Showing posts with label রাজধানী. Show all posts

অদ্ভুতুড়ে 10:35 PM

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মামলায় জামিন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।


রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রোল বোমা মেরে যাত্রী হত্যা মামলায় আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করলে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

অদ্ভুতুড়ে 5:32 AM

গোয়েন্দা উপন্যাস তো অনেক আছে, জনপ্রিয় গোয়েন্দার সংখ্যাও কিছু কম নয়। কিন্তু বাঙালির মনে ফেলুদার জায়গাটাই আলাদা। সে টিভি সিরিজেই হোক বা বড় পর্দায়। ফেলুদার গল্প মানেই বাঙালি ভিড় জমাবেই তা দেখতে। একটা নতুন খবরে আবার উত্সাহ-উদ্দীপনার ঝড় উঠেছে বাঙালি মনে। জানেন খবরটা কী? আবার টিভি সিরিজে ফিরছে ফেলুদা।


 তবে ফেলুদা আসছেন বাংলাদেশের টিভি সিরিজে। সম্প্রতি সন্দীপ রায়ের থেকে সে দেশের এক মিডিয়া সংস্থার কর্ণধার ফেলুদার কুড়িটি গল্পের স্বত্ত্ব কিনেছেন এই ফেলুদা সিরিজ বানানোর জন্য। গল্পগুলির মধ্যে রয়েছে, ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি, শেয়াল দেবতা রহস্য, সমাদ্দারের চাবি, গোরস্থানে সাবধান, নয়ন রহস্য-এর মতো অসাধারণ সব গল্প।

ওই কর্ণধার সন্দীপ রায়কে আশ্বস্ত করেছেন, ফেলুদা নিয়ে কোনও কম্প্রোমাইজ করবেন না তাঁরা। ফেলুদার ভূমিকায় যথাযথ নতুন মুখের খোঁজ শুরু হয়ে গিয়েছে। এ বার দেখার বিষয় হল, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সব্যসাচী চক্রবর্তী, আবীর চট্টোপাধ্যায়ের পর কে হবেন নতুন ফেলুদা?

অদ্ভুতুড়ে 2:40 AM

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দল পড়ুয়ার মধ্যে সংঘর্ষের সময় ছুরিকাহত হয়ে মারা গেলেন এক ছাত্র। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা একটা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরেই মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনার পর পড়ুয়ারা আরও ক্ষেপে ওঠে। প্রথমে শহরের প্রবর্তক মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু হয়। তারপর ভাঙচুর চালানো হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনেও ভাঙচুর চালানো হয়।


চকবাজার থানা ওসি জানিয়েছেন, ‘‘একটি ফেয়ারওয়েল অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সিনিয়র ও জুনিয়র ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এই সময়েই ছুরিকাহত হন বেশ কিছু ছাত্র।’’ আহতদেক তড়িঘড়ি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানেই একজনের মৃত্যু হয়। মৃতের নাম সোহেল। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ-এর ছাত্র।  

প্রর্বতক মোড়ে অবরোধ পুলিশ তুলে দিলে দেওয়ার পর পড়ুয়ারা কয়েকটি দোকানে ভাঙচুরও চালায়।

অদ্ভুতুড়ে 2:21 AM

সাতক্ষীরার গায়ে সোনাই নদী। ওপারে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর। পারাপার রুখতে সীমান্ত রক্ষীরা তৎপর। দু’টি সীমান্ত অঞ্চল সামলাতে ব্যতিব্যস্ত নিরাপত্তা কর্মীরা। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে চোখ রাখা হয় যাতে সাতক্ষীরার লোক নদী পেরিয়ে হাকিমপুরে না ঢোকে। বাংলাদেশে ভোট হলেও সাতক্ষীরার ওপর চলে বিশেষ নজরদারি। 


এ বার ২২ মার্চ ইউপি’র প্রথম পর্বের নির্বাচনে সেটাই করা হয়েছিল। শেষ রক্ষা হল কই। ভোটের আগের দিন রাতেই দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব। ছাপ্পা ভোটে ব্যালট বাক্স ভর্তির প্রয়াস। ওরা ওরকমই। সুষ্ঠুভাবে ভোট হোক চায় না। তাদের উপদ্রবে ভোট উৎসব পণ্ড। দু’বছর আগেও মৌলবাদ, সন্ত্রাসের ডেরা ছিল সাতক্ষীরা। কঠিন অপারেশনে সেটা ভেঙেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুষ্কৃতীদের অবশিষ্ট এখনও পড়ে আছে।

২০টি জেলার নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ৬০০-র বেশি। সংঘাত মূলত বিক্ষুব্ধদের আক্রোশে। আওয়ামি লিগ, বিএনপি’র টিকিট চেয়েও যারা পাননি, তাঁরা বাহুবলে দখলদারি চালিয়েছেন। ক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন হিংসায়। তাঁদের অস্ত্রের অভাব হয়নি। পরিণতিতে ৬৫ কেন্দ্রের ভোট স্থগিত। ৪৭ ইউপিতে ৪৯ প্রার্থীর ভোট বয়কট।

এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনায় অবশ্য মানুষ দমে যাননি। তাঁরা ভোট দিয়েছেন স্বতস্ফূর্তভাবে। কোনও কোনও জায়গায় ভোট পড়েছে ৯০ শতাংশের বেশি। পঞ্চগড়ে শতায়ু উত্তীর্ণ মেহেরন ভোট দিয়েছেন শান্তিতে। তাঁকে কোলে করে বুথে পৌঁছেছেন নাতবউ। বাড়ি থেকে বুথের দূরত্ব কম হওয়ায় ভোট দিতে কোথাও অসুবিধে হয়নি। এই দিনটির জন্য প্রতীক্ষায় ছিল লক্ষ লক্ষ মানুষ। ভোটাধিকারের সুযোগ তারা ছাড়তে নারাজ। আশাপূরণে সন্তুষ্ট। সাধুবাদ জানিয়েছে হাসিনার পুলিশ প্রশাসনকে।

বাংলাদেশে সব নির্বাচনেই ভোটের দিনই ভোট গোনা হয়। ইউপি’র প্রথম দফার ভোটেও তাই হয়েছে। গুণতে গুণতে রাত পেরিয়েছে। তবু থামা নেই। প্রার্থীদের সঙ্গে ভোটাররাও প্রতীক্ষার প্রহর গুনেছেন। ফলাফল যা হওয়ার তাই। বিরোধীদের অনেক পিছনে ফেলে শীর্ষে আওয়ামি লিগ। মানুষের আস্থা যে এখনও তাদের ওপর সেটা প্রমাণিত। বিএনপি’র জয় থমকেছে নিজেদের ভুলে। ভোটের আগে তারা দলটা গোছাতে পারেনি। প্রার্থী নির্বাচনেও আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। মাটির কাছাকাছি থাকা নেতাদের টিকিট না নিয়ে ওপর থেকে প্রার্থী বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিক্ষুব্ধরা গোঁজ প্রার্থী দিয়ে বিএনপি-র ভোট নষ্ট করেছে।

ইউপি ভোটের সবে শুরু। এখনও অনেক বাকি। এরপর ভোট হবে ৩১ মার্চ, ২৩ এপ্রিল, ৭ মে, ২৮ মে, ৪ জুন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ঝামেলার জায়গাগুলোতে প্রথমে ভোট হয়েছে। পরের ভোটে গোলমালের আশঙ্কা কম। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর হবে।

ইউপি নির্বাচন মানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শিকড়ের খোঁজ। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। গণতন্ত্রের পূর্ণ মুক্তি। নির্বাচনে কোন দল জিতল সেটা উল্লেখযোগ্য নয়। সব প্রতিকূলতা হঠিয়ে গণতন্ত্রের জয়টাই বড়। বাংলাদেশ গণতন্ত্রের রাস্তা থেকে যে সরবে না, সেটা স্পষ্ট। এবার পরীক্ষা দ্বিতীয় পর্বের। আগামী বৃহস্পতিবার।

অদ্ভুতুড়ে 4:24 AM

মতিঝিল অফিস পাড়া কিংবা আরামবাগ, টিকাটুলি এবং আশপাশের এলাকার ভোজন বিলাসী মানুষগুলোর কথা ভেবে নতুন মাত্রা নিয়ে আসছে নতুন রেস্তোরাঁ ‘ইন্ডিয়ান স্পাইস রেষ্টুরেন্ট’। নামেই যেন খাবারের তৃপ্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এই রেস্তোরাঁ। নটরডেম কলেজের বিপরীতে ব্র্যাক ব্যাংকের পাশেই আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন হয়েছে এ রেস্তরাঁটি। এটি হবে মূলত ইন্ডিয়ান এবং বাংলা খাবারের কম্বিনেশন। ইন্ডিয়ান স্পাইস রেষ্টুরেন্ট হতে যাচ্ছে এইচ-কিউ গ্রুপের একটি তত্ত্বাবধানে একটি নতুন ধরনের খাবার দোকান। 

 


তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং নতুন নতুন সব অফার এবং রেসিপির খবর জানতে তাদের ফেসবুক পেইজে ঘুরে আসতে পারেন -fb.com/IndianSpicyRestaurant

অদ্ভুতুড়ে 10:46 AM

শাকিরা: এক রেষ্টুরেন্ট ওয়েটারের জনপ্রিয় শিল্পী হয়ে ওঠার গল্প

শাকিরার বাবা গল্প আর কবিতা লিখতেন। বাবার লেখা কবিতা ও গল্প পড়ে মুগ্ধ হতো শাকিরা। নিজেও থেমে থাকেননি। বাবার দেখাদেখি ছয় বছর বয়সেই কবিতা লিখে তাক লাগিয়ে দেন বাবাকে। তারপর একে একে বেশকিছু কবিতা লিখেন শাকিরা। পরে সেগুলো গান হিসেবে বিভিন্ন অ্যালবামে ব্যবহার করা হয়। কবি বাবার প্রেরণাতেই শাকিরার মাথায় গানের পোকা ঢুকে। সেদিনের সেই শাকিরা এখন জগৎবিখ্যাত। তার সুরের মোহনীয় জাদু ও কোমর দুলানো নাচে পুরো বিশ্ব কুপোকাত। সম্মান, যশ, খ্যাতি সবকিছুই এখন তার পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়ে। অথচ এই শাকিরাকেই কঠিন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে আজকের এই অবস্থানে আসতে হয়েছে। আসুন সে বিষয়ে কিছুটা জেনে নিই।

