Showing posts with label রহস্য. Show all posts

অদ্ভুতুড়ে 12:25 AM

আজ থেকে প্রায় এগারো বছর আগে, ১৯ শে অক্টোবর ২০০৩ সালে অস্কার মুনজ নামের এক লোক চিলির ‘এটাকামা’ মরুভূমিতে খুঁজে পায় ভীষণ অদ্ভুত একটি জিনিস। সাদা কাপড়ে মোড়ানো ছয় ইঞ্চি লম্বা বল পয়েন্ট কলমের সমান একটি আস্ত কঙ্কাল!  


কঙ্কালটি দেখতে অবিকল মানুষের মত, তবে মাথাটা দেহের অনুপাতে বেশ বড় এবং সামনের দিকে ঝোঁকা। দেহের সাথে মাথার খুলির অনুপাত মানুষের চেয়ে প্রায় তিনগুন বেশি এবং উপরের দিকে স্ফিত। চোয়ালের হার এবং অক্ষিকোটরের গঠনও বেশ অস্বাভাবিক (সংযুক্ত ছবিগুলো দেখুন)। কঙ্কালটি দেখতে আসলেই অনেকটা কাল্পনিক 'এলিয়েনের' মতোই। মিডিয়ার বদৌলতে চারদিকে খবরটি ছড়িয়ে পড়ল যে এলিয়েনের কঙ্কাল আবিস্কৃত হয়েছে! আর এই তথাকথিত এলিয়েন কঙ্কালটি 'এটাকামা হিউম্যানোইড'(Atacama Humanoid) নামে পরিচিতি পেয়ে গেল। 

মাত্র ৬ ইঞ্চি কঙ্কাল! এটা কি এলিয়েনের কঙ্কাল নাকি মানুষের?

তবে, আসলেই কি কঙ্কালটি এলিয়েনের?

আবিষ্কারের দশ বছর পর কঙ্কালটি উন্মুক্ত করা হয় বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য। পৃথিবীর বিখ্যাত স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালের একদল বিজ্ঞানী ছয় মাস ধরে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষা চালায় এটাকামা কঙ্কালটির উপর। গোটা কঙ্কালটিকে তারা এক্স-রে এবং সিটিস্ক্যান করে। বুকের পাঁজর থেকে হাড় নিয়ে ডিএনএ টেস্ট করে। বিশেষজ্ঞ দল কঙ্কালটির বাহ্যিক অবয়ব পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে নিরীক্ষণ করে। বিশেষজ্ঞ দলটির নেতৃত্ব দেন বিশিষ্ট চিকিসক ড. স্টেফেন গ্রীর। মলিকিউলার বায়লোজি এক্সপার্ট প্রফেসর ড. গ্যারি নোলান করেন ডিএনএ এবং জেনেটিক এনালাইসিস, আর রেডিওলোজি এবং অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ ড. লেচম্যান করেন এক্স-রে এবং সিটিস্ক্যান এনালাইসিস। গবেষণার পুরো রিপোর্টি পাওয়া যাবে এই লিঙ্কে।

প্রথমেই বিজ্ঞানীরা যেটা দেখেন সেটা হলো কঙ্কালটি আসল না নকল। তারা বুকের পাজরের অস্থিতে অস্থিমজ্জার প্রমান পান এবং সিটিস্ক্যানে পরিস্কার ভাবে হাড়-এর বৈশিষ্ট্য যাচাই করেন। সিটিস্ক্যানে তারা কঙ্কালটির বক্ষ কোটরে ফুসফুস এবং হৃদপিন্ডও দেখতে পান। তারা বুঝতে পারেন, গোটা প্রাণীটিই কোনো না কোনো ভাবে মমিতে পরিনত হয়েছে। এভাবে, শুরুতেই তারা নিশ্চিত করেন যে কঙ্কালটি নকল নয়, আসল।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল যে কঙ্কালটি হয়ত অপরিণত গর্ভপাতে নষ্ট হওয়া মানব শিশু বা ফিটাস (Aborted foetus) যা কোনো কারণে মমিতে পরিনত হয়েছে; অথবা কঙ্কালটি কোনো শিম্পাঞ্জি বা বানরের; অথবা এলিয়েনেরও হতে পারে! একটা অপরিপূর্ণ মানব শিশু বা ফিটাস এর কঙ্কাল এর দৈর্ঘ্য ছয় ইঞ্চি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

তবে কঙ্কালটির এক্স-রে রিপোর্ট অনুযায়ী ওটা কোনো ফিটাসের কঙ্কাল হতে পারে না। কঙ্কালটির অস্থি এবং অস্থিসন্ধি সম্পূর্ণ ভাবে সুগঠিত এবং পরিপক্ক (Matured), এবং সেই সাথে নিচের পাটিতে দাঁতও রয়েছে! গর্ভাবস্থায় একটা মানব শিশুর হাঁটু (Knee joint) থাকে তরুনাস্থি দিয়ে গঠিত। ভূমিষ্ঠ হওয়ার ৬-৭ বছর পর এই তরুনাস্থি শক্ত (Calcified) অস্থিতে পরিনত হয়। এক্স-রে’তে দেখা এটাকামার হাঠুর গঠন সম্পূর্ণ ভাবে মিলে যায় ৬ থেকে ৮ বছরের মানুষের হাঠুর গঠনের সাথে। অর্থাৎ এটাকামা কোনোভাবেই ফিটাস (গর্ভের শিশু) ছিল না। সে ছিল হেঁটে-চলে বেড়ানো ৬ থেকে ৮ বছরের কোনো মানুষ (অথবা এলিয়েন?) যার উচ্চতা ছিল মাত্র ৬ ইঞ্চি! আর বিজ্ঞানীদের বিস্ময় এখানেই। কেননা, ৬ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে কোনো মানুষ বাঁচতে পারে না।

তাহলে কি এটাকামা ডোয়ারফিজম (Dwarfism) বা প্রোজেরিয়া (Progeria) সিন্ড্রম জাতীয় কোনো রোগে ভুগছিল? এটাকামার উপরে করা রেডিওলোজির রিপোর্টের ভিত্তিতে এ বিষয়ের এক্সপার্ট ড. লেচম্যান বলেন যে এটাকামার ডোয়ারফিজম অথবা প্রোজেরিয়া সিনড্রমে ভোগার সম্ভবনা নেই বললেই চলে। কেননা, এ সমস্ত রোগে যে আনুষঙ্গিক শরীরক অস্বাভাবিকতা থাকার কথা তা এটাকামার এক্স-রে এবং সিটিস্ক্যানে অনুপস্থিত। উপরন্তু, যে জেনেটিক মিউটেশন এর কারণে এসব রোগ হয়ে থাকে সে ধরনের কোনো জেনেটিক মিউটেশন এটাকামার ডিএনএ বা জিন এনালাইসিস এ পাওয়া যাইনি। এছাড়া চিকিত্সা বিজ্ঞানের ইতিহাসে ডোয়ারফিজম রোগে ভোগা সবচেয়ে ছোটো যে মানুষটির সন্ধান পাওয়া যায় তার উচ্চতা ছিল ১ ফুট ৮ ইঞ্চি। অতএব, সব দিক বিচার করে বিজ্ঞানীগণ মনে করেন এটাকামা হয়ত অন্য কোন জেনেটিক মিউটেশন জনিত রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

