Showing posts with label প্রবাস. Show all posts

অদ্ভুতুড়ে 11:16 AM

চীনের এই মন্দিরটি পাহাড়ের গ ঘেষে ঝুলন্ত অবস্থায় তৈরি করা হয়েছে। ভিডিও তে দেখুন কতটা নিখুত ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে এটি।

অদ্ভুতুড়ে 8:02 PM
পৃথিবীতে কত আজব রীতিনীতি চালু রয়েছে। অনেক কিছুই আমাদের অজানা। বিয়ে করার রীতি সব দেশেই চালু আছে। তবে এক এক দেশে এক এক রকম। তবে কখনও কি শুনেছেন বিয়ের জন্য বাজার রয়েছে। মানে বাজারে বউ কেনা বেচা হয়! অবাক হলেও বুলগেরিয়ায় এ রীতি চালু রয়েছে। মানে সেখানে বাজারে বউ কিনতে পাওয়া যায়। বিয়ে করতে চাইলে বাজারে গিয়ে ইচ্ছেমত দরদাম করে বউ কিনে নিয়ে আসতে পারেন। বাজারে গেলে দেখতে পাবেন, সেজেগুজে দাঁড়িয়ে রয়েছেন সুন্দরীরা। কেউ আবার রূপচর্চা করছেন। কেউ আবার পোশাক-আশাকের সঙ্গে স্বর্ণালংকারগুলো আরেক বার ঠিক করে নিচ্ছেন। সবাই অপেক্ষা করছে বরের জন্য। বউ বাজারে তাদের নিয়ে এসেছেন তাদের মা-বাবারা। নির্দিষ্ট দিনগুলোতে সুন্দরী বউয়ের খোঁজে পাত্রসহ পাত্রপক্ষও হাজির হন এই হাটে।
ইউরোপের সমৃদ্ধিশালী দেশ বুলগেরিয়ায় এমন রীতি চালু রয়েছে। রোমা সম্প্রদায়ের (স্থানীয় ভাষায় কালাইদেঝি) গরিব মা-বাবারা তাদের মেয়েদের হাটে তোলেন। এ জন্য মেয়ের বিয়ের সব খরচ বাবা-মাকে দিয়ে থাকে ওই সম্প্রদায়ের একটি ইউনিয়ন। যুবকরা কনে পছন্দ করতে আসেন ওই হাটে। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত থাকেন সেখানে। উপস্থিত মেয়েদের মধ্য থেকে কনে পছন্দ করেন ছেলেরা। পরে পরিবারের পছন্দ ও সম্মতির পরই তাদের বিয়ে হয়। এক বছরে চারবার ‘কনে হাট’ বসানো হয়। কনজারভেটিভ সম্প্রদায়ের যুবক-যুবতীরা এই সুযোগে একে অন্যকে ধরে নাচেন, গান গায় ও নানা ফুর্তিতে মেতে ওঠেন। ছবিতে পোজ, এমনকি হালকা পানীয়ও পান করেন তারা।



অদ্ভুতুড়ে 10:19 AM


আমাদের উপমহাদেশে এক সময় নাকি ঘোড়ায় চড়ে এসে ভিক্ষা করার প্রচলন ছিল। এখন তো আর ঘোড়ার প্রচলন নেই আছে গাড়ি। তবে কেউ যদি গাড়ি করে আপনার কাছে ভিক্ষে চায় তাহলে আপনি নিশ্চয় সেটাকে স্বাভাবিকভাবে নিবেন না। আর সেটা কেউ করেও না। তবে প্রকাশ্যে ভিক্ষে করে গোপনে গাড়ি হাকিঁয়ে কেউ যদি আয়েশী জীবন-যাপন করে তাহলে আপনার আর কিইবা করার থাকতে পারে।

এবার এমনই এক ভিক্ষুকের দেখে মিলেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়াগোতে। আর এটি আবিস্কার করেছেন ‘ইষ্ট লেক ভিলেজ সেন্টার’ এর একজন স্থানীয় দোকানদার মেলিসা স্মিত। বেশ কিছু দিন ধরেই তিনি দেখে আসছেন একজন গর্ভবতী মহিলা সাথে ছোট একটি বাচ্চা নিয়ে তাদের এলাকায় আসছেন এবং একটি কাগজে ‘হেল্প মি’ বা সাহায্য চাই লিখে ভিক্ষা চাচ্ছেন। এতে স্থানীয় দোকানদার থেকে শুরু করে অনেকেই তাকে সাহায্য করছেন।

একদিন মেলিসা তার এলাকা থেকে একটু দুরে একটি গ্যাস ইষ্টিশনে গ্যাস নিতে গেলে দেখেন নিজের মার্সিডিজ বেঞ্জে ছেলে বন্ধুর সাথে বসে আছে সেই ভিক্ষুক মহিলা। পুরো চকচকে নতুন গাড়ি যার মূল্য ৩৫ হাজার ডলার। মেলিসা পরে গাড়ির নম্বর নিয়ে যাচাই করে দেখেন গাড়িটি সেই ভিক্ষুক মহিলারই।

এরপর আরো কয়েকদিন ওই মহিলাকে অনুসরন করে মেলিসা দেখতে পান ওই ভিক্ষুক মহিলা সেই গাড়িতে করে এসে ভিক্ষার জন্য নির্ধারিত স্থান থেকে একটু দুরে নেমে তারপর নির্ধারিত স্থানে এসে নি:সংকোচে ভিক্ষা শুরু করেন।

এখন অবশ্য খবরটি যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর বেশ কিছু গণমাধ্যমে চলে এসেছে। তারপর ওই ভিক্ষুকের কি অবস্থা হয়েছে তা অবশ্য জানা যায়নি।
 

অদ্ভুতুড়ে 10:58 AM
 বিশাল একটি আইস বার্গ যেভাবে ভেঙে পানির সাথে মিশে গেলো তা দেখুন এই ভিডিওটিতে। চোখে লেগে থাকার মতো একটি ভিডিও

অদ্ভুতুড়ে 8:08 PM
এক কারাগারে জায়গা আছে ৫০০-৬০০ জন থাকার। তবে সেই জায়গায় যদি ৬০০০-৭০০০ জন থাকে তবে কারাবাস উল্লেখ না করে নরকবাস উল্লেখ করা যায়। তাই এটাকে বলা যায় দুনিয়ার সবচেয়ে ভয়ানক কারাবাসও। আফ্রিকার দেশ রোয়েন্ডার গিতারামা কারাগারের কথা বলছি। শুধু তাই নয়।আরেকটা অবাক হওয়ার বিষয় এই যে, জেলে বন্দিরা একে অপরকে খুন করে, তারপর মৃত ব্যক্তির মাংস খেয়ে বেঁচে থাকে। এমনই চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশিত হল আফ্রিকার এক দৈনিকে।

সেই গিতারামা জেলে ৫০০ থেকে ৬০০ বন্দিদের গারদের পিছনে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই জেলের মধ্যে গাদাগাদি করে থাকে ৬ থেকে ৭ হাজার বন্দি। শোয়া-বসা তো দূরে থাক, ঠিকমত দাঁড়ানোর জায়গাও থাকে না সেই জলের সেলে। খাওয়ার দেওয়া হয় মেরেকেটে ১০০ জনের জন্য, তাও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র দু বার। গায়ের জোরে সেইসব খাবার কেড়ে খেয়ে নেয় ৫০-৬০ জন বন্দি। অভুক্তই থেকে যান বাকিরা। প্রচন্ড খিদেতে এরপর শুরু হয় খুনের পালা। খুন করার একমাত্র লক্ষ্য হল সহ বন্দিদের মাংস খেয়ে খিদের জ্বালা মেটানো। এভাবে সারাদিনে অন্তত ৭ জন বন্দি মারা যান। খুন করে মাংস খেয়ে চিত্‍কার করে বন্দিরা। দুর্বল হয়ে পড়লেই পরদিন সহ বন্দিরা তাকে মেরে ফেলে।



