অদ্ভুতুড়ে 10:11 AM
আমরা যখন শ্বাস নেই বা নিঃশ্বাস ছাড়ি তখন বক্ষচ্ছদা ওঠা নামার সঙ্গে সঙ্গে সহজেই নাক বা শ্বাসনালী দেয় বাতাস ভেতরে ডুকে বা বাইরে যায়। এখানে বক্ষচ্ছদার দায়িত্ব অনেক। এটি একটি শক্ত মাংসল পর্দার মতো বক্ষপিঞ্জর ও উদরের মধ্যবর্তী সীমানা হিসবে কাজ করে। এর সংকোচন ও প্রসারণ বক্ষপিঞ্জরের ভেতরের ব্যাস উপর নিচ বাড়ায়, যা শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অতি জরুরি। কিন্তু এর সংকোচন প্রসারণের অস্বাভাবিকতা হেঁচকি তৈরি করতে পারে।


হেঁচকি হওয়ার কারণ:
হেঁচকির সময় বক্ষচ্ছদা ও পাঁজরের হাড়ের মধ্যবর্তী মাংসপেশিগুলো মোচড়ানো ধরনের মাংসপেশির সংকোচন ঘটায়। এতে অজ্ঞাতসারই আলজিভকে বোকা বানিয়ে বাতাস ভেতরে ঢুকে যায়। বাতাস যখন সজোরে ভোকাল কর্ড পার হয়ে যায়, তখন হেঁচকির শব্দ হয়। অতপর মুখ ও নাসিকা পথ খোলে। বক্ষচ্ছদা ও পাঁজরের হাড়ের মধ্যবতী মাংস পেশিগুলো তখন শিথিল হয়। বেশি গরম বা বেশি ঠাণ্ডা পানীয় মসলার প্রাচুর্যে রান্না করা খাবার, অতি দ্রুত খাওয়া, মদ্যপান, শীতল বাতাস গলধঃকরণ করা বা প্রচণ্ড ব্যায়াম করা ইত্যাদি হেঁচকির কারণ হতে পারে। তবে অনেক সময় সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াও হেঁচকি হতে পারে। শিশুদের প্রতিবার খাবার পরপরই হেঁচকি দেয়ার প্রবণতা থাকে।তবে কিভাবে হেঁচকি হয় তা এখনও রহস্যাবৃত। তবে এটা নিশ্চিত যে, হেঁচকি হওয়ার জন্য ২/১টা স্নায়ুর অস্বাভাবিকতা জড়িত থাকছে। এ স্নায়ুগুলো মস্তিষ্কের ভুল জায়গায় উদ্দীপনা পাঠাতে পারে বা মাংসপেশির ছন্দময় স্বাভাবিক সংকোচন প্রসারণকে নষ্ট করে দিতে পারে। এ স্নায়ুগুলো প্রধানত বক্ষচ্ছদাকে নিয়ন্ত্রণ করে। তবে পাকস্থলি কেন সাড়া দেয়, তা এখনও পরিষ্কার নয়। হেঁচকির প্রধান স্নায়ু হলো ফ্রেনিক।
Image result for hiccough       Image result for hiccoughImage result for hiccough


হেঁচকি থামাবার উপায়ঃ
অনবরত হেঁচকি হচ্ছে, থামতেই চাইছে না, এটা বেশ বিব্রতকর। আর এই বিব্রতকর অবস্থায় পড়েননি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। অথচ এটা এড়ানোও বেশ কঠিন। আপনি জানেনও না যে কখন এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হবেন আপনি। কিন্তু হেঁচকির মত বিচ্ছিরি সমস্যাটার সমাধান কিন্তু হতে পারে খুব সহজেই।
হেঁচকি থামাবার সহজ ৯টি উপায়ঃ

১) জিহ্বা টেনে ধরে রাখুনঃ
শুনতে অদ্ভুত শোনালেও এটা কিন্তু বেশ কার্যকর। অনবরত হেঁচকি উঠলে জিহবা বের করে আঙ্গুল দিয়ে টেনে ধরে রাখুন কিছুক্ষণ! হেঁচকি থেমে যাবে নির্ঘাত।

২) এক চামচ পিনাট বাটার খেয়ে নিনঃ
পিনাট বাটার তো এমনিতেই খেতে বেশ ভালো। তাই হেঁচকি উঠলে দেরী না করে ঝটপট খেয়ে নিন এক চামচ পিনাট বাটার। হেঁচকি থেমে যাবে।

৩) এক চামচ চিনিঃওজন কমাতে চিনি থেকে আপনি দূরে থাকলেও হেঁচকি উঠলে এক চামচ চিনি খেয়ে নিতে ইতস্তত করবেন না যেন! এক চামচ চিনি আপনাকে অনবরত হেঁচকির যন্ত্রণা থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি দিতে সক্ষম।

৪) কানে আঙ্গুল দিয়ে রাখুনঃ
দু কানের ফুটোয় আঙ্গুল দিয়ে চেপে ধরে রাখুন এমনভাবে যেন আপনি কিছুই শুনছেন না। তবে অতিরিক্ত জোরে চেপে ধরবেন না যেন। কিছুক্ষণ এভাবেই থাকুন। দেখবেন হেঁচকি ওঠা বন্ধ হয়ে গেছে।

৫) পানি পান বা গার্গল করুনঃ
বড় এক গ্লাস পানি পান করুন অথবা গার্গল করার চেষ্টা করুন। হেঁচকি থামাতে চমৎকার কাজে দেবে।

৬) নিঃশ্বাস আটকে রাখুনঃ
বড় একটি নিঃশ্বাস নিন এবং যতক্ষণ সম্ভব আটকে রাখার চেষ্টা করুন। সেই সাথে নাক চেপে রাখতে ভুলবেন না, যাতে বাতাস বেরিয়ে যেতে না পারে।

৭) নিজেকে ভয় পাইয়ে দেবার ব্যবস্থা করুনঃ
নিজেকে ভয় পাইয়ে দেবার ব্যবস্থা করুন। কেননা আপনি ভয় পেলে তা আপনার নার্ভগুলোকেও চমকে দেয়। আর সে কারণেই আপনার হেঁচকিও থেমে যায়। তাই হেঁচকি উঠলে হরর মুভি দেখা শুরু করতে পারেন।

৮) একটি কাগজের ব্যাগে শ্বাস প্রশ্বাস নিনঃ
একটি কাগজের ব্যাগ নিন আর তাতে মুখ রেখে শ্বাস প্রশ্বাস নিন। এতে আপনার রক্তে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায় আরর সেই সাথে এটি হেঁচকি থামাতেও দারুণভাবে কাজ করে।

৯) শেষ উপায় একটি এন্টাসিড ট্যাবলেটঃ
এতো কিছু করার পরেও যদি আপনার হেঁচকি না থামতে চায় তবে শেষ উপায় একটি এন্টাসিড ট্যাবলেট। কেননা এতে আছে প্রচুর ম্যাগনেশিয়াম,যা আপনার নার্ভগুলোকে শান্ত করে, ফলে হেঁচকি থেমে আসে আপনা আপনিই।

Post a Comment

'; (function() { var dsq = document.createElement('script'); dsq.type = 'text/javascript'; dsq.async = true; dsq.src = '//' + disqus_shortname + '.disqus.com/embed.js'; (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(dsq); })();
Powered by Blogger.