অদ্ভুতুড়ে 8:06 PM

হেভেন লেক অর্থাৎ স্বর্গের হ্রদটি বিশ্বের সবচেয়ে অত্যাশ্চর্য সৃষ্টিগুলোর মধ্যে একটি। স্বর্গের হ্রদটি উত্তর কোরিয়া ও চায়না এর বর্ডারের সীমান্তে অবস্থিত। ৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে কালডেরা পর্বতের অগ্ন্যুৎপাত এর ফলে এই হ্রদের সৃষ্টি হয়।



হ্রদটির পৃষ্ঠতলের উচ্চতা ২,১৮৯.১ মিটার বা ৭,১৮২ ফুট। হ্রদটি প্রায় ৯.৮২ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এটি উত্তর-দক্ষিণে ৪.৮৫ কিলোমিটার বা ৩.০১ মাইল দীর্ঘ এবং পূর্ব-পশ্চিমে ৩.৩৫ কিলোমিটার বা ২.০৮ মাইল দীর্ঘ। হ্রদটির গড় গভীরতা প্রায় ২১৩ মিটার বা ৬৯৯ ফুট এবং হ্রদটির সর্বচ্চ গভীরতা প্রায় ৩৮৪ মিটার বা ১,২৬০ ফুট। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে জুন পর্যন্ত এটা সাধারণত বরফ দিয়ে আচ্ছাদিত থাকে।

হ্রদটির আসেপাশের আবহাওয়া কখনো কখনো খুব গুরুতর আবার কখনো কখনো লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে পারেন। সেখানে শীর্ষ বার্ষিক গড় তাপমাত্রা -৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গ্রীষ্মের সময় তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এ পৌঁছে যায়। আবার শীতকালে তাপমাত্রা -৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। গড় বাতাসের গতি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৪২ কিলোমিটার থেকে ৬৩ কিলোমিটার। আপেক্ষিক আদ্রতার গড় ৭৪%।

প্রাচীন চীনা সাহিত্যে হ্রদটিকে তিয়াঞ্চি, নান্মিং ও আবার কখনও দক্ষিণ সমুদ্র হিসেবে অনুবাদ করা হয়। জিনজিয়াং ও তাইওয়ানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত কিছু সুপরিচিত হ্রদের নাম তিয়াঞ্চি রাখা হয়। উত্তর কোরিয়ার কিংবদন্তি কিম জং -ইল পর্বতের উপর সেই হ্রদের কাছাকাছি জন্মগ্রহণ করেন বলে দাবি করেন। তার মৃত্যুর পরে কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি দাবি করেন যে, হ্রদের বরফগুলো অনেক কর্কশ। “আকাশ ও পৃথিবীর ঝাঁকির কারনে বরফ স্তরটি কর্কশ”। স্বর্গের লেকে তিয়াঞ্চি নামের এক মনস্টার বা ভূত বাস করে বলে কুসংস্কার রয়েছে। ২০০৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর জুহু এয়াংসেং নামের প্রকৃতি রিজার্ভ প্রশাসন অফিস দ্বারা চালানো একটি টিভি চ্যানেলে স্বর্গের লেকের ২০ মিনিটের একটি ভিডিও প্রচার করেন। সেই সো-টির নাম ছিল “লেক তিয়াঞ্চি দানব”। যেখানে তারা গণতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্রী উত্তর কোরিয়ার মানুষদের সাথে সীমান্তের কাছে এই ভিডিওটি তৈরি করেন। তারা জিংহুয়া এর জিলিন প্রাদেশিক ব্যুরোর কাছে ভিডিও তে থাকা মনস্টারগুলোর কিছু ছবি প্রেরণ করেন। ভিডিওতে দৈত্য আকারের বিভিন্ন প্রাণীকে দেখা যায়। তাদের মধ্যে একজন প্রাণী সমান্তরাল, প্রায় তিন জোড়া একসাথে সেই হ্রদে সাঁতার কাটছিল। আবার কতগুলিকে সেই আগ্নেয় ঢেউতে ভাসতে দেখা গেছে।


ভিডিওতে দেখুন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রূপে এই হ্যাভেন লেক

Post a Comment

'; (function() { var dsq = document.createElement('script'); dsq.type = 'text/javascript'; dsq.async = true; dsq.src = '//' + disqus_shortname + '.disqus.com/embed.js'; (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(dsq); })();
Powered by Blogger.