জন্ম:
১৯৭৭ সালের ২ ফ্রেব্রুয়ারী কলম্বিয়ার বারানকুলা শহরে জন্মগ্রহণ করেন শাকিরা৷ তার পুরো নাম শাকিরা ইসাবেল মেবারাক রিপোল।

শৈশবের টানাপোড়েন ও শিল্পী হয়ে ওঠা:
শাকিরার জন্মটা মোটামোটি বিত্তশালী পরিবারেই হয়। জীবনের প্রথম দিকটা সুখে-শান্তিতেই কাটে তার। কিন্তু হঠাৎই তার অর্থবিত্তের জীবনে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা। তখন শাকিরার বয়স সবে আট বছর। হঠাৎই একদিন তাঁর মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। ব্যবসায় ধস নামলে শাকিরার বাবা অর্থাভাবে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করেন আর মেয়েকে জোর করে আত্মীয়দের সঙ্গে থাকতে পাঠিয়ে দেন। কিছুদিন পর শাকিরা নিজ শহরে ফিরে এসে দেখেন তাঁদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। শাকিরার গান-নাচ সব থেমে যাওয়ার উপক্রম। কিন্তু বড় হয়ে যিনি বিশ্ব মাতাবেন, তাঁর তো থেমে যাওয়া সাজে না। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিজের আত্মবিশ্বাস অটুট রেখে সংগীতচর্চা অব্যাহত রাখেন। গানের টানে শাকিরা নিজ শহর বারানকুলা থেকে চলে যায় রাজধানী শহর বোগোটায়। সেখানে সে একা। শুরুতে নিজের খরচ চালানোর জন্য বেশ পরিশ্রম করতে হয়েছে তাকে। বার, রেস্টুরেন্টসহ বেশকিছু জায়গায় পার্টটাইম কাজ করেছে। পাশাপাশি ঘরে, বন্ধুদের মধ্যে অব্যাহত রেখেছে গানের চর্চা।

আগেই বলেছি ছোটবেলাতেই বাবার কাছে থেকে কবিতা ও গানের হাতেখড়ি শাকিরার। চার বছর বয়সে তার প্রথম লেখা কবিতার নাম দেন ‘লা রোসা দো ক্রিস্টাল (বাংলায় ‘স্ফটিকের গোলাপ’)’। বাবাকে টাইপরাইটারে প্রায়ই গল্প লিখতে দেখে তাঁর নিজের একটা টাইপরাইটারের খুব শখ জাগে। বড়দিনের উপহার হিসেবে তাই জামা-জুতোর বদলে একটি টাইপরাইটার চেয়ে বসেন ছোট্ট শাকিরা। অবশেষে সাত বছর বয়সে হাতে আসে স্বপ্নের উপহার, তখনই কবিতা আর গান লিখে হাত পাকানোর শুরু। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে এক রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়ে আরবীয় সুর ও ঐতিহ্যবাহী এক বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। সুরটি ছোট্ট শাকিরার এত ভালো লাগে যে উচ্ছ্বসিত হয়ে টেবিলের ওপর উঠে নাচতে থাকেন তিনি। বাবাকে কালো চশমা পরে থাকতে দেখে আট বছর বয়সে শাকিরা ‘তোমার কালো চশমা’ নামে তাঁর প্রথম গান লিখে ফেলেন। এভাবে শৈশবেই সংগীতের ভুবনে পথচলা শুরু পৃথিবীজুড়ে সংগীতপিপাসু কোটি ভক্তের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া গায়িকা শাকিরার। ইউটিউবে শাকিরার ছোট্টবেলার একটি ভিডিও রয়েছে। ভিডিও টাইম স্ট্যাম্প অনুযায়ী জানা যায়, ১৯৮৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর দৃশ্যটি ধারণ করা হয়, তখন এই তারকা ছিলেন মাত্র ১২ বছর বয়সের। ভিডিওটিতে দেখা যায় দর্শক সারির সামনে দিয়ে হেটে ষ্টেজে উঠছেন ‘হিপ্স ডোন্ট লাই’খ্যাত ১২ বছরের শাকিরা। এই সময় ছোট শাকিরা গোলাপি শার্ট-সাদা প্যান্ট এবং মাথায় একটি টুপি পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। শাকিরা তার পারফর্মেন্স শুরু করার পূর্বে স্প্যানিশ ভাষায় বলেন, প্রথমেই আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সেসব সমাজ সেবকদের প্রতি যারা কলম্বিয়ার জনগণদের সাহায্য করেছেন। আর এমন একটি অনুষ্ঠানের জন্য অনুমতি দেওয়ার কারণে আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।   

ক্যারিয়ার:
শাকিরার প্রথম দুটি এ্যালবাম ফ্লপ করে৷ তখন কলম্বিয়ার বাইরে কেউ শাকিরাকে চেনেন না৷ ১৯৯৫ সালে তাঁর এ্যালবাম ‘পিয়েস ডেসকালোস‘ খ্যাতি নিয়ে আসে কলম্বিয়ায়৷ এরপর ১৯৯৮ সালে আরেকটি এ্যালবাম তাঁকে জনপ্রিয় করে দক্ষিণ আমেরিকায়৷ এরপর ২০০১ সালে তাঁর মিউজিক ভিডিও ‘হোয়েন এভার হোয়্যার এভার' জনপ্রিয়তা পায় গোটা বিশ্বে৷ বিশেষ করে শাকিরা সবাইকে নাচের যাদু দেখিয়ে মাত করে দেন৷ এরপরের এ্যালবাম লন্ড্রী সার্ভিস৷ সে এ্যালবামের জনপ্রিয় গান আন্ডারনিথ ইওর ক্লোথস৷ শাকিরা দু বার গ্র্যামি এওয়ার্ডস জিতেছেন, সাতবার ল্যাটিন গ্র্যামি এওয়ার্ডস এবং একবার গোল্ডেন গ্লোবের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন৷ কলম্বিয়ায় অন্য কোন গায়িকার গান এত বিক্রি হয়নি যতটা হয়েছে শাকিরার৷ সারা দক্ষিণ আমেরিকায় শাকিরা হলেন দ্বিতীয় গায়িকা যার ৫০ মিলিয়নেরও বেশি এ্যালবাম বিশ্ব জুড়ে বিক্রি হয়েছে৷ আমেরিকা, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডার বিলবোর্ড চার্টগুলোতে অন্য কোন দক্ষিণ আমেরিকার গায়িকা শীর্ষস্থানে পৌঁছাতে পারেনি একমাত্র শাকিরা ছাড়া৷ ২০০৬ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বকাপ ফুটবল৷ শেষ দিন অর্থাৎ ফাইনাল খেলার দিন খেলা শুরুর ঠিক আগে শাকিরা ভিক্লিফ জনের সঙ্গে হিপ্স ডোন্ট লাই গানটি লাইভ পারফর্ম করেন৷ বিশ্বকাপ মাতোয়ারা দর্শক কিছু সময়ের জন্য মাতোয়ারা হন শাকিরার নাচে-গানে৷ ২০১০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের থিম সং ‘ওয়াকা ওয়াকা’র মাধ্যমেও পুরো বিশ্ব মাত করেন শাকিরা। তাঁর গাওয়া ২০১০ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং ‘ওয়াকা ওয়াকা’ ছিল ইউটিউবে সর্বাধিক শোনা গানের অন্যতম। ২০১৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপেও এর কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে শাকিরা ‘লা লা’ গান দিয়ে মাতালেন পুরো বিশ্বকে।  ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই এখন শাকিরা। শাকিরা অনর্গল কথা বলতে পারেন ইংরেজী, স্প্যানিশ, পর্তুগীজ এবং ইতালিয়ান ভাষায়৷

প্রেম-ভালোবাসা:
শাকিরার প্রথম প্রেমিকের নাম অ্যান্টোনিও। অ্যান্টোনিও ছিলেন আর্জেন্টিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট ফার্নান্দো ডে লা রুয়ার ছেলে। শাকিরা ও অ্যান্টোনিও দীর্ঘ ১১ বছর একসঙ্গে বাস করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের প্রেম টেকেনি। বিচ্ছেদের পরই শাকিরার বিরুদ্ধে আড়াই'শ মিলিয়ন ডলারের মামলা করেছিলেন অ্যান্টোনিও। আদালতে দাখিল করা কাগজপত্রে অ্যান্টোনিও উল্লেখ করেন, শাকিরা নামটি একটি ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। এর পুরো কৃতিত্ব নিজের বলেই তিনি মনে করেন। এছাড়া শাকিরার তুমুল জনপ্রিয় 'হিপস ডোন্ট লাই' ও 'ওয়াকা ওয়াকা' গান দুটি তৈরির ভাবনাও প্রথম তার মাথায় এসেছিল। এসব কারণেই তিনি মনে করেন, শাকিরার আয়ের একটি অংশ তার প্রাপ্য। কিন্তু মামলাটি ধোপে টেকেনি। এরপর আরও ৩টি মামলা করেন তিনি। কোনো মামলায়ই তিনি সুবিধা করতে পারেননি। সবগুলো মামলার রায়ই শাকিরার পক্ষে যায়।
অ্যান্টোনিওর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর স্প্যানিশ ফুটবল তারকা জেরার্ড পিকেকে নতুন সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন শাকিরা। জেরার্ড পিকের সাথে শাকিরার পরিচয়টাও গান ও ফুটবলের মাধ্যমেই। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের আগে স্পেনের হয়ে অনুশীলনে শাকিরার সঙ্গে পিকের প্রথম সাক্ষাৎ হয়। পিকে ছিলেন দলীয় অনুশীলনে আর শাকিরা গিয়েছিলেন বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সঙ্গীত 'ওয়াকা ওয়াকা'র রেকর্ডিংয়ে। তখন থেকেই তাদের শুরু। আর ঠিক তার এক বছর পরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেমের ঘোষণা দেন এ জুটি। তাদের দুজনের মধ্যে বয়সের পার্থক্য ১০ বছর। জেরার্ড পিকে শাকিরার চেয়ে ১০ বছরের ছোট। তারপরও কোনো বাধা মানেনি তাদের ভালোবাসা। এখন তাদের সংসারে রয়েছে ফুটফুটে একটি ছেলে সন্তান।
ডেভিড ও ভিক্টোরিয়া বেকহ্যামকে পিছনে ফেলে এখন বিশ্ব ক্রীড়া সেরা দম্পতি জুটি জেরার পিকে ও শাকিরা। বিশ্বখ্যাত 'ফোর্বস' সম্প্রতি প্রকাশ করেছে বিশ্বের সেরা দম্পতি জুটির এক তালিকা। তাতেই সংযোজিত হয়েছে বার্সেলোনার স্টপার পিকে ও কলম্বিয়ার পপ তারকা শাকিরার নাম৷

