জন্ম ও ছোটবেলা:
ডেলের বাবা মা চাইতেন তিনি চিকিৎসাবিদ্যায় শিক্ষা লাভ করবেন। কিন্তু যার স্বপ্ন অনেক বড় কিছু করার, তার শিক্ষা আর পেশা কখনই বই এর পাতায় বন্দী থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে পরার সময় নিজের হোস্টেলের রুম থেকেই তার কমপিউটার ব্যবসার যাত্রা শুরু হয়।
কিশোর বয়সে খণ্ডকালীন চাকরি করে নানা রকম ইলেক্ট্রনিক্সের যন্ত্রাংশ কিনতেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে ডেল নিজের অর্থে একটি অ্যাপলের কমপিউটার কেনেন। কেনার পরপরই এর সব যন্ত্রাংশ খুলে দেখেন কিভাবে এটা তৈরি করা হল।
ডেলের শুরু:
১৯৯০ সালের পর থেকে তাঁর এই ব্যবসা দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে। ১৯৯৬ সালে ডেল নিয়ে আসে প্রথম সার্ভার। সে সময় প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিদিন ১০ লাখ ডলার লভ্যাংশ পেতে থাকেন তিনি। ২০০১ সালের প্রথম প্রান্তিকে ডেল আরেক প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা কমপ্যাককে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পিসি তৈরির প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ২০১২ সালের ফোর্বস ম্যাগাজিনের রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বের ৪১তম ধনী মাইকেল ডেল। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১৬ বিলিয়ন ডলার। ২০০৪ সালে ডেলের প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে সরে গেলেও চেয়ারম্যান হিসেবে থেকে যান তিনি। তবে ২০০৭ সালে বোর্ড ও সবার অনুরোধে আবার প্রধান নির্বাহী হন মাইকেল।
সংসার জীবন:
সামাজিক কল্যাণ
১৯৯৯ সালে মাইকেল ডেল ও তাঁর স্ত্রী সুজান লিন লাইবারম্যান মিলে প্রতিষ্ঠা করেন মাইকেল অ্যান্ড সুজান ডেল ফাউন্ডেশন। এটি মূলত গ্রামের শিক্ষাব্যবস্থা, শিশুস্বাস্থ্য ও পারিবারিক অর্থনীতির ওপর কাজ করে। ফাউন্ডেশনটি এ পর্যন্ত প্রায় ৬৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছে।
লেখক মাইকেল ডেল:
১৯৯৯ সালে তাঁর জীবনের নানা সময়ের ঘটনা, প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা সময়কার বিভিন্ন স্মরণীয় ঘটনা নিয়ে ক্যাথরিন ফ্রিডম্যানের সঙ্গে মিলিতভাবে লেখেন 'ডাইরেক্ট ফ্রম ডেল : স্ট্র্যাটেজিস দ্যাট রেভল্যুশনাইজড অ্যান ইন্ডাস্ট্রি' বইটি।
পুরষ্কার ও সম্মাননা
- ২০০২ সালে ডেল ইউনিভার্সিটি অফ লিমেরিক থেকে সম্মানিত ডক্টরেট উপাধি লাভ করেন।
- ওয়ার্থ ম্যাগাজিন তাকে সেরা মার্কিন সি,ই,ও হিসেবে ঘোষণা দেয়।
- ইঙ্ক ম্যাগাজিন তাকে সেরা উদ্যোক্তা হিসেবে ভূষিত করে।
- ২০১২ সালে ইউ এস সাময়িকী ফোর্বসের তালিকা অনুযায়ী ডেল বিশ্বের ৪১তম সেরা ধনী ব্যক্তি হিসেবে নির্বাচিত হন।
- ২০১৩ সালে ফ্র্যাঙ্কলিন ইন্সটিটিউট ডেলকে বিজনেস লিডারশিপ পুরস্কার দেয়।
পেছনের কথা:
- মাইকেল ডেল কলেজে ওঠেই পড়াশুনা ছেড়ে দিয়েছিলেন কম্পিউটার বিক্রয়ের সময় বের করার জন্য।
Post a Comment