এক্স-রে তে দেখা যায়, এটাকামার পাঁজর এর হাড়ের সংখ্যা মাত্র দশ জোড়া; যেখানে মানুষের থাকে ১২ জোড়া। তবে কিছু বিরল ক্ষেত্রে ১০ বা ১১ জোড়াও থাকতে পারে, কিন্তু সে ক্ষেত্রে অন্যকোন অস্থি বিকৃতি থাকার কথা না। এটাকামার পাঁজরের হাড়ের অস্বাভাবিকতার সাথে রয়েছে মস্তিস্কের হাড়ের অস্বাভাবিকতাও। এটাকামার কপাল থেকে খুলির শীর্ষ পর্যন্ত উচ্চতার অনুপাত একজন মানুষের থেকে ৩ গুন বেশি। এটাকামার হাত পা এবং দেহের অন্যান্য অংশের গঠন স্বাভাবিক মানুষের মত হলেও মস্তিষ্কের গঠন একেবারেই মানুষের সাথে বিসাদৃশ্য! কেন এমন তার উত্তর আপাতত বিজ্ঞানীদের জানা নেই!

এটাকামার অস্থি থেকে স্যাম্পল নিয়ে যে ডিএনএ বা জেনেটিক এনালাইসিস করা হয় তাতে দেখা যায় যে মানুষের সাথে এটাকামার জিনগত অমিল রয়েছে শত করা ৯ ভাগ। যেখানে মানুষের সাথে শিম্পাঞ্জির জিনগত অমিল মাত্র শতকরা ৩ ভাগ। উপরন্তু, বানর অথবা শিম্পাঞ্জির সাথে এটাকামার জিনগত মিল খুবই কম। দৈহিক এবং জিনগত অমিলের কারণে বিজ্ঞানীগণ একমত পোষণ করেন যে এটাকামা কোনো বানর অথবা শিম্পাঞ্জির কঙ্কাল নয়। আবার বিজ্ঞানীদের হাতে এ যাবত যে তথ্য আছে তাতে করে তারা শতভাগ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না যে এটাকামা একটি ৬ ইঞ্চি উচ্চতার মানব ছিল। তবে যেটুকু নিশ্চিত হয়ে জানা গেছে তা হলো এটাকামা মানব ফিটাস ছিল না; এটাকামা বানর অথবা শিম্পান্জিও ছিল না।

তাহলে কি এটাকামা কোনো নতুন ধরনের মানুষরুপী প্রাণী (New species) ছিল যারা বসবাস করত ১০০ থেকে ১০০০ বছর পূর্বে এই পৃথিবীতেই। যদি তাই হয়, তাহলে তো আরো এটাকামার মত কঙ্কাল পাওয়ার কথা। বিজ্ঞানীরা আসলে এখন তাই খুঁজছে। তারা যদি আরো কয়েকটি এটাকামার মত কঙ্কাল আবিষ্কার করে তাহলে হয়ত উপরের প্রশ্নের উত্তর মিলে যাবে। আর যদি না খুঁজে পায় তাহলে কি ধরে নেয়া হবে যে এটাকামা আসলে ভিন দেশের কোনো এলিয়েনেরই কঙ্কাল? 

√ উতসাহীগণ এটাকামার উপর একটি সুন্দর ভিডিও দেখতে - 

অদ্ভুতুড়ে 3:24 AM
‘ড্রাকুলা’ উপন্যাস এর কথা শোনেননি এমন মানুষ খুব কমই আছে। মৃত কাউন্ট ড্রাকুলা দিনের আলোতে কফিনের ভেতর নিথর হয়ে থাকলেও সূর্য ডুবার সাথে সাথে জেগে ওঠতেন তিনি। তারপর শিকারের খোঁজে। অবশেষে শিকার করতো কোনো মানুষের গলায় তীক্ষ্ণ দুটি দাঁত বসিয়ে রক্ত চুষে খাওয়া। আজগুবি মনে করলেও এটা সত্যি যে রোমানিয়ার ট্রান্সসিলভানিয়ার  ব্রান দুর্গে ছিলেন এমন একজন মানুষ৷ যার নাম ছিল ভ্লাদের ক্লদ। প্রচণ্ড অত্যাচারী এই রাজকুমার নাকি সত্যি সত্যিই শত্রুদের রক্ত পান করতেন। এখন পিশাচ ড্রাকুলার ভয়ের দিন শেষ হয়েছে। তার সেই বাসগৃহ ব্রান দুর্গ এবার বিক্রি হতে চলেছে৷ ব্রাম স্টকারের এই পিশাচ কাউন্ট ড্রাকুলাকে নিয়ে যে কত ধরনের কত গল্প হয়েছে দেশে দেশে তার হিসাব নেই।

জানা যায়, ব্রাম স্টকারের কলমের জোরে অমরত্ব পাওয়া এই কাল্পনিক রক্তচোষা পিশাচের পূর্বপুরুষরা এই প্রাসাদে ১,২২১ সাল থেকে থাকতে শুরু করেন৷ ক্রুসেড (খ্রিস্টান-মুসলিম ধর্মযুদ্ধ) চলার সময় এই প্রাসাদের বাসিন্দারা বছরের পর বছর এই এলাকায় তুর্কি সেনাদের ঢুকতে বাধা দিয়েছিল৷ সেই সময়ের পটভূমিতেই মূলত ড্রাকুলা চরিত্রের সৃষ্টি৷ মানুষের রক্ত জমিয়ে দেয়ার জন্য একসময় নাকি এই প্রাসাদের নামটুকুই যথেষ্ট ছিল। এর নাম শুনলে অগোচরেই নাকি মানুষ ভয়ে বুকে ক্রুশ চিহ্ন আঁকত৷বর্তমানে ব্রান দুর্গ উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া তিন মালিকের বয়স ৭০ ছাড়িয়েছে৷ রোমানিয়া সরকারের কাছে তারা এই প্রাসাদ বিক্রি করতে চেয়েছিলেন আট কোটি মার্কিন ডলারে৷ কিন্তু সুবিধা করতে না পেরে দায়িত্ব দিয়েছেন এক মার্কিন সংস্থাকে৷ প্রতি বছর প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ পর্যটক এই দুর্গের আধো অন্ধকার অলিগলিতে ঘুরে বেড়ানোর গা শিউরে ওঠা অভিজ্ঞতা নিতে যান৷ উপর থেকে দেখেন দুর্গের সেই উঠান, যেখানে নাকি ঘুরে বেড়াত কাউন্টের অনুগত নেকড়ের পাল৷

