Showing posts with label আইন-আদালত. Show all posts

অদ্ভুতুড়ে 1:53 AM

২০০৫ সালে লক্ষ্মীপুর জেলা জজ আদালতে বোমা হামলার ঘটনায় দুই মামলায় জেএমবি সদস্য মাসুমুর রহমান মাসুমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।


মাসুম এবং রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানি নিয়ে বুধবার (০৬ এপ্রিল) প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন।

একইসঙ্গে ওই দুই মামলায় জেএমবির অপর সদস্য আমজাদ আলীকে খালাস দিয়ে হাইকোর্টের রায় বাতিল করে মামলা পুনর্বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

আদালতে মাসুমের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. দেলোয়ার হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শশাঙ্ক শেখর সরকার।

জানা যায়, ২০০৫ মালের ৩ অক্টোবর লক্ষ্মীপুর জেলা জজ আদালতের যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে বিচার চলাকালে বোমা হামলা চালায় জেএমবির সদস্যরা। এ হামলায় ওই আদালতের বিচারক এম এ সুফিয়ান, বেঞ্চ অফিসার মো. শফিকুল্লাহসহ কয়েকজন বিচারপ্রার্থী গুরুতর আহত হন। তাদের মধ্যে পরে মজিবুল হক নামে এক বিচারপ্রার্থী মারা যান।

ওই দিনই জেলা আদালতের নাজির বজলুর রহমান লক্ষ্মীপুর থানায় মামলা করেন। এ দুই মামলায় লক্ষ্মীপুরের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২০০৬ সালের ১৫ আগস্ট মাসুম, আতাউর রহমান সানী ও আমজাদ আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
এর মধ্যে অন্য মামলায় সানীর ফাসি কার্যকর হয়।

বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। পাশাপাশি তাদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য নথি হাইকোর্টে আসে।

দুই আসামির আপিল ও ডেথরেফারেন্সর ওপর শুনানি শেষে ২০১৩ সালে হাইকোর্ট মাসুমের মৃত্যুদণ্ড বহাল ও আমজাদ আলীকে খালাস দেন।

পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে মাসুম এবং আমজাদ আলীর খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

রায়ের পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শশাঙ্ক শেখর সরকার বলেন, দুই মামলায় আপিল বিভাগ মাসুমের আপিল খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন। আমজাদ আলীর ক্ষেত্রে আপিল বিভাগ ওই দুই মামলায় পুনর্বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন। এ কারণে আমজাদ আলীকে কমডেম সেল থেকে কারাগারে স্থানান্তর করতে বলেছেন আপিল বিভাগ।

অদ্ভুতুড়ে 1:24 AM



জগন্নাথ বিশ্ববাদ্যালয় (জবি): জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজিমউদ্দিনকে হত্যার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে ও আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন জবি শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (০৭ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে জবির প্রধান ফটকের সামনে এ বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।
এর আগে একইদিন সকালে একটি বিক্ষোভ মিছিল ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে পুরান ঢাকার, শাখারী বাজার মোড়, লক্ষ্মীবাজার ও বাহাদুর শাহ পার্ক প্রদক্ষিণ করে। পরে প্রশাসিনক দফতরের সামনে অবস্থান গ্রহণ করেন শিক্ষার্থীরা।


 
বিক্ষোভে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরাও একাত্মতা ঘোষণা করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলছিল।

বুধবার (০৬ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর সূত্রাপুরে একরামপুর মোড় এলাকায় খুন হন জবির আইন বিভাগের মাস্টার্স শিক্ষার্থী নাজিম। তিনি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার আব্দুস সামাদের ছেলে।

অদ্ভুতুড়ে 12:13 AM

চট্টগ্রাম: বেসরকারি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্রতা রক্ষার জন্য সর্বাত্মক ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত এবং সর্বোচ্চ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পিছপা হবেন না বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা ও বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

মঙ্গলবার (০৫ এপ্রিল) সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে থাকা মহিউদ্দিন চৌধুরীর একান্ত সচিব মুহাম্মদ ওসমান গনির পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমি মাঠের মানুষ। আজীবন রাজনীতি করে গেছি লাঞ্ছিত-বঞ্চিত মানবতার অধিকারের জন্য। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন থাকলেও পরাধীন মাতৃভূমিতে আমাদের জন্য উপরে ওঠার সিঁড়ি পর্যাপ্ত ছিল না। তাই আমাদের আগামী প্রজন্মের সন্তানরা যেন বিশ্বব্রহ্মাণ্ড প্রদক্ষিণের যাত্রা শুরু করতে পারে, যে জন্য প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। এ যেন এক নতুন সূর্যোদয়। এই সূর্যের আলোকপানে আকাশসম প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে পুরো চট্টগ্রাম। এই আলোতে পথচলার প্রত্যয়কে বুকে ধারণ করেছে এই শহরের মানুষগুলো। সুন্দরতম মঙ্গলপানে তাকিয়ে আছে নগরবাসী। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় যেন মঙ্গলগ্রহের ভূমিতে ছুটে চলা মার্স পথফাইন্ডার। ব্যক্তি ও গোষ্ঠী  স্বার্থ কেন্দ্রিক সমাজ ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এরূপ প্রাগ্রসর জনকল্যাণমুখী চিন্তা ও বাস্তবায়ন ব্রিটিশ লেখিকা জেকে রাউলিং রচিত ঐন্দ্রজালিক ‘হ্যারি পটার’ কাহিনিকেও হার মানিয়েছে। এটা চট্টগ্রামের প্রতিটি মানুষ তথা দেশের মানুষেরই জয়যাত্রা।

প্রাচীনকাল থেকে চট্টগ্রাম ব্যবসা বাণিজ্যেও প্রাণকেন্দ্র। পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন বন্দরনগরী। একটি কিংবদন্তি চালু আছে যে, শ্রীলংকার গোড়াপত্তনকারী রাজা বিজয় সিংহ চট্টগ্রাম হয়ে সিলনে যান। সিলন এবং পরবর্তীতে শ্রীলংকা শব্দটি তার নাম থেকে এসেছে। বিখ্যাত পরিব্রাজক মার্কো পোলো ও ইবনে বতুতা চট্টগ্রাম ভ্রমণে আসেন। তারা উভয়ে আমাদের প্রিয় এই নগরীর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। পর্তুগিজ বণিকরা চট্টগ্রাম বন্দরকে পোর্তগ্রান্ডে বা বড় বন্দর বলে আখ্যায়িত করেছিল। ব্যবসা হলো বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি। ব্যবসা বাণিজ্যের যথাযথ গতি প্রকৃতির ওপর যে কোনো দেশের জাতীয় উন্নয়ন নির্ভর করে। ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবসার প্রতি চট্টগ্রামের মানুষের আকর্ষণ দুর্নিবার। চাকরি এবং চাকরির নিমিত্তে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে চট্টগ্রামের মানুষের মধ্যে একটা নেতিবাচক মনোভাব কাজ করে। সেই হিসেবে এই অঞ্চলে ব্যবসায় প্রশাসন ও অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাঠদান একটি দুঃসাহসী পদক্ষেপ।

