স্মার্টফোনেই এখন নানা ধরণের সুবিধা পেয়ে আসছি আমরা । আপনি যখনই কোথাও ভ্রমণে যান না কেন নিশ্চয়ই স্মার্টফোনটি তখন আপনার সহায়ক হিসেবে সঙ্গেই থাকে। সত্যি, স্মার্টফোনটা সঙ্গে থাকলে ভ্রমণটা আপনার জন্যে অনেক সহজ হয়ে যায়। ছবি তোলা, ভাষা বুঝতে না পারলে গুগল থেকে অনুবাদ, গুগল ম্যাপসসহ সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বন্ধুদের সাথে তথ্য আদান প্রদান এবং আরো অনেক কিছুর জন্য স্মার্টফোন তখন আপনার সবচেয়ে কার্যকর সঙ্গীতেই পরিণত হয় বটে। আপনাকে এই সঙ্গী স্মার্টফোনটির জন্য অবশ্যই মনে রাখতে হবে ভ্রমণের ইতিবাচক সুবিধার পাশাপাশি কিছু বিষয় বা ব্যক্তিগত তথ্যের ক্ষেত্রে কতগুলো পরামর্শ। স্মার্টফোন বিশেষজ্ঞরা নিয়ে ভ্রমণবিষয়ক কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন। ফোর্বস অনলাইনের একটি প্রতিবেদন থেকে উঠেয়ে আনা হয়েছে।
স্ক্রিন লক
স্ক্রিনলক দিয়ে রাখার বিষয়টি ভ্রমণের সময় আপনার স্মার্টফোনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আপনার স্মার্টফোনের স্ক্রিনে লকস্ক্রিন বা পাসওয়ার্ড দিয়ে রাখার মতো কোনো ব্যবস্থা অবশ্যই আপনাকে থাকতে হবে। আপনার স্মার্টফোনটি যদি চুরিও যায় তাহলেও আপনার ফোনের তথ্য হাতিয়ে নিয়াটা সহজ সাধ্য ব্যাপার হবে না চোরের জন্য। আপনার স্মার্টফোনটি লক করার নানা ব্যাবস্থা ও নানারকম সফটওয়্যার রয়েছে। সাধারণ পাসওয়ার্ড থেকে শুরু করে অ্যাপলের সর্বশেষ ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার পর্যন্ত রয়েছে। তবে অবশ্যই প্যাটার্ন লক করার ক্ষেত্রে আপনাকে কঠিন প্যাটার্ন দিতে হবে।
সিম কার্ড
অবশ্যই আপনাকে স্থানীয় সিম কার্ড সংগ্রহ করে নিতে হবে। বেড়ানোর সময় আপনি যে দেশে যাবেন বা যেখানে যাবেন, সেখানে যে সিম সচল থাকবে অবশ্যই আপনাকে সে সিম সংগ্রহ করে নিতে হবে। এতে করে আপনার স্মার্টফোনটি স্থানীয় ফোন হিসেবে চলবে এবং স্থানীয় ড্যাটা প্যাকেজ ও কল রেট সচল থাকবে।
ওয়াই-ফাই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা

যেখানে আপনি ভ্রমণে যাচ্ছেন, সেখানকার সহজলভ্য ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। হোটেল বা মোটেলের বিনা মূল্যের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ কাজ না করাটাই আপনার জন্য উত্তম হবে। ভ্রমণে যাওয়ার সময় আপনার স্মার্টফোনে ব্রাউজের ক্ষেত্রে অনলাইন অ্যাকাউন্টগুলোর দ্বিস্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা অবশ্যই ঠিক করে নিবেন। অনলাইনে আপনি যে যে সার্ভিস ব্যবহার করেন তাতে যদি দ্বিস্তর যুক্ত শনাক্তকরণ-প্রক্রিয়া ব্যবহারের সুযোগ থাকে তা কাজে লাগাবেন। ম্যাকাফির অনলাইন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রবার্ট সিসিলিয়ানোর পরামর্শ হচ্ছে এটা। তাঁর মতে, দুই স্তরের এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় ব্যবহারকারীকে তাঁর অ্যাকাউন্টে নিয়মিত পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পাশাপাশি লগ ইন করার সময় স্মার্টফোন ও ট্যাবে আরও একটি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হয়। এতে অতিরিক্ত একটি স্তরের নিরাপত্তা পাওয়া যায়। তাই যতক্ষণ হাতে মোবাইল থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত আর কেউ অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারছে না সেই বিষয়টি নিশ্চিত হয়। অ্যাপল, গুগল, ফেসবুক, ড্রপবক্সের মতো অনেক সার্ভিসের ক্ষেত্রে দুই স্তরের এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া রয়েছে।