অদ্ভুতুড়ে 2:10 AM

আজ থেকে প্রায় এগারো বছর আগে, ১৯ শে অক্টোবর ২০০৩ সালে অস্কার মুনজ নামের এক লোক চিলির ‘এটাকামা’ মরুভূমিতে খুঁজে পায় ভীষণ অদ্ভুত একটি জিনিস। সাদা কাপড়ে মোড়ানো ছয় ইঞ্চি লম্বা বল পয়েন্ট কলমের সমান একটি আস্ত কঙ্কাল!  

মাত্র ৬ ইঞ্চি কঙ্কাল! এটা কি এলিয়েনের কঙ্কাল নাকি মানুষের?

কঙ্কালটি দেখতে অবিকল মানুষের মত, তবে মাথাটা দেহের অনুপাতে বেশ বড় এবং সামনের দিকে ঝোঁকা। দেহের সাথে মাথার খুলির অনুপাত মানুষের চেয়ে প্রায় তিনগুন বেশি এবং উপরের দিকে স্ফিত। চোয়ালের হার এবং অক্ষিকোটরের গঠনও বেশ অস্বাভাবিক (সংযুক্ত ছবিগুলো দেখুন)। কঙ্কালটি দেখতে আসলেই অনেকটা কাল্পনিক 'এলিয়েনের' মতোই। মিডিয়ার বদৌলতে চারদিকে খবরটি ছড়িয়ে পড়ল যে এলিয়েনের কঙ্কাল আবিস্কৃত হয়েছে! আর এই তথাকথিত এলিয়েন কঙ্কালটি 'এটাকামা হিউম্যানোইড'(Atacama Humanoid) নামে পরিচিতি পেয়ে গেল। 

মাত্র ৬ ইঞ্চি কঙ্কাল! এটা কি এলিয়েনের কঙ্কাল নাকি মানুষের?

তবে, আসলেই কি কঙ্কালটি এলিয়েনের?

আবিষ্কারের দশ বছর পর কঙ্কালটি উন্মুক্ত করা হয় বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য। পৃথিবীর বিখ্যাত স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালের একদল বিজ্ঞানী ছয় মাস ধরে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষা চালায় এটাকামা কঙ্কালটির উপর। গোটা কঙ্কালটিকে তারা এক্স-রে এবং সিটিস্ক্যান করে। বুকের পাঁজর থেকে হাড় নিয়ে ডিএনএ টেস্ট করে। বিশেষজ্ঞ দল কঙ্কালটির বাহ্যিক অবয়ব পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে নিরীক্ষণ করে। বিশেষজ্ঞ দলটির নেতৃত্ব দেন বিশিষ্ট চিকিসক ড. স্টেফেন গ্রীর। মলিকিউলার বায়লোজি এক্সপার্ট প্রফেসর ড. গ্যারি নোলান করেন ডিএনএ এবং জেনেটিক এনালাইসিস, আর রেডিওলোজি এবং অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ ড. লেচম্যান করেন এক্স-রে এবং সিটিস্ক্যান এনালাইসিস। গবেষণার পুরো রিপোর্টি পাওয়া যাবে এই লিঙ্কে।

প্রথমেই বিজ্ঞানীরা যেটা দেখেন সেটা হলো কঙ্কালটি আসল না নকল। তারা বুকের পাজরের অস্থিতে অস্থিমজ্জার প্রমান পান এবং সিটিস্ক্যানে পরিস্কার ভাবে হাড়-এর বৈশিষ্ট্য যাচাই করেন। সিটিস্ক্যানে তারা কঙ্কালটির বক্ষ কোটরে ফুসফুস এবং হৃদপিন্ডও দেখতে পান। তারা বুঝতে পারেন, গোটা প্রাণীটিই কোনো না কোনো ভাবে মমিতে পরিনত হয়েছে। এভাবে, শুরুতেই তারা নিশ্চিত করেন যে কঙ্কালটি নকল নয়, আসল।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল যে কঙ্কালটি হয়ত অপরিণত গর্ভপাতে নষ্ট হওয়া মানব শিশু বা ফিটাস (Aborted foetus) যা কোনো কারণে মমিতে পরিনত হয়েছে; অথবা কঙ্কালটি কোনো শিম্পাঞ্জি বা বানরের; অথবা এলিয়েনেরও হতে পারে! একটা অপরিপূর্ণ মানব শিশু বা ফিটাস এর কঙ্কাল এর দৈর্ঘ্য ছয় ইঞ্চি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

তবে কঙ্কালটির এক্স-রে রিপোর্ট অনুযায়ী ওটা কোনো ফিটাসের কঙ্কাল হতে পারে না। কঙ্কালটির অস্থি এবং অস্থিসন্ধি সম্পূর্ণ ভাবে সুগঠিত এবং পরিপক্ক (Matured), এবং সেই সাথে নিচের পাটিতে দাঁতও রয়েছে! গর্ভাবস্থায় একটা মানব শিশুর হাঁটু (Knee joint) থাকে তরুনাস্থি দিয়ে গঠিত। ভূমিষ্ঠ হওয়ার ৬-৭ বছর পর এই তরুনাস্থি শক্ত (Calcified) অস্থিতে পরিনত হয়। এক্স-রে’তে দেখা এটাকামার হাঠুর গঠন সম্পূর্ণ ভাবে মিলে যায় ৬ থেকে ৮ বছরের মানুষের হাঠুর গঠনের সাথে। অর্থাৎ এটাকামা কোনোভাবেই ফিটাস (গর্ভের শিশু) ছিল না। সে ছিল হেঁটে-চলে বেড়ানো ৬ থেকে ৮ বছরের কোনো মানুষ (অথবা এলিয়েন?) যার উচ্চতা ছিল মাত্র ৬ ইঞ্চি! আর বিজ্ঞানীদের বিস্ময় এখানেই। কেননা, ৬ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে কোনো মানুষ বাঁচতে পারে না।

