প্রথম হল।”

তাসকিনের প্রতি আইসিসি’র এই ‘অবিচার’কে ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন পাপন। তাঁর মতে, “তাসকিন আমাদের প্রধান বোলার।  সে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে এক টানা বল করতে পারে। যেখানে ভারতের এই উইকেটে ১২৫ কিলোমিটার গতিতে বল করাটাই চ্যালেঞ্জ, সেখানে তাসকিনের এি গতি সত্যিই চমকে দেওয়ার মতো।  বিশ্বকাপ, চারটি হোম সিরিজ এবং এশিয়া কাপে তাসকিনের   বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠল না, কিন্তু টি-২০ বিশ্বকাপে তার অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলো। আমরা টি-২০তে ১৫০-১৬০ এর বেশি করতে পারছি না, তবুও বোলিংয়ের কারণেই জিতেছি। সেখানে আমাদের প্রধান দুই বোলার বাদ পড়ে গেল। যখন আমরা দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠলাম এবং সবচেয়ে কঠিন গ্রুপে খেলছি,তখন কি না এই কাজটি করা হলো।”

তাসকিন ইস্যুতে আইসিসি শীর্ষ কর্তারা কিছুই করেননি, এই কথার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “ঘটনার আমি আইসিসি সভাপতি, সিইও’র সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে কথা বলেছি। কাল যদি তাসকিনকে আবার  পরীক্ষার জন্য পাঠাই, আমি নিশ্চিত  সে পাস করে আসবে।  কিন্তু  টি-২০ বিশ্বকাপ তো ছেলেটি খেলতে পারল না। তা হলে লাভটা কি? মুরালিধরনের জন্য আইন তারা বদল করেছে, শোয়েব আখতার নিষিদ্ধ হওয়ার পরও বাউন্সার দিতে পারবে না সেই শর্তে ফিরেছে।  তাসকিনের বেলায় এই সুযোগটা দেওয়া হল না। এটা দুর্ভাগ্যজনক।”

বাংলাদেশ যেখানে ফিল্ডিংয়ে সময় নিয়েছে ১০৪ মিনিট, সেখানে ভারতের লেগেছে ১০৬ মিনিট। স্লো ওভার রেটে জরিমানা যেখানে গোনার কথা ভারতের, সেখানে জরিমানা গুনতে হল বাংলাদেশকে! এই বিচারকেও হাস্যকর মনে করছেন পাপন। বললেন, “আমাদের এই বিরুদ্ধ পরিবেশেই খেলতে হবে। আইসিসি যদি ক্রিকেটের উন্নতি চায়, তা হলে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। আমরা যেভাবে খেলছি, এ ভাবে যদি খেলতে পারি, তা হলে এসব করেও আমাদেরক আটকানো যায় না। বাংলাদেশের সঙ্গে যা হচ্ছে তাতে সবার দৃষ্টি দেওয়া উচিত।”

বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা পেয়েছে ১৬ বছর, এই লম্বা সময়েও ভারতের বিরুদ্ধে ভারতের মাটিতে কোনও দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ খেলেনি বাংলাদেশ। এর পেছনে সম্প্রচার চ্যানেলের ইন্ধন দেখতে পাচ্ছেন তিনি। তাঁর দাবি, “বাংলাদেশের সঙ্গে খেললে তা বাণিজ্যিক ভাবে লাভ হবে না। এ সব কিন্তু ভারতীয় বোর্ড বলেনি, বলেছে সম্প্রচার চ্যানেল।  আপনারা শুনলে খুশি হবেন, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। তারপরও যদি ওরা না খেলতে চায়, তা হলে কি করতে পারি?”