গিনেস ওয়ার্ল্ডস-এ রেকর্ডস:
শাকিরা সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা সাইটে একটি নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন । তিনি ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি যে কিনা ফেসবুকে ১০০ মিলিয়ন লাইক পেয়েছেন । তিনি ম্যারাকানা স্টেডিয়ামে দাঁড়ানো আছেন এমন একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন । ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার একটু আগের মুহূর্ত ছিল সেটা । ছবিটি ৪ দিনের মধ্যেই ৩.৫ মিলিয়ন লাইক পেয়ে গেছিল, এটাই এই তারকার সবচেয়ে বেশী লাইক পাওয়া ছবি হয়ে গেছিল তখনই ।

নিজের নামে খেলনা:
নিজের নামে খেলনা বের করছেন শাকিরা। এ জন্য তিনি হাত মিলিয়েছেন খেলনা পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ফিশার-প্রাইসের সঙ্গে। তাদের শিশুদের উপযোগী ফার্স্ট স্টেপস পণ্যের আওতাভুক্ত হবে এসব। শাকিরার বানানো ৬ রকমের খেলনার মধ্যে থাকছে সুরেলা বাউন্সার, বর্ণমালা ব্লক ও সুরেলা ফুটবল। এগুলো বিক্রি থেকে প্রাপ্ত পুরো লভ্যাংশ দেওয়া হবে ৩৭ বছর বয়সি এই তারকার বেয়ার ফুট ফাউন্ডেশনে। কলম্বিয়ার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণে ব্যয় করা হবে এসব অর্থ।

মানবদরদী:
শাকিরার একটি অলাভজনক ফাউন্ডেশন রয়েছে। নিজের জনপ্রিয় অ্যালবাম 'পিয়েস ডেসক্যালজোস'-এর নামে ১৯৯৭ সালে শাকিরা তার ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন নিজ দেশে। সার্বজনীন শিক্ষার প্রচারই এর মূল উদ্দেশ্য। যার অর্থায়নে তিনি মানব সেবার কাজ করে থাকেন। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি  আটটি বিদ্যালয় গড়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন চ্যারিটেবল কনসার্টে তিনি অংশগ্রহণ করেন, তার বিভিন্ন অ্যালবাম ও গান থেকে অর্জিত কিছু অর্থ তিনি এই ফাউন্ডেশনে দান করেন। এ ছাড়া তিনি যুক্ত আছেন ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের সঙ্গে।








































বাংলাদেশে শাকিরা:
২০০৩ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সে শাকিরা ইউনিসেফের গুডউইল এম্বাসাডর হন৷ এর আগে এত অল্প বয়সে কেউ এই সম্মান পায়নি। ২০০৭ সালে ইউনিসেফের পক্ষ থেকে গুডউইল এম্বাসাডর হয়ে শাকিরা যান বাংলাদেশে৷ ১৭ থেকে ১৯শে ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশে ঘুর্ণিঝড় বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন৷ উদ্বাস্তুদের সঙ্গে কথা বলেন, সময় কাটান৷ বাংলাদেশের পটুয়াখালীতে তিনি যান৷ সেখানে বাচ্চাদের লেখাপড়ার বিষয়ে ইউনিসেফের কর্মকান্ড নিয়ে কথা বলেন৷ বিশেষ করে যে সব বাচ্চা ইউনিসেফের স্কুলে পড়াশোনা করছে তাদের খোঁজ খবর নেন তিনি৷

শাকিরার বাংলাদেশে ধারণকৃত ভিডিও:

অদ্ভুতুড়ে 10:27 AM
This is Princess Diana's young age picture. Photo has taken in the eighties. The film has sold 18 thousand 306 dollars.
It’s a house behind the house of Bangabondhu’s house at dhanmondi-32 which was damaged by a bombshell in 15 August.
This image has taken in 1954It is a fair organizedon the occasion of Eid festival in Bangladesh.
Howrah Bridge in 1930. The present  Howrah Bridge was not ready yet then.
Popular actor Abul Hayat's wedding picture.

অদ্ভুতুড়ে 10:17 AM


ফেনীর ছাগলনাইয়ায় সাঁকো ভেঙে খালে পড়ে আহত হয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরীসহ ১৫ জন। গতকাল সকালে পাঠান নগর ইউনিয়নের গতিয়া গ্রামে সাঁকো পরিদর্শনকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সূত্র জানায়, এলাকার মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে ওই দিন সকালে আট ফুট প্রশস্ত ১৩০ ফুট দীর্ঘ মুহুরী নদীর ফুলছরি ঘাট সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো পরিদর্শনে যান উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার সোহেল। তার সঙ্গে থাকা পাঠাননগর ইউনিয়র চেয়ারম্যান রফিকুল হায়দার চৌধুরী জুয়েলসহ লোকজন সাঁকোর উপর উঠলে সাঁকোটি ভেঙে পড়ে।

এ সময় চেয়ারম্যানসহ ১৫ জন আহত হন। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার সোহেল ওই এলাকার আজিজুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

অদ্ভুতুড়ে 7:58 PM
আটককৃত বিপুল পরিমান মদ ও ফেনসিডিলের বোতল দিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র এঁকেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কুষ্টিয়া সেক্টর। তাদের দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যই এমনটা করা হয়েছে।
তবে ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয়ে যায় নানা সমালোচনা। বিশিষ্টজনেরাও এর কঠোর সমালোচনা করেছেন। ফেসবুকে একজন লিখেছেন, ‘নতুন আবিষ্কার! ফেনসিডিলের বোতলে বাংলাদেশের মানচিত্র।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘চারিদিকে ভারতীয় হাজারো মদের বোতল। মাঝখানে হাজারো ফেনসিডিলের বোতল। ফেনসিডিলের বোতল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশের মানচিত্র। দুর থেকে দেখলে মনে হচ্ছে বাংলাদেশ মানেই ফেনসিডিল। এই বাংলাদেশই তো আমরা চেয়েছিলাম? অভিনন্দন বাংলাদেশ !!!’

বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত প্রথম জাতীয় পতাকার নকশাকার শিবনারায়ণ দাস বলেন, ‘এটি হল কাণ্ডজ্ঞানের ব্যাপার। যাদের মাতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধা ও দেশপ্রেমের সংকীর্ণতা রয়েছে তারা এই কাজ করতে পারে। এটা মূল্যবোধের অবক্ষয়। তারা নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য জ্ঞান সম্পর্কে সচেতন না হওয়ার ফলে এ কাজ করতে পেরেছে। নিজের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক সমুন্নত রাখতে হয় কীভাবে আমাদের দেশের অনেক বিজ্ঞজনরাই জানেন না। কিন্তু তারাই এখন সমাজে প্রতিষ্ঠিত।’

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘এটা অনৈতিক কাজ। ফুল ও প্রদীপ দিয়ে মানচিত্র আঁকা যায়। যদিও এ বিষয়ে আমাদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। মানচিত্রের প্রতি আমদের শ্রদ্ধা ও ভালবাসা থাকতে হবে। এটা মদ ও ফেনসিডিলের বোতল দিয়ে করা যায় না। এই কাজটা বিজিবি ঠিক করেনি।’

বিজিবি কুষ্টিয়া সেক্টর হেড কোয়ার্টার থেকে ক্যাপ্টেন মামুন বলেন, আমাদের প্রিয় এই দেশে ছোট ছোট আকারে ক্রমশ মাদকদ্রব্য বিস্তার লাভ করছে। আমরা এখনই সচেতন না হলে আস্তে আস্তে সারা দেশে মাদক ছড়িয়ে পড়বে। ঐ বোতলগুলোকে পরে ধ্বংস করা হয়েছে। এভাবে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং মাদক ধ্বংস করতে হবে।

অদ্ভুতুড়ে 7:57 PM
পুরান ঢাকার লালবাগের সরু অলিগলি পেরিয়ে খুঁজে নিতে হল বাড়িটি। ডুরি আঙ্গুল লেনের চারতলা বড় এই বাড়িটি দেখে বোঝার উপায় নেই এই বাড়ির ছাদেই রয়েছে একটি গরুর খামার।