তাহলে কি এটাকামা ডোয়ারফিজম (Dwarfism) বা প্রোজেরিয়া (Progeria) সিন্ড্রম জাতীয় কোনো রোগে ভুগছিল? এটাকামার উপরে করা রেডিওলোজির রিপোর্টের ভিত্তিতে এ বিষয়ের এক্সপার্ট ড. লেচম্যান বলেন যে এটাকামার ডোয়ারফিজম অথবা প্রোজেরিয়া সিনড্রমে ভোগার সম্ভবনা নেই বললেই চলে। কেননা, এ সমস্ত রোগে যে আনুষঙ্গিক শরীরক অস্বাভাবিকতা থাকার কথা তা এটাকামার এক্স-রে এবং সিটিস্ক্যানে অনুপস্থিত। উপরন্তু, যে জেনেটিক মিউটেশন এর কারণে এসব রোগ হয়ে থাকে সে ধরনের কোনো জেনেটিক মিউটেশন এটাকামার ডিএনএ বা জিন এনালাইসিস এ পাওয়া যাইনি। এছাড়া চিকিত্সা বিজ্ঞানের ইতিহাসে ডোয়ারফিজম রোগে ভোগা সবচেয়ে ছোটো যে মানুষটির সন্ধান পাওয়া যায় তার উচ্চতা ছিল ১ ফুট ৮ ইঞ্চি। অতএব, সব দিক বিচার করে বিজ্ঞানীগণ মনে করেন এটাকামা হয়ত অন্য কোন জেনেটিক মিউটেশন জনিত রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

এক্স-রে তে দেখা যায়, এটাকামার পাঁজর এর হাড়ের সংখ্যা মাত্র দশ জোড়া; যেখানে মানুষের থাকে ১২ জোড়া। তবে কিছু বিরল ক্ষেত্রে ১০ বা ১১ জোড়াও থাকতে পারে, কিন্তু সে ক্ষেত্রে অন্যকোন অস্থি বিকৃতি থাকার কথা না। এটাকামার পাঁজরের হাড়ের অস্বাভাবিকতার সাথে রয়েছে মস্তিস্কের হাড়ের অস্বাভাবিকতাও। এটাকামার কপাল থেকে খুলির শীর্ষ পর্যন্ত উচ্চতার অনুপাত একজন মানুষের থেকে ৩ গুন বেশি। এটাকামার হাত পা এবং দেহের অন্যান্য অংশের গঠন স্বাভাবিক মানুষের মত হলেও মস্তিষ্কের গঠন একেবারেই মানুষের সাথে বিসাদৃশ্য! কেন এমন তার উত্তর আপাতত বিজ্ঞানীদের জানা নেই!

এটাকামার অস্থি থেকে স্যাম্পল নিয়ে যে ডিএনএ বা জেনেটিক এনালাইসিস করা হয় তাতে দেখা যায় যে মানুষের সাথে এটাকামার জিনগত অমিল রয়েছে শত করা ৯ ভাগ। যেখানে মানুষের সাথে শিম্পাঞ্জির জিনগত অমিল মাত্র শতকরা ৩ ভাগ। উপরন্তু, বানর অথবা শিম্পাঞ্জির সাথে এটাকামার জিনগত মিল খুবই কম। দৈহিক এবং জিনগত অমিলের কারণে বিজ্ঞানীগণ একমত পোষণ করেন যে এটাকামা কোনো বানর অথবা শিম্পাঞ্জির কঙ্কাল নয়। আবার বিজ্ঞানীদের হাতে এ যাবত যে তথ্য আছে তাতে করে তারা শতভাগ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না যে এটাকামা একটি ৬ ইঞ্চি উচ্চতার মানব ছিল। তবে যেটুকু নিশ্চিত হয়ে জানা গেছে তা হলো এটাকামা মানব ফিটাস ছিল না; এটাকামা বানর অথবা শিম্পান্জিও ছিল না।

তাহলে কি এটাকামা কোনো নতুন ধরনের মানুষরুপী প্রাণী (New species) ছিল যারা বসবাস করত ১০০ থেকে ১০০০ বছর পূর্বে এই পৃথিবীতেই। যদি তাই হয়, তাহলে তো আরো এটাকামার মত কঙ্কাল পাওয়ার কথা। বিজ্ঞানীরা আসলে এখন তাই খুঁজছে। তারা যদি আরো কয়েকটি এটাকামার মত কঙ্কাল আবিষ্কার করে তাহলে হয়ত উপরের প্রশ্নের উত্তর মিলে যাবে। আর যদি না খুঁজে পায় তাহলে কি ধরে নেয়া হবে যে এটাকামা আসলে ভিন দেশের কোনো এলিয়েনেরই কঙ্কাল? উত্সাহীগণ এটাকামার উপর একটি সুন্দর ভিডিও দেখতে পারেন। 

অদ্ভুতুড়ে 3:50 AM

পৃথিবীতে অনেক রহস্যময় জায়গা আছে যেগুলো সাধারণ জায়গার চেয়ে সম্পূর্ন ভিন্ন। এসব জায়গায় নিউটনের মহাকর্ষণ সূত্র ও কম্পাসও কাজ করে না। যার কারণে এসব এলাকায় ঘটে নানা রকমের অদ্ভুত ঘটনা। প্রখ্যাত ভূতত্ত্ববিদ ইভান স্যান্ডারসন এ রহস্যময় অদ্ভুত জায়গাগুলোর নাম দিয়েছেন ‘ভোরটেঙ্’। যার অর্থ ঘূর্ণিপাক। সাধারণত ঘূর্ণিপাক পানিরই হয়ে থাকে। তবে স্যান্ডারসনের এ ঘূর্ণিপাক পানির নয়, চেতনা-বোধের। তবে বিজ্ঞানী ব্রাড স্টেইজার এ রহস্যময় জায়গাগুলোকে অভিহিত করেছেন ‘উইন্ডো এরিয়া’ বলে।

