অদ্ভুতুড়ে 12:43 AM

 

  সমুদ্রের পানির উচ্চতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে। আর তার সাথে নিচু দ্বীপদেশগুলোর প্রশাসনের মাথাব্যাথা বাড়ছে। যেমন আমাদের প্রতিবেশী দেশ মালদ্বীপের কথাই ধরুন। পৃথিবীর সবচাইতে নিচু এই দেশ তৈরি হয়েছে ১, ১৯২ টি দ্বীপের সমষ্টিতে। ১৯০০ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েছে প্রায় সাত ইঞ্চি, আর ২১০০ সাল নাগাদ তা হয়ে যাবে আরও দুই ফুট উঁচু। এর ফলে নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ৩৯০,০০০ মানুষ তাদের বসবাসের স্থান হারাবে।

 

  ইতোপূর্বে গবেষকরা বালু এবং খোয়া দিয়ে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরির চেষ্টা করেছেন কিন্তু এসব স্থাপনা সাগরের বাস্তুসংস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কিন্তু প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপ দেশ কিরিবাতি এবার সত্যি সত্যিই এমন একটা সমাধানের দিকে ঝুঁকছে! তারা নিজেদের এক লাখ মানুষকে সরিয়ে নিতে চাচ্ছে কৃত্রিম দ্বীপে। রাষ্ট্রপতি আনোটে টং বলেন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তিনি ২ বিলিয়ন ডলার ব্যায়ে এমন এক প্রকল্পের কথা চিন্তা করছেন যাতে ভাসমান দ্বীপ তৈরি করা হবে মনুষ্য বসবাসের জন্য। সায়েন্স ফিকশনের মতো ঝকঝকে আধুনিক এই কাঠামো তাদের এই স্বপ্ন সত্যি করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

  শুধু কিরিবাতি নয় বরং টুভালু, টোঙ্গা, মালদ্বীপ, কুক দ্বীপপুঞ্জ, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ সবারই মাথায় এই চিন্তা। সাগরের আক্রোশ থেকে বাঁচতে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার গুনতে হচ্ছে কিরিবাতিকে। এর সাথে তুলনা করলে একটা ভাসমান দ্বীপ যা পানির সাথে ওঠানামা করতে পারবে, তার কার্যকারিতা অনেক বেশি। ইতিহাস থেকে দেখা যায়, এমনটা হবার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। পেরুর “উরোস” উপজাতির মানুষ টিটিকাকা হ্রদের মাঝে ৪০ টি ভাসমান গ্রাম তৈরি করে বসবাস করে। এছাড়া সাম্প্রতিক বিশ্বের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায়, হল্যান্ড, জাপান, দুবাই এবং হংকং সবাই কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করেছে এয়ারপোর্ট অথবা নতুন বাসস্থান তৈরির উদ্দেশ্যে। এছাড়া মালদ্বীপ নিজেও একটি উদ্যোগ নিয়েছে যাতে এর দেশের প্রচুর পরিমাণ বর্জ্য পদার্থ পাঠিয়ে দেওয়া হয় কৃত্রিম দ্বীপ থিলাইফুশি’তে। এই দ্বীপটি প্রতিদিন প্রায় এক বর্গমিটার করে বাড়ছে।

  কিন্তু কিরিবাতির দৃষ্টি অন্যখানে। বেলজিয়ান স্থাপত্যবিদ ভিন্সেন্ট ক্যালিবাট এর তৈরি লিলিপ্যাড ফ্লোটিং সিটি ধারণার দিকে তাদের উৎসাহ বেশি। এটা হল এমন একটি ভাসমান স্থাপনা যা কিনা সৌর, বায়ু, পানির স্রোত ইত্যাদি থেকে নিজের সম্পূর্ণ শক্তির চাহিদা মেটাতে পারবে এমনকি বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই অক্সাইড শুষে নিয়ে প্রকৃতিকে বিশুদ্ধ রাখতেও পারবে।

  আবার মালদ্বীপের সরকার ডাচ ডকল্যান্ডস ইন্টারন্যাশনাল এর সাথে যৌথ উদ্যোগে এমনই একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ হাতে নিয়েছে। এটি হলো পৃথিবীর বৃহত্তম কৃত্রিম ভাসমান দ্বীপ- প্রকল্প। পৃথিবীর যতগুলো হিমবাহই গলে যাক না কেন, এই দ্বীপগুলো ভাসমান অবস্থাতেই থাকবে। এই কোম্পানিটি নেদারল্যান্ডস এ ইতোমধ্যেই এ ধরণের স্থাপনা তৈরি করেছে এবং এখন মালদ্বীপেও সেই প্রযুক্তি প্রয়োগ করতে যাচ্ছে। এতে তৈরি দ্বীপগুলো এমনভাবে সমুদ্রের তলার সাথে আটকানো থাকবে যে প্রচণ্ড ঝড়েও তা স্থানচ্যুত হবে না। এ রকম অনেকগুলো ছোট ছোট দ্বীপ তৈরি করা হবে ফলে সেগুলো সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানকে খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। বেশ কম খরচেই এসব কৃত্রিম দ্বীপ তৈরির পরিকল্পনা চলছে।

Post a Comment

'; (function() { var dsq = document.createElement('script'); dsq.type = 'text/javascript'; dsq.async = true; dsq.src = '//' + disqus_shortname + '.disqus.com/embed.js'; (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(dsq); })();
Powered by Blogger.