দৃঢ়ভাবে আশা করা যায় ব্যবসা ও শিল্প-বাণিজ্যে দুঃসাহসিক ঝুঁকি গ্রহণে আমাদের ছাত্ররা কলম্বাস, ভাস্কো-দা-গামা কিংবা সিন্দাবাদের চেয়ে পিছিয়ে থাকবে না। সেদিন হয়তো বেশি দূরে নয়, যেদিন আমাদের ছাত্রদের মধ্যে থেকে উঠে আসবে ওয়ারেন বাফেটের মতো মানবতাবাদী ধনী লোক। এই মানুষটি কেবল সফল শিল্প-বাণিজ্য উদ্যোক্তাই নন, বরং গভীর মানবতা বোধ সম্পন্ন। মি. বাফেট ২০০৮ সালে মেক্সিকোর ধনকুবের কার্লোস স্লিম ও মাইক্রোসফটের কর্ণধার বিল গেইটস্কে পেছনে ফেলে সর্বশ্রেষ্ঠ ধনী হিসেবে স্বীকৃতি পান। কিন্তু অত্যন্ত সহজ সরল জীবনযাপনে অভ্যস্ত এই মানুটি পরম মমতা ও সেবামূলক মন নিয়ে দরিদ্র-অসহায় মানুষের জন্য অকাতরে খরচ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে এই দরদি মানুষটি কোনো ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী ব্যবহার করেন না। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে-তার কোন মোবাইল ফোন নেই। এমন কি তিনি কোনো ডেস্কটপ কিংবা ল্যাপটপ কম্পিউটারও ব্যবহার করেন না।

বিশ্বখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিক ড. অনুপম সেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য। তিনি একজন জ্ঞানতাপস। জ্ঞানচর্চা এবং পাঠদান তার রক্তের শিরা-উপশিরায় মিশে আছে প্রজন্ম পরম্পরায়। এমন কি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার পূর্বপুরুষ কর্তৃক সমৃদ্ধ ও উপকৃত হয়েছিলেন। তার প্রমাতামহ পণ্ডিত শরৎচন্দ্র ব্রিটিশ ভারতের দূত হিসেবে তিব্বত সফরে গিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে বৌদ্ধ ধর্মের অতি মূল্যবান প্রাচীন দলিল ও মহাকবি ক্ষেমেন্দ্রের ‘বোধিসত্ত্ব অবদান’ উদ্ধার করেন। তিনি বোধিসত্ত্ব অবদান অনুবাদ করেন। এই অনূদিত গ্রন্থকে অবলম্বন করে কবিগুরু বেশ কিছু নৃত্যনাট্য ও কবিতা রচনা করেন।

এই কথাগুলো বলার অর্থ হলো এটা বোঝানো যে, ড. অনুপম সেন আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যেও জীবন্ত স্মৃতিচিহ্ন। যদিও বা এই স্মৃতিচিহ্ন রক্তে-মাংসে গড়া। প্রাকৃতিক সূর্য উদিত হয় জাপানে। আর জ্ঞানের সূর্য যেন সদা উদীয়মান আমাদের প্রিমিয়ার বিশ্বিবিদ্যালয়ে। তিনি অনবরত বলে চলেছেন; লিখে চলেছেন-জাতীয় ঐতিহ্য ও গৌরবগাথা। গেয়ে যাচ্ছেন মানুষ ও মানবতার জয়গান। কী আকুতি! কী আবেগ সেই কথায়! প্রাচীন গ্রিক শিক্ষাকেন্দ্র লাইসিয়াম এ পড়ানোর আগে এরিস্টটল বিশ্বজয়ী আলেকজান্ডারকে পড়িয়েছিলেন। সেন স্যারও হয়তো খুঁজে ফিরেছেন-ভবিষ্যতের বিশ্বজয়ী বীরদের। জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতিসহ জীবনের সর্বক্ষেত্রে থাকবে এই বীরদের বিচরণ। কৃষ্ণাঙ্গ বারাক ওবামা পর পর দুইবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। এ যেন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র হিসেবে আমিও সর্বজনীনকে সেই স্বপ্ন ধারণ করেছিলাম। আর সেন স্যারের মতো মানুষ যেন স্বপ্ন পূরণের সারথি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীনে পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত সেবকের সন্তানেরাও আজ প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারছে।

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্রছাত্রী, সম্মানিত অভিভাবকগণ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর ধ্যান-জ্ঞান ও আবেগের কেন্দ্রবিন্দু যেন এই বিশ্ববিদ্যালয়। সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, এই বিশ্ববিদ্যালয় সঠিক ও সুন্দর মানুষগুলোর এক সম্মিলিত পরিবার। তাই সোহেলের মৃত্যু কেবল একটি মৃত্যুই নয়। তার মৃত্যুতে আমিও সন্তান হারা হয়েছি। তাকে কেন্দ্র করে কিছু কুচক্রী মহল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ধ্বংস করতে চেয়েছিল। নগরবাসীকে জিম্মি করে চেয়েছিল পুরো নগরকে ধ্বংস করতে। কিন্তু সচেতন এবং ন্যায়পন্থী চট্টলবাসী সেই ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছে। আমি বয়োবৃদ্ধ হলেও বুড়ো হয়ে যাইনি, আমি প্রবীণ হলেও বয়স্ক হইনি। যেকোনো ন্যায়মুখী সংগ্রামে আমি চট্টলবাসীর সাথে ছিলাম, আছি এবং থাকব। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি।

যুদ্ধাপরাধের বিচার নিশ্চিত করার জন্য এখনো রাজপথে আছি। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছি। কিছু কুচক্রী মাফিয়া আমাদের পরাস্ত করতে পারবে না। আমার সন্তান সোহেলের মৃত্যুতে সম্মানিত অভিভাবকগণ, আমাদের ছেলে-মেয়েরা, চট্টগ্রামবাসী এবং সুশীল সমাজকে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হতে দেখেছি। আমি তাদের দৃঢ় কণ্ঠে শুনাতে চাই-প্রিমিয়ার আপনাদেরই ভালোবাসার উজ্জ্বল সূর্য সন্তান। এটার আলো মুহূর্তের জন্যও নিভতে পারে না। আমরা গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিয়েছি। প্রশাসনিক কাজ এবং ক্লাস পুরোদমে চলছে। তবে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চালানো পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞের অ‌্যাসেসমেন্টের স্বার্থে প্রশাসনের পরামর্শে ব্যবসায় প্রশাসন আরও কয়েকদিন পর খুলে দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বীর ও ন্যায়পন্থী চট্টলাবাসী, সম্মানিত অভিভাবকগণ, শিক্ষার্থীরা ও সুশীল সমাজ ঘটনার পর যে অসাধারণ ধৈর্য, সাহস ও দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করেছেন তাতে তাদের এটা নতুন করে বলার দরকার নেই যে, আপনারা কোনো রূপ ভয় পাবেন না কিংবা আপনারা আতঙ্কিত হবেন না। বরং আমার মতো একজন মুক্তিযোদ্ধাকে আপনারা মুগ্ধ করেছেন। কিছু সংখ্যক বহিরাগত অবুঝ ছেলে অভদ্রতার প্রতিবাদে চট্টলবাসী এবং আমাদের সন্তানরা যে ভদ্রোচিত জবাব দিয়েছে তা-ও জাতির জন্য শিক্ষণীয়। অসুন্দর কখনো সুন্দর পরাস্ত করতে পারে না।