 
সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠেই এলো সেপের ছাদটিতে রয়েছে ফুলের গাছ আর গরু। খামারের মালিক হাজি হাবিবুর রহমান ও তার ভাই-বোন সবায়এই খামারের সাথে যুক্ত। এই ছাদে দাড়িয়ে কথা বলছিলাম মি. রহমানের বোন তাহমিনা আক্তারের সাথে। তিনি বলছিলেন ১০- ১২ বছর আগে এই খামার করার চিন্তাটা আসে। মি. রহমান সেবার ঈদে একটি গরু কিনে আনেন। কিন্তু কোরবানীর জন্য যথেষ্ট বয়স না হওয়ায় তিনি গরুটি রেখে দেন। এরপর নিয়ে আসেন আরেকটি গরু। আর এভাবেই শুরু।

 
ছোট দুটি গরু নিয়ে বাসার ছাদে পালতে শুরু করেন, এখন ঐ খামারে সব সময় ১৫ থেকে ২০ টা গরু থাকছে। গরু গুলো বড় হলে তাদের মধ্যে কয়েকটি বিক্রি করছেন। আর বাকি গুলো থেকে দুধ বিক্রি করছেন। প্রতিদিন গরু গুলো থেকে প্রায় ৪০ লিটার দুধ পাচ্ছেন এই খামারিরা। বর্তমানে খামারটিতে রয়েছে আটটি অস্ট্রেলিয়ান গরু। আর চারটি নেপালি গরু। বাকি ছয়টি এবছর কোরবানির ঈদের জন্য বিক্রি করা হয়েছে।

 
প্রতিবছর এলাকার মানুষ এই খামার থেকেই গরু কিনে কোরবানি দিচ্ছেন। গরু গুলোকে সার্বক্ষণিক দেখা শোনা করার জন্য রয়েছেন দুইজন তত্ত্বাবধায়ক। আর নিয়ম করে প্রতিমাসে চিকিৎসক এসে পরীক্ষা করে যান গরুদের স্বাস্থ্য। একজন তত্ত্বাবধায়ক নাজমুল শেখ বলছিলেন প্রতিদিন তাদের গরমের সময় দুইবার গোসলের ব্যবস্থা করেন। শীতের দিনে একবার। সাবান, শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার করেন তাদের।

ছাদের ওপরে টিনের ছাউনি দেয়া আর সামনে বাঁশ দিয়ে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে গরুর থাকার জায়গা। ভিতরে চলছে ফ্যান। গরু পালন করতে সাধারণত বড় জায়গার প্রয়োজন হয়। ছাদের ওপর সীমিত এই জায়গায় গরুর জন্য কতটা স্বস্তি দায়ক? প্রশ্ন করলে মি. রহমান বলছিলেন ” তাদের আরাম আয়েশের জন্য সব ব্যবস্থা আছে। কোন কষ্ট হয় না তাদের”।

যেখানে রাজধানী ঢাকায় স্থান স্বল্পতার জন্য নানা সমস্যার কথা প্রায় সময় শোনা যায়, সেখানে ছাদের ওপর এই খামার তৈরি করে এই খামারের মালিকের যেমন লাভবান হচ্ছেন তেমনি একই সাথে প্রতিবেশীরা এখান থেকে ভেজাল মুক্ত টাটকা গরু দুধ কিনতে পারছেন। তাই তারাও স্বাগত জানাচ্ছেন অভিনব এই উদ্যোগকে।

অদ্ভুতুড়ে 9:38 AM

ব্রাজিলের নাগরিক আলফ্রেদো মোসার সর্ব প্রথম বাতিল বাতি তৈরি করেন। এই বাতি তৈরি করা খুবই সহজ। খরচও কম। রক্ষণাবেক্ষণের জটিলতা নেই। দীর্ঘদিন একনাগাড়ে আলো পাওয়া যাবে। এটি থেকে ৫০ থেকে ৬০ ওয়াটের বৈদ্যুৎতিক বাতির মত আলো পাওয়া যাবে। তবে শুধুমাত্র দিনের বেলায়ই এই বাতি জ্বালানো যাবে। গ্রাম-গঞ্জের বাড়িতে টিনের চালে এই বাতি বসানো যাবে।

যা যা লাগবে 
২ লিটার পানির খালি বোতল ১টি
পরিষ্কার পানি
১ বর্গফুট টিন
ক্লোরিন (সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট)

যেভাবে করবেন
এসব উপাদান দিয়ে তরল মিশ্রণ তৈরি করে বোতলে ভরে ঘরের চালের টিন কেটে লাগিয়ে দিলেই হলো। বোতল বাতি থেকে দিনের বেলা প্রায় ৬০ ওয়াটের বাতির সমান আলো পাওয়া যায়। এই বাতি ব্যবহারে প্রতি মাসে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। বোতল বাতিতে বৈদ্যুতিক বাতির মত কার্বণ নিঃসরণ হয় না। বোতল বাতি তৈরির জন্য উপকরণ বাবদ ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা লাগে। ৪ থেকে ৫ বছর বোতল বাতি নিরবিচ্ছিন্ন আলো দেয়।

বাংলাদেশে বোতল বাতি তৈরি করছে লাইট হাউজ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার রোসাংগিরি ইউনিয়নের শীলের হাট বাজার এলাকায় সংগঠনটির প্রকল্প চলছে। প্রতিষ্ঠানটির কাছে এই বাতি তৈরি এবং উপকরণ পাওয়া যাবে। 
লাইট ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগের ঠিকানা:
ইমেইল: lightsfoundation@gmail.com
মোবাইল ফোন-০১৮৩০০০১৯৭১, ০১৬৭৫৬০৭৪৩৯


অদ্ভুতুড়ে 9:30 AM


ঢাকার গুরুদুয়ারা নানকশাহী বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরে অবস্থিত একটি শিখ ধর্মের উপাসনালয়। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর ক্যাম্পাসের কলাভবনের পাশে অবস্থিত। এই গুরুদুয়ারাটি বাংলাদেশে অবস্থিত ৯ থেকে ১০টি গুরুদুয়ারার মধ্যে বৃহত্তম।

ইতিহাসঃ
কথিত আছে যে, ঢাকার এই গুরুদুয়ারাটি যেখানে অবস্থিত, সেই স্থানে ষোড়শ শতকে শিখ ধর্মের প্রবর্তক গুরু নানক অল্প সময়ের জন্য অবস্থান করেছিলেন। এই স্থানে থাকা কালে তিনি শিখ ধর্মের একেশ্বরবাদ এবং ভ্রাতৃত্ববোধের কথা প্রচার করেন, এবং ধর্মের আচার অনুষ্ঠান পালনের শিক্ষা প্রদান করেন।
শিখ ধর্মের ৬ষ্ঠ গুরু হরগোবিন্দ সিং এর সময়কালে (১৫৯৫-১৬৪৪ খ্রিঃ) ভাইনাথ (মতান্তরে আলমাস্ত) নামের জনৈক শিখ ধর্ম প্রচারক এই স্থানে আগমন করে গুরুদুয়ারাটি নির্মাণের কাজ শুরু করেন। কারো কারো মতে, গুরুদুয়ারাটি নির্মাণের কাজ শুরু হয় ৯ম শিখ গুরু তেগ বাহাদুর সিং এর সময়কালে (১৬২১-১৬৭৫ খ্রিঃ)। ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণকার্য সমাপ্ত হয়। পরবর্তীতে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি ভগ্নদশা প্রাপ্ত হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে ১৯৭২ সালে গুরুদুয়ারাটির ভবনের কিছু সংস্কার করা হয়। ১৯৮৮-৮৯ সালে এটির ব্যাপক সংস্কার সাধন করা হয়, এবং বাইরের বারান্দা ও সংলগ্ন স্থাপনা যোগ করা হয়। সংস্কার কার্যের অর্থায়ন করা হয় বাংলাদেশে ও বিদেশে অবস্থানরত শিখ ধর্মাবলম্বীদের দানের মাধ্যমে। ঢাকার আন্তর্জাতিক পাট সংস্থার তদানিন্তন প্রধান সর্দার হরবংশ সিং এর নির্মাণকার্য তদারক করেন।

স্থাপনাশৈলীঃ
একসময় গুরুদুয়ারা নানকশাহীর বিপুল পরিমাণ ভূসম্পত্তি ছিল। আজকের মতো বিরাট ও জমকালো উপাসনালয় না থাকলেও তখন গুরুদুয়ারা নানকশাহীর আয়তন ছিল বিপুল। এর উত্তর দিকে ছিল একটি প্রবেশদ্বার। দক্ষিণদিকে ছিল কূপ ও সমাধিস্থল এবং পশ্চিমে ছিল একটি শান বাঁধানো পুকুর। মূল উপাসনালয় ছাড়াও ভক্তদের থাকার জন্য ছিল কয়েকটি কক্ষ। তবে সেসবের এখন আর অবশিষ্ট নেই। বর্তমান উপাসনালয়টি সীমিত জায়গার ওপর গড়ে উঠেছে এবং বারবার সংস্কারের ফলে বর্তমান রূপ পরিগ্রহ করেছে।
উঁচু প্রাচীরবেষ্টিত গুরুদুয়ারা নানকশাহীর বর্তমান প্রবেশপথটি রয়েছে দক্ষিণদিকে। উপাসনালয়টির সামনে রয়েছে চমৎকার সবুজ লন। এর বাম দিকে আছে শিখ রিসার্চ সেন্টার, ডানদিকে দোতলা দরবার হল। সামনে পতাকা টাঙানোর স্ট্যান্ড, বৈশিষ্ট্যময় এই উপাসনালয়টি শিখদের নিজস্ব স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত। উপাসনালয়টির ওপর পৃথিবী আকৃতির একটি কাঠামো নির্মিত। তার চারদিকে শিখ ধর্মীয় চিহ্ন খাণ্ডা শোভিত। উপাসনালয়ের শীর্ষে রয়েছে ছাত্রার। এটি শিখদের উপাসনালয়ের চিহ্ন। গুরুদুয়ারা নানকশাহীর ঠিক মাঝখানে রয়েছে একটি বড় কক্ষ। এই কক্ষের চারদিকে চারটি দরজা আছে। মাঝখানে কাঠের তৈরি বেদির ওপর রয়েছে শিখ ধর্মগ্রন্থ গ্রন্থসাহেব। বেদির সামনে নবম শিখগুরু তেগ বাহাদুর সিংয়ের ব্যবহূত একজোড়া খড়ম একটি কাচের বাক্সের মধ্যে যত্নসহকারে রাখা আছে। এ কক্ষের মেঝেতে লাল রঙের কার্পেট পাতা আছে। তাতে ভক্তরা বসে গ্রন্থসাহেব পাঠ শোনেন। কক্ষের চারদিকে বারান্দা আছে।