অদ্ভুতুড়ে 8:04 PM
একটি মোরগের দাম কত ? দেশি বাজারে সর্বোচ্চ পাঁচশ টাকা । কিন্তু কোন মোরগের দাম যদি হয় দুই থেকে চার লক্ষ টাকা তখন ? ইন্দোনেশিয়ার আয়াম চেমানি প্রজাতির মোরগ ঠিক তেমনই চোখ ছানাবড়া করা দামে বেচাকেনা করা হয় । আসলে এটা খুবই দুর্লভ প্রজাতির মোরগ । এজন্যই দাম এত বেশি ।
সাধারণত মুরগীর মাংসের রং বড়জোর সাদা লালচে বা বাদামি- এর বেশি তো নয় । কিন্তু এই মোরগের মাংস থমথমে রাতের মতো কালো ! ইন্দোনেশিয়ান ভাষা আয়াম অর্থ মুরগি আর চেমানি অর্থ সম্পূর্ণ কালো । জাভা এর মূল উৎপত্তিস্থল ।
আয়াম চেমানির উৎপত্তি ইন্দোনেশিয়া । তবে খোদ ইন্দোনেশিয়াতেই এর খোঁজ পাওয়া মুশকিল । সেদেশের হাতে গোনা কিছু খামারি এই মোরগ পালন করে থাকেন। আয়াম চেমানির রক্ত বাদে চোখ, ঠোঁট, চামড়া, গিলা, কলিজাসহ দেহের আর সবই কালো । এরকম সর্বাঙ্গ কালো আর কোনো পশু-পাখি নেই । এজন্য স্থানীয়দের বিশ্বাস, আয়াম চেমানি হলো জাদুর মোরগ । এই মোরগের নাকি ঐশ্বরিক ক্ষমতা আছে । আর এই লোকবিশ্বাসের কারণেই আয়াম চেমানির দাম এত বেশি । এর দাম বাংলাদেশি টাকায় প্রায় দুই লাখ টাকা মাত্র ! ইন্দোনেশিয়া থেকে কিনলেই শুধু এই দামে পাবেন । তবে মার্কিন মুলুক থেকে কিনলে, চোখের পলকে দাম হয়ে যাবে দ্বিগুন, মানে চার লাখ !
এশিয়ায় আয়াম চেমানি বেশি জনপ্রিয় এর মাংসের জন্য। কালো মাংসে কোনো ঐশ্বরিক ক্ষমতা রয়েছে বলে বিশ্বাস করেন অনেকে । এর মাংসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন । বিশেষ করে সন্তান জন্মদানের আগে ও পরে এর মাংস খাওয়া বেশি উপকারী । এশিয়ানরা চেমানির মাংস খাওয়া ভাগ্যের সহায়ক ও ভাগ্য পরিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা পালনকারী বলেও মনে করে । এই প্রজাতির মুরগি বছরে ডিম পাড়ে প্রায় ৮০টি । ডিমের রং হয় ক্রিম রঙের 



অদ্ভুতুড়ে 7:55 PM
ভাল করে ছবিটা দেখুন তো। বছর ১৬-র এক ফুটফুটে জাপানি কন্যে। পোশাক পরে স্কুল যাওয়ার জন্য তৈরি। ঠোঁটে লেগে আছে হালকা হাসি। ওর নাম সায়া। কিন্তু ও আসলে মানুষ নয়। তা হলে?

টোকিওর এক দম্পতি 'কম্পিউটার জেনারেটেড ইমেজারি'র মাধ্যমে তৈরি করেছে সায়াকে। তাই সে পুতুল। কিন্তু তাকে দেখে বোঝার কোনও উপায় নেই যে সায়ার দেহ প্রাণহীন। এতটাই নিখুঁত করে তাকে গড়ে তোলা হয়েছে।

টোকিওর ওই দম্পতি টেরুইকি এবং ইউকি ইসিকায়া পেশায় থ্রিডি শিল্পী। কাজের অবসরে তৈরি করেছেন সায়াকে।

তারা জানিয়েছেন স্কিন টেক্সচার তৈরি করাই সবচেয়ে কঠিন ছিল। তবে চুলটা নাকি আসলের মতো হয়নি। তাই চুলের কাজ পছন্দ হয়নি তাদের। যদিও তাদের সৃষ্টি দেখে তাক লেগেছে গোটা বিশ্বের। তবে এখানেই শেষ নয়। সায়ার মতো আরও একটি পুতুল বানাতে চলেছে ইসিকায়া দম্পতি।

আর তাদের নিয়ে ভবিষ্যতে একটি ফিল্ম বানানোর কথাও ভেবে রেখেছেন তারা। তবে তার আগেই আপাতত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সায়ার ছবি

অদ্ভুতুড়ে 7:53 PM
চোরাবালি আসলে কি ?
সাধারণতভাবে আমরা চোরাবালি বলতে বুঝি- যখন বালি, কাদা বা নুড়ি গর্ভস্থ পানির প্রবাহের সান্নিধ্যে আসে, সেই বালি বা নুড়ির দানাগুলোর মধ্যে যে ঘর্ষণ শক্তি থাকে তা কম হয়ে যায়, আর সেই বালি বা মাটি ভার সহ্য করতে পারে না- একেই চোরাবালি বলে। এ ধরনের ব্যাপার আমরা সমুদ্র সৈকতে দেখতে পাই। সমুদ্রধারের বালিতে যদি কেও দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে খানিকক্ষণ পর দেখা যাবে যে ধীরে ধীরে তার পা বালির ভেতর বসে যাচ্ছে।

এটাও এক ধরনের ছোটখাটো চোরাবালি। তবে এ ধরনের চোরাবালির গভীরতা মাত্র কয়েক ইঞ্চি হয়। তাই সেসব স্থানে শুধু আমাদের পায়ের পাতা ডোবে। তবে যে সব স্থানে এর গভীরতা বেশি সেসব স্থান খুবই ভয়ংকর।

চোরাবালি পানি ও তরল কাদা মিশ্রিত এমনই একটি গর্ত, এর ফাঁদে একবার পা দিলে আর নিস্তার নেই। আস্তে আস্তে ডুবে যেতে হয় বালির ভেতর। যত নড়া যায় ততই ডুবে যেতে থাকে শরীর। সাধারণত নদী বা সমুদ্রতীরে কাদা মিশ্রিত বালির ভেতরে লুকানো অবস্থায় থাকে চোরাবালি।

কোনও মানুষ যদি সেই গর্তের ধারে-কাছে যায়, তাহলে শরীরের চাপে ওই বালি ক্রমে সরে যেতে থাকে। ফলে মানুষ শত চেষ্টা করেও আর ওপরে উঠে আসতে পারে না। চোরাবালিতে পড়ার পর সেখান থেকে উঠে আসার জন্য চেষ্টা করলে শরীরের চাপে আরও দ্রুত ডুবে যেতে হয়। সময়মতো কেও এগিয়ে না এলে ওই মানুষ নিশ্চিত মৃত্যুকোলে ঢলে পড়ে। তবে অধিকাংশ চোরাবালি সাধারণত মারাত্মক নয়। তবে এটি প্রকৃতির একটি অদ্ভুত বিস্ময়।

কোথায় চোরাবালি বেশি হয়
সাধারণত মাটি বা বালির ভার সহ্য করার ক্ষমতা থাকে না। প্রবহমান পানির কারণে বালি বা মাটির দানাগুলোর মধ্যে ঘর্ষণ একদম কমে যায়। পুরো জায়গা বেশ গভীর স্তর পর্যন্ত একরকম তরল অবস্থায় চলে যায়। এ ধরনের চোরাবালির গভীরতা যদি কয়েক মিটার বা বেশি হয় তাহলে তা বিপজ্জনক। এ ধরনের চোরাবালিতে ফেঁসে গেলে বেরিয়ে আসা খুব মুশকিল।

হাত-পা বালিতে আটকে যেতে পারে। নিজে থেকে বেরিয়ে আসাটা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। পুরোপুরি ডুবে যেতে পারে। অনেক সময় এ ধরনের চোরাবালির গভীরতা বেশি না হলে মানুষ পুরো ডুবে না গেলেও অর্ধেক ডুবে আটকে যেতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিও কিন্তু কম বিপজ্জনক নয়। পুরো না ডুবলেও ঠাণ্ডা, ভয় বা ক্ষুধাজনিত কারণেও অনেক সময় মৃত্যু হতে পারে।

চোরাবালিতে আটকে গিয়ে বেরুতে না পেরে জীব-জন্তু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে অনেক লোকের মৃত্যু হয়েছে এমন ঘটনাও কিন্তু বিরল নয়। তাই যেসব জায়গায় চোরাবালি থাকার সম্ভাবনা আছে, সেসব জায়গায় একা একা বেড়াতে যাওয়া মোটেও উচিত নয়। যেসব জায়গায় পানি বেশি, সেসব জায়গায় চোরাবালি থাকার সম্ভাবনাও বেশি। যেমন জলা, নদী, খাল, সমুদ্রতীর এবং জলাভূমি। যেসব জায়গায় ভূগর্ভস্থ পানির প্রবাহ থাকে সেখানে চোরাবালি থাকতে পারে বা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