অসভ্যতা কখনো সভ্যতা হারাতে পারে না। অসত্য কখনো সত্যের ওপর বিজয় অর্জন করতে পারে না। আমি দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করছি-আমাদের সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আমৃত্যু লড়াই করে যাব। আর প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের শহরে পবিত্র জ্ঞানকেন্দ্রের আলোকিত শোভাযাত্রা যেখানে ভদ্রতা-সভ্যতা শিক্ষা দেওয়া হয়।

অদ্ভুতুড়ে 11:55 PM

গণ্ডামারায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত গ্রামবাসীর ওপর নির্বিচারে গুলি ও হতাহতের ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার বাঁশখালীতে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছিল ছাত্র ঐক্য ফোরাম।


তবে হরতালের ডাক দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে ঐক্য ফোরাম। সকাল থেকে মাঠে নেই কেউ। অন্যদিকে স্বাভাবিক রয়েছে বাঁশখালী উপজেলার পরিস্থিতি।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বপন কুমার মজুদার বাংলানিউজকে বলেন, সকাল থেকেই বাঁশখালী উপজেলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। হরতালের কোন প্রভাব নেই। হরতালের সমর্থনে কাউকে মিছিল-মিটিং করতে দেখা যায়নি।
মঙ্গলবার (০৫ এপ্রিল) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে হরতালের ডাক দেন ফোরামের আহ্বায়ক শাহনেওয়াজ চৌধুরী। বুধবার সকাল থেকে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

সোমবার (০৪ এপ্রিল) স্থানীয় হাজীপাড়া স্কুল মাঠে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পক্ষে-বিপক্ষে দুই গ্রুপের সমাবেশকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।

এরপরও দুপক্ষের লোকজন সমাবেশস্থলে এলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। এ সময় গ্রামবাসী, আনসার ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। তবে স্থানীয় লোকজনের দাবি, তারা ১৪৪ ধারা জারির বিষয়ে কিছুই জানতেন না। সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ মোট ৪ জন নিহত এবং ১১ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় বাঁশখালী থানায় তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে।

অদ্ভুতুড়ে 10:37 PM

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মামলায় জামিন চাইতে আদালতে পৌঁছেছেন দেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।


মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৯টায় তিনি গুলশানের বাসা থেকে আদালতের উদ্দেশে রওয়ানা দেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

অদ্ভুতুড়ে 10:35 PM

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মামলায় জামিন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।


রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রোল বোমা মেরে যাত্রী হত্যা মামলায় আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করলে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

অদ্ভুতুড়ে 10:22 PM

চলমান এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই দেখাদেখি করার অপরাধে এক পরীক্ষার্থীকে ঘাড় দিলে আলোড়ন জাগালেন রাজধানীর এক শিক্ষক। আইডিয়াল কলেজে এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষা চলাকালে মোতাহার নামে ওই ছাত্রটি উবু হয়ে তার সামনে বসা এক ছাত্রীর খাতা দেখার চেষ্টা করে। বিষয়টি হলের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক খস্তগীর আলমের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি ছাত্রটির কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন, 'তুই দুধ দেখলি ক্যান?'
মোতাহার তৎক্ষণাত দুধ দেখার কথা অস্বীকার করে খাতা দেখার কথা বললেও অন্যান্য পরীক্ষার্থীসহ প্রায় সকলেই ছিলো তার বিপক্ষে। তখন ওই শিক্ষক বাধ্য হয়ে মোতাহারের গায়ে হাত তোলেন। এবং মোতাহারকে ধরে কিছুক্ষণ ঘাড়াতে থাকেন।
এদিকে মোতাহারের মা প্রথম আলু সাংবাদিককে ফোন করে জানিয়েছেন ভিন্নকথা। তিনি বলেন, 'মোতাহারকে আসলে ফিটিং দেয়া হয়েছে। মোতাহারের কোনো দোষ ছিলো না। মোতাহার এমন ছেলে না। মেয়ে পরীক্ষার্থীদের সামনে হিরো হবার জন্য ওই শিক্ষক একাজটি করেছেন। তার চক্রান্তের অংশ হিসেবে বলির পাঠা হয়েছে মোতাহার।'
এঘটনায় মোতাহার চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবী জানিয়ে সরকারের উদ্দেশ্যে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তার এই দাবীতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত হবে কিনা, তা নিয়ে এখনো নীরব রয়েছে শিক্ষাবোর্ড।

অদ্ভুতুড়ে 6:06 AM

মধ্য আমেরিকার দেশ পানামার একটি ল’ ফার্মের এক কোটি ১০ লাখ গোপন নথি ফাঁস হয়ে গেছে। আর এতে খসে পড়েছে বিশ্বের লুটেরা নেতাদের গোমর, যারা কর ফাঁকিসহ জালিয়াতি-লুটতরাজ করে গোপনে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। ‍

 
এদের মধ্যে রয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, সৌদি আরবের একজন বাদশাহ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ, মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক, লিবিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফি, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ও আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ডুর গুনলাউগসনের মতো লোকেরা। রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ কেউ কেউও। এমনকি ফুটবল বিস্ময় লিওনেল মেসি, বলিউডের কয়েকজন খ্যাতিমান তারকা, ভারতের কিছু শিল্পপতিও রয়েছেন। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন চলছে।

মোস্যাক ফনসেকা নামে নামে ওই ল’ ফার্মটির ফাঁস হওয়া নথিগুলো এখন নিরীক্ষা করছে বিশ্বের শীর্ষ সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলো। এ নিয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গোপনীয়তা রক্ষা করে কার্যক্রম চালানো প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মোস্যাক ফনসেকা অন্যতম। ফাঁস হওয়া নথিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, কীভাবে গোপনীয়তার আড়ালে ল’ ফার্মটি বিশ্বনেতাদের অর্থপাচার, নিষেধাজ্ঞা এড়ানো এবং কর ফাঁকিতে সহযোগিতা করেছে।

ফাঁস হওয়া নথিগুলোতে আরও উঠে এসেছে, স্বৈরশাসকসহ বিশ্বের সাবেক বা বর্তমান ৭২ রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের নিজেদের দেশ থেকে অর্থ লোপাটের ভয়াবহ চিত্র। এদের পাশাপাশি উঠে এসেছে শিল্পপতি, খেলোয়াড়, রুপালি পর্দার তারকা, বিশেষ ব্যক্তিত্বদেরও অর্থ কেলেঙ্কারির তথ্য।

যদিও মোস্যাক ফনসেকার দাবি, তারা বিগত ৪০ বছর ধরে সব প্রশ্নের উর্ধ্বে থেকে কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং সে কারণে কখনোই তাদের অভিযুক্ত হতে হয়নি।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন আইসিআইজে’র ডিরেক্টর জেরার্ড রাইল বলেন, নথিগুলোতে মোস্যাকের গত ৪০ বছরের প্রতিদিনকার কার্যক্রমের তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। যদি নথিগুলোর সত্যতা নিশ্চিত হয়, তবে তা  পুরো বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেবে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নাম সরাসরি কোনো নথিতে দেখা না গেলেও তার বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ একটি অর্থপাচার চক্রে জড়িত বলে স্পষ্ট হয়েছে। আর ওই চক্রের লোকেরা এক্ষেত্রে ব্যবহার করছিলেন একটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংককে।