ধর্মীয় অনুষ্ঠানঃ
গুরুদুয়ারা নানকশাহীতে একেক সময় একেকজন গ্রন্থির (পুরোহিত) দায়িত্ব পালন করেন। ১৯১৫ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত শ্রীচন্দ্র জ্যোতি নামে এক শিখসাধু এই উপাসনালয়ের পুরোহিত ছিলেন। ১৯৪৭ সালের পর থেকে ষাট দশক পর্যন্ত উপাসনালয়টি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর সংস্কার করে এর বর্তমান রূপ দেওয়া হয়। বর্তমানে ভাই পিয়ারা সিং প্রধান গ্রন্থির দায়িত্ব পালন করছেন।
গুরু নানকশাহীতে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা দুবার গ্রন্থসাহেব পাঠ ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। তা ছাড়া প্রতি শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত সাপ্তাহিক জমায়েত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। পুরোহিত গ্রন্থসাহেব পাঠ ও কীর্তন করেন। গুরুদুয়ারার এই কীর্তন ভক্তদের আকুল করে তোলে। সংগীতশিল্পী কিরনচন্দ্র রায় এই গুরুদুয়ারার অতিথিনিবাসে থেকে দীর্ঘদিন এখানে কীর্তন পরিবেশন করেন। কীর্তন ও প্রার্থনা শেষে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। এখানে শুক্রবারে আগত অতিথিদের জন্য মধ্যাহ্নভোজেরও ব্যবস্থা আছে। গুরুদুয়ারায় আয়োজিত বার্ষিক অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে গুরু নানকের জন্মবার্ষিকী এবং পয়লা বৈশাখ। এ দুটি পর্ব এখানে অত্যন্ত ধুমধামের সঙ্গে পালন করা হয়।

পরিশেষঃ
গুরুদুয়ারায় কারও প্রবেশে বাধা নেই, জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে সব বয়সী নারী ও পুরুষ এখানে প্রবেশ, প্রার্থনায় অংশগ্রহণ এবং প্রসাদ পেতে পারেন। ঢাকায় বসবাসরত শিখ সম্প্রদায়ের লোকজন নিয়মিত এই গুরুদুয়ারায় আসেন। এছাড়া অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকজনকেও শুক্রবার এই উপাসনালয়ে আসতে দেখা যায়। স্থানীয় ভক্ত ও বিদেশি দাতাদের সাহায্যে প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় নির্বাহ হয়।

অদ্ভুতুড়ে 9:27 AM


Hoseni Dalan, Online Dhaka Guideশিয়া আঞ্জুমানে হোসাইনী তথা শিয়া সম্প্রদায়ের কতিপয় মুসলমানগণ ৪৫০ বছর পূর্ব হযরত মুহাম্মদ (স:) এর ২য় প্রোপৌত্র ইমাম হোসেনের রওজা শরীফ অনুকরণে শিয়া সম্প্রদায়ের আত্মশুদ্ধি ও অনুতপ্ত প্রকাশ তথা কারবালায় ঘটে যাওয়া পৃথিবীর সবচাইতে নিকৃষ্ট হত্যাকান্ডের ষড়যন্ত্রকারী, প্ররোচনাকারী ও হত্যাকারী জাতি হিসেবে শিয়া সম্প্রদায় ইমামবাড়া হোসেনী দালান ও তৎসম্পর্কিত উপকরণে এই দালানটি নির্মাণ করেন। শিয়া আঞ্জুমানে হোসাইনী তথা শিয়া সম্প্রদায় ১৮৯১ ইং সালে মীর ইয়াকুব ইমামবাড়া স্থাপন করেন। পরবর্তীতে শিয়া সম্প্রদায়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ২০০৪ ইং সালে ইয়াকুব ইমামবাড়া পুন:সংস্কার করা হয়। এছাড়া গাছপালা বেষ্টিত মনোরম পরিবেশ এবং সেখানকার নিস্তব্ধ নিরবতা মনে প্রশান্তি এনে দেয়। ইমামাবাড়া হোসেনী দালান পুরনো ঢাকার নিমতলী ও চানখাঁরপুল এলাকার হোসেনী দালান রোডে অবস্থিত। ঠিকানা : ৩০/১ হোসেনী দালান রোড, লালবাগ,ঢাকা।

পরিদর্শনের সময়সূচী
প্রতিদিন সকাল ৭.০০ টা থেকে রাত ১০.০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

টিকেট কাউন্টার
ইমামবাড়া হোসাইনী দালানে কোন টিকেট কাউন্টার নেই। সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।

দর্শনীয় স্থাপনা
এখানে একমাত্র দর্শনীয় জিনিস হিসেবে ইমামবাড়া বা হোসেনী দালানের কথাই প্রথমে বলতে হয়। ইমাম হোসাইন (রা:) এর রওজা মোবারক অনুকরণে নির্মিত এই ইমামবাড়া। সকল মুসলমান শিয়া, সুন্নী তথা নর-নারী, আবাল বৃদ্ধ সব বয়সের লোক এখানে আসেন ইমাম হোসাইন (রা:) এর রওজা মোবারক দেখতে। সকলেই ব্যক্তিগত ভাবে নানা রকম মানত, মাজার নিয়াজ ও আত্মতৃপ্তির জন্য এখানে আসেন। মহিলা ও পুরুষদের আলাদা ব্যবস্থা থাকায় এখানে মহিলাদের আনাগোনা চোখে পড়ার মত। সবাই তাদের মানতের টাকা চেরাগী বাক্সে দেয়। এছাড়া ইমামবাড়ায় তিনজন খাদেম আছেন। যারা এ সকল বিষয়ে আগত দর্শনার্থীদের সাহায্য করে থাকেন।

ইমামবাড়া পুকুর
এখানে দর্শনীয় আরেকটি জিনিস হল ইমামবাড়া পুকুর। যা দেখতে খুবই দর্শনীয়। চারদিকে ওয়াল ও ঘাট বাঁধাই করা এবং পুকুরের নানা মাছ দর্শনার্থী তথা আগতদের নজড় কারে।

ইমামবাড়া কবরস্থান
শিয়া সম্প্রদায়ের নির্দিষ্ট কিছু কবরস্থানের মধ্যে ইমামবাড়া হোসেনী দালান কবরস্থান অন্যতম। দর্শনীয় স্থান না হলেও সবাই এখানে আসেন, কবর জিয়ারত করেন। বর্তমানেও এখানে নতুনভাবে কবর দেয়া হয়। অবশ্য সেটা ইমামবাড়া শিয়া আঞ্জুমানে হোসাইনীদের জন্য।

গাম্বে শাইদা ও নাজার নিয়াজHoseny Dalan, Online Dhaka Guide
ইমামবাড়া হোসেনী দালানে মূল ফটকের পার্শ্বে যে মূল ভবনটি সেটি গাম্বে শাইদা। মহররমের ৭, ৮, ৯ ও ১০ই তারিখে এই গাম্বে শাইদা খোলা হয় এখানে। মূল মিছিল ও শিয়াদের গাওরা ও নিশান সহ আরও প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো রক্ষিত আছে।
এছাড়া মূল ভবন/দালানের নিচের স্থানটি নাজার নিয়াজ ও নানারকম মানত উপলক্ষ্যে মোমবাতি, আগরবাতি জ্বালিয়ে এবং নানা রকম নিয়াত বাধা হয়।

মাতম ঘর
ইমামবাড়া মূল ভবনটির দ্বিতীয় তলায় মাতম ঘর আছে যেখানে মহররমের সময় মাতম করা হয়।

নামাজের স্থান
মহিলাদের জন্য আলাদাভাবে হোসেনী দালানে নামাজ ও কোরআন পড়ার ব্যবস্থা আছে।

অযুখানা এবং টয়লেট
ইমামবাড়ায় মহিলা ও পুরুষদের জন্য আলাদাভাবে অযুখানা ও টয়লেট উপরে এবং নিচে ব্যবস্থা আছে।

জুতা রাখার ব্যবস্থা
বিশেষ করে মহররমের সময় হোসেনী দালানের সামনের প্রবেশ পথে জুতা রাখার ব্যবস্থা করা হয়। ব্যক্তিগত ভাবে স্থানীয় অধিবাসী তথা হোসেনী দালান ম্যানেজমেন্ট কমিটির লোক এ সময় এই ভ্রাম্যমান ব্যবস্থা করে থাকেন। প্রতি জোড়া জুতা ৫.০০ টাকা। এর জন্য অবশ্য নাম্বার টোকেন নিতে হয়। এছাড়া বাকি সময় জুতা নিজ নিজ দায়িত্বে দালানের ভেতরে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা যায়।

তত্ত্বাবধানকারী কর্তৃপক্ষ
ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এবং হোসেনী দালান পঞ্চায়েত কমিটি ইমামবাড়া ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং শিয়া আঞ্জুমানে হোসাইনী এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে আছেন।

অগ্নি নির্বাপন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ইমামবাড়া অগ্নি নির্বাপণের জন্য Fire Exit ও Fire Extinguisher লাগানো আছে। এছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা আশানুরূপ ভালো। এছাড়া ধোয়মোছা, ঝাড়ু ও অন্যান্য কাজের জন্য এখানে সরকারি ভাবে লোক আছে। এছাড়াও তিনজন অস্ত্রধারী কনষ্টেবল নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত থাকেন।

