ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে বরগুনা উপকূলের ৪৪টি গ্রাম জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বরগুনার বিষখালী, বুড়িশ্বর ও বলেশ্বর নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বরগুনা সদর, তালতলী ও পাথরঘাটায় সাতটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে বলেও জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের সোনাতলা, নলটোনা ইউনিয়নের নলটোনা, ছোটবালিয়াতলী, কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের কেওড়াবুনিয়া, আয়লাপাতাকাট ইউনিয়নের বৈকালীন বাজার সংলগ্ন বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। জোয়ারের পানিতে বেড়িবাঁধের বাইরে এবং ভেতরে প্রায় ৪৪টি গ্রামের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে।
প্লাবিত গ্রামগুলো হচ্ছে বরগুনা সদর উপজেলা, মাঝের চর, ডেমা, গুলিশাখালী, মানিকখালী, লবণগোলা, নাপিতখালী, পূর্ব বুড়িরচর, নলী, দক্ষিণ ডালভাঙ্গা, মাছখালী ও বান্দরগাছিয়া।
আমতলী উপজেলার প্লাবিত গ্রামগুলো হলো বৈঠাকাটা, কুলুর চর, পূর্ব চিলা, পশ্চিম চিলা, উত্তর তক্তাবুনিয়া, জেলে পাড়া, কলাগাছিয়া, আঙ্গারপাড়া, শাখারিয়া, আঙ্গলকাটা ও আম্মুয়ার চর।
পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের, কাকচিড়া, আমতলী, খাসতবক, ভয়াল, গুদিঘাটা, কালিকাবাড়ি, সিংরাবুনিয়া ও বাইনচটকি প্লাবিত হয়েছে।
বেতাগী উপজেলার দক্ষিণ কালিকাবাড়ি, আলিয়াবাদ, উত্তর কালিকাবাড়ি, ভোড়া, বেতমোড়, উত্তর বেতাগী, কেওয়াবুনিয়া ও ঝোপখালী প্লাবিত হয়েছে।
তালতলী উপজেলায় প্লাবিত হয়েছে খোটকারচর, তেতুলবাড়িয়া, নলবুনিয়া, আশারচর, সখিনা ও আমখোলা।
জোয়ারের পানি ঢুকে এসব এলাকার বাড়িঘর, কৃষিজমি ও মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন প্লাবিত গ্রামের মানুষ।
বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল হোসেন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, বৃষ্টির পানির সঙ্গে জোয়ারের পানির চাপে বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়েছে। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘরের মধ্যে বন্দি হয়ে আছি।

Post a Comment