তবে নথিগুলোর বিষয়ে তৎক্ষণাৎ কোনো মন্তব্য আসেনি অভিযুক্ত বিশ্বনেতা বা তারকাদের তরফ থেকে।

অদ্ভুতুড়ে 6:03 AM

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুজন মৃধা হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। এ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে পথচারীরা দুর্ভোগে পড়েন।


সোমবার (০৪ এপ্রিল) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে শাহবাগ মোড়ের রাস্তা অবরোধ ছিলো।


 
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সুজন হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক, সেই দাবিতে আমরা রাস্তায় নেমেছি।’

এদিকে, শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বাংলানিউজকে বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির পক্ষে আন্দোলন করছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করলে পুলিশ কোনো বাধা দেবে না।

অবরোধ চলকালে সুজন হত্যার বিচারের দাবিতে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক সৈকত কুমার রিপি বলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’


 
সুজনের নামে যে ব্যালট বাক্স চুরি আভিযোগ উঠেছে, তা মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক উল্লেখ তার পরিবারের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তিনি।

গত ৩১ মার্চ দেশে দ্বিতীয় দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলাকালে গুলির ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সুজন মৃধা নিহত হন। নিহত সুজনের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার দুরাইল ইউনিয়নে।

ওই গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল, কনস্টেবল মাসুদ ও হারুন অর-রশিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।

মঙ্গলবার (০৫ এপ্রিল) সকাল ১১টায় একই দাবিতে শাহবাগ মোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও জানান তারা।

অদ্ভুতুড়ে 6:00 AM

হত্যার শিকার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুর প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের (কুমেক) ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কামুদা প্রসাদ সাহা। সোমবার (৪ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে তিনি এ তথ্য জানান।


উল্লেখ্য, ২০ মার্চ রাতে তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ওই দিনগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জেলার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাড়িতে তনুকে দাফন করা হয়। হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পর মামলাটি কুমিল্লা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হলে মরদেহ পুনঃময়নাতদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর আলম এ আবেদন করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জয়নাব বেগম মরদেহ উত্তোলনের আদেশ দেন। ৩০ মার্চ বেলা পৌনে ১২টায় তনুর মরদেহ উত্তোলন করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পুনঃময়নাতদন্ত করে ওই দিনই পুনরায় দাফন করা হয়। এদিকে, ২৯ মার্চ মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অদ্ভুতুড়ে 4:35 AM

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ ছিটকে গিয়েছে ঠিকই, কিন্তু তারা গোটা ক্রিকেটবিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে ‘দে আর রাইজিং’। ফিল্ডিং হোক বা বোলিংয়ে যে ভাবে বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করেছে প্রতিপক্ষ দলগুলিও এক বাক্যে তা স্বীকার করেছে। যেমন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মুস্তাফিজুর রহমান যে ভাবে আগুন ঝরালেন বোলিংয়ে তাতে কিউয়ি ব্যাটসম্যানরাও আশ্চর্য। মাত্র ২২ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে সকলকে চমকে দেন তিনি। কলিন মানরো তো বলেই ফেলেন, “আসাধারণ বোলার মুস্তাফিজুর।” সত্যিই অসাধারণ। বাঁহাতি এই পেসারকে সামলাতে গিয়ে রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হয়েছে উইলিয়ামসন, রস টেলরদের। কিউয়ি অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনও মুস্তাফিজুরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সাংবাদিক সম্মেলনে রস টেলর বলেন, “যে ব্যাটসম্যান আগে মুস্তাফিজুরকে খেলেননি, তাঁর পক্ষে ওঁকে খেলাটা মুশকিল। ওঁর মধ্যে একটা ইউনিক অ্যাকশন আছে।”


বাংলাদেশের বোলিং নিয়ে এর আগেও অনেক আলোচনা হয়েছে। যে ভাবে স্ট্রং বোলিং সাইড তৈরি করেছেন কোচ হাতুরুসিংহে, তা প্রশংসিত। বিশ্বের বাঘা বাঘা দলগুলির বিরুদ্ধে যে ভাবে আগুন ঝরিয়েছেন তাসকিন-সানি-মুস্তাফিজুররা পরবর্তীকালে দলগুলিকে এ দিক থেকে টাইগারদের অনেকটাই সমীহ করে চলতে হবে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টাইগাররা হেরেছে ঠিকই, কিন্তু মুস্তাফিজুর সানি-তাসকিনের অভাবটা অনেকটাই পূরণ করতে পেরেছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অদ্ভুতুড়ে 5:28 AM

বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম "ইসলাম" বহাল রেখে ২৯ বছর পূর্বে দায়ের করা একটি রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের নির্দেশে বলা হয়েছে যে সংগঠনের ব্যানারে রিটটি করা হয়েছিল, তাদের রিট করার এক্তিয়ার নেই। 


বিচারপতি নাইমা হায়দারের নেতৃত্বে হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ শুনানি করে আজ আবেদনটি খারিজ করে দেন। এ বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো.আশরাফুল কামাল।

এ দিকে, এ রিটের শুনানিকে ঘিরে জামাতে ইসলামি আজ গোটা দেশে আগাম হরতালের ডাক দেয়। একই সঙ্গে হেফাজতে ইসলামও দেশ অচল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছিল। হেফাজতের হুমকিতে বলা হয়েছিল, সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্মের অনুচ্ছেদ বিলোপ বা বতিল করে রায় শোনানো হলে, তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলন শুরু করবে। এ অবস্থায় আজ গোটা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়। তবে, জামাতের ডাকে হরতালে তেমন সাড়া মেলেনি। প্রায় সর্বত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক ছিল। কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

১৯৮৮ সালের ৫ জুন তদানীন্তন সামরিক শাসক হুসেইন মহম্মদ এরশাদের শাসনকালে সংবিধানের ‘অষ্টম সংশোধনী’ যুক্ত করা হয়। নতুন ওই সংশোধনীতে বলা হয়েছিল, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম হবে ইসলাম, তবে অন্যান্য ধর্মও প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাইবে’।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে এই পরিবর্তনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তখনই ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটির’ পক্ষে সাবেক প্রধান বিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেন, কবি সুফিয়া কামাল, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী-সহ ১৫ বিশিষ্ট নাগরিক হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, “বাংলাদেশে নানা ধর্মবিশ্বাসের মানুষ বাস করেন। এটি সংবিধানের মূল স্তম্ভে বলা হয়েছে। এখানে রাষ্ট্রধর্ম করে অন্য ধর্মকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি বাংলাদেশের অভিন্ন জাতীয় চরিত্রের প্রতি ধ্বংসাত্মক।”

পরে, রিট আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে ২০১১ সালের ৮ জুন একটি সম্পূরক আবেদন করা হয়। তার প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সে দিনই বিচারপতি এ এইচ এমশামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি গোবিন্দচন্দ্র ঠাকুরের তৎকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলিং দেয়। রুলে সংবিধানের ওই সংশোধনীর মাধ্যমে ২ (ক) অন্তর্ভুক্তি কেন অসাংবিধানিক ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং আইন, বিচার ও সংসদ সম্পর্কিত মন্ত্রকের সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এসব রুলের ওপর হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ শুনানির জন্য গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর আবেদন করে বাদীপক্ষ। প্রধান বিচারপতি বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করে দিলে বিষয়টি আজ সোমবার শুনানি শেষে রিটটি খারিজ করা হয়।

