কিভাবে আত্মবিশ্বাসী হওয়া যায়? গবেষণার মাধ্যমে তার উপায় বের করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের গবেষক ক্রিস্টিন নেফ আত্মবিশ্বাসের বিষয়টিকে খোলাসা করেছেন। তার গবেষণার ফলাফল জেনে নিন।

১. আত্মবিশ্বাসে সমস্যা কোথায়? : যখন কেউ নিজেকে সফল বলে মনে করেন না, তখন তিনি নিজেকে ব্যর্থ ভাবেন। মানুষ যখন সফল হয় তখন নিজের বিষয়ে ইতিবাচক ভাবনা ভাবে। আবার কোনো ভুল হলেই আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি দেখা দেয়। তাই আত্মবিশ্বাস সব সময় একভাবে ধরে রাখা যায় না।
অন্য কারো থেকে ভালো কিছু করতে পারলেই আত্মবিশ্বাস চলে আসে। কেউ যখন আত্মবিশ্বাসী থাকে তখন তিনি নিজেকে গড়ের চেয়ে বেশি কিছু মনে করেন। আসেলে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলা অতি জরুরি বিষয়। এ কারণে ক্যালিফোর্নিয়ায় আড়াই লাখ ডলারের একটি প্রজেক্টের মাধ্যমে শিশুদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির জন্যে নানা কাজ করা হয়।
এতে করে সাইবার বুলিং বা রিভেঞ্জ পর্নের কারণে টিনএজারদের মধ্যে আত্মহত্যা প্রবণতা কমে আসে। নানা গবেষণায় বলা হয়, আত্মবিশ্বাস সব ভালো জিনিসের সমন্বয় নয়। আসলে এটা সফলতার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। তাই কৃত্রিমভাবে একে বাড়িয়ে তুললে কোনো লাভ হবে না। এক প্রভাবশালী গবেষণায় বলা হয়, পরীক্ষায় ভালো ফল, চাকরিতে ভালো পারফরমেন্স, নেতৃত্বের গুণ বা মাদক, অ্যালকোহল ইত্যাদি থেকে শিশুদের বিরত রাখতে আত্মবিশ্বাস কোনো কাজ করে না। এটা স্বাস্থ্যকর আচরণের নমুনা নয়। আরেক গবেষণায় বলা হয়, আত্মবিশ্বাস ধীরে ধীরে আত্মমগ্নতা বৃদ্ধি করে।
২. নিজের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করুন : কাজেই নিজের ওপর মিথ্যাচার পরিহার করুন। নিজের দিকে দৃষ্টি দিন এবং নিজেকে ক্ষমা করতে শিখুন। নিজের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করা আসলে আত্ম-মূল্যায়ন নয়। এর মাধ্যমে প্রকাশ পায় না যে আপনি ভালো না খারাপ মানুষ। একজন মানুষ অন্যের সঙ্গে কেমন আচরণ করছেন তা দেখেই মূলত তার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা করা হয়। যখন কোনো ভুলের কারণে আত্মবিশ্বাসে ধস নামে, তখন নিজের প্রতি সমবেদনা প্রকাশের বিষয়ে কাজ শুরু করে। বিজ্ঞান বলছে, আত্ম-সমবেদনা মূলত উচ্চ আত্মবিশ্বাসের মতোই কাজ করে। দুটো বিষয়ই কাউকে নিচের দিকে নিয়ে যায় না। কেউ আত্ম-সহমর্মী তার মাঝে আত্মবিশ্বাস থাকা স্বাভাবিক।
তবে প্রথমটি সুখ, আশাবাদ এবং ইতিবাচক আবেগের সঙ্গে জড়িত। এটি বিষণ্নতা ও দুশ্চিন্তা কমায়। নিজের প্রতি সমবেদনার অনুভূতি আত্মবিশ্বাসের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। এর মাধ্যমে মূল্যবোধ তৈরি হয়। তাই আত্মবিশ্বাস না থাকাটা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ কিছু নয়। বরং আত্মবিশ্বাস হারিয়ে মানুষ পুরো ভেঙে পড়ে। আর সেখানেই হাল ধরে সমবেদনা। যাদের মাঝে আত্ম-সমবেদনা নেই তাদের পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) দেখা দেয় না। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে সকল সেনা আত্মবিশ্বাসী তাদের মাঝেও পিটিএসডি দেখা যায়। কিন্তু নিজের প্রতি যারা সহমর্মিতা প্রকাশ করতে পারেন তাদের মাঝে পিটিএসডি তেমন দেখা যায়নি। কাজেই যাদের এ গুণ রয়েছে, তারা মানসিকভাবে মোটেও দুর্বল নন। ক্রিস্টিন বলেন, যে মানুষ নিজের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করতে পারেন, তারা অন্যের প্রতিও সমব্যথী থাকেন। ৩. গোল্ডেন রুল : সঠিক নিয়মটি হলো, আপনি অন্যের কাছ থেকে যেভাবে আশা করেন, অন্যের প্রতিও ঠিক তেমন আচরণই করা উচিত।
আত্ম-সমব্যথী হতে হলে নিজের সঙ্গে কথা বলতে হবে। অন্যদের বিষয়ে কথা বলেন। অন্যের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবেন। যেভাবে নিজের প্রতি আপনি সমবেদনা অনুভব করবেন, সেভাবে নিজের প্রতিও করবেন। নিজের ভুলগুলো ক্ষমা করে দিন। অন্যদের প্রতিও ক্ষমাশীল হোন। তাই আত্মবিশ্বাসী হওয়ার আগে নিজের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ অনেক জরুরি।
Post a Comment