বই বিক্রয় কেন্দ্র
এখানে দুটো বই বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। কুরআন ভিত্তিক গবেষণা ও প্রচার কেন্দ্র। দারুল কুরআন ফাউন্ডেশন হোসাইনী দালান ইমামবাড়া ঢাকা। দারুল কুরআন ইসলামী শিক্ষা প্রদর্শনী কেন্দ্র ও দারুস সাকালাইন সেলস সেন্টার বই বিক্রয় কেন্দ্র।

মাদ্রাসা ও ফুড কর্ণার
এখানে মাদ্রাসা-ই-আব্বাসিয়া নামে একটি মাদ্রাসা রয়েছে। ভেতরে কোন ফুড কর্ণার নেই। বাইরে ভ্রাম্যমান দোকান ও স্থানীয় খাবার হোটেল আছে। ইমামবাড়ার বিপরীত পাশে একটি মসজিদ আছে।

অদ্ভুতুড়ে 9:26 AM


পুরনো ঢাকার আর্মেনীটোলায় যে আর্মেনীয় গীর্জাটি রয়েছে তা-ই ‘আর্মেনিয়ান চার্চ’ (Armanian Church)  হিসেবে পরিচিত। এটি নির্মিত হয় ১৭৮১ সালে। ঐতিহ্যবাহী এই গীর্জার সাথে জড়িয়ে আছে ঢাকায় আর্মেনীয়দের ইতিহাস। আর্মেনীটোলা বা আর্মানিটোলা নামটিও এসেছে আর্মেনীদের কারণে। ধারণা করা হয় এই গীর্জা নির্মাণের আগে তাদের ছোট একটি উপাসনাগার ছিলো। এখন যে জায়গায় গীর্জাটি দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে এক সময় ছিলো আর্মেনীদের গোরস্থান। গীর্জা নির্মাণের জন্য গোরস্থানের আশেপাশে যে বিস্তৃত জমি তা দান করেছিলেন আগা মিনাস ক্যাটচিক নামের এক আর্মেনীয়। আর লোকশ্রুতি অনুযায়ী গীর্জাটি নির্মাণে সাহায্য করেছিলেন চারজন আর্মেনীয়। এরা হলেন মাইকেল সার্কিস, অকোটাভাটা সেতুর সিভর্গ, আগা এমনিয়াস এবং মার্কার পোগজ।


গীর্জার বিবরণঃ
গীর্জাটি লম্বায় সাড়ে সাতশো ফুট, দরজা চারটি, জানালা সাতটি। এর পাশেই ছিলো একটি ঘড়িঘর। এটি নির্মাণ করে দিয়েছিলেন জোহানস কারু পিয়েত সার্কিস। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে ঘড়িঘরটি ভেঙে গিয়েছিলো বলে জানা যায়। গীর্জায় বৃহৎ আকারের একটি ঘণ্টা ছিলো। এই ঘণ্টা বাজার শব্দ নগরের প্রায় সব স্থান থেকে শুনা যেত বলে সাক্ষ্য পাওয়া যায়। এই ঘণ্টার শব্দ শুনেই নাকি অধিকাংশ ঢাকাবাসী নিজ নিজ সময়ঘড়ি ঠিক করে নিতেন। ১৮৮০ সালের দিকে আর্মেনী গীর্জার এই বিখ্যাত ঘণ্টাটি স্তব্ধ হয়ে যায়, যা আর কখনো বাজেনি।


আর্মানীদের বিবরণঃ
বর্তমানে ঢাকায় আঠারোটি আর্মেনী বংশদ্ভূত পরিবার রয়েছে বলে শোনা যায়। তবে কোন কালেই ঢাকায় আর্মেনীদের সংখ্যা খুব একটা বেশি ছিলো না। আর্মেনীরা কবে ঢাকায় এসেছিলেন তা জানা না গেলেও ধারণা করা হয় মুঘল আমলে ভাগ্য বদলাতে দেশ-বিদেশ থেকে যখন অনেকেই এসেছিলেন ঢাকায়, সম্ভাব্য সপ্তদশ শতকে আর্মেনীরাও তখন দু’-একজন করে ঢাকায় এসে বসবাস শুরু করেন এ অঞ্চলে। সেই থেকে এই অঞ্চল আর্মেনীটোলা নামে পরিচিত। অষ্টাদশ ও উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অতিক্ষুদ্র একটি সম্প্রদায় হওয়া সত্ত্বেও ঢাকা শহরে আর্মেনীরা ছিলো যথেষ্ট প্রভাবশালী। এর কারণ, তাদের ছিলো বিত্ত। অষ্টাদশ শতকে লবণ ব্যবসা ছিলো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একচেটিয়া। লবণ উৎপাদন ও বিতরণের জন্য কোম্পানি নিয়োগ করতো ঠিকাদার। পূর্ববঙ্গে লবণের ঠিকাদারদের অধিকাংশই ছিলেন আর্মেনী। ঠিকাদারি ছাড়াও পান, পাট ও কাপড়ের ব্যবসায় ছিলো তাদের কর্তৃত্ব। জমিদারীও ছিলো অনেকের।

উনিশ শতকের ঢাকায় পরিচিত ও প্রভাবশালী পরিবার হিসেবে যে কয়েকটি আর্মেনী পরিবারের নাম পাওয়া যায় সেগুলো হলো- পোগস, আরাতুন, পানিয়াটি, স্টিফান, লুকাস, কোজা মাইকেল, মানুক, হার্নি, সিরকোর এবং সার্কিস। এদের বিত্তের ভিত্তি ছিলো জমিদারি ও ব্যবসা। বিদেশি হয়েও জমিদারি কেনার কারণ হতে পারে- আভিজাত্য অর্জন এবং সমাজের শীর্ষে থাকা। এসব ধনী আর্মেনীয়নরা ঢাকায় নিজেদের থাকার জন্য তৈরি করেছিলেন প্রাসাদতুল্য সব বাড়ি। যেমন ফরাসগঞ্জের বর্তমান রূপলাল হাউস ছিলো আরাতুনের। মানুক থাকতেন সদরঘাটে। বর্তমানে ‘বাফা’ যে বাড়িতে, সেটি ছিলো নিকি পোগজের। পরে আর্মেনীটোলায় নির্মিত হয়েছিলো ‘নিকি সাহেবের কুঠি’। আনন্দরায় স্ট্রিটে ছিলো স্টিফানের বাড়ি। যেখানে তাজমহল সিনেমা রয়েছে সেখানে ছিলো পানিয়াটির অট্টালিকা। উনিশ শতকের মাঝামাঝি অনেক আর্মেনী ঝুঁকে পড়েন ব্যবসার দিকে। চা, মদ, ইউরোপীয় জিনিসপত্র, ব্যাংক ইত্যাদি। ১৮৫৬ সালে সিরকোরই ঢাকায় প্রথম ঘোড়ার গাড়ি চালু করেন, যা পরিচিত ছিলো ‘ঠিকা গাড়ি’ নামে। কিছুদিনের মধ্যেই এই ব্যবসা বেশ জমে উঠে এবং কালক্রমে তাই হয়ে দাঁড়িয়েছিলো ঢাকার প্রধান যানবাহন। উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে আর্মেনীদের অনেকের জমিদারি হাতছাড়া হতে থাকে। এমনিতে আর্মেনীরা খুব রক্ষণশীল, কিন্তু ঐ সময় চলছিলো একটি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া। এরা তখন পাশ্চাত্য সংস্কৃতির দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং অনেকে জমিদারি বিক্রি করে ব্যবসার জন্য কলকাতায় চলে যান। ফলে উনিশ শতকের শেষার্ধে ষাট-সত্তরের দশক থেকে সম্প্রদায়গতভাবে আর্মেনীদের প্রভাব প্রতিপত্তি হ্রাস পেতে থাকে। তখন ঢাকা শহরের বিভিন্ন কাজকর্মে, সভাসমিতিতে আর্মেনীরা নিজেদের যুক্ত করে নেন। নিকি পোগজ প্রতিষ্ঠা করেন পোগজ স্কুল। আরাতুন ছিলেন ঢাকা নর্মাল স্কুলের অধ্যক্ষ। ঢাকার প্রথম মিউনিসিপ্যাল কমিটিতে ছিলেন সার্কিস। ১৮৭৪-৭৫ সালে ঢাকা পৌরসভার নয়জন কমিশনারের মধ্যে দুইজন ছিলেন আর্মেনী- জে.জি. এন পোগজ এবং এন.পি. পোগজ।

গীর্জা প্রাঙ্গণঃ
আর্মেনীটোলায় থিতু হয়ে বসার পর আর্মেনীরা এখানে তাঁদের এই গীর্জা নির্মাণ করেন। মৃত্যুর পর ঢাকার আর্মেনীদের কবর দেয়া হয় আর্মেনী গীর্জার চতুর্দিকের প্রাঙ্গণের পরিসর ছোট হওয়ার কারণেই হয়তো গীর্জাটির গোটা প্রাঙ্গণ এমনকি বারান্দার মেঝেতেও প্রচুর সমাধিফলক চোখে পড়ে। অধিকাংশ এপিটাফ বা স্মৃতিফলকে উদ্ধৃত রয়েছে ধর্মগ্রন্থের বাণী।  এছাড়া জনৈক ক্যাটচিক আভেটিক থমাসের সমাধির ওপর তাঁর স্ত্রী কলকাতা থেকে কিনে এনে বসিয়েছিলেন সুন্দর এক মূর্তি, যা এখনো টিকে আছে। এপিটাফে তিনি তার স্বামীকে উল্লেখ করেছিলেন ‘বেস্ট অব হাজব্যান্ডস’ বলে।