অদ্ভুতুড়ে 5:23 AM

অর্থনীতিতে গ্রেশাম’স ল বলে, ‘ব্যাড মানি ড্রাইভস গুড মানি, আউট অব সার্কুলেশন।’ এ বিপদ কম বেশি সব দেশেই। চুরি ডাকাতি দুর্নীতি জালিয়াতির টাকা ধাক্কা দিচ্ছে সাদা টাকাকে। যেখানে যত বেশি কালো টাকার উৎপাত সেখানকার অর্থনীতি তত বেশি ভঙ্গুর। অর্থনৈতিক উন্নয়নে চরম বাধা। বাংলাদেশের বিপন্নতার অন্যতম কারণ এটাই। বন্যার জলের মতো ঢুকছে পেট্রোডলার। সন্ত্রাসবাদী, মৌলবাদীরা যে টাকায় ভাসছে তার উৎস কারও জানা নেই। এ সবই খারাপ টাকা। নিরাপত্তা বাহিনীর সাধ্য নেই এ টাকার হদিশ করার। ইনটেলিজেন্সেরও নাগালের বাইরে। এর ওপর যুক্ত সাইবার জালিয়াতি। 


বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক মানে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কে এমন ঘটনা ঘটেছে। যারা কাজটা করেছে তারা যে এ লাইনে পাকা খেলোয়াড় সন্দেহ নেই। আটঘাট বেঁধে সূক্ষ্ম কারসাজিতে কাজ সেরেছে। ব্যাঙ্কে অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদরা পর্যন্ত টের পাননি। ব্যাঙ্কের গভর্নর আতিউর রহমানও অন্ধকারে। তিনি যখন জানলেন, সব শেষ। ব্যাঙ্কের মার্কিন অ্যাকাউন্ট থেকে খোয়া গেছে ৮ কোটি ১০ লক্ষ ডলার। এত বড় অঙ্কের সাইবার চুরি সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কে কেন, কোনও ব্যাঙ্কেই ঘটেনি। সরকারও ঘটনাটা জেনেছে অনেক পরে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিথ অভিযোগ করেছেন, ঘটনা এক মাস পরে পর্যন্ত তাঁকে এই খবর জানানই হয়নি। তিনি জানলেন বহু দেরিতে। এটা অবশ্যই গভর্নর রহমানের অমার্জনীয় অপরাধ। সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক মানে সরকারের ব্যাঙ্ক। শুধু তাই নয়, এটা ব্যাঙ্ক অব অল ব্যাঙ্কার্স। সেখানে একটা মারাত্মক চুরির পর কর্মকর্তারা চুপ করে থাকবে? সরকারকে জানাবে না? সেটা কী করে হয়! কোনও বাড়িতে সামান্য চুরি হলেও তো পুলিশকে জানান হয়। তার মানে তো সরকারিভাবে চুরির ঘটনা নথিভুক্ত করা। এখানে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের মতো জায়গায় এত বড় জালিয়াতি সরকার জানতেই পারল না।

রহমান গভর্নর পদে ইস্তফা দিয়ে পার পেতে চেয়েছেন। তা হয় না। দায়িত্ব স্বীকার করলেও অব্যাহতি মেলে না। সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের সিস্টেমে এত বড় ফাঁকফোঁকর গভর্নর সেটা জানতেন না। ব্যাঙ্কের কর্ণধারই যদি না জানেন, কে জানবেন। দু’জন ডেপুটি গভর্নরকেও পদচ্যুত করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, টাকাটা ফিলিপিন্সে গেছে। সে যে দেশেই যাক, ঘুরপথে ফের বাংলাদেশে ঢুকবে না, সে গ্যারান্টি কে দেবে! বাংলাদেশের কোনও পাকা সাইবার হ্যাকারের সাহায্য ছাড়া এ কাজ হতেই পারে না। ঠিকঠাক তদন্ত হলে অপরাধীরা ধরা পড়বেই। সময় হয়ত লাগতে পারে।

ব্যাঙ্কের টাকা কালো রাস্তায় ছিটকে যাওয়া আর ঘরের মেয়ে নিষিদ্ধপল্লীতে আশ্রয় নেওয়া একই কথা। টাকাটা তখন ভাল থাকে না, খারাপ হয়ে যায়। যে দেশে ঢুকবে সে দেশের ক্ষতি। বাংলাদেশ অর্থনীতি দুর্গম রাস্তা বেয়ে ওপরে উঠতে চাইছে। দরিদ্র দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশ হওয়াটাই তাদের পরীক্ষা। সেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কেই যদি গভীর গহ্বর তৈরি হয়, এগোনোর পথই তো পিচ্ছিল হবে। রহমান ২০০৯ থেকে গভর্নর। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় ব্যাঙ্কের নাড়ি-নক্ষত্র তাঁর জানা উচিত ছিল। তিনি কৃষি ও মহিলা উদ্যোগের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাঁর সময় বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারও বেড়েছে। সেই সঙ্গে এটাও মানতে হয়, এত বড় সাইবার চুরির সাক্ষীও তিনি। যা সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের মতো জায়গায় কল্পনাতীত। প্রাক্তন অর্থ সচিব ফজলে কবীর নতুন গভর্নর হয়েছেন। তাঁর এখন প্রধান কাজ হৃত অর্থ উদ্ধার। এখনও সময় আছে পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আগে খারাপ টাকাটা ভাল করার।

অদ্ভুতুড়ে 5:19 AM

তিনি ডাক দিয়েছিলেন অবরোধের। সেই অবরোধ চলাকালীন বাস ও গাড়িতে আগুনে বোমায় মারা যান অজস্র মানুষ। যশোরে ঝলসে মারা যায় গাড়ি বোঝাই গরুও। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত বুধবার তাই বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল। প্রাক্তন এই প্রধানমন্ত্রীর দলের অন্য ২৭ নেতা-কর্মীকেও গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক কামরুল হোসেন মোল্লা।

খালেদাকে গ্রেফতারে পরোয়ানা

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া গত বছর ৫ জানুয়ারি অবরোধের ডাক দেওয়ার পরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের ওপর পেট্রোল বোমা হামলায় কয়েকশো মানুষ মারা যান। আগুনে পুড়ে ভয়ানক ভাবে জখন হন আরও কয়েকশো মানুষ। জানুয়ারির ২৩ তারিখে ঢাকার যাত্রাবাড়ির কাঠের পুল এলাকায় একটি বাসে আগুনে বোমা হামলায় বেশ কয়েক জন হতাহত হন। পুলিশ খালেদা-সহ বিএনপি-র ২৮ নেতা-কর্মীকে আসামি করে মামলা করে। বিএনপি অবশ্য আগাগোড়া মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ বলে এসেছে।

সরকারি আইনজীবী তাপসকুমার পাল বুধবার জানিয়েছেন, বিচারক আসামিদের শুধু গ্রেফতার করারই নির্দেশ দেননি, সে নির্দেশ পালন হলো কিনা— ২৭ এপ্রিলের মধ্যে পুলিশকে তা জানাতে বলেছেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি বড়সড় দুর্নীতির মামলাও আদালতে বিচারাধীন।

