বিদেশে যাওয়ার জন্য অগ্রাধিকার সূত্রে সবার আগে পাসপোর্ট তৈরি করতে হয় তা আমরা সবাই জানি । আর পাসপোর্ট তৈরি মানেই শুধু শুধু অনেক ঝামেলা পহাতে হয় এমনই মনভাব আমাদের সবার মধ্যে জন্মেছে এবং তার যথা যত কারন ও আছে । তবে আজ সে সব নিয়া আলোচনা না করে প্রযুক্তির কল্যাণে এই বিষয়টা যে কতটা সহজ হয়েছে তাই জানাব আপনাদের ।
অনলাইন সুবিধা যোগ হওয়ায় কারনে বাসায় বসে পাসপোর্ট তৈরির প্রাথমিক সব কাজ করা যায়। এতে সময় যেমন বাঁচে, তেমনি অযথা দৌড়াদৌড়ির ঝামেলাও থাকে না। দালাল ধরার মত বিরক্তিকর ঝামেলা থেকেও মুক্তি মেলে।
কয়েকটি নির্দিষ্ট ব্যাংকে সম্প্রতি অনলাইনে পাসপোর্টের জন্য টাকা জমা দেওয়ার সুবিধা চালু করা হয়েছে। যা এ প্রক্রিয়াকে আরও একধাপ সহজতরও করতে সাহায্য করবে ।
১ম ধাপ : টাকা জমা দেওয়া
অনলাইনে পাসপোর্ট করার জন্য প্রথমে টাকা জমা দিতে হয় । কেননা টাকা জমা দেওয়ার তারিখ এবং জমা দানের রিসিটের নম্বর অনলাইনে ফর্ম পূরণ এর সময় উল্লেখ করতে হবে ।
পাসপোর্টের নিয়মিত খরচ পরবে ৩ হাজার টাকা এবং জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট করতে হলে তার খরচ পরবে ৬ হাজার টাকা। নিয়মিত খরচের পাসপোর্ট পেতে সময় লাগবে ২৫ দিন থেকে ১ মাস । জরুরি ভিত্তিতে সময় লাগবে ১৫ দিনের মত ।
২য় ধাপ : অনলাইনে ফর্ম পূরণ করা
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ । কোনো ভুল ক্রুটি যেন না হয় সেই ভাবে খুব মনোযোগ দিয়ে অনলাইনের ফর্ম পূরণ করতে হবে । অনলাইনে ফর্মপূরণের জন্য প্রথমে পাসপোর্ট অফিসের সাইটে যেতে হবে ।
![]() |
| http://www.passport.gov.bd/ |
তারপর “I have read the above information and the relevant guidance notes” টিক চিহ্ন দিয়ে “continue to online enrollment” এ ক্লিক করতে হবে।
আপনার নাম ও ব্যক্তিগত তথ্যাদি- যেমন: নামের বানান, পিতা-মাতার নাম যেন শিক্ষাগত সার্টিফিকেট কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো একই হয়। কোনো তথ্য ভুল হলে পাসপোর্টে হতে সমস্যা হবে।
মেইল অ্যাড্রেস ও মোবাইল নম্বার দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই যেটি ব্যবহৃত হচ্ছে সেটি দেওয়া উচিত।
টাকা জমা দেওয়ার তারিখ এবং রিসিট নম্বর দিতে হবে। পার্সপোট টাইপ দিতে হবে “ordinary”। লাল স্টার মার্ক দেওয়া অংশগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।
Delivery Type অংশে ৩০ দিনের জন্য হলে Regular এবং ১৫ দিনের জন্য হলে Express সিলেক্ট করতে হবে ।
সম্পূর্ণ ফর্মটি পূরণ হলে পুনরায় এটি চেক করতে হবে । সব তথ্য টিক আছে কি না, তা যাচাই করে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে ।
সবশেষে পূরণ করা ফর্মটি সাবমিট করতে হবে । সঠিক সাবমিট করা হলে আপনার পূরণ করা ফর্মের একটি পিডিএফ কপি যে ই-মেইল আইডি দিয়ে ফর্ম পূরণ করা হয়েছে, সেখানে চলে যাবে ।
৩য় ধাপ : ফর্মের প্রিন্ট এবং সত্যায়ন
এবার মেইলে আসা পিডিএফ কপির ২ কপি কালার প্রিন্ট করতে হবে । এতে আবেদনকারীর স্বাক্ষর করার স্থনে আপনার সাক্ষর করতে হবে ।
এবার নিজের চার কপি ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং পাসপোর্ট ফর্ম নিয়ে পরিচিত কোনো প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার কাছ থেকে সত্যায়িত করে নিতে হবে । পরিচিত কাউকে দিয়ে সত্যায়ন করালে ভাল । কারণ ওই কর্মকর্তার নাম, যোগাযোগ ও ফোন নম্বার এবং জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর ফর্মে লিখতে হয় ।
৪র্থ ধাপ : সত্যায়ন শেষে পুরো ফর্মটি রিচেক করা
সত্যায়িত ছবি এবং ব্যাংকের রিসিট আঠা দিয়ে ফর্মের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপিটিও প্রিন্ট করা ফর্মটির সঙ্গে যুক্ত করে দিতে হবে।
যদি ছাত্র হিসাবে আবেদন করলে অবশ্যই স্টুডেন্ট আইডি কার্ডের ফটোকপি সত্যয়িত করে ফর্মের সঙ্গে যুক্ত করতে দিতে হবে।
এসব ধাপ শেষ করলে ফর্মটি জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।
৫ম ধাপ : ফর্ম জমা দেওয়া এবং ছবি তোলা
![]() |
| ফর্ম জমা দেওয়া এবং ছবি তোলা |
অনলাইনে ফর্ম পূরণের পর ১৫ দিনের মধ্যে ফর্মের প্রিন্টেড কপি, সত্যায়িত ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র ও স্টুডেন্ট আইডি কার্ডের ফটোকপি নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে ।
সাদা পোশাক পরে পাসপোর্ট অফিসে যাওয়া উচিত নয় । কারন সাদা পোশাকে ছবি তুললে তা ভালো আসবে না । এ জন্য উচিত অন্য রংয়ের পোশাক পড়ে ছবি তুলতে যাওয়া ।
সকাল সকাল পাসপোর্ট অফিসে যেতে পারলে সুবিধা হয় । তখন লাইনে ভিড় কম থাকে। সরাসরি মেইন গেইট দিয়ে মূল অফিসে যেতে হবে । সেখানে দায়িত্বরত সেনা সদস্যকে জিজ্ঞেস করুণ কোন রুমে যেতে হবে । সাইন শেষে জানিয়ে দেওয়া হবে ছবি তুলতে কোন রুমে যেতে হবে । এরপর নির্দিষ্ট সেই রুমে গিয়ে সিরিয়াল অনুযায়ী ছবি তোলার জন্য অপেক্ষা করতে হবে । ছবি তোলার পর ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে হবে ।
এবার পাসপোর্ট রিসিভের একটা রিসিট দেওয়া হবে । পুলিশ ভেরিফিকেশন সাপেক্ষে, রিসিট পাওয়ার একমাস বা ১৫ দিনের মধ্যেই আপনি পাসপোর্ট পাবেন ।
নির্ধারিত দিনে রিসিভটি নিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে ।


Post a Comment