চোরাবালিতে আটকে গেলে যা করতে হবে
চোরাবালিতে আটকে গেলে একদমই অধৈর্য হওয়া যাবে না। অধৈর্য হয়ে হাত-পা ছোড়াছুড়ি করলে আরও বেশি আটকে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। সবার মনে রাখা উচিত, চোরাবালি কিন্তু পানির চেয়ে অনেক বেশি ঘন। তাই চোরাবালিতে ভেসে থাকা পানির চেয়ে অনেক বেশি সহজ। যদি সঙ্গে কোনও ভারি বস্তু থাকে তাহলে তা ছেড়ে ফেলতে হবে। কারণ ভারি বস্তু আরও বেশি দ্রুত নিচে টেনে নিতে পারে।

বেশিরভাগ চোরাবালির গভীরতা কম হয়। খানিকটা ডোবার পর হয়তো পা তলায় আটকে যেতে পারে। যদি তা না হয়, মানে যদি চোরাবালি খুব গভীর হয় তাহলে পুরোপুরি ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে যেমন পানিতে আমরা যেভাবে সাঁতার কাটি, ঠিক সেভাবে নিজের শরীরকে যতটা সম্ভব অনুভূমিক করে ফেলতে হবে।

তারপর খুব ধীরে ধীরে সাঁতরে চোরাবালির বাইরে আসার চেষ্টা করতে হবে। সাথে যদি অন্য কোনও ব্যক্তি থাকে তাহলে তাকে বলতে হবে নিরাপদ দূরত্ব থেকে রশি ফেলতে এবং এই রশি ধরে ধীরে ধীরে চোরাবালি থেকে উঠে আসা যাবে।

চোরাবালির আদি ইতিহাস
চোরাবালি ভূবিদ্যায় অনেক অবদান রেখেছে। প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকেই পৃথিবীতে চোরাবালি আছে। সেই সময় যেসব জীবজন্তু চোরাবালিতে আটকা পড়ে মারা গিয়েছিল তাদের দেহবাশেষ মাটিতে পচে ফসিলে পরিণত হয়েছে। হলিউডের বিখ্যাত ‘জুরাসিক পার্ক’ বা ‘কিং কং’ সিনেমায় ডাইনোসরদের দেখানো হয়েছে।

এসব ডাইনোসর বা অন্য জন্তুজানোয়ারদের কথা আমরা বর্তমান সময়ে এসে জানতে পেরেছি তাদের জীবাশ্ম থেকে। আর এসব জীবাশ্ম আমরা পেয়েছি সেই সময়কার পাথর থেকে। আসলে চোরাবালিতে আটকে গিয়ে এসব জীবজন্তু মাটির তলায় তলিয়ে গিয়েছিল। মাটির ভেতরে আটকে যাওয়ার দরুন, তাদের দেহবাশেষ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়ে যায়। এই চোরাবালি কয়েক লক্ষ বছর পরে ধীরে ধীরে পাথরে পরিণত হয়।

যেসব জায়গায় পানি বেশি, সেসব জায়গায় চোরাবালি থাকার সম্ভাবনাও বেশি। যেমন জলা, নদী, খাল, সমুদ্রতীর এবং জলাভূমি। আবার যেসব জায়গায় ভূগর্ভস্থ পানির প্রবাহ থাকে সেখানে চোরাবালি থাকতে পারে। চোরাবালি কোথায় আছে সেটা জানতে পারা খুব মুশকিল। অনেক সময় চোরাবালির ওপর শুকনো পাতা, ডালপালা পড়ে জায়গাটি ঢেকে থাকে।

অনেক সময় চোরাবালির ওপর শুকনো বালির স্তর পড়ে যায়, যাতে বোঝা যায় না যে তার তলায় চোরাবালি আছে। চোরাবালি অনেক সময় পানির তলাতেও থাকতে পারে। হেঁটে নদী পার হওয়ার সময় চোরাবালিতে আটকে গিয়ে মৃত্যুও হতে পারে।


ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

অদ্ভুতুড়ে 7:51 PM

মাছ ধরা পড়লেই পরিবারের মুখে হাসি ফুটবে, আর সেই একটি মাছ ধরতে শত শত মানুষের আপ্রাণ চেষ্টা, তাও আবার বছরের একটি মাত্র দিনেই মাছ ধরতে পারবে তারা, না এটা কোন গল্প নয়, এ্যানটোবোর মরুভূমির বুকে একটি মাত্র হ্রদ ম্যালি। আর সেই ম্যালি হ্রদে বছরের একটি মাত্র দিনেই গ্রামবাসী মাছ ধরতে পারে, গত ৩০ বছর এই নিয়মেই তারা মাছ ধরে আসছে।

সেই গ্রামেরই কৃষক ডিয়ালো, যেকি গত ৩০ বছরই এই হ্রদে মাছ ধরছেন, প্রতিবছর গ্রীষ্মের শুরুর প্রথমদিন চলে এই মাছ ধরার কাজ। তাও আবার যখন ইচ্ছে তখনই ধরা যাবে না এই হ্রদের মাছ। মাছ ধরার ঐ বিশেষ দিনটিতে গ্রামবাসী এসে জড়ো হয় হ্রদের পাশে, হাতে সবার মাছ শিকার পোলো। অতঃপর সেই মহেন্দ্রক্ষণে বিশেষ ঘন্টা বাজলেই সবাই প্রায় একই সাথে ঝাঁপিয়ে পড়ে হ্রদে। তখন অবশ্য হ্রদের পানি দেখার কোন উপায় থাকে, উপর থেকে শুধুই দেখা যায় মানুষের মাথা।

খাদ্যের অপ্রতুলতা ও দূর্ভিক্ষের হাত থেকে রক্ষা পেতে নাইজেরিয়া সাহেলিয়ান অঞ্চলের মানুষেরা এই নিয়মেই মাছ শিকার করে আসছে। দাদা, বাবা, ছেলে সবাই একই সাথে ঝাঁপিয়ে পড়ে মাছ ধরতে, তাদের এই মাছ ধরার দৃশ্য বাইরের পৃথিবীর কাছে হাস্যকর মনে হলেও  অবশ্য এই নিয়মে মাছ ধরাকে তারা বীরত্বের প্রমান, প্রতিযোগিতা পরায়নতা ও গৌরবের বিষয়ই মনে করেন। ১৫ মিনিটের মধ্যেই অবশ্য এই মাছ ধরা শেষ হয়ে যায়, কারন এরই মধ্যে হ্রদের সমস্ত মাছই ধরা পড়ে যায়।

তবে এত কষ্টের পর মাছ ধরতে পারলেই পরিবারের মুখে ফোটে হাসি।

অদ্ভুতুড়ে 10:11 AM

ভিডিওতে পানামা খাল

একপাশে আটলান্টিক মহাসাগর, আরেক পাশে প্রশান্ত মহাসাগর, মাঝে আমেরিকা মহাদেশ। এজন্য সমুদ্রগামী জাহাজকে আমেরিকা মহাদেশের দক্ষিণভাগ ঘুরে প্রায় আট হাজার মাইল পাড়ি দিতে হত। পণ্যবাহী জাহাজের সমুদ্রযাত্রার সময় এবং ব্যয় কমিয়ে আনতে বিংশ শতকের শুরুর দিকে পানামা খাল খনন করা হয়। আমেরিকা মহাদেশের দুই অংশ উত্তর আমেরিকা আর দক্ষিণ আমেরিকা যুক্ত হয়েছে পানামার সরু অংশ বা পানামা ইসমাসের মাধ্যমে। তাই সিদ্ধান্ত হয় এখান দিয়ে খাল খননের মাধ্যমে সহজেই সমুদ্রযাত্রার ব্যয় কমিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু কাজটি মিশরের সুয়েজ খাল খননের মত ছিল না। সমুদ্রগামী জাহাজ চলাচলের মত গভীর খাল খনন করার কাজটি ছিল ভীষণ ব্যয়বহুল। তাই পানামার মূল ভূখণ্ডে একটি কৃত্রিম লেক গাতুন লেক তৈরি করা হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গাতুন লেকের পানির উচ্চতা ৮৫ ফুটের মত। ১৯১৪ সালে চালুর সময় গাতুন লেক ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম লেক। পানামা খালের মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচল বলতে মূলত এই লেকের মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচলকেই বোঝানো হয়। এই লেকটির পানির উচ্চতা সমুদ্র পৃষ্ঠের চেয়ে বেশি হওয়ায় দু’পাশের প্রবেশ-মুখে দু’টি করে লক বসানো হয়েছে। সমুদ্র থেকে জাহাজ প্রথমে একটি লকের মধ্যবর্তী এলাকায় এসে থামে। এরপর অন্য লক খুলে লেক থেকে পানি নিয়ে আসা হয়। বদ্ধ জায়গায় আরও পানি পেয়ে জাহাজ আরও ওপরে ভেসে ওঠে। এরপর জাহাজ লেকের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়।