পরিশেষঃ
পুরনো ঢাকার আর্মানীটোলার, ‘আর্মেনিয়ান চার্চে’ -এর মতো শান্ত, নিরিবিলি জায়গা ঢাকা শহরে খুব কমই আছে। দুইশতেরও বেশি সময়ের পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী গীর্জাটির রক্ষণাবেক্ষণ এখনো অবশিষ্ট আর্মেনী পরিবাররাই করে থাকে।

অদ্ভুতুড়ে 9:16 AM


লালবাগ কেল্লা, মোঘল আমলের বাংলাদেশের একমাত্র ঐতিহাসিক নিদর্শন যাতে একই সাথে ব্যবহার করা হয়েছে কষ্টি পাথর, মার্বেল পাথর আর নানান রঙবেরঙের টালি। লালবাগ কেল্লা ছাড়া আর বাংলাদেশের আর কোন ঐতিহাসিক নিদর্শনে এমন কিছুর সংমিশ্রণ পাওয়া যায়নি আজ পর্যন্ত। প্রায় প্রতিদিন হাজারো দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীর পদচারণয় মুখরিত হয় ঢাকার লালবাগ এলাকার এই দুর্গটি।

লালবাগ কেল্লার নামকরণঃ
স্বাভাবিকভাবে যেকেউ যদি এর নামকরণের কারণ চিন্তা করে তাহলে স্বাভাবিকভাবে তার মাথায় আসবে যে লালবাগে থাকার কারণেই এর নাম লালবাগ কেল্লা রাখা হয়েছে। ধারণাটি মোটেও ভুল নয়, আসলেই এর নামকরণ করা হয়েছে এলাকার উপর ভিত্তি করে। তবে প্রথমে এর নাম ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন, যাতে এলাকার কোন প্রভাব ছিলনা। একদম শুরুর দিকে এই কেল্লার নাম ছিল “কেল্লা আওরঙ্গবাদ”।

লালবাগ কেল্লার ইতিহাসঃ
লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৬৭৮ সালে। তৎকালীন মুঘল সম্রাট আজম শাহ এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। যদিও আজম শাহ খুব কম সময়ের জন্যেই মুঘল সম্রাট হিসেবে ছিলেন। তবুও তার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি তার এই অসাধারণ কাজটি শুরু করেন। উল্লেখ্য আজম শাহ ছিলেন মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব এর পুত্র আর সম্রাট শাহ জাহানের নাতি, যিনি তাজমহল তৈরির জন্যে বিশ্ব মহলে ব্যাপক সমাদৃত।
এই দুর্গ নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার প্রায় এক বছরের মাথায় তার বাবার ডাকে তাকে দিল্লিতে চলে যেতে হয় সেখানকার মারাঠা বিদ্রোহ দমন করবার জন্যে। সম্রাট আজম শাহ চলে যাওয়ার পর দুর্গ নির্মাণের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তখন এই দুর্গ নির্মাণের কাজ আদৌ সম্পূর্ণ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। কিন্তু সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৎকালীন নবাব শায়েস্তা খাঁ পুনরায় লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু করে দেন কাজ থেমে যাওয়ার প্রায় এক বছর পরে। পুরো উদ্যমে আবার কাজ চলতে থাকে দুর্গ নির্মাণের।
তবে শায়েস্তা খাঁ পুনরায় কাজ শুরু করার প্রায় চার বছরের মাথায় দুর্গের নির্মাণ কাজ আবার বন্ধ হয়ে যায়, এরপর দুর্গটি নির্মাণের কাজ আর শুরু করা হয়নি। নবাব শায়েস্তা খাঁ এর মেয়ে পরী বিবি মারা যাওয়ার কারণেই মূলত শায়েস্তা খাঁ লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। পরী বিবির মৃত্যুর পরে সবার মধ্যে দুর্গটি সম্পর্কে বিদ্রূপ ধারণা জন্ম নেয়, সবাই দুর্গটিকে অপয়া ভাবতে শুরু করে দেয়।
পরী বিবির মৃত্যুর পর তাকে লালবাগ দুর্গের মাঝেই সমাহিত করা হয়, আর এরপর থেকে একে পরী বিবির সমাধি নামে আখ্যায়িত করা হয়। পরী বিবির সমাধির যে গম্বুজটি আছে তা একসময় স্বর্ণখোচিত ছিল, কিন্তু এখন আর তেমনটি নেই, তামার পাত দিয়ে পুরো গম্বুজটিকে মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

পরীবিবির সমাধিঃ
এই ভবনটি মুঘল সুবেদার শায়েস্তা খানের প্রিয় কন্যা পরীবিবির সমাধি নামে পরিচিত। বাংলাদেশে এই একটি মাত্র ইমারতে মার্বেল পাথর, কষ্টি পাথর ও বিভিন্ন রং এর ফুল-পাতা সুশোভিত চাকচিক্যময় টালির সাহায্যে অভ্যন্তরীণ নয়টি কক্ষ অলংকৃত করা হয়েছে। কক্ষগুলির ছাদ কষ্টি পাথরে তৈরি। মূল সমাধি সৌধের কেন্দ্রীয় কক্ষের উপরের কৃত্রিম গম্বুজটি তামার পাত দিয়ে আচ্ছাদিত। ২০.২ মিটার বর্গাকৃতির এই সমাধিটি ১৬৮৮ খ্রিস্টাব্দের পুর্বে নির্মিত। তবে এখানে পরীবিবির মরদেহ বর্তমানে নেই বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

দেখার মত যা যা রয়েছেঃ
লালবাগ কেল্লার তিনটি বিশাল দরজার মধ্যে যে দরজাটি বর্তমানে জনসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত করে দেয়া সেই দরজা দিয়ে ঢুকলে বরাবর সোজা চোখে পড়ে পরী বিবির সমাধি। সচরাচর টেলিভিশনে, খবরের কাগজে, ম্যাগাজিনে লালবাগ কেল্লার যে ছবিটি দেখা যায় সেটা মূলতঃ পরী বিবির সমাধির ছবি।
কেল্লার চত্বরে তিনটি স্থাপনা রয়েছে-
১। কেন্দ্রস্থলের দরবার হল ও হাম্মাম খানা
২। পরীবিবির সমাধি
৩। উত্তর পশ্চিমাংশের শাহী মসজিদ
কেল্লাতে একটি মসজিদ আছে, আজম শাহ দিল্লি চলে যাওয়ার আগেই তিনি এই মসজিদটি তৈরি করে গিয়েছিলেন। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি যে কারো দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম। মসজিদটিতে জামায়াতে নামায আদায় করা হয়। ঢাকায় এতো পুরনো মসজিদ খুব কমই আছে।
লালবাগ কেল্লাতে এখানে ওখানে বেশ কয়েকটি ফোয়ারার দেখা মিলবে, যা শুধুমাত্র কোনো বিশেষ দিনে চালু থাকে (যেমনঃ ঈদ)। কেল্লাতে সুরঙ্গ পথ ও আছে, লোক মুখে শোনা যায় যে আগে নাকি সুরঙ্গ পথগুলোতে যাওয়া যেতো, তবে এখন আর যাওয়া যায়না। উল্লেখ্য সুরঙ্গ পথ এ যাওয়ার কথাটি নিতান্তই শোনা কথা, এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
লালবাগ কেল্লায় সর্বসাধারণের দেখার জন্যে একটি জাদুঘর রয়েছে, যা পূর্বে নবাব শায়েস্তা খাঁ এর বাসভবন ছিল আর এখান থেকেই তিনি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন। জাদুঘরটিতে দেখার মতো অনেক কিছুই রয়েছে। মুঘল আমলের বিভিন্ন হাতে আঁকা ছবির দেখা মিলবে সেখানে, যেগুলো দেখলে যে কেউ মুগ্ধ না হয়ে পারবে না। শায়েস্তা খাঁ এর ব্যবহার্য নানান জিনিসপত্র সেখানে সযত্নে রয়েছে। তাছাড়া তৎকালীন সময়ের বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র, পোশাক, সেসময়কার প্রচলিত মুদ্রা ইত্যাদিও রয়েছে।

টিকেট প্রাপ্তিস্থানঃ
লালবাগ কেল্লার দরজার ঠিক ডান পাশেই রয়েছে টিকেট কাউন্টার, জনপ্রতি টিকেট এর দাম দশ টাকা করে, তবে পাঁচ বছরের কম কোন বাচ্চার জন্যে টিকেট এর দরকার পড়েনা। যেকোনো বিদেশি দর্শনার্থীর জন্যে টিকেট মূল্য একশত টাকা করে।

বন্ধ-খোলার সময়সূচীঃ
গ্রীষ্মকালে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কেল্লা খোলা থাকে। মাঝখানে দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত আধ ঘণ্টার জন্যে বন্ধ থাকে। আর শীতকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শীতকালেও দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত বন্ধ থাকে। আর সবসময়ের জন্যেই শুক্রবারে জুম্মার নামাযের জন্যে সাড়ে বারোটা থেকে তিনটা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। রবিবার সহ সকল সরকারি ছুটির দিন লালবাগ কেল্লা বন্ধ থাকে।

অদ্ভুতুড়ে 12:27 PM

জন্মের পর বিক্রি হওয়া খুলনার মেয়ে জামিলা আজ আমেরিকা প্রবাসী এস্থার জামিনা জডিং। ৩৭ বছর পর সে মাকে খুঁজে পেয়েছেন। আর মাকে দেখার জন্য ছুটে এসেছেন খুলনায়। ৩ দিন মায়ের সঙ্গে কাটিয়ে মঙ্গলবার বিদায় নিয়েছেন তিনি। বিদায় বেলায় অশ্র“সিক্ত নয়নে মা নূরজাহানকে বলে যান, ‘নো মোর ফিশিং।
/
ভিডিওটি দেখুনঃ

অদ্ভুতুড়ে 11:25 PM
প্যারিসের সিন নদীর উপরের ‘পুঁ দে আ’ ব্রিজের দুই পাশের রেলিংয়ে হাজার হাজার তালা ঝুলিয়ে প্রেমিক-প্রেমিকা আর নবদম্পতিরা চাবিটি নদীতে ছুড়ে সে গল্প হয়তো আমাদের অনেকেরই জানা। সুদূর প্যারিসের সিন নদীর উপরে অবস্থিত ওই ‘লাভ লক’ ব্রিজের অনুকরণে এবার রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে হাতিরঝিলে একটি ব্রিজে দেখা গিয়েছে !