অদ্ভুতুড়ে 2:21 AM

সাতক্ষীরার গায়ে সোনাই নদী। ওপারে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর। পারাপার রুখতে সীমান্ত রক্ষীরা তৎপর। দু’টি সীমান্ত অঞ্চল সামলাতে ব্যতিব্যস্ত নিরাপত্তা কর্মীরা। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে চোখ রাখা হয় যাতে সাতক্ষীরার লোক নদী পেরিয়ে হাকিমপুরে না ঢোকে। বাংলাদেশে ভোট হলেও সাতক্ষীরার ওপর চলে বিশেষ নজরদারি। 


এ বার ২২ মার্চ ইউপি’র প্রথম পর্বের নির্বাচনে সেটাই করা হয়েছিল। শেষ রক্ষা হল কই। ভোটের আগের দিন রাতেই দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব। ছাপ্পা ভোটে ব্যালট বাক্স ভর্তির প্রয়াস। ওরা ওরকমই। সুষ্ঠুভাবে ভোট হোক চায় না। তাদের উপদ্রবে ভোট উৎসব পণ্ড। দু’বছর আগেও মৌলবাদ, সন্ত্রাসের ডেরা ছিল সাতক্ষীরা। কঠিন অপারেশনে সেটা ভেঙেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুষ্কৃতীদের অবশিষ্ট এখনও পড়ে আছে।

২০টি জেলার নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ৬০০-র বেশি। সংঘাত মূলত বিক্ষুব্ধদের আক্রোশে। আওয়ামি লিগ, বিএনপি’র টিকিট চেয়েও যারা পাননি, তাঁরা বাহুবলে দখলদারি চালিয়েছেন। ক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন হিংসায়। তাঁদের অস্ত্রের অভাব হয়নি। পরিণতিতে ৬৫ কেন্দ্রের ভোট স্থগিত। ৪৭ ইউপিতে ৪৯ প্রার্থীর ভোট বয়কট।

এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনায় অবশ্য মানুষ দমে যাননি। তাঁরা ভোট দিয়েছেন স্বতস্ফূর্তভাবে। কোনও কোনও জায়গায় ভোট পড়েছে ৯০ শতাংশের বেশি। পঞ্চগড়ে শতায়ু উত্তীর্ণ মেহেরন ভোট দিয়েছেন শান্তিতে। তাঁকে কোলে করে বুথে পৌঁছেছেন নাতবউ। বাড়ি থেকে বুথের দূরত্ব কম হওয়ায় ভোট দিতে কোথাও অসুবিধে হয়নি। এই দিনটির জন্য প্রতীক্ষায় ছিল লক্ষ লক্ষ মানুষ। ভোটাধিকারের সুযোগ তারা ছাড়তে নারাজ। আশাপূরণে সন্তুষ্ট। সাধুবাদ জানিয়েছে হাসিনার পুলিশ প্রশাসনকে।

বাংলাদেশে সব নির্বাচনেই ভোটের দিনই ভোট গোনা হয়। ইউপি’র প্রথম দফার ভোটেও তাই হয়েছে। গুণতে গুণতে রাত পেরিয়েছে। তবু থামা নেই। প্রার্থীদের সঙ্গে ভোটাররাও প্রতীক্ষার প্রহর গুনেছেন। ফলাফল যা হওয়ার তাই। বিরোধীদের অনেক পিছনে ফেলে শীর্ষে আওয়ামি লিগ। মানুষের আস্থা যে এখনও তাদের ওপর সেটা প্রমাণিত। বিএনপি’র জয় থমকেছে নিজেদের ভুলে। ভোটের আগে তারা দলটা গোছাতে পারেনি। প্রার্থী নির্বাচনেও আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। মাটির কাছাকাছি থাকা নেতাদের টিকিট না নিয়ে ওপর থেকে প্রার্থী বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিক্ষুব্ধরা গোঁজ প্রার্থী দিয়ে বিএনপি-র ভোট নষ্ট করেছে।

ইউপি ভোটের সবে শুরু। এখনও অনেক বাকি। এরপর ভোট হবে ৩১ মার্চ, ২৩ এপ্রিল, ৭ মে, ২৮ মে, ৪ জুন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ঝামেলার জায়গাগুলোতে প্রথমে ভোট হয়েছে। পরের ভোটে গোলমালের আশঙ্কা কম। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর হবে।

ইউপি নির্বাচন মানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শিকড়ের খোঁজ। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। গণতন্ত্রের পূর্ণ মুক্তি। নির্বাচনে কোন দল জিতল সেটা উল্লেখযোগ্য নয়। সব প্রতিকূলতা হঠিয়ে গণতন্ত্রের জয়টাই বড়। বাংলাদেশ গণতন্ত্রের রাস্তা থেকে যে সরবে না, সেটা স্পষ্ট। এবার পরীক্ষা দ্বিতীয় পর্বের। আগামী বৃহস্পতিবার।

অদ্ভুতুড়ে 12:52 AM

দাফনের ৯ দিন পর বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের কবরস্থান থেকে ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।


তনুর লাশ তোলা হলো ৯ দিন পর


২৮ মার্চ মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ, সুরতহাল তৈরি ও পুনঃময়নাতদন্ত করতে কবর থেকে লাশ উত্তোলনের আদেশ দেন কুমিল্লার একটি আদালত। জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি একেএম মনজুর আলমের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন।

লাশ উত্তোলনের সময় ঢাকা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম, কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন, এ কাজে দায়িত্ব পাওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কুমিল্লা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার, তনুর বাবা ইয়ার হোসেন ও বড় ভাই নাজমুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

কবরস্থানের পাশে মাঠে একটি সামিয়ানা টানানো হয়েছে। সেখানে প্রশাসনের লোকজন অবস্থান করেন। সকাল থেকে কবরস্থানের পাশে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। তাদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যদের বেগ পেতে হয়। যাত্রাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে এসে তনু হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করে।
তনুর বাবা ইয়ার হোসেন সাংবাদিকেদর বলেছেন, ‘তনু হত্যার সঠিক বিচারের জন্য লাশ উত্তোলন করা হচ্ছে বলে প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে। আমি মেয়ে হত্যার সঠিক বিচার চাই।’
কুমিল্লার পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন জানান, লাশ উত্তোলন করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হবে। অধিকতর আলামত সংগ্রহের পর সেখান থেকে আজই আবার লাশ এনে আগের কবরে দাফন করা হবে।

তনুর লাশ তোলা হলো ৯ দিন পর

পরিবার জানায়, গত ২০ মার্চ রাতে তনুকে সেনানিবাস এলাকায় হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ২১ মার্চ সন্ধ্যায় তনুকে তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে দাফন করা হয়। এ বিষয়ে তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী ইয়ার হোসেন ২১ মার্চ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু ঘটনার ১০ দিনেও পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারেনি।

অদ্ভুতুড়ে 11:53 PM

সোহাগী জাহান তনুদের গ্রামের বাড়ি জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের মির্জাপুরে। সেই গ্রামজুড়ে এখন চলছে শোকের মাতম।