শেষ প্রান্তে আসার পর আবার একটি লকের মধ্যবর্তী এলাকায় জাহাজ থামে। সেখানে পানি সমুদ্র ছেড়ে দিয়ে জাহাজকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতায় নিয়ে আসা হয়। পানামায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় লেকে সাধারণত পানির ঘাটতি হয় না।

লেকের মাধ্যমে পানামা খালের খননকাজের ব্যয় কমানো হয়েছে কিন্তু এরপরও প্রায় ৫০ মাইল দীর্ঘ এই পানিপথ তৈরিতে ২৮৬ মিলিয়ন টন মাটি খুঁড়তে হয়েছে যা সুয়েজ খালের ১৩ গুণ। নানা স্থান থেকে ৮০ হাজারের মত শ্রমিক কাজ করতে এসেছিলেন আর ম্যালেরিয়া ও ইয়োলো ফেভার বা পীতজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ১৪ হাজারের মত শ্রমিক মারা গেছে। আধুনিককালের সপ্তাশ্চর্যগুলোর একটি হিসেবে দেখা হয় এই পানামা খালকে।

পানামায় বেড়ানোর অন্যতম আকর্ষণ এই পানামা খাল। এখানকার জাদুঘরে খাল খননের সময়কার স্মারকগুলো এখনো দর্শনার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আছে। উত্তর আমেরিকা আর দক্ষিণ আমেরিকাকে যুক্ত করা পানামা ইসমাস থেকে প্রশান্ত মহাসাগরে সূর্যোদয় আর আটলান্টিক মহাসাগরে সূর্যাস্ত দেখা সম্ভব। এছাড়া ক্রান্তীয় বনভূমির মধ্য দিয়ে যাওয়া রেলপথটিও পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।

অদ্ভুতুড়ে 10:08 AM


টেলিভিশনের পর্দায় আমরা অনেকেই অ্যাডভেঞ্চার ধর্মী ড্রামা সিরিজ ‘মোগলী’ দেখেছি। সেরকমই বাস্তবের এক মোগলী রয়েছেন। তার নাম “তিপ্পি ডিগ্রি (Tippi Degre)”। ছোট বেলা থেকেই তার সখ্যতা রয়েছে বনের বাঘ থেকে শুরু করে হাতি, কুমির, সাপ সব প্রাণীর সাথে। তাইতো তাকে বলা হয় আধুনিক যুগের মোগলী নামে। আসুন জেনে নিই তার সম্পর্কে।

জন্ম:
তার বাবা-মা ফ্রান্সের নাগরিক হলেও তার জন্মটা হয় আফ্রিকা মহাদেশের নামিবিয়াতে। তার বাবা-মা দুজনই ছিলেন ফটোগ্রাফার। তাদের ছবি তোলার বিষয় ছিল জীববৈচিত্র্য। নামিবিয়াতে বসবাসকালীন সময়ে তাদের ঘরে জন্ম নয় একটি মেয়ে সন্তান। যার নাম রাখা হয় “তিপ্পি ডিগ্রি (Tippi Degre)”।   

পশুপাখির সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠার গল্প:
একটি ছবিতে দেখা যায় তিনি ঘুরে ঘুরে ফিডার খাচ্ছেন আর তার চারপাশে হাতির দল ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ তার মধ্যে ভয়ের কোনো ব্যাপার নেই। কিংবা হাতিগুলো তাকে কোনো আঘাত করছে না। আফ্রিকান শিশুদের সাথেই বেড়ে ওঠেন তিনি। তাদের সাথে বনে-বাদাড়ে ঘুরে বেড়ান ছোটবেলা থেকেই। তারাই তাকে গড়ে তোলেন তাদের মতো করে। বন্য প্রাণীদের সাথে ছোট্ট এক শিশুর সখ্যতা খুব তাড়াতাড়িই তাকে সারা বিশ্বে পরিচিত করে তোলে। বনের এমন কোনো জাতের প্রাণী নেই যার সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠেনি ছোট্ট এই শিশুটির। জ্যান্ত বাঘের সাথে খেলা করছেন, কিংবা হাতি তার শুড়ের সাথে পেচিয়ে তাকে নিয়ে ছুটে চলেছেন, জলজ্যান্ত সাপ গলায় পেচিয়ে রেখেছেন।
পশুপাখির সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠার কারণ:
তারা যে এলাকাটিতে থাকতেন সেখানে মানুষ জনের খুব একটা বসবাস ছিল না। তার খেলার সাথী তেমন কেউ ছিল না। তাই ছোট্ট শিশুটি বনের পশুপাখিকে খেলার সাথী ভেবে তাদের কাছে ছুটে যান। স্বভাবত হিংস্র হিসেবে পরিচিত হলেও পশুপাখিও অবুঝ শিশুটির দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেন।

বর্তমান অবস্থা:
উপরে যে ঘটনার বর্ণনা করা হয়েছে তা ১৯৯২-১৯৯৩ সালের। বর্তমানে “তিপ্পি ডিগ্রি (Tippi Degre)” একজন প্রাপ্ত বয়স্ক নারী। তবে ছোট্টবেলার মতো প্রাণীদের সাথে তার এখনো সখ্যতা রয়েছে। প্রাণীদের নিয়ে তিনি কয়েকটি বই লিখেছেন।  



অদ্ভুতুড়ে 10:07 AM


সভ্যতার একেবারে সূচনালগ্ন থেকে নানা প্রয়োজনে একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াত করে চলেছে মানুষ আর সেতুর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় তখন থেকেই। গাছের গুঁড়ি ফেলে পানি পার হওয়াটাকে সেতুর সূচনা বলা যায়। কিন্তু শীঘ্রই মানুষের কাছে ধরা দেয় যে কিছুটা সময় ও শ্রম ব্যয় দীর্ঘ সেতুও তৈরি করা সম্ভব। যাতায়াতের জন্য রোমানরাও নদীর ওপর বিশাল সেতু তৈরি করেছিল। আরও পরে ইউরোপে শিল্প বিপ্লব শুরু হলে সে ছোঁয়া সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রেও লক্ষ্য করা যায়। অধিক উচ্চতা আর দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রমের জন্য সেতু তৈরি হতে থাকে।

সেতু নির্মাণ
সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে নানা বিষয় বিবেচনায় নিতে হয় স্থপতি আর প্রকৌশলীদের। নদীর স্রোত আর মাটির প্রকৃতি ছাড়াও রয়েছে নদীকে অক্ষত রাখার দিকটি। নদীতে বড় বড় নৌযান চলাচলের সুযোগ রাখতে সেতুকে অবশ্যই যথেষ্ট উঁচু হতে হবে। আবার নদীতে কম সংখ্যায় খুঁটি বসাতে চাইলে স্প্যানের দৈর্ঘ্য বা খুঁটি থেকে খুঁটির দূরত্ব বেশি হতে হবে। এজন্য ঝুলন্ত সেতুর প্রচলন হয়েছে। আবার পাহাড়ি এলাকায় দু’টা উঁচু প্রান্তের সংযোগ স্থাপনের জন্যও ঝুলন্ত সেতু তৈরি করা হয়। বিভিন্ন পরিবেশ আর প্রয়োজনীয়তার কারণে সেতুর ধরন পাল্টে যায়।

বাতাসের ধাক্কায় সেতু ভেঙে যাওয়া
শুনতে একটু অবাক লাগলেও সত্যি যে স্রেফ বায়ুপ্রবাহের ফলে সৃষ্ট কম্পনে ভেঙে পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের টেকোমা ন্যারোজ ব্রিজ। সেটা ১৯৪০ সালের কথা। একটি নির্দিষ্ট কম্পাংকে সেতুটি কেপে ওঠার ফলেই সেতুটি ভেঙে পড়েছিল, বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে অনুনাদ।