অদ্ভুতুড়ে 5:28 AM

বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম "ইসলাম" বহাল রেখে ২৯ বছর পূর্বে দায়ের করা একটি রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের নির্দেশে বলা হয়েছে যে সংগঠনের ব্যানারে রিটটি করা হয়েছিল, তাদের রিট করার এক্তিয়ার নেই। 


বিচারপতি নাইমা হায়দারের নেতৃত্বে হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ শুনানি করে আজ আবেদনটি খারিজ করে দেন। এ বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো.আশরাফুল কামাল।

এ দিকে, এ রিটের শুনানিকে ঘিরে জামাতে ইসলামি আজ গোটা দেশে আগাম হরতালের ডাক দেয়। একই সঙ্গে হেফাজতে ইসলামও দেশ অচল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছিল। হেফাজতের হুমকিতে বলা হয়েছিল, সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্মের অনুচ্ছেদ বিলোপ বা বতিল করে রায় শোনানো হলে, তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলন শুরু করবে। এ অবস্থায় আজ গোটা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়। তবে, জামাতের ডাকে হরতালে তেমন সাড়া মেলেনি। প্রায় সর্বত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক ছিল। কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

১৯৮৮ সালের ৫ জুন তদানীন্তন সামরিক শাসক হুসেইন মহম্মদ এরশাদের শাসনকালে সংবিধানের ‘অষ্টম সংশোধনী’ যুক্ত করা হয়। নতুন ওই সংশোধনীতে বলা হয়েছিল, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম হবে ইসলাম, তবে অন্যান্য ধর্মও প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাইবে’।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে এই পরিবর্তনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তখনই ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটির’ পক্ষে সাবেক প্রধান বিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেন, কবি সুফিয়া কামাল, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী-সহ ১৫ বিশিষ্ট নাগরিক হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, “বাংলাদেশে নানা ধর্মবিশ্বাসের মানুষ বাস করেন। এটি সংবিধানের মূল স্তম্ভে বলা হয়েছে। এখানে রাষ্ট্রধর্ম করে অন্য ধর্মকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি বাংলাদেশের অভিন্ন জাতীয় চরিত্রের প্রতি ধ্বংসাত্মক।”

পরে, রিট আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে ২০১১ সালের ৮ জুন একটি সম্পূরক আবেদন করা হয়। তার প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সে দিনই বিচারপতি এ এইচ এমশামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি গোবিন্দচন্দ্র ঠাকুরের তৎকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলিং দেয়। রুলে সংবিধানের ওই সংশোধনীর মাধ্যমে ২ (ক) অন্তর্ভুক্তি কেন অসাংবিধানিক ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং আইন, বিচার ও সংসদ সম্পর্কিত মন্ত্রকের সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এসব রুলের ওপর হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ শুনানির জন্য গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর আবেদন করে বাদীপক্ষ। প্রধান বিচারপতি বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করে দিলে বিষয়টি আজ সোমবার শুনানি শেষে রিটটি খারিজ করা হয়।

অদ্ভুতুড়ে 5:23 AM

অর্থনীতিতে গ্রেশাম’স ল বলে, ‘ব্যাড মানি ড্রাইভস গুড মানি, আউট অব সার্কুলেশন।’ এ বিপদ কম বেশি সব দেশেই। চুরি ডাকাতি দুর্নীতি জালিয়াতির টাকা ধাক্কা দিচ্ছে সাদা টাকাকে। যেখানে যত বেশি কালো টাকার উৎপাত সেখানকার অর্থনীতি তত বেশি ভঙ্গুর। অর্থনৈতিক উন্নয়নে চরম বাধা। বাংলাদেশের বিপন্নতার অন্যতম কারণ এটাই। বন্যার জলের মতো ঢুকছে পেট্রোডলার। সন্ত্রাসবাদী, মৌলবাদীরা যে টাকায় ভাসছে তার উৎস কারও জানা নেই। এ সবই খারাপ টাকা। নিরাপত্তা বাহিনীর সাধ্য নেই এ টাকার হদিশ করার। ইনটেলিজেন্সেরও নাগালের বাইরে। এর ওপর যুক্ত সাইবার জালিয়াতি। 


বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক মানে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কে এমন ঘটনা ঘটেছে। যারা কাজটা করেছে তারা যে এ লাইনে পাকা খেলোয়াড় সন্দেহ নেই। আটঘাট বেঁধে সূক্ষ্ম কারসাজিতে কাজ সেরেছে। ব্যাঙ্কে অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদরা পর্যন্ত টের পাননি। ব্যাঙ্কের গভর্নর আতিউর রহমানও অন্ধকারে। তিনি যখন জানলেন, সব শেষ। ব্যাঙ্কের মার্কিন অ্যাকাউন্ট থেকে খোয়া গেছে ৮ কোটি ১০ লক্ষ ডলার। এত বড় অঙ্কের সাইবার চুরি সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কে কেন, কোনও ব্যাঙ্কেই ঘটেনি। সরকারও ঘটনাটা জেনেছে অনেক পরে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিথ অভিযোগ করেছেন, ঘটনা এক মাস পরে পর্যন্ত তাঁকে এই খবর জানানই হয়নি। তিনি জানলেন বহু দেরিতে। এটা অবশ্যই গভর্নর রহমানের অমার্জনীয় অপরাধ। সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক মানে সরকারের ব্যাঙ্ক। শুধু তাই নয়, এটা ব্যাঙ্ক অব অল ব্যাঙ্কার্স। সেখানে একটা মারাত্মক চুরির পর কর্মকর্তারা চুপ করে থাকবে? সরকারকে জানাবে না? সেটা কী করে হয়! কোনও বাড়িতে সামান্য চুরি হলেও তো পুলিশকে জানান হয়। তার মানে তো সরকারিভাবে চুরির ঘটনা নথিভুক্ত করা। এখানে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের মতো জায়গায় এত বড় জালিয়াতি সরকার জানতেই পারল না।

রহমান গভর্নর পদে ইস্তফা দিয়ে পার পেতে চেয়েছেন। তা হয় না। দায়িত্ব স্বীকার করলেও অব্যাহতি মেলে না। সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের সিস্টেমে এত বড় ফাঁকফোঁকর গভর্নর সেটা জানতেন না। ব্যাঙ্কের কর্ণধারই যদি না জানেন, কে জানবেন। দু’জন ডেপুটি গভর্নরকেও পদচ্যুত করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, টাকাটা ফিলিপিন্সে গেছে। সে যে দেশেই যাক, ঘুরপথে ফের বাংলাদেশে ঢুকবে না, সে গ্যারান্টি কে দেবে! বাংলাদেশের কোনও পাকা সাইবার হ্যাকারের সাহায্য ছাড়া এ কাজ হতেই পারে না। ঠিকঠাক তদন্ত হলে অপরাধীরা ধরা পড়বেই। সময় হয়ত লাগতে পারে।

ব্যাঙ্কের টাকা কালো রাস্তায় ছিটকে যাওয়া আর ঘরের মেয়ে নিষিদ্ধপল্লীতে আশ্রয় নেওয়া একই কথা। টাকাটা তখন ভাল থাকে না, খারাপ হয়ে যায়। যে দেশে ঢুকবে সে দেশের ক্ষতি। বাংলাদেশ অর্থনীতি দুর্গম রাস্তা বেয়ে ওপরে উঠতে চাইছে। দরিদ্র দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশ হওয়াটাই তাদের পরীক্ষা। সেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কেই যদি গভীর গহ্বর তৈরি হয়, এগোনোর পথই তো পিচ্ছিল হবে। রহমান ২০০৯ থেকে গভর্নর। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় ব্যাঙ্কের নাড়ি-নক্ষত্র তাঁর জানা উচিত ছিল। তিনি কৃষি ও মহিলা উদ্যোগের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাঁর সময় বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারও বেড়েছে। সেই সঙ্গে এটাও মানতে হয়, এত বড় সাইবার চুরির সাক্ষীও তিনি। যা সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের মতো জায়গায় কল্পনাতীত। প্রাক্তন অর্থ সচিব ফজলে কবীর নতুন গভর্নর হয়েছেন। তাঁর এখন প্রধান কাজ হৃত অর্থ উদ্ধার। এখনও সময় আছে পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আগে খারাপ টাকাটা ভাল করার।