পৃথিবীর অদ্ভুত এবং রহস্যময় কিছু দ্বীপ

এরকমই কিছু জায়গা হচ্ছে কুখ্যাত বারমুডা ট্রায়াঙ্গল, রহস্যদ্বীপ বাল্ট্রা, রহস্যময় সাইলেন্স জোন, ক্যালিফোর্নিয়ার নর্থ শাস্তার অরিজনের একটি বিস্তীর্ণ এলাকা প্রভৃতি। তবে উইন্ডো এরিয়াই হোক আর ভোরটেঙ্ই যাই বলা হোক না কেন বিজ্ঞানীরা এ জায়গাগুলোর অস্বাভাবিকত্ব আর অসামঞ্জস্যতা নিয়ে গবেষণা করেছেন দীর্ঘ দিন ধরে। এ গবেষকদের অন্যতম একজন সাইকোলজিস্ট ড. স্টেনলি কিপার। তার মতে, এই এলাকায় প্রবেশ করলে মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে ব্যাপক আচরণগত পার্থক্য দেখা যায়। অনেক সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষকে এখানে এসে উদ্ভট ও অস্বাভাবিক সব আচরণ করতে তিনি দেখেছেন। এখানে পা রাখামাত্র যে কোনও মানুষেরই মনে হবে, সে ভিন্ন এক চেতনার জগতে গিয়ে হাজির হয়েছে। পৃথিবীতে এ ধরনের বেশকিছু রহস্যময় অঞ্চলের সন্ধান পাওয়া গেছে_ যেখানে মহাকর্ষণ সূত্র প্রায় অকার্যকর। বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় তারা এখানে আরও কিছু অদ্ভুত ব্যাপার প্রত্যক্ষ করেন। যেমন সমান উচ্চতাসম্পন্ন দুজন লোক এসব স্থানে গিয়ে পাশাপাশি দাঁড়ালে সামান্য দূর থেকে উত্তর দিকে ঘেঁষে দাঁড়ানো লোকটিকে খানিকটা খাটো বলে মনে হয়। ব্যাপারটি অবিশ্বাস্য সন্দেহ নেই, তবে বিজ্ঞানীরা এর ব্যাখা হিসেবে বলেন, একটি শক্তিশালী ম্যাগনেটিক ঘূর্ণিপাক কাজ করছে জায়গার ভেতর, যার প্রভাবে এসব অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে। এখানে পানি ঢাললে উপরের দিকে গড়াতে থাকে অথচ পানির ধর্মই হচ্ছে নিচের দিকে গড়িয়ে নামা। এখানে আগুন জ্বালালে কোনও কারণ ছাড়াই ধোঁয়া শঙ্খাকারে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে আকাশের দিকে উঠতে থাকে। এসব আজব ঘটনা ভোরটেঙ্গুলো ছাড়া পৃথিবীর আর কোথাও ঘটতে দেখা যায় না। এখানে কম্পাসের নির্দেশক কোনও একটি জায়গায় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। আরও আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে পুরো এলাকায় কোনও জীবজন্তু নেই। নেই কোনও কীটপতঙ্গও। এ ধরনের রহস্যময় জায়গার আরেকটি হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরের ‘বাল্ট্র দ্বীপ’। 



রহস্যময় বাল্ট্রা দ্বীপের গল্প
                                                                     
প্রকৃতির বিচিত্র সৃষ্টি রূপে বেশ কিছু দ্বীপ অমীমাংসিত রহস্য হিসেবে আজ পর্যন্ত বিস্ময়ের সৃষ্টি করে রেখেছে। এর মধ্যে সবচাইতে উল্লেখযোগ্য হল বাল্ট্রা। এটি ইকুয়েডরের গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের একটি বিশেষ দ্বীপ। বাল্ট্রা মূলত মানববসতিশূন্য একটি দ্বীপ। দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডরের নিকটবর্তী ১৩টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ম্যালাপোগোস দ্বীপপুঞ্জ। আর এই ১৩টি দ্বীপের একটি হচ্ছে বাল্ট্রা।

কিন্তু এখানকার অন্য ১২টি দ্বীপ থেকে বাল্ট্রা একেবারেই আলাদা, অদ্ভুত এবং রহস্যময়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কৌশলগত কারণে এই দ্বীপপুঞ্জের কয়েকটি দ্বীপে বিমানঘাঁটি স্থাপন করে মার্কিন সরকার। এরপর থেকেই বিশ্ববাসী জানতে পারে বাল্ট্রা দ্বীপের এই অদ্ভুত রহস্যের কথা। এটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় দ্বীপপুঞ্জ হওয়ায় এখানে প্রচুর বৃষ্টি হয়। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো বৃষ্টির এক ফোঁটাও পড়ে না বাল্ট্রাতে। কী এক রহস্যজনক কারণে বাল্ট্রার অনেক ওপর দিয়ে গিয়ে অন্যপাশে পড়ে বৃষ্টি। বাল্ট্রার অর্ধেক পার হওয়ার পর অদ্ভুতভাবে আর এক ইঞ্চিও এগোয় না বৃষ্টির ফোঁটা। বৃষ্টি যত প্রবলই হোক এ যেন সেখানকার এক অমোঘ নিয়ম।বাল্ট্রা বাদে এখানকার প্রতিটি দ্বীপেই আছে সিল মাছ, ইগুয়ানা, দানবীয় কচ্ছপ, গিরগিটিসহ বিরল প্রজাতির কিছু পাখি। 

কিন্তু বাল্ট্রার ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ দ্বীপে কোনও উদ্ভিদ, প্রাণী বা কীটপতঙ্গ নেই। বাল্ট্রা আর পাশের দ্বীপ সান্তাক্রজের মাঝে তিন ফুট গভীর ও কয়েক ফুট চওড়া একটি খাল আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এ গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের কয়েকটি পরের দ্বীপে এয়ারবেস স্থাপন করে ইউএস সরকার। ফ্রেন্সিস ওয়ানার ছিলেন এখানকারই একজন দায়িত্বরত অফিসার। এ দ্বীপপুঞ্জে থাকাকালীন অদ্ভুত সব ঘটনা আর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তিনি। যেগুলো পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হলে রীতিমতো বিস্ময়ের ঝড় ওঠে। তিনি লিখেছেন, ‘জীবনের সবচেয়ে বড় বড় বিস্ময়কর ঘটনাগুলোর মুখোমুখি হয়েছি আমি বাল্ট্রা দ্বীপে গিয়ে।