পানি সেতু

জার্মানির এলবা (Elbe) নদীর ওপর তৈরি হয়েছে অদ্ভুত এই সেতু। নৌপথে পণ্যবাহী জাহাজের পথ সংক্ষিপ্ত করতে তৈরি হয়েছে এই সেতু। সেতুর ওপর দিয়ে গড়ির বদলে জাহাজ চলাচল করে আবার পায়ে হেঁটেও পার হওয়া যায় এই সেতু।



ইটের তৈরি সেতু
উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে জার্মানির স্যাক্সনি ও বাভারিয়া রাজ্যের মধ্যে যোগাযোগের জন্য ইটের তৈরি সেতু নির্মিত হয়েছিল। ইট দিয়ে তৈরি সেতুগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়।




ড্রব্রিজ বা টানা সেতু
ড্রব্রিজের সূচনা অবশ্য বহু আগেই হয়ে গিয়েছে। অনেক সময় দুর্গের চারপাশে খাল খনন করে দুর্গের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হত। খালের ওপর একটি সেতু রাখা হত দুর্গে প্রবেশের জন্য। শত্রুর আক্রমণ ঠেকাতে সে সেতু আবার টেনে তুলে রাখার ব্যবস্থা থাকতো।  

তবে আধুনিককালে ড্রব্রিজ বা টানা সেতু তৈরি করা হয় অন্য কারণে। মাটি ভরাট না করে সেতু তৈরি করা হয় যাতে সেতুর নিচ দিয়ে নৌযান চলাচল করতে পারে। কিন্তু সেতু নিচু হয়ে গেলে বড় এবং উঁচু নৌযান চলাচল করতে পারে না। অনেক সময় সেতু নির্মাণের কারণে বড় জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সমস্যা এড়াতে সেতুর উচ্চতা বাড়াতে হয়, দু’পাশের সংযোগ সড়কও উঁচু করে তৈরি করতে হয়। যেটা অনেক সময় ব্যয়বহুল হয়ে যায়।

এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে ড্রব্রিজ। জাহাজ এলে সেতু টেনে তোলা হয়, জাহাজ চলে গেলে আবার সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চলাচল করতে পারে।

আমস্টার্ডাম ড্রব্রিজ

অদ্ভুতুড়ে 10:05 AM


‘টাইটানিক’ জাহাজের নাম এলেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজের নাম চলে আসে। তবে আভিজাত্য ও আকারের দিক থেকে ‘ওয়েসিস অব দ্য সিস’ টাইটানিকের চেয়ে অনেক এগিয়ে। এটা ৫টা টাইটানিকের চেয়েও বড় কিংবা ৪ টা ফুটবল মাঠের চেয়েও বড়। এতোদিন পৃথিবীতে সর্ববৃহৎ জাহাজ হিসেবে খ্যাত ছিলো ইনডিপেন্ডেন্স/ফ্রিডম অফ দ্য সিস যার তুলনায় ওয়েসিস অফ দ্য সিস পাক্কা ৭৫ ফুট বেশি লম্বা। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও বিলাসবহুল জাহাজের নাম 'ওয়েসিস অফ দ্য সিস'। যার বাংলায় অর্থ করলে দাঁড়ায় 'সাগরের মরূদ্যান'।

নির্মাণ সংক্রান্ত তথ্য:
  • মালিকানা: রয়্যাল ক্যারিবিয়ান ইন্টারন্যাশনাল
  • নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান: এসটিএক্স ইউরোপ
  • খরচ: ১.৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায়)
  • নির্মাণকালীন সময়: সাড়ে তিন বছর
  • নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ: ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি
  • নির্মাণ কাজ শুরুর সময়: ২০০৭ সালের ১২ নভেম্বর
  • নির্মাণ কাজ শেষের সময়: ২০০৯ সালের ১ নভেম্বর
  • ওজন: ২ লাখ ২৫ হাজার ২৮২ টন (টাইটানিকের ওজন ছিল ৮৬ হাজার ৩২৮ টন)
  • আয়তন: দৈর্ঘ্য ১১৮৭ ফুট, প্রস্থঃ ২০৮ ফুট, ড্রাফট (সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে তলায় কীল পর্যন্ত) ৩০ ফুট
জাহাজটির গঠন ও ধারণক্ষমতা:
২২ তলা বিশিষ্ট বিলাসবহুল এই জাহাজটিতে রয়েছে ১৬টি ডেক এবং ২,৭০০ টি বিলাসবহুল রুম। জাহাজটি একসাথে ৬,৩০০ যাত্রী ধারণ করতে পারে। সেই সাথে জাহাজটিতে অবস্থান করে ২,১০০ ক্রু।

চোখ ধাঁধানো যেসব বিষয় রয়েছে:
জাহাজটির প্রতি পরতে পরতে রয়েছে বিস্ময়ের ছাপ। মোট ৭টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে জাহাজের বিশেষত্বকে। যেমন - সেন্ট্রাল পার্ক, পুল, ফিটনেস সেন্টার, বিনোদন কেন্দ্র প্রভৃতি। বিশ্বের প্রথম ভাসমান উদ্যানটি এই জাহাজেই অবস্থিত। যেখানে ১২ হাজার গাছের চারা এবং ৫৬টি গাছ রয়েছে। জাহাজের পেছনের অংশে রয়েছে ৭৫০টি আসন বিশিষ্ট থিয়েটার, যার মধ্যে রয়েছে সুইমিং পুল। মজার ব্যাপার হচ্ছে, জাহাজের এই জায়গাটি দিনে ব্যবহৃত হয় সুইমিং পুল হিসেবেই অথচ রাতে ব্যবহৃত হয় সাগরের একটি থিয়েটার হিসেবে।
যাঁরা সমুদ্রে সার্ফ করতে ভয় পান তাঁদের সার্ফিং করা জন্য বানানো হয়েছে জাহাজের মধ্যেই দুটি সার্ফ এরিয়া। একটি পূর্ণবয়স্কদের জন্য, আরেকটি শিশুদের জন্য। নাম দেওয়া হয়েছে ফ্লো রাইডার্স। যাঁরা যথেষ্ট সাহসী তাঁদের জন্য আছে ওড়ার ব্যবস্থা। গ্লাইডিং করে জাহাজের ছাদের ২৫ মিটার ওপর পর্যন্ত ওড়া যায়। জিপ ওয়্যার ধরে তীব্র গতিতে ওপরে ওঠানামার খেলার ব্যবস্থাও আছে।পর্বতারোহনে উৎসাহীদের জন্য পাথরের দেয়ালে তৈরি করা হয়েছে ১৩ মিটার উচ্চতার দুটি টাওয়ার।

কেবিন বা থিয়েটার ছাড়াও জাহাজের প্রায় প্রতিটি অংশেই রয়েছে অসংখ্য বার, পোশাক ও বিভিন্ন দ্রব্যাদির দোকান আর রেস্টুরেন্ট। এছাড়াও রয়েছে ভলিবল কোর্ট, বাস্কেটবল কোর্ট, চারটি বিশালাকৃতির সুইমিং পুল, জাহাজে আরো রয়েছে ইয়ুথ জোন, যেখানে আছে কম্পিউটার গেমিং ও সাইন্স ল্যাবরেটরিসহ নানা আকর্ষণীয় বিষয়, থিম পার্ক এবং বাচ্চাদের জন্য বিশেষ নার্সারি ও খেলাধূলার স্থান। আর পায়ে হেঁটে বেড়ানোর জন্য সুদৃশ্য জায়গা তো আছেই।
জাহাজে করে সুমুদ্রের বুকে ঘুরে বেড়াতে চাইলে:
বিলাসবহুল এই জাহাজে করে ক্যারিবিয়ান সাগরের বুকে ভেসে বেড়াতে চাইলে আপনাকে গুণতে হবে ভিতরের দিকে কেবিন ভাড়া ১৪৫৮ মার্কিন ডলার এবং দ্বিতল বিশিষ্ট সমুদ্রের দিকে মুখ করা সুইট ভাড়া ৩২০০ মার্কিন ডলার। মোট ৯ রাত, ৯ দিন উত্তর ক্যারিবিয়ান সাগরের বুকে আপনি এই জাহাজে করে ঘুরতে পারবেন। তবে এই জাহাজের যাত্রী হতে হলে আপনাকে ২ বছর আগে বুকিং দিতে হবে।
যেভাবে পরিচালিত হয় জাহাজটি:
  • ৭১ টি দেশের প্রায় ২৪০০ জন ক্রু নিয়োজিত রয়েছেন জাহাজটি পরিচালনায়। দিন রাত ২৪ ঘন্টা পালা ক্রমে ক্রুরা নানা কাজ করছে। শুধু জানালার কাচে জমা নোনা জল পরিষ্কার করার জন্য ডজন খানিক ক্রু এবং ১৮টা রোবট কাজ করছে।
  • ২৪ ঘন্টা ধরে এর লন্ড্রিতে ৩৪ জন ক্রু কাজ করছে যাদেরকে দিনে প্রায় ২০,০০০ টেবিল ক্লথ, ন্যাপকিন, বিছানার চাদর, তোয়ালে ধোয়া, ইস্ত্রি করা এবং ভাজ করতে হয় তবে চাদর, ন্যাপকি্ন , টেবিল ক্লথ ইস্ত্রি করে বিশাল আকারের মেশিন কিন্তু তোয়ালে ও টেবিল ন্যাপকিন নানা ডিজাইন করে ভাজ করার কাজ হাতেই করতে হয়।

