পানামা পেপারস’ ফাঁসের পর বিশ্বের বিলিওনিয়ারদের অনেকের ঘুম হারাম! আয়কর ফাঁকি দিতে বেনামে বিভিন্ন কম্পানিতে লগ্নিকারী অনেকের নামই যে উঠে এসেছে এ কেলেঙ্কারিতে। ফাঁস হওয়ার প্রায় ১৫ লাখ নথির প্রাথমিক পর্বেই বিখ্যাত রাজনীতিবিদ-ব্যবসায়ী-অভিনেতাদের সঙ্গে লিওনেল মেসিকেও ব্র্যাকেটবন্দি করা হয়েছে।

যদিও আর্জেন্টাইন এ মহাতারকার পক্ষ থেকে প্রতারণার অভিযোগ জোরালোভাবে নাকচ করা হয়েছে। পানামায় প্রধান কার্যালয় হলেও বিশ্বের ৪২টি দেশে শাখা রয়েছে মোসাক ফনসেকা ল ফার্মের। সংস্থাটির মূল কাজ বিশ্বের ধনীদের আয়করবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া। সে সুবাদে অর্থপাচারে সহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে সংস্থাটির বিরুদ্ধে। সে কারণেই মোসাক ফনসেকার ফাঁস হওয়ার গোপন নথিতে কারো নাম উঠলেই ঢুকে পড়ছেন ‘সন্দেহভাজন’দের তালিকায়। তাই মেসির নাম প্রকাশ পেতেই তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ‘মেসি পরিবার নিশ্চিত করতে চায় যে মেসি এ ব্যাপারে মোটেও অবহিত নন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আয়কর ফাঁকি, অর্থপাচার-জাতীয় সব অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যা এবং অপমানজনক।’ অভিযোগ অস্বীকার করলেও পানামায় একটি কম্পানি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি পরোক্ষে স্বীকার করা হয়েছে মেসি পরিবারের বিবৃতিতে, ‘পানামার যে প্রতিষ্ঠানটির কথা বলা হয়েছে, সেটি পুরোপুরি অকার্যকর। ওই প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে কখনোই আর্থিক লেনদেন হয়নি।’ ‘পানামা পেপারস’ অবশ্য অন্য ঝামেলায় ফেলতে পারে মেসিকে। প্রায় ৪৭ লাখ ডলার কর ফাঁকির মামলায় মে মাসে আদালতে হাজিরা দিতে হবে মেসি ও তাঁর বাবাকে। সমস্যা হলো, আয়কর প্রতিবেদনে পানামায় কোনো প্রতিষ্ঠান থাকার বিষয়টি গোপন করে গেছেন মেসি। এদিকে মেসির মতোই পানামা পেপারসে নাম এসেছে ক্রীড়াঙ্গনের আরো কয়েকজনের। এঁদের শিরোমণি নিষিদ্ধ হওয়া ফিফার সাবেক সহসভাপতি ও ফরাসি তারকা মিশেল প্লাতিনি। সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো একই অপরাধের অভিযোগ উঠেছে ফিফার এথিকস কমিটির সদস্য হুয়ান পেদ্রো দামিয়ানিরও। যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে তাঁর নাম, সে প্রতিষ্ঠানে সম্পৃক্ততা রয়েছে প্লাতিনির সঙ্গে ফিফায় দুর্নীতির দায়ে প্রশ্নবিদ্ধ আরো তিন কর্মকর্তারও!
Post a Comment