একটা নয় দুটো নয়, একের পর এক অসংখ্য অবিশ্বাস্য সব ব্যাপার ঘটেছে আমার চোখের সামনে। বিস্ময়ে হতবাক আমি শুধু দৃষ্টি মেলে দেখেই গেছি এসব, কোনও যুক্তিযুক্ত উত্তর বা ব্যাখ্যা খুঁজে পাইনি। সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের একটি শক্তি কাজ করছে দ্বীপটির ভেতর। যার প্রভাবে ঘটেছে একের পর এক এসব রহস্যময় ও অবিশ্বাস্য ঘটনা। বাল্ট্রাতে এলেই অস্বাভাবিক আচরণ করে নাবিক বা অভিযাত্রীর কম্পাস। সবসময় উত্তর দিক-নির্দেশকারী কম্পাস এখানে কোনো সময় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। আবার দিক-নির্দেশক কাঁটা ইচ্ছেমতো ঘুরতে থাকে অথবা উল্টোপাল্টা দিক নির্দেশ করে। সবচেয়ে রহস্যজনক ব্যাপার হলো বাল্ট্রা দ্বীপের ওপর বিমান থাকাকালীন সময়েও এমন অদ্ভুত আচরণ করে কম্পাস। আবার দ্বীপ পার হলেই সব ঠিক। বাল্ট্রার আরেকটি অদ্ভুত দিক হল, এর মানসিক দিক। বাল্ট্রায় পা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যে কারও মাথা অনেক হালকা হয়ে যায়। অজানা-অচেনা কোন এক জায়গায় হারিয়ে যাওয়ার আশ্চর্য রকম অনুভূতি আচ্ছন্ন করে ফেলে মনকে। বেশিক্ষণ এ দ্বীপে থাকলে দ্বীপ থেকে চলে আসার পর কিছুদিন সেই আশ্চর্য অনুভূতি থেকে যায়। পরে অবশ্য আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যায়। অদ্ভুত দ্বীপ বাল্ট্রায় কোন গাছ নেই। নেই কোনো পশুপাখি। কোনো পশুপাখি এ দ্বীপে আসতেও চায় না। জোর করে এলেও কোনো পশুপাখিকে বসতি করানো যায়নি। দেখা গেছে, বাল্ট্রাকে এড়িয়ে পাশের দ্বীপ সান্তাক্রুজের ধার ঘেঁষে চলছে প্রাণীগুলো। শুধু তাই নয়, উড়ন্ত পাখিগুলোও উড়তে উড়তে বাল্ট্রার কাছে এসেই ফিরে যাচ্ছে। দেখে মনে হয় যেন কোনো দেয়ালে ধাক্কা খাচ্ছে ওরা। এই দ্বীপের রহস্যের কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা এ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। অবশ্য এরিক ফন দানিকেন ও তার অনুসারীরা যথারীতি তাদের স্বভাবসুলভ দৃষ্টিভঙ্গিতে সেই পৃথিবীর বাইরের ভিন্নগ্রহের তথাকথিত মানুষদের টেনে এনেছেন। কিন্তু বিজ্ঞানীরা আজো এ রহস্যের কোন কূলকিনারা করতে পারেননি । প্রযুক্তিগত দিক দিকে বিশ্ব আজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বিজ্ঞানীরা একদিন হয়ত এসব রহস্যের সমাধান মানুষের কাছে তুলে ধরবে।’


বোভেট দ্বীপ

পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে রহস্যে ঘেরা বহু দ্বীপ-উপদ্বীপ। বোভেট নামে একটি দ্বীপ রয়েছে মেরু অঞ্চলে, সেই দ্বীপটিকে এযাবত্কালে সন্ধান পাওয়া দ্বীপের মধ্যে সবচেয়ে রহস্যময় আর দুর্গম বলা হয়। দ্বীপটিতে স্থলপথে যাওয়ার কোনো উপায় নেই, জলপথে যাওয়াও প্রায় দুঃসাধ্য ব্যাপার। রহস্যময় এ দ্বীপ সম্পর্কে যা কিছু জানা গেছে তা জানা হয়েছে কৃত্রিম উপগ্রহ ও বিমানের মাধ্যমে উপর থেকে। বোভেট দ্বীপে যে কখনো মানববসতি গড়ে উঠেছিল তেমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ষাটের দশকের একটি পরিত্যক্ত লাইফ বোট দেখতে পাওয়া গেছে। কিন্তু দ্বীপের কোথাও লাইফ বোট ব্যবহারকারী কাউকে দেখা যায়নি। 

এ দ্বীপটি নিয়ে এমন কিছু কথা প্রচারিত রয়েছে যার সত্যতা পাওয়া যায়নি। যেমন বলা হয়ে থাকে যে, বোভেট দ্বীপের পাশেই আরও একটি দ্বীপ ছিল। অথচ তেমন কোনো দ্বীপ ছিল কি না তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দ্বীপটির আয়তন পঁচাত্তর বর্গমাইল। পুরোটা দ্বীপ বরফে ঢাকা। তাই উল্লেখযোগ্য কোনো প্রাণীও সেখানে নেই বলে মনে করা হয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, বোভেট দ্বীপে শুধু পেঙ্গুইন, শিল আর দুই-এক প্রজাতির সামুদ্রিক পাখির সন্ধান পাওয়া যেতে পারে।


ফুটন্ত কাদা ( নিউজিল্যান্ড) Boiling Mud, New Zealand 

নিউজিল্যান্ডের রোটোরোয়ায় অবস্থিত TAUPO লেকে ফুটন্ত কাদা-মাটি দেখতে পাওয়া যায়।গবেষকদের ধারনা,নদী ও লেকের পানি নির্দিষ্ট এই জায়গায় উত্তপ্ত পাথরের উপরে প্রবাহিত হয় বলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এটি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান হয়ে দাড়িঁয়েছে।

অদ্ভুতুড়ে 2:58 AM

এই পৃথিবী, গ্রহ, নক্ষত্র এবং বিশ্বভ্রম্মান্ড সবকিছুই আবর্তিত হয় এক সুশৃঙ্খল নিয়মের মধ্যে দিয়ে । আর সকল সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে নিখুঁত সামঞ্জস্যতা । এই বিশ্বভ্রম্মান্ডের প্রতিটি বস্তুর নিখুঁত অবকাঠামোগত মান হচ্ছে ১,৬১৮ । এই মানকে বলা হয় গোল্ডেন রেশিও(Golden Ratio)। 



পৃথিবীখ্যাত অনেক গণিতবিদ এই মান নিয়ে গবেষণা করেছেন । তাদের মধ্যে রয়েছেন, পিথাগোরাস, ইউক্লিড, কেপলার, অক্সফোর্ডের পদার্থবিদ রোজার পেনরস এবং প্রাচিন গ্রিসের অনেক বিজ্ঞানী । গোল্ডেন রেশিও মানের প্রয়োগিক ব্যবহার সবাইকে মুগ্ধ করেছে । শুধুমাত্র গনিতবিদের কাছেই নয় এর প্রয়োগিক ব্যবহার রয়েছে জীব-বিজ্ঞান, চিত্রশিল্প, সংগীতজ্ঞ, ইতিহাসবিদ এবং পদার্থবিদদের কাছে । ধারনা করা হয়, এই মানকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি গবেষণা করা হয়েছে(অন্যান্য যেকোনো মানের চেয়ে)। 

যদি দুটি সংখ্যা a এবং b হয় তাহলে গোল্ডেন রেশিও φ এর সমীকরণ হবে,
φ এর মান বের করার একটা পদ্ধতি হচ্ছে বাম দিকের ভগ্নাংশের সমীকরণ করে । সরলীকরণের মাধ্যমে ভগ্নাংশটি প্রতিস্থাপিত করা হলে b/a = 1/φ হয় । 