অদ্ভুতুড়ে 5:19 AM

তিনি ডাক দিয়েছিলেন অবরোধের। সেই অবরোধ চলাকালীন বাস ও গাড়িতে আগুনে বোমায় মারা যান অজস্র মানুষ। যশোরে ঝলসে মারা যায় গাড়ি বোঝাই গরুও। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত বুধবার তাই বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল। প্রাক্তন এই প্রধানমন্ত্রীর দলের অন্য ২৭ নেতা-কর্মীকেও গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক কামরুল হোসেন মোল্লা।

খালেদাকে গ্রেফতারে পরোয়ানা

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া গত বছর ৫ জানুয়ারি অবরোধের ডাক দেওয়ার পরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের ওপর পেট্রোল বোমা হামলায় কয়েকশো মানুষ মারা যান। আগুনে পুড়ে ভয়ানক ভাবে জখন হন আরও কয়েকশো মানুষ। জানুয়ারির ২৩ তারিখে ঢাকার যাত্রাবাড়ির কাঠের পুল এলাকায় একটি বাসে আগুনে বোমা হামলায় বেশ কয়েক জন হতাহত হন। পুলিশ খালেদা-সহ বিএনপি-র ২৮ নেতা-কর্মীকে আসামি করে মামলা করে। বিএনপি অবশ্য আগাগোড়া মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ বলে এসেছে।

সরকারি আইনজীবী তাপসকুমার পাল বুধবার জানিয়েছেন, বিচারক আসামিদের শুধু গ্রেফতার করারই নির্দেশ দেননি, সে নির্দেশ পালন হলো কিনা— ২৭ এপ্রিলের মধ্যে পুলিশকে তা জানাতে বলেছেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি বড়সড় দুর্নীতির মামলাও আদালতে বিচারাধীন।

অদ্ভুতুড়ে 2:21 AM

সাতক্ষীরার গায়ে সোনাই নদী। ওপারে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর। পারাপার রুখতে সীমান্ত রক্ষীরা তৎপর। দু’টি সীমান্ত অঞ্চল সামলাতে ব্যতিব্যস্ত নিরাপত্তা কর্মীরা। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে চোখ রাখা হয় যাতে সাতক্ষীরার লোক নদী পেরিয়ে হাকিমপুরে না ঢোকে। বাংলাদেশে ভোট হলেও সাতক্ষীরার ওপর চলে বিশেষ নজরদারি। 


এ বার ২২ মার্চ ইউপি’র প্রথম পর্বের নির্বাচনে সেটাই করা হয়েছিল। শেষ রক্ষা হল কই। ভোটের আগের দিন রাতেই দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব। ছাপ্পা ভোটে ব্যালট বাক্স ভর্তির প্রয়াস। ওরা ওরকমই। সুষ্ঠুভাবে ভোট হোক চায় না। তাদের উপদ্রবে ভোট উৎসব পণ্ড। দু’বছর আগেও মৌলবাদ, সন্ত্রাসের ডেরা ছিল সাতক্ষীরা। কঠিন অপারেশনে সেটা ভেঙেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুষ্কৃতীদের অবশিষ্ট এখনও পড়ে আছে।

২০টি জেলার নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ৬০০-র বেশি। সংঘাত মূলত বিক্ষুব্ধদের আক্রোশে। আওয়ামি লিগ, বিএনপি’র টিকিট চেয়েও যারা পাননি, তাঁরা বাহুবলে দখলদারি চালিয়েছেন। ক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন হিংসায়। তাঁদের অস্ত্রের অভাব হয়নি। পরিণতিতে ৬৫ কেন্দ্রের ভোট স্থগিত। ৪৭ ইউপিতে ৪৯ প্রার্থীর ভোট বয়কট।

এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনায় অবশ্য মানুষ দমে যাননি। তাঁরা ভোট দিয়েছেন স্বতস্ফূর্তভাবে। কোনও কোনও জায়গায় ভোট পড়েছে ৯০ শতাংশের বেশি। পঞ্চগড়ে শতায়ু উত্তীর্ণ মেহেরন ভোট দিয়েছেন শান্তিতে। তাঁকে কোলে করে বুথে পৌঁছেছেন নাতবউ। বাড়ি থেকে বুথের দূরত্ব কম হওয়ায় ভোট দিতে কোথাও অসুবিধে হয়নি। এই দিনটির জন্য প্রতীক্ষায় ছিল লক্ষ লক্ষ মানুষ। ভোটাধিকারের সুযোগ তারা ছাড়তে নারাজ। আশাপূরণে সন্তুষ্ট। সাধুবাদ জানিয়েছে হাসিনার পুলিশ প্রশাসনকে।

বাংলাদেশে সব নির্বাচনেই ভোটের দিনই ভোট গোনা হয়। ইউপি’র প্রথম দফার ভোটেও তাই হয়েছে। গুণতে গুণতে রাত পেরিয়েছে। তবু থামা নেই। প্রার্থীদের সঙ্গে ভোটাররাও প্রতীক্ষার প্রহর গুনেছেন। ফলাফল যা হওয়ার তাই। বিরোধীদের অনেক পিছনে ফেলে শীর্ষে আওয়ামি লিগ। মানুষের আস্থা যে এখনও তাদের ওপর সেটা প্রমাণিত। বিএনপি’র জয় থমকেছে নিজেদের ভুলে। ভোটের আগে তারা দলটা গোছাতে পারেনি। প্রার্থী নির্বাচনেও আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। মাটির কাছাকাছি থাকা নেতাদের টিকিট না নিয়ে ওপর থেকে প্রার্থী বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিক্ষুব্ধরা গোঁজ প্রার্থী দিয়ে বিএনপি-র ভোট নষ্ট করেছে।

ইউপি ভোটের সবে শুরু। এখনও অনেক বাকি। এরপর ভোট হবে ৩১ মার্চ, ২৩ এপ্রিল, ৭ মে, ২৮ মে, ৪ জুন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ঝামেলার জায়গাগুলোতে প্রথমে ভোট হয়েছে। পরের ভোটে গোলমালের আশঙ্কা কম। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর হবে।

ইউপি নির্বাচন মানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শিকড়ের খোঁজ। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। গণতন্ত্রের পূর্ণ মুক্তি। নির্বাচনে কোন দল জিতল সেটা উল্লেখযোগ্য নয়। সব প্রতিকূলতা হঠিয়ে গণতন্ত্রের জয়টাই বড়। বাংলাদেশ গণতন্ত্রের রাস্তা থেকে যে সরবে না, সেটা স্পষ্ট। এবার পরীক্ষা দ্বিতীয় পর্বের। আগামী বৃহস্পতিবার।

অদ্ভুতুড়ে 12:52 AM
প্যারিসে শুক্রবার রাতের হামলার পর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসলামিক স্টেট-পরিচালিত আক্রমণের ধারা যেভাবে বাড়ছে - তার মধ্যে প্যারিসের আক্রমণটি এক মোড়বদলকারী ঘটনা।

এতে বোঝা যায়, মার্কিন-নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশনের উপর্যুপরি বিমান হামলার কারণে চাপের মধ্যে পড়া ইসলামিক স্টেট এখন চাইছে, ইউরোপ ও অন্যত্র আক্রমণ পরিচালনা বা অনুপ্রাণিত করতে।