তনুর পরিবারে শোকের মাতম - তুই কই গেলিরে মা
তনুর বাবা-মার বুকফাটা আর্তনাদ

 বৃহস্পতিবার সেখানে গিয়েছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মনসুর উদ্দিন এবং সহকারি কমিশনার (ভূমি) আজগর আলী। তনুর কবর জিয়ারত করে পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা।

ইউএনও’কে কাছে পেয়ে জড়িয়ে ধরে বুক ফাটা আর্তনাদ শুরু করেন তনুর বাবা-মা ও স্বজনরা।

তনু হত্যার বিচার দাবিতে রাজপথের পাশাপাশি ফেসবুকেও ঝড় বইছে। সাইফুল্লাহ খালেদ নামে এক তার ওয়ালে লিখেছেন আবেগঘণ এক স্ট্যাটাস।
তনুর পরিবারে শোকের মাতম - তুই কই গেলিরে মা
বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় তনু

তিনি লিখেছেন, ‘সেই তনু এখানে ঘুমিয়ে আছে। বাড়ি থেকে প্রায় ২০ মিনিট পায়ে হেঁটে যেতে হয় তার কবরপ্রাঙ্গণে। রাস্তারে পাশে একটি বিল তার মাঝে একটি উচুঁ ডিবিতে শুয়ে আছে ইয়ার হোসেনের বুকের ধন সোহাগী। আকাশে চাঁদের আলোয় সবুজ মাঠগুলো নরম বিছানার মতো দেখতে। কি ফুরফুরে বাতাস বইছে। হয়তো সোহাগী এখানে শুয়ে আছে তাই।

হাঁটতে হাঁটতে কাঁপা কণ্ঠে ইয়ার হোসেন (তনুর বাবা) বলছেন, বাবা আমার জেঠি আদর করে তার নাম রেখেছিল সোহাগী। সবাই তাকে আদর করতো। আমি আমার মাকে বলতাম মা তোরে আমি বুকের মধ্যে আটকে রাখতে চাই। মেয়েটাকে বুকে টেনে নিতাম। সে বলতো বাবা, আমি তো বড় হয়েছি। তুমি কি পারবে আমাকে সবসময় বুকে রাখতে।

সত্তোর্ধ এক বৃদ্ধ বললেন, ইয়ার হোসেন শহরে চাকরি করে (কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী)। মেয়েটা সবার ছোট। গ্রামে আসতো বছরে একবার। আমরা বলতাম এই মেয়ে একদিন অনেক বড় অফিসার হবে। ...বলতে বলতে গলা বসে গেল বোবাকান্নায়। চোখ মুছতে মুছতে বলছেন... আল্লাহ তুমি এর বিচার করো।
বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় তনু

প্রতিদিন মির্জানগরের এ পথ ধরে যারা হেঁটে যাবেন তারা হয়তো ক’দিন পরই ভুলে যাবেন বিলের পরে ওই কবরখানায় শুয়ে আছে নেকড়ের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত এক কিশোরী। বোন তনু তোর চোখের দিকে তাকালে আমার চোখ ছল ছল করে ওঠে। আমার বোনটির বাসায় ফিরতে দেরি হলে আব্বা আমাকে বলতেন যাওতো ও এখনওতো এলো না। ঠিক তেমনি সেদিন প্রাইভেট পরিয়ে তুই আর বাসায় ফিরলি না। এরপর থেকে তোর বাবা মা পাগলের মতো ছুটছে। তোর মা এখন প্রতিরাতে তোকে স্বপ্নে দেখে। তুই পুরস্কার আনার জন্য যে দুটো নতুন জামা আনতে বলেছিলি মা সেগুলো নিয়ে এসেছে।

তনু, ফেলানীরা শকুনের ছোবলে ক্ষত বিক্ষত হয়। জাগিয়ে দিয়ে যায় আমাদের অন্তরাত্মাকে। কতক্ষণ কতদিন...।

কান্নায় কথা বলতে পারছিলেন না তনুর মা। শুধুই বিলাপ করছেন... জননীগো... আমি বাসায় গেলে কে থাকবে আমার পাশে। তুই কই গেলিরে মা...। এই মা’কে শান্তনা দেবে কে? কেউ কি পারবে তার প্রিয় সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে।

রুবেল এগিয়ে এসে মা’কে থামাতে চাইলো। মাকে জড়িয়ে নিজেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়লো ছেলেটি। রুবেল বললো, এইতো ক’দিন আগে আমি আপু আম্মু একসাথে ছবি তুলেছি আপুর বার্থ ডে ছিল। আমরা কত মজা করতাম। আপু খুব আদর করতো আমাকে।

রুবেল যখন কথা বলছিল। পাশে দাঁড়িয়ে কথাগুলো শুনছিল গ্রামেরই কিছু মহিলা। বলা নেই কওয়া নেই.. তাদের চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রুজল। আসলে তনু চলে গিয়ে সবার আপন হয়ে রয়ে গেল।

কিছুটা শান্ত হয়ে এলে মা জানালেন, সেই ছোটবেলা থেকের ভিক্টোরিয়ায় অনার্স পর্যন্ত পড়তে গিয়ে কত পুরস্কার যে পেয়েছে তনু। ভালো গান গায় তাই সব অনুষ্ঠানে তাকে ডাকতো। কত স্টুডেন্ট ছিল তার।

মাগরেবের পর গ্রামের মানুষগুলো দলবেঁধে গেলো কবর জেয়ারত করতে। তারপর সেখান থেকে ফিরতে ফিরতে নানা জনের নানা ক্ষোভ শুনলাম। কারো কারো আক্ষেপ এই গ্রামকে আলোকিত করতো মেয়েছি। অনেক বড় হবে সে- আমরা তাই ভাবছিলাম। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল।

একটি দরিদ্র পরিবার গ্রাম থেকে শহরে এসেছে। নিরাপত্তার চাদরে বেড়ে উঠা শহুরে সভ্যতায় সে কি অসভ্যতা- তা কে জানতো। গ্রামের মেয়েরা ক’জনই বা অনার্স পড়তে পারে। তার মাঝে একটি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রদীপ হিসেবে জ্বলে উঠছিল তনু। শুধু লেখাপড়াই নয়, মেধা মননে মেলে ধরেছিল সুপ্ত প্রতিভা। কিন্তু থেমে গেছে সব। জীবন সবারই থেমে যায়। কিন্তু কিছু থেমে যাওয়া রয়ে যায় দু:স্বপ্নের মতো। তনুর বাবা বলছিলেন, মেয়েটা একা একা কলেজে যায়। আমি ভয় পেতাম। তনু আমাকে সাহস দিতো। আজ সেই মেয়ে আমার মেয়েকে বাসার পাশেই....।

ফেসবুকে বসলেই দেখি তনুর হিজাবে ঢাকা মুখাবয়বে তনুর মিষ্ঠি আভা যেন আলো ছড়াচ্ছে। সবাই সবাই সবাই এ ঘৃণ্য হত্যার বিচার চায়। আসলেই কি সবাই চায়। না এটা আমার আবেগের কথা। সবাই চায় না বলেই তনুরা ক্ষতবিক্ষত হয়ে জমিনের পড়ে পরে থাকে।