সমীকরণটি দাড়ায়,
φ দ্বারা উভয় পক্ষকে গুন করলে আমরা পাই,
যদি সাজিয়ে লিখি তাহলে,
কোয়াড্রেটিক নিয়ম অনুসরন করে আমরা পাই,
 
সমাধানটি উইকিপিডিয়া থেকে সংগ্রহিত এবং অনুবাদিত । 

বিশ্বভ্রম্মান্ডের স্রষ্টা তার প্রতিটি সৃষ্টিতে এই মান ব্যবহার করেছেন । মানুষের হৃদপিণ্ড, দৈহিক গঠন, ফুল, মাছ, গাছপালা, গ্রহ-নক্ষত্র ইত্যাদি সবকিছুই একই মান(১.৬১৮) দ্বারা গঠিত হয়েছে । 

পৃথিবী বিখ্যাত অনেক স্থাপত্য নির্মাণে এই মান ব্যবহৃত হয়েছে এমনকি মিসরের পিরামিড তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়েছে গোল্ডেন রেশিও সংখ্যা । 

মিসরের পিরামিড 

সৌন্দর্যতাত্ত্বিক ডাঃ স্টিভেন তার ২৫ বছরের গবেষনায় প্রমান করেছেন যে, মানুষের মুখমণ্ডলের প্রতিটি অংশ এবং দেহের আকৃতি নির্মাণেও এই মান ব্যবহৃত হয়েছে । 


 


পৃথিবীর গোল্ডেন রেশিও মক্কায় অবস্থিতঃ 

মক্কা থেকে উত্তর মেরু এবং মক্কা থেকে দক্ষিন মেরুর দূরত্বের আনুপাতিক হিসাব করলে দাড়ায় ১.৬১৮ । যাকে বলা হয় গোল্ডেন রেশিও । 


গোল্ডেন রেশিও কনজুগেইটঃ 

দ্বিঘাত সহসমীকরণ অনুযায়ী φ এর ঋণাত্মক বর্গমূল হচ্ছে,
nullসংখ্যার এই পরম মানটি বিপরীত ক্রমে দৈর্ঘ্যের অনুপাতের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ (ক্ষুদ্র খন্ডিতাংশের উপর বৃহত খন্ডিতাংশের অনুপাত হচ্ছে b/a) এবং মাঝে মাঝে গোল্ডেন রেশিও কনজুগেইট এর মত নির্দেশিত হয় । এর প্রতীক হচ্ছে বড় হাতের ফাই (Φ) ।
nullΦ কে অন্যভাবে প্রকাশ করলে দাড়ায়,
সমাধানটি উইকিপিডিয়া থেকে সংগ্রহিত এবং অনুবাদিত । 


মক্কাই হচ্ছে পৃথিবীর গোল্ডেন রেশিও পয়েন্টঃ 

আমরা সবাই জানি, পৃথিবীর ভৌগলিক সময় নির্ধারণ করা হয় বিষুব রেখা এবং দাগ্রিমা রেখাকে ভিক্তি করে । এবং কো-অরডিনেট পদ্ধতিতে ভৌগলিক উপাদানের যে বিন্দু নির্দেশিত হয় সেখানেও বিষুব রেখা এবং দাগ্রিমা রেখাকে ভিক্তি ধরা হয় । 


ক্বাবা-ই হচ্ছে পৃথিবীর গোল্ডেন রেশিও পয়েন্ট 


কো-অরডিনেট পদ্ধতিতে পুর্ব দাগ্রিমাংশ +৩৯.৮২ এবং উত্তর অক্ষাংশ +২১.৪২ । যা প্রমান করে পৃথিবীর গোল্ডেন রেশিও হচ্ছে পবিত্র কাবা ।
৯০+৩৯.৮২ = ১১১.৪২
সুতরাং ১১১.৮২ / ১৮০= 0.৬১…
এবং ১৮০+৩৯.৮২ = ২১৯.৮২
সুতরাং ২১৯.৮২/৩৬০ = ০.৬১….
অতএব, গোল্ডেন রেশিও পয়েন্ট Φ এর মান অনুযায়ী মক্কা এবং ক্বাবাই হচ্ছে পৃথিবীর গোল্ডেন রেশিও পয়েন্ট । 

পবিত্র নগরী মক্কার নাম সমগ্র কুরআনে মাত্র একবার উল্লেখিত হয়েছে সুরা আল-ই-ইমরান এর ছিয়ানব্বই আয়াতে । এই আয়াতে মক্কা শব্দটি উচ্চারিত হওয়া পর্যন্ত বর্ণ সংখ্যা হচ্ছে ২৯ টি এবং সমগ্র আয়াতে রয়েছে ৪৭ টি বর্ণ ।
এখন আমরা যদি উক্ত আয়াতটি লিখে ফাইমেট্রিক্স(ফাইমেট্রিক্স হচ্ছে এক ধরনের সফটওয়্যার যা ধারা কোন ছবির গোল্ডেন রেশিও পয়েন্ট মাপা হয়) ধারা পরিমাপ করি তাহলে এর মান আসবে, ২৯/৪৭ = ০.৬১…. আর এটাই হচ্ছে গোল্ডেন রেশিও পয়েন্ট Φ এর মান । 

 

এই পৃথিবী, পবিত্র নগরী, পবিত্র গ্রন্থ সবকিছু একই নিয়মের মাঝে গঠিত হয়েছে । সুতরাং আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে, সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা একজন এবং তিনি নিঃসন্দেহে আল্লাহ । যদি কোন সৃষ্টিকর্তা না থাকত এবং প্রতিটা সৃষ্টি যদি তার নিজের মত করে চালিত হত তাহলে সবার মান সমান হওয়া কখনো সম্ভব হত না ।

অদ্ভুতুড়ে 11:56 PM

যেহেতু বিশ্বাস করা হয় মহাবিশ্বের কোন কেন্দ্র অথবা প্রান্ত নেই, সেহেতু মহাবিশ্বে পৃথিবীর অবস্থান সামগ্রিকভাবে চিহ্নিত করার জন্যেও নির্দিষ্ট কোন  মুলবিন্দু নেই। বিভিন্ন স্কেলে নির্দিষ্ট কিছু কাঠামোকে রেফারেন্স ধরে পৃথিবীর অবস্থান দেখান যায় -

পৃথিবী → সৌরজগত → নক্ষত্রমণ্ডলীয় মেঘ → আকাশগঙ্গা ছায়াপথ → গ্যালাক্টিক জোট → কন্যারাশি সুপারক্লাস্টার → মীনরাশি-তিমিমন্ডল সুপারক্লাস্টার কমপ্লেক্স → দৃশ্যমান মহাবিশ্ব → মহাবিশ্ব 