বিবিসির নিরাপত্তা বিশ্লেষক ফ্রাংক গার্ডনার বলছেন, গত প্রায় দু বছর ধরে ইসলামিক স্টেটের মূল মনোযোগ ছিল মধ্যপ্রাচ্যে তাদের একটি নিজস্ব ভুখন্ড দখল করা এবং তাতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। রাক্কা ও মসুলে অবস্থানরত তাদের নেতৃত্বের কাছে এখনো এটাই প্রধান অগ্রাধিকার।
এজন্য তারা ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে নিয়েছে।

অদ্ভুতুড়ে 10:47 PM
 খ্রিস্টান থেকে মুসলমান হয়েছেন সুজান কারলান্ড। ধর্মান্তরিত হওয়ায় প্রতিদিন টুইটার অ্যাকাউন্ট খুললেই সুজানের জন্য অপেক্ষা করত গালমন্দ। মুসলিম বিরোধী টুইটের মিছিলে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলেন। এই টুইট আক্রমণ থেকে বাঁচতে খুঁজে নিলেন এক অভিনব উপায়।

ঠিক করলেন ঘৃণা ভরা প্রতি টুইটে ইউ

নিসেফকে সুজান দান করবেন ১ ডলার। তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত ১০০০ ডলার দান করেছেন সুজান। ইউনিসেফ সুজানের দান করা ১০০০ ডলার খরচ করেছে দুস্থ ছেলে মেয়েদের পড়াশুনা ও স্বাস্থ সুরক্ষার জন্য।

সুজানের জন্ম হয়েছিল একটি খ্রিস্টান পরিবারে। ১৯ বছর বয়সে খ্রিস্ট ধর্ম থেকে মুসলিম ধর্মে দীক্ষিত হন সুজান। এখন সুজানের বয়স ৩৪। সমাজবিদ্যা নিয়ে পিএইচডি করেছেন সুজান। টুইটের তির্যক তিরে বিদ্ধ সুজান এখন একজন উদাহরণ। ব্লক করে, বুঝিয়ে বলা, পাত্তা না দেওয়া কোনও কিছুতেই কাজ না হওয়ায় বেছে নিয়েছেন অর্থ দানের উপায়। 'যত ঘৃণা ততধিক দান'।

সুজানের এই কৃতিত্বকে সম্মান জানিয়েছে ইউনিসেফ। এছাড়া সুজানের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ। এমনকি সুজানের অনেক ফলোয়ারাও সুজানের মতই ইউনিসেফকে অর্থ দান করার জন্য উৎসাহী হয়েছেন।

এসবের উত্তর জানাতে ভুল করেননি সুজান। ফিরতি আরেকটি টুইটে তিনি বলেন, 'সহানুভূতি দেখানোর জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। নিন্দুকদের রুখে দাঁড়ান, যারা নিজেদেরকে নিজেরা সাহায্য করতে পারছেন না।'

অদ্ভুতুড়ে 10:43 PM
প্যারিসে শুক্রবার রাতের হামলার পর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসলামিক স্টেট-পরিচালিত আক্রমণের ধারা যেভাবে বাড়ছে - তার মধ্যে প্যারিসের আক্রমণটি এক মোড়বদলকারী ঘটনা।

এতে বোঝা যায়, মার্কিন-নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশনের উপর্যুপরি বিমান হামলার কারণে চাপের মধ্যে পড়া ইসলামিক স্টেট এখন চাইছে, ইউরোপ ও অন্যত্র আক্রমণ পরিচালনা বা অনুপ্রাণিত করতে।

বিবিসির নিরাপত্তা বিশ্লেষক ফ্রাংক গার্ডনার বলছেন,
গত প্রায় দু বছর ধরে ইসলামিক স্টেটের মূল মনোযোগ ছিল মধ্যপ্রাচ্যে তাদের একটি নিজস্ব ভুখন্ড দখল করা এবং তাতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।

 রাক্কা ও মসুলে অবস্থানরত তাদের নেতৃত্বের কাছে এখনো এটাই প্রধান অগ্রাধিকার।
এজন্য তারা ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে নিয়েছে।
Powered by Blogger.