গুগল ট্রান্সলেট ও ম্যাপের ব্যবহার
যে স্থানে ভ্রমণে যাবেন, সেখানকার ভাষা বোঝার ও বলার জন্য আপনাকে সাহায্য করতে পারে গুগল ট্রান্সলেটর। এ ছাড়া আপনার পথ চেনার ক্ষেত্রে গুগল ম্যাপস হতে পারে সঙ্গী। কোনো স্থান চেনার জন্য এবং সেখানে যাওয়ার পথ গুগল ম্যাপস থেকেই পেতে পারেন।
স্বয়ংক্রিয় সিনক্রোনাইজ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিন
আপনি যদি স্থানীয় সিম থেকে ব্রাউজ করেন এবং প্রতি মেগাবাইট হিসেবে আপনার অর্থ খরচ হয়, তবে স্বয়ংক্রিয় সিনক্রোনাইজ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিন। অবশ্য আনলিমিটেড ডেটা প্যাকেজ থাকলে চিন্তার কিছু নেই।
ফোন দ্রুত চার্জ দিতে হলে
ভ্রমণের সময় কখনো কখনো দ্রুত বা তড়িঘড়ি স্মার্টফোন চার্জ দেওয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে। স্মার্টফোন কাজে-কর্মে স্মার্ট হলেও বেশ কিছু দিক দিয়ে বেশ সেকেলে। ফোন চার্জ করতে সময় বেশি নেওয়া অন্যতম একটা অসুবিধা। কিছু নিয়ম মেনে স্মার্টফোন দ্রুত চার্জ করে নেওয়া যাবে। ফোন চার্জ করার সময় অযথা কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। পুরোপুরি চার্জ না হওয়া পর্যন্ত কোনো কাজ করবেন না। দ্রুত চার্জ দিতে ফোনটি বন্ধ করুন। এতে ব্যাটারির অপচয় কম হবে, দ্রুত চার্জ হবে। যদি ফোন বন্ধ করে চার্জ দিতে না চান, তবে ফোনের এয়ারপ্লেন মোড চালু করে নিন। এটি মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং ওয়াই-ফাই থেকে ফোনকে বিচ্ছিন্ন রাখবে। ফলে অযথা ব্যাটারির শক্তি কমবে না।
ইউএসবি চার্জার
স্মার্টফোনের সঙ্গে থাকা দীর্ঘ কেব্ল বয়ে না বেড়ানোই ভালো। ছোট কেব্ল বা রিট্রাকটেবল কেব্ল ব্যবহার করুন। এতে আপনার ব্যাগে কম জায়গা লাগবে। যে চার্জারের সাহায্যে স্মার্টফোন দ্রুত চার্জ হবে, সেই ধরনের ইউএসবি চার্জার সঙ্গে নিন।
স্মার্টফোন কেস বা কাভার
ভ্রমণের সময় আপনার ফোনের উপযোগী একটি কাভার ব্যবহার করুন। অনেক সময় ফোন হাতে থেকে পড়ে গিয়ে স্ক্রিনের ক্ষতি হতে পারে। ভালো মানের স্মার্টফোন কেস ও কাভার থাকলে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে স্মার্টফোনটি রক্ষা পাবে।
যোগাযোগ
শুধু ম্যাপস বা ট্রান্সলেটর নয় স্মার্টফোন সঙ্গে থাকলে ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা ভাইবার ব্যবহার করে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবেন।
পরামর্শ
ভ্রমণের সময় আনন্দ-ফুর্তিতে থাকলেও একটা বিষয়ে সচেতন থাকবেন আর তা হচ্ছে কোথাও ভুলে ফোন ফেলে রেখে আসবেন না। চারপাশে খেয়াল রাখুন। খাবার টেবিলে বা কথার ফাঁকে ফোন ফেলে আসার ঘটনা প্রায়ই ঘটে।
Post a Comment