তনু ক’দিন আগে ফেসবুকে লিখেছিল- আমাকে আমার মতো থাকতো দাও... / আমি নিজেকে নিজের মতো গুছিয়ে নিয়েছি। সত্যিই যেন তাই। বিলের ধারে শুয়ে আছে মেয়েটি। আর এদিকে কত ঝড়ই না বইছে। এ যেন শুস্ক মরুর লু হাওয়া। রাতের চাঁদের আলোয় মানুষের সারি চলছিল সামনের দিকে। দাড়িয়ে দাড়িয়ে কতক্ষণ তাকিয়ে রইলাম। সত্যিই কি আমরা আমাদের প্রতিটি বোনকে এ সমাজে নিরাপদ চলতে দিচ্ছি।

কোথায় খুন হয়েছে, সেটার চাইতে বড় কথা হলো পুরুষত্ব জাহির করতে আসা কোন নেকড়ের সামনে পড়েছিল হরিনীটি। নেকড়েরা সব জায়গায় বাস করে। শুধু শিকার পেলেই রক্তাক্ত করে নখড়াঘাতে।

মৃত্যুর চারদিন আগে তনু লিখেছিল মান্না’দের গানের দুটি কলি... ‘সবাই তো সুখী হতে চায়/.. তবে কেউ সুখী হয় কেউ হয় না।’... হ্যাঁ এটাই সত্যি।”
তনুর কবর
তনুর পরিবারে শোকের মাতম - তুই কই গেলিরে মা
তনুর কবর


নিহতের স্বজনরা জানান, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ইতিহাস বিভাগের (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্রী ও ভিক্টোরিয়া কলেজ অথুনা থিয়েটারের সদস্য সোহাগী জাহান তনু গত রোববার সন্ধ্যায় প্রাইভেট পড়ানোর জন্য বের হয়। রাত গড়িয়ে গেলেও বাসায় ফিরে না আসায় তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে পরিবারের সদস্যরা। রাতে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন কালভার্টের পাশে ঝোপের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে পরদিন কোতোয়ালী মডেল থানায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের নামে হত্যা মামলা করেন।

অদ্ভুতুড়ে 11:26 PM

বুধবার রাতে রাজশাহী মহানগরীর একটি আবাসিক হোটেলে কিশোরী ধর্ষিত হওয়ার পরদিনই ফের গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাতে জেলার গোদাগাড়ীর রাজাবাড়িতে এক গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 


ফের গণধর্ষণ রাজশাহীতে

ওই রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

গত ২০ মার্চ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিকর্মী সোহাগী জাহান তনুকে সেনানিবাসের সুরক্ষিত এলাকায় ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনায় দেশব্যাপী তুমুল আন্দোলনের মধ্যেই রাজশাহীতে পরপর দু’দিন এ বর্বরতম ঘটনা ঘটল।

রামেক হাসপাতাল বক্স পুলিশ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে ওই গৃহবধূকে তার স্বামী হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য নিয়ে আসেন। সন্ধ্যার পরে ওই গৃহবধূ বাড়িতে একা থাকা অবস্থায় ৪ বখাটে বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় ওই বখাটেরা দরজা বন্ধ করে গৃহবধূকে জোর করে ধর্ষণ করে।

গৃহবধূর স্বামী আরও বলেন, তার স্ত্রীর চিৎকারে পরে বখাটেরা পালিয়ে যায়। তিনি স্ত্রীকে উদ্ধার করে ওসিসিতে ভর্তি করান।

তবে গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ তিনি এখনো পাননি। অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।

অদ্ভুতুড়ে 12:37 AM

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী, নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু (১৯) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পেসার তাসকিন আহমেদ। 

তাসকিন বিচার চাইলেন তনু হত্যার

বুধবার (২৩ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক ফ্যান পেজে ‘তনু হত্যার বিচার চাই’ লেখা সম্বলিত একটি ছবি আপলোড করেন তাসকিন।
ছবির ক্যাপশনে তিনি এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন। ইংরেজিতে তিনি লেখেন, ‘ইট’স ফিল রিয়েলি স্যাড’।
গত ২০ মার্চ রাতে ময়নামতি সেনানিবাসের অলিপুর এলাকার একটি কালভার্টের কাছ থেকে পুলিশ উদ্ধার করে তনুর মরদেহ। পুলিশ বলেছে, তনুকে ধর্ষণ করার পর হত্যা করা হয়েছে। 
তনুর এই মৃত্যু কিছুতেই মানতে পারছেন না কেউ। প্রতিবাদে উত্তাল হয়েছে গোটা দেশ। চলছে নানা কর্মসূচি। একইভাবে ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মধ্যম ফেসবুকেও।
তনু কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বাসিন্দা ইয়ার হোসেনের মেয়ে। তনুর বাবা ময়নামতি সেনানিবাস এলাকায় অলিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। সেই সুবাদে তনুরা অনেক দিন ধরেই অলিপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছে। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে তনু মেজ। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে তনু পড়াশোনার পাশাপাশি বাসার কাছে অলিপুর গ্রামেই এক বাসায় টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে আসছিলেন।
ঘটনার দিন (২০ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে প্রতিদিনের মতো তনু ঘর থেকে বের হন। বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে। কিন্তু চেষ্টা ব্যর্থ হলে যে বাসায় টিউশনি করতেন সেখানে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ওই বাসা থেকে তিনি বের হয়ে গেছেন।
খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ময়নামতি সেনানিবাসের অভ্যন্তরে পাওয়ার হাউসের পানির ট্যাংক সংলগ্ন স্থানে তনুর মৃতদেহ পাওয়া যায়। গলাকাটা মৃতদেহ নগ্ন অবস্থায় কালভার্টের পাশে ঝোপঝাড়ের ভেতর পড়েছিল। নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল। মোবাইল ফোনটিও পড়েছিল পাশে।

অদ্ভুতুড়ে 1:27 AM
ফিক্সড ডিপোজিট রিসিট (এফডিআর) হিসাব থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জনতা ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। রাজীব হাসান নামের সিনিয়র অফিসার পদের ওই কর্মকর্তা মতিঝিলের লোকাল অফিসে কর্মরত ছিলেন।

বস্তাভর্তি টাকাসহ ধরা খেলেন জনতা ব্যাংক কর্মকর্তা


ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এফডিআর হিসাবে গড়মিল পাওয়ার পর ওই কর্মকর্তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে টাকা আত্মসাতের বিষয়টি বেরিয়ে আসে। তার বাসা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় ৭৮ লাখ টাকা ও ড্রয়ারে পাওয়া যায় ২৫ হাজার টাকা।
এদিকে টাকা আত্মসাৎকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। মঙ্গলবার জনতা ব্যাংকের প্রধান নিবার্হী আবদুস সালামের সাথে বৈঠককালে তিনি এ নির্দেশ দেন।
বৈঠক শেষে আবদুস সালাম বলেন, আত্মসাৎকৃত ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকার মধ্যে ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। বাকি টাকা আদায়ের জন্য অ্যাডভান্সড চেক লিখে নেয়া হয়েছে। আমাদের অ্যান্টি ভিজিলেন্স টিম কাজ করছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে খুব শিগগিরই মামলা দায়ের করা হবে। অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। গভর্নরও এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মতিঝিল থানার ওসি ওমর ফারুক বলেন, ঘটনাটি শুনেছি এবং খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি ওই কর্মকর্তাকে প্রধান কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Powered by Blogger.