স্কুল জীবনে আশেয়া সিদ্দিকার সাথে পরিচয় হয় তামিম ইকবালের। দুজনই চট্টগ্রামের সানসাইন গ্রামার স্কুলে পড়াশোনা করতেন। দুজনের ক্লাসের পার্থক্য থাকলেও আসা যাওয়ার পথে বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রথমে বন্ধুত্ব, পরবর্তীতে প্রেম এবং বিয়ে। ২২ জুন, ২০১৩ ইং তারিখে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
আয়েশা সিদ্দিকা তখন চট্টগ্রাম সানশাইন গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী, এক অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখেছিলেন একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ‘এ’ লেভেলের ছাত্র তামিম ইকবাল। দেখেই কুপোকাত, যাকে বলে ‘লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট’। এক বান্ধবীকে দিয়ে আয়েশার কাছে মনের কথা, ভালোবাসার কথা বলে পাঠালেন তামিম। শুনেই যাকে বলে পত্রপাঠ বিদায়। আয়েশা বলেছিলেন, ‘লাভ? আই হেইট দ্য ওয়ার্ড—লাভ!’ এ রকম প্রত্যাখ্যানের পর ভালোবাসা যে আরও বাড়ে, এটা গুণীজনেরা বলেন। তামিমেরও তা-ই হলো, লেগে রইলেন। ফোন করে, স্কুলের আঙিনায় নানাভাবে বুঝিয়ে তুলে ধরতে চেষ্টা করলেন হূদয়ের আকুতি। ফলাফল শূন্য।
তাদের ভাষ্যমতে
‘সব চেষ্টা বিফলে যাওয়ার পর একদিন বললাম, আমরা অন্তত বন্ধু তো হতে পারি? এই প্রস্তাবে কাজ হলো। এ রকম নির্দোষ একটি প্রস্তাবে রাজি হয়েই বেচারি ফেঁসে গেল। বন্ধুত্বের পর্বে আমাকে জানার সুযোগ হলো তার, দেখল যত খারাপ ভেবেছিল তত খারাপ মানুষ নই আমি...এবার টোপটা গিলে ফেলল...হা হা হা।’
চট্টগ্রামের রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে, প্রেম-পর্ব চালিয়ে যেতে অসুবিধা হয়নি কোনো?
‘হয়নি আবার! স্কুলে যাওয়ার সময় সঙ্গে কেউ থাকে, কোচিং সেন্টারে যাওয়ার সময়ও আছে কেউ না কেউ, বাসার সামনে দারোয়ান জামালের প্রহরা এমনই নিশ্ছিদ্র, তামিম তো দূরের কথা, একটা মাছি যাওয়ারও উপায় নেই। ফোনে কথা বলাটাই একমাত্র ভরসা, তা-ও তো একবার ধরা পড়ে গেলাম।’
সেটা কেমন?
তার মানে, অনেক বিড়ম্বনা সইতে হয়েছে?
‘একেবারে ফিল্মের মতো। ওকে টুকটাক উপহার দিতে চাইতাম, সোজা রাস্তায় তারও উপায় নেই। বাঁকা পথ ধরতে হলো, ফোনে আগেই কথা থাকত, দেয়ালের ওপার থেকে ওদের ব্যালকনিতে ছুড়ে দিতাম...।’
কী ধরনের উপহার দিতেন?
‘বেশির ভাগ সময়েই পারফিউম। এখানেও একটা মজার কাহিনি আছে। তখন তো টাকাপয়সা ছিল না তেমন, ছোট বোন উরুসার আলমারি থেকে ওর পারফিউম চুরি করতাম। আমার খালা বিদেশ থেকে পারফিউম পাঠাতেন ওর জন্য, আমি সেখান থেকে...।’
ধরা পড়েননি কখনো?
‘না। সন্দেহটা ছিল আমার ওপরই, কিন্তু প্রমাণ তো নেই। হা হা হা। তবে এখন সেটা শোধ দিচ্ছি সুদে-আসলে। এখনো দেশের বাইরে গেলে পারফিউম নিয়ে আসি ছোট বোনের জন্য।’
প্রেমিকের সেই আশঙ্কা অবশ্য সত্য হয়নি। আবার দেখা হয়েছে দুজনের। এভাবেই কখন কেটে গেছে দীর্ঘ আটটি বছর। কুয়ালালামপুর সানওয়ে ইউনিভার্সিটি থেকে মার্কেটিংয়ে স্নাতক আয়েশা সিদ্দিকা দেশে ফিরে আসেন।
আয়েশার পরিবারে এই প্রেম নিয়ে নানা সমস্যা হলেও তামিমের পরিবারে কিন্তু ব্যাপারটা মোটেই ও রকম ছিল না। মা নুসরাত ইকবালকে কখনো কিছু লুকাননি তামিম, এই সম্পর্কের কথাও তাই অকপটে জানিয়েছিলেন। তিনি শুধু বলেছিলেন, ভালো পরিবারের মেয়ে হলে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। তামিম বলেন, ‘বাবা তো মারা গেছেন অনেক আগে, তাই মা-ই আমাদের সবকিছু, মা আমাদের অভিভাবক যেমন, আবার তেমনি ভালো বন্ধুও।’
Post a Comment