স্বাস্থ্য সমস্যা হলে:
ইন্টেন্সিভ কেয়ার ইউনিট সহ ৩ জন ডাক্তার আছে, ইন্টেন্সিভ কেয়ার ইউনিটে এক জন মানুষের যাবতীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। এমনকি হার্ট এটাক হলেও তার চিকিৎসার যাবতীয় আয়োজন আছে। প্রতি যাত্রায় অন্তত একটি এ ধরনের প্রয়োজন দেখা দেয়। তবে ক্ষেত্র বিশেষে জাহাজের ডাক্তার এবং ক্যাপটেন পরামর্শ করে জাহাজের দিক পরিবর্তন করে নিকটস্থ বন্দরে ভেড়াবার ক্ষমতা দেয়া আছে, মাঝে মাঝে রোগীকে হেলিকপ্টারে করে স্থানান্তর করার ব্যবস্থাও আছে। জাহাজে যে ধরনের চিকিৎসা দেয়া হয় তার মধ্যে খাদ্য সংক্রান্ত পেটের অসুখ, পিঠে ব্যাথা, গলায় ইনফ্যাকশন, সাইনুসাইটিসের চিকিৎসাই বেশি। প্রতি যাত্রায় ২০০০-৩০০০ meclizine ব্যবহার হয় যা কেবল মাত্র সী সিকনেসের যেমন জাহাজের রোলিং পিচিং এর কারনে বমি রোধকের জন্য
খাবার-দাবার:
৮৭০০ মানুষের খাবার ব্যবস্থার জন্য ২৬টা গ্যালি বা রান্না ঘরে যাত্রীদের সকালে ঘুম ভাঙ্গার আগে থেকেই রান্নার কাজ চলতে থাকে। এই সব মালামাল জাহাজের মাতৃভুমি (Port of Registry) Fort Lauderdale শহরের Port Everglades বন্দর থেকে প্রতি শনিবার প্রায় সকাল ৬টা থেকে জাহাজে্র ডেকে এসে পৌঁছতে থাকে এবং সকাল সাড়ে সাতটা থেকে সেগুলি চাহিদার তালিকার সাথে মিলিয়ে বাছাই করে ভাঙ্গা প্যাকেট, পচা ইত্যাদি সরিয়ে ফেলে ফর্ক লিফটে করে ভান্ডারে নির্দিষ্ট জায়গা অনুযায়ী স্টোরিং হতে থাকে। যেমন, চা, কফি, দুধ, মাছ, মাংশ, চাউল, ময়দা, বিস্কুট, সব্জী, সস, কেচাপ, মাখন, পনীর, রুটি, নানা ধরনের মদ এবং পানীয় ইত্যাদি যেটা যেখানে রাখতে হয় সেখানে রাখা হয়।বিভিন্ন গ্যালিতে বিভিন্ন রকমের খাবার রান্না হয়, যেমন যে গ্যালিতে মাছ মাংশ রান্না হয় সেখানে সব্জী রান্না বা বেকিং হবে না আবার সকালের নাস্তা বা হালকা নাস্তার জন্য ভিন্ন গ্যালি এই ভাবে।
নামকরণ:
নির্মাণ শুরুর আগে রয়্যাল ক্যারিবিয়ান ‘নেম দ্যাট শিপ’ নামের এক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্নস্থান থেকে প্রায় ৯১ হাজার নাম সংগৃহীত হয়। বিপুল সংখ্যক নাম থেকে বেছে অবশেষে মিশিগানের জর্জ ওয়েজারের পাঠানো ‘ওয়েসিস অব দ্যা সিজ’ নির্বাচন করা হয়।

এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ নয়:
বিভিন্ন মাধ্যমে ‘ওয়েসিস অব দ্য সিস’কে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ বলা হলেও এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ নয়। একই কোম্পানির আরও একটি জাহাজ রয়েছে। যেটির নাম ‘অ্যালিউর অব দ্যা সিজ’। মাত্র ২ ইঞ্চি পার্থক্য রয়েছে জাহাজ দুটির আয়তনের মধ্যে। ‘অ্যালিউর অব দ্যা সিজ’ ২ ইঞ্চি বড় ‘ওয়েসিস অব দ্য সিস’ থেকে।

অদ্ভুতুড়ে 10:00 AM


সুয়েজ খাল মিশরে অবস্থিত একটি কৃত্রিম নৌপথ যা লোহিত সাগর ও ভূমধ্য সাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে। 17 নভেম্বর 1869 সালে এই কৃত্রিম নৌপথ টি আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হয়। এই নৌপথ চালু হওয়ার ফলে ইউরোপ ও ভারতের মধ্যে সমুদ্রযাত্রার দূরত্ব হ্রাস প্রায় 7,000 কিলোমিটার (4,300 মাইল)।এই নৌপথ দিয়ে ইউরোপ ও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভ্রমণ করা যায়, পূর্বে যার জন্য সমগ্র আফ্রিকা পারি দিতে হত।

মিশরীয় শ্রমিকদের জোরপূর্বক শ্রম (বেগার) ব্যবহার করে খনন কাজে 10 বছর সময় লেগেছিল. কিছু সূত্র অনুযায়ী যে কোন সময়ের কাজের জন্য 30,000 মানুষ এবং বিভিন্ন দেশ থেকে 1.5 মিলিয়নের অধিক মানুষ নিযুক্ত ছিল এই খনন কাজে। নির্মাণ কাজের নানা দুর্ঘটনায় ১০০০ এর বেশি শ্রমিক মারা যায়।
নির্মাণের সময় এটি ছিল 164 কিমি (102 মাইল) দীর্ঘ এবং 8 মিটার (26 ফুট) গভীর। পরবর্তীতে সংস্কার করার পর, এটা 193,30 কিমি (120.11 মাইল) দীর্ঘ, 24 মি (79 ফুট) গভীর ও 205 মিটার (673 ফুট) চওড়া হয়। এই দীর্ঘ নৌপথের 22 কিমি (14 মাইল) উত্তর এক্সেস চ্যানেল, 162,25 কিমি 100.82 মা) মুল খালের দৈর্ঘ্য এবং 9 কিমি (5.6 মাইল) দক্ষিণ এক্সেস চ্যানেল।
মিশরের সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন এই খালটির কার্যক্রম পরিচালিত হয় কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তত্বাবধানে।নির্মানে ব্যয় হয় প্রায় ১০০ মিলিয়ন ইউস ডলার। এই কৃতিম খালটি দেখতে প্রতিবছর লাখ লাখ পর্যটক সেখানে যান।

অদ্ভুতুড়ে 9:58 AM


আজ থেকে একশ কিংবা দুইশ বছর আগে পৃথিবীতে এমন অনেক কিছুই ছিল যা এখন আর নেই। আবার এখন যা আছে তা পরবর্তী একশ কিংবা দুইশ বছর পর থাকবে না। এটাই পৃথিবীর ভাঙ্গাগড়ার খেলা। মানব সভ্যতার ইতিহাস নিয়ে নাড়াচাড়া করলে এমন অনেক রহস্যময় বিষয় বেরিয়ে আসে। যেমন – একসময় পৃথিবীর বুকে এমন কিছু শহর ছিল। যেখানে লোকজন বসবাস করতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই  শহরগুলোই এখন মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে। কোনো এক সময় মানুষের অজান্তেই আবিষ্কৃত হয়েছে মাটির নিচের শহরগুলো এবং তারপর বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত থেকে মানুষ বের করে সেই শহরটি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য। আসুন বিশ্বের এরকম কিছু শহর সম্পর্কে জেনে নিই।