পৃথিবী (Earth) - ব্যাস ১২,৭০০ কিলোমিটার – সৌরজগতের তৃতীয় গ্রহ। এটি সূর্যের চারপাশে ২৯.৮ কিলোমিটার/সেকেন্ড বেগে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরছে। 

মহাকাশে পৃথিবীর রহস্য


সৌরজগত (Solar System) – আড়াআড়িভাবে ৪ আলোকবর্ষ(১ আলোকবর্ষ = ৯.৫ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার) -  আমাদের নিজস্ব গ্রহমণ্ডল। সূর্য, আটটি গ্রহ(বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন) এবং তাদের উপগ্রহ নিয়ে গঠিত। এছাড়াও আরো কিছু ছোট ছোট গ্রহাণু আছে, যেমন মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝে অ্যাস্টরয়েড বেল্ট(গ্রহাণুপুঞ্জ) এবং নেপচুনের কক্ষপথের বাইরে কাইপার বেল্ট(এর মধ্যে Ceres, Pluto, Haumea, Makemake ও Eris উল্লেখযোগ্য)। এই এলাকার বাইরে সূর্যের  মাধ্যাকর্ষণ আশেপাশের নক্ষত্রের আকর্ষনের কাছে পরাস্ত হয়। 

মহাবিশ্বে-পৃথিবীর-অবস্থান-2

নক্ষত্রমণ্ডলীয় মেঘ (Local Interstellar Cloud) - আড়াআড়িভাবে ৩০ আলোকবর্ষ -  নক্ষত্রমণ্ডলীয় গ্যাসের মেঘ যার মধ্য দিয়ে সূর্য ও আরো কিছু নক্ষত্র(Alpha Centauri, Altair, Vega, Fomalhaut ও Arcturus) বর্তমানে পরিভ্রমনশীল। 

মহাবিশ্বে-পৃথিবীর-অবস্থান-3

আকাশগঙ্গা ছায়াপথ (Milky Way Galaxy) -  আড়াআড়িভাবে ১,০০,০০০ আলোকবর্ষ -  আমাদের নিজস্ব ছায়াপথ, ২০০ বিলিয়ন থেকে ৪০০ বিলিয়ন নক্ষত্রের সমন্বয়ে গঠিত। এটি একটি সর্পিলাকার ছায়াপথ। রাতের বেলা পরিষ্কার আকাশের এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে বিস্তৃত হালকা সাদা মেঘের সমষ্টির মত দেখায়। 

মহাবিশ্বে-পৃথিবীর-অবস্থান-মিল্কিওয়ে

গ্যালাক্টিক জোট (Local Galactic Group) - আড়াআড়িভাবে ৩ মেগাপারসেক(১ মেগাপারসেক = ১ মিলিয়ন পারসেক = ৩.২৬ মিলিয়ন আলোকবর্ষ) -  অন্তত ৪৭টি ছায়াপথের জোট। প্রধানত এন্ড্রোমিডা(সর্ববৃহৎ), আকাশগঙ্গা ও ট্রায়াঙ্গুলাম; বাদবাকি ছোট বামন ছায়াপথ। এর মহাকর্ষীয় কেন্দ্র এন্ড্রোমিডা ও আকাশগঙ্গার মাঝামাঝি কোথাও অবস্থিত। 

মহাবিশ্বে-পৃথিবীর-অবস্থান-5

কন্যারাশি সুপারক্লাস্টার (Virgo Supercluster) -  আড়াআড়িভাবে ৩৩ মেগাপারসেক – আমাদের গ্যালাক্টিক জোট যে সুপারক্লাস্টারের অংশ। মোটামুটিভাবে ১০০ ছায়াপথ জোট ও ক্লাস্টার নিয়ে গঠিত। এর আয়তন আমাদের গ্যালাক্টিক জোটের প্রায় ৭০০০ গুন এবং আকাশগঙ্গার প্রায় ১০০ বিলিয়ন গুন। 

মহাবিশ্বে-পৃথিবীর-অবস্থান-6

মীনরাশি-তিমিমন্ডল সুপারক্লাস্টার কমপ্লেক্স(Pisces-Cetus Supercluster Complex) - আড়াআড়িভাবে ৩০০ মেগাপারসেক – কন্যারাশি সুপারক্লাস্টার যে গ্যালাক্সী ফিলামেন্টের অংশ। এতে প্রায় ৬০টির মত গ্যালাক্টিক ক্লাস্টার আছে। হিসাবমতে এ অংশের ভর প্রায় ১০১৮ টি সূর্যের সমান(১ সৌর ভর = ১.৯৮৮৯২ × ১০৩০ কেজি)। 

মহাবিশ্বে-পৃথিবীর-অবস্থান-7

দৃশ্যমান মহাবিশ্ব (Observable Universe) - আড়াআড়িভাবে ২৮,০০০ মেগাপারসেক – মহাবিশ্বের যে অংশ আমাদের কাছে দৃশ্যমান। এতে আছে ১০০ বিলিয়নেরও বেশি ছায়াপথ, যেগুলো মিলিয়ন মিলিয়ন সুপারক্লাস্টার, গ্যালাক্টিক ফিলামেন্ট ও শূণ্যস্থান নিয়ে সজ্জিত। মোট নক্ষত্রের সংখ্যা প্রায় ৩ থেকে ১০০ × ১০২২ টি। 

মহাবিশ্বে-পৃথিবীর-অবস্থান-8

মহাবিশ্ব (Universe) -  আড়াআড়িভাবে কমপক্ষে ২৮,০০০ মেগাপারসেক – পৃথিবী এবং অন্যান্য সমস্ত গ্রহ, নক্ষত্র, এবং তাদের অন্তর্বর্তী শূণ্যস্থান বা মহাকাশ সব কিছু মিলে যে জগৎ তাকেই বলে মহাবিশ্ব বা বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ড। মহাবিশ্বের যেকোন স্থানই পদার্থবিজ্ঞানের একইরকম সূত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। 

যেসব নক্ষত্র থেকে আলো এসে আমাদের পৃথিবীতে পৌঁছায় আমরা শুধু সেগুলোই দেখতে পাই। দৃশ্যমান মহাবিশ্বের বাইরে আরও অনেক অদৃশ্য এলাকা রয়েছে যেখান থেকে কোন আলো এসে এখনও পৃথিবীতে পৌঁছেনি। সেসব এলাকা সম্পর্কে কোন প্রকার তথ্য জানা যায়নি, কারন আলোই তথ্য পাওয়ার সবচেয়ে দ্রুততম মাধ্যম। তবুও এটাই ধারনা করা যায় যে মহাবিশ্বে আরও অনেক অনেক ছায়াপথ রয়েছে।
Powered by Blogger.