ভিডিওটি দেখুনঃ

অদ্ভুতুড়ে 10:23 AM

পুরানো বাস দিয়ে গৃহহীনদের আশ্রয়স্থল
হাওয়াই এর একটি আর্কিটেকচার ফার্মের লোকেরা পুরানো বাস দিয়ে গৃহহীনদের আশ্রয় তৈরি করার পরিকল্পনা করছে। হনলুলু ভিত্তিক একটি দৃঢ় আন্তর্জাতিক গ্রুপ ৭০ জুন ইয়াংকে সঙ্গে নিয়ে হাউজিং শহর নির্বাহী পরিচালকের নিকট একটি প্রস্তাবনা করেন। তাদের প্রস্তাবনায় ছিল ৫টি পুরাতন বাস নিয়ে গৃহহীনদের জন্য একটি বাসস্থান তৈরি করা।
গ্রুপ 70 থেকে মেরি কিম হাওয়াই নিউজকে বলেন, “পরিকল্পনা হল, বাসগুলোকে বিনোদনমূলক সুবিধাদি, ঘুমের স্থান, গোসলের স্থান ইত্যাদি দিয়ে রুপান্তর করা”।
প্রকল্পের জন্য সরবরাহ স্থানীয় সংস্থা দ্বারা দান করা হবে এবং কাজ করার জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যবহার করা হবে। কিম ব্যাখ্যা করেন যে, সম্পূর্ণ ডিজাইন এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, আপনি হেঁটে হার্ডওয়্যার স্টোরে যেয়ে আপনার প্রয়োজনীয় সকল বস্তু ক্রয় করে কোন স্কেল না থাকা সত্ত্বেও তৈরি করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেছেন, “বাসগুলোর দ্রুত কাজ করার পরিকল্পনা করা হবে – প্রতিটি বাস তৈরির জন্য একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকবে। আমরা বাথরুম, শাওয়ার এবং ঘুমের স্থান তৈরি করছি এবং এই নকশা দেখতে প্রায় জাপানি Tatami মাদুর মত”।
জনসাধারণের কাছ থেকে এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তারা অত্যন্ত উত্সাহী বলে জানা যায়। কিম বলেছেন , “এটা সম্পূর্ণ জৈব। আমরা যখন এটি শুরু করি তখন শুধু একটির ব্যাপারে চিন্তা করছিলাম যে আসলেই কি এর প্রয়োজন আছে এবং কিভাবে এর দ্বারা মানুষ উপকৃত হবে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল, আমাদের কয়জন সাহায্য করবে”।
এই গ্রীষ্মের মাঝে দুইটি বাস ও এই বছরের মধ্যে ৫টি বাস সম্পন্ন করার চিন্তা করা হয়েছে।–সূত্র: মেট্রো।

অদ্ভুতুড়ে 10:30 PM

সিটি কলেজের পাশ দিয়ে রাইফেলস স্কয়ার হয়ে সাত মসজিদ রোডে ধানমন্ডি লেকের পাশ ঘেষে খয়েরী রংয়ের ব্যতিক্রম ধরনের একটি ভবন চোখে পড়বে। আমাদের দেশের অন্যসব ভবনের গঠনের চেয়ে এই বাড়িটির গঠন একেবারেই আলাদা। চলতি পথে কারো চোখ এই বাড়িটির দিকে পড়া মাত্রই তার চোখ থমকে দাঁড়ায়। অনেকটা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আদলে তৈরি করা বাড়িটিকে দেখে অনেকেই ভাবেন এটি কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। স্বয়ং যারা নিয়মিত এই স্থানে যাওয়া আসা করেন তারাও মনে করেন এটি একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। আসলে এটি কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়। এটি একটি বাসভবন।
 
 
কৌতুহলের কারণ:
ধানমন্ডি লেক ঘেষে গড়ে ওঠা এই বাড়িটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কৌতুহলের কোনো শেষ নেই। কারো মতে এটি একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কারো মতে এটি কোনো বিদেশী সংস্থার অফিস, কেউ মনে করে এটি একটি ভৌতিক বাড়ি। এরকম হওয়াটাই স্বাভাবিক। এটি এমন একটি বাড়ি যে বাড়ির সদস্যদের খুব একটা বাইরে দেখা যায় না। কোলাহল তো দূরের কথা, সামান্য টু শব্দটিও শোনা যায় না। বাড়ির প্রধান দরজাও সবসময় বন্ধ থাকে। বাইরের কেউ ভিতরে প্রবেশ করারও অনুমতি নেই। তাই বাইরের মানুষ আপন মনে বাড়িটি সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের ধারণা পোষণ করে আসছে।
 
নামকরণ:
সবার কাছে এই বাড়িটি ‘জাহাজ বাড়ি’ নামে পরিচিত। প্রকৃতপক্ষে বাড়িটির নাম ‘জাহাজ বাড়ি’ নয়। জাহাজের আদলে তৈরি হওয়ায় মানুষ এটিকে ‘জাহাজ বাড়ি’ নাম দিয়েছে। বাড়িটির হোল্ডিং নাম্বার ৫/এ, ৬০, ধানমন্ডি, ঢাকা। বাড়ির গেটের নেমপ্লেটে বাড়িটির নাম লেখা রয়েছে “Chistia Palace”। উচ্চারণগত কারণে অনেকে এটিকে ‘খ্রিস্টিয়া প্যালেস’ বলেন। আসলে এর উচ্চারণ হবে ‘চিশতিয়া প্যালেস’।
 
নির্মাণকাল:
খুব বেশিদিন আগে এই বাড়িটি নির্মাণ করা হয় নি। ১৯৯৩ সালের কোনো এক সময় এই বাড়িটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। তার এক বছর পর ১৯৯৪ সালে বাড়িটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। তবে প্রথম দিকে বাড়িটির ডিজাইন জাহাজ আকৃতির ছিল না। নির্মাণের পর ঢাকা সিটি কর্পোরেশন বাড়িটির কিছু অংশ ভেঙে এর পাশ দিয়ে চলাচলের রাস্তা তৈরি করে। তখন বাড়ির মালিক বাড়িটির সীমানা প্রাচীর বর্তমান জাহাজ আদলে তৈরি করেন।   
 
মালিকানা:
বাড়ির মালিকের নাম ‘শের এ খাজা’। স্থানীয়দের মতে তিনি একজন আধ্যাত্মিক ক্ষমতাবান মানুষ। সারা বিশ্বের বড় বড় সব নেতাদের সাথে তার সখ্য রয়েছে। আর এই সখ্যতার মূলে রয়েছে তার ভবিষ্যৎবাণীর ফলপ্রসূতা। তিনি যা ভবিষ্যৎবাণী করতেন ঠিক তেমনটিই হতো বলে জানা যায়। এজন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রথম সারির নেতাদের সাথে তার ওঠাবসা ছিল। এমনকি বিশ্বের অনেক বাঘা বাঘা নেতার পদচারণ ঘটেছে এই জাহাজ বাড়িতে। তার ভবিষ্যৎ বাণী অনুসারে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ব্যক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য শেরে খাজাকে বলা হতো ‘কিং অব কিং মেকার’। তবে তিনি ‘শের এ খাজা’ নামে পরিচিত হলেও তার আসল নাম একেএম আনোয়ারুল হক চৌধুরী। তার জন্মস্থান ও জন্ম তারিখ সম্পর্কে সঠিক কোনো ধারণা নেই। যতদূর জানা যায় ১৯৫২ সালের কোনো একসময় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বর্তমানে চিশতিয়া প্যালেসে বসবাস করছেন শেরে খাজার মা, বোন ও তার পরিবার এবং শেরে খাজার স্ত্রী রেহানা চৌধুরী। তার ছেলে রুবেল চৌধুরী
 
শের এ খাজার ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার:
বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পড়ালেখা করেন। আধ্যাত্মিক ক্ষমতার অধিকারী হলেও তিনি এটিকে পুঁজি করে কোনো ব্যবসা করেন নি। তার এই আধ্যাত্মিক ক্ষমতার সেবা শুধুমাত্র বিশ্বের প্রথম সারির নেতারাই পেতেন। এসবের বাইরে তিনি গার্মেন্টস ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। চিশতিয়া গ্রুপ অব ইন্ড্রাস্ট্রিজ নামে তার একটি কোম্পানি রয়েছে। তিনি নিজেই এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। তার স্ত্রীর নাম রেহানা চৌধুরী। তাদের একমাত্র পুত্র রুবেল চৌধুরী ও একমাত্র কন্যা সাদিয়া চৌধুরী। তার ছেলে রুবেল চৌধুরী বিয়ে করেন নেপালের সাবেক উপ প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুজাদা কৈরালার মেয়েকে। তার স্ত্রী সম্পর্কে নেপালের প্রধানমন্ত্রী গিরিজা প্রসাদ কৈরালার নাতনী।
 
মৃত্যু:
২০১১ সালের ১৫ নভেম্বর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে এই ‘আধ্যাত্মিক’ পুরুষ ইন্তেকাল করেন। তখন তার বয়স ছিলো ৫৯ বছর।
 
দিল্লী শাহী মসজিদের ইমাম হযরত ইমাম বুখারীর সাথে শের এ খাজা (বাম পাশে) এবং ইরানী রাষ্ট্রদূত মি. ফাইয়াজ এর সাথে শের এ খাজা (ডান পাশে)
Powered by Blogger.