মাচুপিচু
ইনকা সভ্যতা হচ্ছে পৃথিবীর ইতিহাসে সমৃদ্ধ ও বিখ্যাত সভ্যতার মধ্যে অন্যতম। এটি পেরুর একটি সভ্যতা। এই ইনকা সভ্যতার মানুষদের বসবাস ছিল এই মাচুপিচু শহরে। সে অনেক দিন আগের কথা। ১৪৫০ সালে ইনকারা মাচুপিচু শহরটি নির্মাণ করে। এর ঠিক একশ বছর পরই স্প্যানিশদের আক্রমণে ইনকাদের নির্মিত সব শহরই ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু সেদিন স্প্যানিশরা ইনকাদের আর সকল শহরের সন্ধান পেলেও এই শহরটির সন্ধান পায় নি। যার কারণে মাচুপিচু শহরটি ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে যায়। কিন্তু মানুষজন না থাকার কারণে এক সময় শহরটি পরিত্যাক্ত হয়ে যায়। দীর্ঘ চারশ বছর পর ১৯১১ সালে হাইরাম বিংহাম নামের এক মার্কিন নাগরিক এই শহরটি আবিষ্কার করেন। মাচুপিচুকে সূর্যনগরী নামেও ডাকা হয়।  এই মাচুপিচুর অনেক রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হলেও বেশিরভাগ রহস্যেরই কোনো কূলকিনারা হয় নি।     

মাচু পিচুর অদ্ভুত স্থাপত্যশৈলীর সবগুলোই পাথরের তৈরি মজবুত কাঠামোর ওপর দাঁড়ানো। এত ওপরে এমন মজবুত অবকাঠামো কীভাবে নিপুণভাবে নির্মিত হলো সেই উত্তর আধুনিক বিজ্ঞান আজ পর্যন্ত দিতে পারেনি। পাহাড়ের এক পাশ চূড়া থেকে একেবারে খাড়াভাবে ৬০০ মিটার নিচে উরুবাম্বা নদীর পাদদেশে গিয়ে মিশেছে। অন্যদিকে হুয়ানা পিচু নামের আরেকটি পর্বত খাড়া উঠে গেছে আরও কয়েক হাজার ফুট উঁচুতে। সুতরাং দুই দিক দিয়েই শহরটি প্রাকৃতিকভাবেই বেশ নিরাপদ ছিল। এ কারণে শহরটিকে ইনকাদের প্রাচীন দুর্গনগরী নামেও ডাকা হয়। শহরটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,৪০০ মিটার (৭,৮৭৫ ফুট) উঁচুতে অবস্থিত। অর্থাৎ আমাদের দেশের সর্বোচ্চ চূড়া তাজিনডং (১২৩১ মিটার) এর প্রায় দ্বিগুণ উচ্চতায় অবস্থিত এই শহরটি! এত উঁচুতে কীভাবে তারা একটা আস্ত শহর তৈরি করে ফেলল সেটাই সবচেয়ে বড় রহস্য। তাও আবার অনেক অনেক বছর আগে।

জেরিকো
ইনকা সভ্যতা যেমন পৃথিবীর সমৃদ্ধ ও বিখ্যাত সভ্যতা তেমনি জেরিকো হচ্ছে পৃথিবীর প্রাচীনতম শহর। ৭০০ বছরেরও বেশি সময়ের পুরনো এই শহরটি আবিষ্কার করেন ইংরেজ প্রত্নতত্ত্ববিদ ড. ক্যাথলিন টেল। মাটির নিচের এই জেরিকো শহরটি প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত ছিল। মৃত সাগরের উত্তরে এক মরুদ্যানে এই শহরের অবস্থান ছিল। তবে শহরটি আবিষ্কৃত হওয়ার হওয়ার যতটুকু জানা গেছে তাতে মনে হয়েছে এই শহরে দুই থেকে তিন হাজার লোকের বসবাস ছিল। খুব ছোট এই শহরটি লম্বায় ছিল ২৮৪ গজ এবং চওড়ায় ছিল ১৭৫ গজ। জেরিকো শহর থেকে আরও জানা যায় সে সময় মাটির ইট ও চুন ব্যবহার করে ঘর তৈরি করা হতো। ধারণা করা হয় জেরিকোতে যারা বসবাস করতেন তাদের পূর্বপুরুষ যাযাবর ছিলেন। যাযাবর জীবন ছেড়ে তারা জেরিকোতে স্থায়ী বসবাস গড়ে তোলে।    


পেত্রা
জর্ডানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পেত্রা শহরটির অবস্থান। ১৮১২ সালে সর্বপ্রথম এক সুই পরিব্রাজকের মাধ্যমে এই শহরটি আবিষ্কৃত হয়। পাহাড়ের মধ্যে পাথর কেটে বানানো হয়েছিল পেত্রা শহরটি। আর পেত্রা অর্থও পাথর। ইতিহাসবিদের মতানুসারে খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ২০০ পর্যন্ত নাবাতাইন রাজ্যের রাজধানী ছিল এই পেত্রা শহরটি। পেত্রা শহরটি ছিল অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং এখানকার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ছিলেন বেশ সমৃদ্ধশালী। এই শহরটি মূলত একটি গুহার মধ্যে তৈরি। কোনো কোনো স্থানে এটি মাত্র ১২ ফুট চওড়া। শহরটির চারপাশে ছিল উঁচু সব পাহাড় এবং পাহাড়গুলোতে ছিল অফুরন্ত ঝরনাধারা। পশ্চিমের গাজা, উত্তরের বসরা ও দামাস্কাস, লোহিত সাগরের পাশের আকুয়াবা ও লিউস এবং মরুভূমির ওপর দিয়ে পারস্য উপসাগরে যাওয়ার প্রধান সব বাণিজ্যিক পথগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করত পেত্রা। রোমান শাসনের সময় সমুদ্রকেন্দ্রিক বাণিজ্য পুরোদমে শুরু হলে পেত্রা দ্রুত ধ্বংস হতে থাকে। ১০৬ এডিতে রোমানরা এটিকে দখল করে তাদের ‘আরব পেত্রাইয়া’ প্রদেশের অংশীভূত করে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতকে বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ শহরটির দখল নেয় পামিরা। তখন থেকেই এর গুরুত্ব কমতে থাকে। সপ্তম শতকে মুসলমানরা ও দ্বাদশ শতকে ক্রুসেডাররা পেত্রার দখল নেয়। মূলত এরপর থেকেই পেত্রা ধ্বংস হতে শুরু করে। এ ছাড়া ৩৬৩ সালে ভয়াবহ এক ভূমিকম্পে এ শহরের বিপুল পরিমাণ ক্ষতিসাধিত হয়।

ট্রয়
এটি একটি কিংবদন্তি শহর হিসেবে পরিচিত। এই শহরটিকে কেন্দ্র করেই বিখ্যাত ট্রয়ের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। এই যুদ্ধের কারণেই এই শহরটি ধ্বংস হয়ে যায়। প্রাচীন গ্রিসের অনেক মহাকাব্যেই এই শহর ও ট্রয় যুদ্ধ সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। সেসব মহাকাব্য থেকে জানা যায় ইতিহাসখ্যাত সুন্দরী হেলেনকে নিয়ে সংঘটিত হয় এই ট্রয় যুদ্ধ। রোমান সম্রাট অগাস্টাসের রাজত্বকালে প্রাচীন ট্রয় নগরীর ধ্বংসস্তূপের ওপর ইলিয়াম নামে নতুন একটি শহর নির্মিত হয়। কনস্টান্টিনোপল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ইলিয়াম বিকশিত হয়েছে, কিন্তু বাইজান্টাইন রাজত্বের সময় ধীরে ধীরে এর পতন হতে থাকে।

পরবর্তীতে ১৮৭০ সালে জার্মান প্রত্নতত্ত্ববিদ হাইনরিশ শ্লিমান এই এলাকায় খননকাজ শুরু করেন এবং একের পর এক শহরের সন্ধান মিলতে থাকে।

আটলান্টিস
পৃথিবীর রহস্যময় জায়গাগুলোর মধ্যে আটলান্টিস হচ্ছে সেরা রহস্যময় জায়গা। পৃথিবীর বুক থেকে যতগুলো শহর হারিয়ে গিয়েছে তার মধ্যে এটি একটি বিখ্যাত একটি শহর। এটি ছিল একটি সমৃদ্ধশালী ও উন্নত একটি শহর। জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিল্প-বাণিজ্য, সবুজ-শ্যামলের পাশাপাশি এই শহরের খনিগুলোও সোনা, রুপা ও তামার আকরিকে ভরপুর ছিল। এই শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত রাজপ্রাসাদ। এই রাজপ্রাসাদটি একটি টিলার উপর অবস্থিত ছিল। সাজানো-গুছানো জলপথ ও স্থলপথ দ্বারা শহরটি বেষ্টিত ছিল। এই শহরের রাজার সুশাসনের ফলে শহরের বাসিন্দারা সবাই সুখে-শান্তিতে বাস করতেন। কিন্তু তাদের সুখ প্রকৃতির সহ্য হয় নি। ভয়ংকর ভূমিকম্পের সাথে সাথে বিস্ফোরিত হতে শরু করল আগ্নেয়গিরি। মহাপ্রলয় শুরু হলো সমুদ্রে। সমুদ্রের দানবীয় থাবায় বিলীন হয়ে গেল সাজানো গুছানো শহরটি। তবে এটা কতটুকু সত্যি তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।   

প্লেটোর বর্ণনা মতে, বর্তমান জিব্রাল্টার প্রণালীর কাছেই অসম্ভব উন্নত, আধুনিক ও সুশৃঙ্খল এক দ্বীপ ছিল আটলান্টিস। অদ্ভুত সব আবিষ্কার, সুন্দর সমাজব্যবস্থা ও আধুনিক জীবনধারা সবই ছিল আটলান্টিসবাসীর কাছে। প্লেটোই বর্ণনা দিয়েছেন, প্রায় ১২ হাজার বছর আগে, শেষ বরফ যুগের আগে ভয়াবহ এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে হারিয়ে যায় আটলান্টিস।
    
পম্পেই
ছোট এই শহরটি ইতালির কাম্পানিয়া অঞ্চলের আধুনিক নাপোলির কাছে পম্পেই ইউনিয়নে অবস্থিত ছিল। ৬০ ফুট উঁচু ছাই ও ঝামাপাথরের নিচে চাপা পড়ে এই শহরটি ধ্বংস হয়ে যায়। এর কারণ ছিল ৭৯ খ্রিস্টাব্দে ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির দুই দিন ব্যাপী অগ্নুৎপাত। অবশ্য এর আগে ৬২ খ্রিস্টাব্দে ভয়াবহ এক ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল পম্পেই শহরটির উপর। ভূমিকম্পের পর পুণরায় শহরটিকে নির্মাণ করা হয়। ঠিক এর ১৭ বছর পরই অগ্নুৎপাত আঘাত হানে শহরটির উপর। প্রাচুর্যে ভরা পম্পেই নগরী লাভার নিচে পড়ে ধ্বংস হয়ে যায়। ১৫৯৯ সালের দিকে পম্পেইয়ের একটি অংশ মাটি থেকে বেরিয়ে আসে। তারপর পুনঃখননের ফলে বেরিয়ে আসে হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস। তবে এটি সম্পূর্ণরূপে আবিষ্কৃত হয় ১৭৪৮ সালে।


পালাঙ্কি
মায়ান সভ্যতা হচ্ছে পৃথিবীর আরেক বিখ্যাত ও রহস্যময় সভ্যতা। মায়ানদের একটি বিখ্যাত শহর ছিল এই পালাঙ্কি শহর। মেক্সিকোর চিয়াপাস রাজ্যের গহীন বনে এই শহরটির অবস্থান ছিল। খ্রিস্টপূর্ব ১ম শতকে এই শহরটি নির্মাণ করা হয়। এই শহরটিতে মায়ানদের স্থাপত্যবিদ্যার দারুন পরিচয় ফুটে ওঠে। ৭০২ সালের দিকে আরেকটি মায়ান শহর তনিনাসের শত্রুতার কারণেই পালাঙ্কি শহরটি বিলুপ্ত হয়েছিল। ২০ শতাব্দীর শুরুর দিকে ফ্রান্স ব্লুম নামে একজন আবিষ্কারক এই শহরটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পান।




এ্যাংকর
৮০২ খ্রিস্টপূর্ব সময়কার অভিজাত ও সমৃদ্ধশালী শহরগুলোর মধ্যে এ্যাংকর ছিল অন্যতম। কম্বোডিয়ার দুর্জন অঞ্চলে এই শহরটির অবস্থান ছিল। খ্রিস্টপূর্ব ৮০২ সালের দিকে কম্বোডিয়া ও তার আশপাশের দেশগুলো ছিল জাভা দ্বীপের সম্রাটের অধীনে। সবগুলোকে একত্রে বলা হতো ‘কম্বুজা’। জয়বর্মণ জাভার সম্রাটের কাছ থেকে এই কম্বুজাকে স্বাধীন করেন এবং নির্মাণ করেন নতুন এ্যাংকর নামের এই শহরটির। আয়তনে নগরটি ছিল বিশাল, আর তাতে তখনই বাস করত প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষ। এই সমৃদ্ধ নগরীর প্রভাব-প্রতিপত্তি ঠাঁট-বাঁট বজায় ছিল বহু বছর। সবশেষে ১৪৩১ সালে অযোধ্যার রাজার কাছে পরাজিত হয়ে ধ্বংস হয়ে যায় অ্যাংকর নগর। ২০০৭ সালে একদল গবেষক উপগ্রহ থেকে তোলা ছবি ও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে প্রমাণ করেন, অ্যাংকর হলো শিল্পযুগের আগে স্থাপিত সবচেয়ে বড় শহর।

পাল্মিরা
সিরিয়ার মরুভূমিতে অবস্থিত এই শহরটি পৃথিবীর ইতিহাসে আরেক বিখ্যাত শহর হিসেবে পরিচিত। পাল্মিরার প্রাচীন নাম ছিল তাদমুর। আধুনিকতা ও নান্দনিকতার কারণে এই শহরটি ‘দ্যা ব্রাইড অব দ্যা ডেজার্ট’ নামে পরিচিত ছিল। ১৬ শতকের দিকে নান্দনিক এই শহরটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও ওখানকার আদিবাসীদের কাছে এটি এখনো তাদমুর নামেই পরিচিত।
  

অদ্ভুতুড়ে 10:46 AM
বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম আন্তর্জাতিক সেতু হিসেবে যে সেতু খ্যাতি পেয়েছে সেই সেতুটি কানাডা ও আমেরিকার দুটি দ্বীপ এই সেতু দিয়ে সংযুক্ত।

কানাডা ও আমেরিকার দুটি দ্বীপের মধ্যের এই সেতুর দৈর্ঘ মাত্র ৩ মিটার বা ১০ ফুটের মতো। কিন্তু এই ক্ষুদ্র সেতুটিই সংযোগ ঘটিয়েছে দুটি দেশের। অর্থাৎ এটি বিশ্বের ক্ষুদ্রতম আন্তর্জাতিক সেতু। দুটো ছোট ছোট দ্বীপ এই সেতু দিয়ে জোড়া। কানাডা ও আমেরিকার দুটি দ্বীপ এই সেতু দিয়ে সংযুক্ত।

দুটি দ্বীপের মধ্যে বড় দ্বীপটিতে আছে মাত্র একটা বাড়ী যা কানাডার অংশ আর আমেরিকার অংশ ছোট দ্বীপে কোন বাড়ী ঘরদ্বোর নেই। দ্বীপ দুটো হল জাভিকন আইল্যান্ড এবং লিটল জাভিকন আইল্যান্ড।

একটি খুব মজার কাহিনী এই দ্বীপ দুটিকে নিয়ে। এখানে প্রচলিত হয়ে গেছে যে, কানাডার অংশের দ্বীপের মালিক স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে মাঝে মাঝে দেশত্যাগ করতেন অর্থাৎ বড় দ্বীপ থেকে ছোট দ্বীপে গিয়ে সময় কাটাতেন।

তবে কাহিনী যাই হোক দুটি দ্বীপের দৃশ্যই অত্যন্ত মনোরম। যে কেও এখানে এলে জীবনের জন্য একটি ভালো উপহার পাবেন- এমনটাই অনেকের ধারণা।

Powered by Blogger.