Showing posts with label মহাকাশ. Show all posts

অদ্ভুতুড়ে 3:38 AM

চলতি বছরে আস্তে ঘুরবে পৃথিবী। আর সে জন্য গত বছরের তুলনায় ২০১৫ সাল হবে ১ সেকেন্ড বড়। প্যারিসের ইন্টারন্যাশনাল আর্থ রোটেশন সার্ভিসের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এ দাবি করেছেন।


 

চলতি বছরে পৃথিবীর সময় ১ সেকেন্ড বেশি হওয়ায়, ইন্টারনেট পরিস্থিতিতে ব্যাঘাত সৃষ্টির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, এ বছরের জুন মাসের ৩০ তারিখে যোগ হবে লিপ সেকেন্ড। আর সেসময় ক্রাশ করতে পারে পুরো বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবস্থা।


বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পৃথিবীর আহ্নিক গতি প্রতিদিন সেকেন্ডের ২ হাজার ভাগ কমে যাচ্ছে। ২০১২ সালেও লিপ সেকেন্ড যুক্ত হওয়ার সময় ইন্টারনেটের বিভিন্ন সাইট ক্রাশ করেছিল।


ইউএস নাভাল অবজারভেটরির বিজ্ঞানী নিক স্টামাটাকোস বলেন, এই বাড়তি সেকেন্ড অ্যাটমিক ঘড়ির সঙ্গে যোগ হওয়ার ফলে জুন মাসের ৩০ তারিখে ৮৬,৪০০ সেকেন্ডের বদলে হবে ৮৬,৪০১ সেকেন্ড।


অন্যদিকে জানা গেছে, ইন্টারনেট বিপর্যয় ঠেকাতে গুগল নিয়ে আসছে লিপ স্মিয়ার পদ্ধতি। যা ধীরে ধীরে সিস্টেমের ঘড়ির সঙ্গে মিলি সেকেন্ড যোগ করবে লিপ সেকেন্ডে আসার অনেক আগে থেকেই। ফলে কম্পিউটার ও সার্ভারে সময়ের হেরফের না হওয়ায়, বিপর্যয়ের কবলে পড়বে না ওয়েবসাইটগুলো।



অদ্ভুতুড়ে 1:55 AM



ছোট বেলা একটা গল্প শুনেছিলাম, কার কাছে বা  ঠিক কবে তা মনে নেই। গল্পটা ছিল এই রকম যে পৃথিবী নাকি একটা গরুর দুইটা শিং এর উপর দাঁড়িয়ে আছে !! মাঝে মাঝে নাকি গরুর চুলকানী লাগলে বা অন্য কোন কারনে নড়াচড়া করলে তার শিং নড়ে উঠে এর ফলে নাকি ভুমিকম্প হয়। ব্যাপারটা তখন মেনে নিয়েছিলাম, মুক্ত বুদ্ধির চর্চা তখনও হয় নি কিনা। একটু বড় হবার পরে যখন মনে পড়ত তখন হাসতে থাকতাম। ইদানিং জানলাম তত্ত্বটা আসলেই ছিল । সাথেই থাকুন জানতে পারবেন তাহলে এই অদ্ভুত কাল্পনিক অদ্ভুত গল্পের পিছনে কারা ছিল। 



বিশ্ব নিয়ে  নিয়ে মানুষের ভাবনার অন্ত নেই । সেই আদি কাল থেকে শুরু হয়ে আজ অবধি চলছে, চলবে পৃথিবী ধ্বংসের মুহূর্ত পর্যন্ত। তাও মর্তের মানুষের এ গবেষনার শেষ পাওয়া যাবে না। অতিপ্রাচীনকাল থেকে একে নিয়ে নানা তত্ত্ব প্রদান করেছেন নানা সভ্যতার মানুষ। এই আধুনিকও যুগে আমরা কিছু দিন পর পর দেখা যাচ্ছে নতুন নতুন তথ্য পাচ্ছি। চলুন ঘুরে আসি আদিম যুগ থেকে।  উল্লেখ্য তথ্যগুলো কিন্ত আমার নিজস্ব না, বিভিন্ন বই, সাইট থেকে পাওয়া শুধু নিজের ভাষায় বর্ণনা করা।

ব্যাবিলনীয়রা মনে করতো, এই বিশ্ব কঠিন মোড়কে ঢাকা একটি শামুকের মত। যার উপরে এবং নিচে রয়েছে পানি আর পানি। আমাদের পৃথিবীর অবস্থান হচ্ছে এই শামুকের কেন্দ্রে ঠিক একটা ফাঁপা পর্বতের মত। পৃথিবী পানিতে ভাসছে আর পৃথিবীর নীচের পানি ফোয়ারা ও ঝর্ণা হয়ে উঠে আসে। আমরা যে বৃষ্টি পাই সেটা হল উপরের পানি। পৃথিবীর উপরের পানি গোলকের ভিতর দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে।

মিশরীয়রা মনে করতো, এই বিশ্ব একটা চৌকোনা বাক্সের মত। পৃথিবী হল বাক্সটির মেঝে আর আকাশ হচ্ছে পৃথিবীর চার কোণের চারটি পা রেখে দাঁড়ানো একটি গরু, বা দুইটী কনুই ও দুইটি হাঁটু রেখে উবু হয়ে থাকা একটি নারী, বা লোহার পাতের একটি ঢাকনা। বাক্সটির ভেতরের দিকে দেওয়ালে রয়েছে এক ধরনের তাক দেওয়া গ্যালারি। এই গ্যালারি দিয়ে  বয়ে যাচ্ছে একটি নদি। এই নদীর ওপর দিয়ে পানসি ভাসিয়ে যান সূর্যদেবতা ও চন্দ্রদেবতা। তাদের আসা-যাওয়ার জন্যে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন দরজা। গ্রহগুলি চলছে নৌকা ভাসিয়ে এক একটি খালের উপর দিয়ে। স্থির নক্ষত্রগুলি হচ্ছে বাতি, গোলক থেকে বা এক একজন দেবতার হাতে ধরা।

এবার আসি আমাদের ভারত বর্ষের ভাবনা নিয়ে। আমাদের উপমহাদেশের হিন্দুরা মনে করতো বাসুকি নামে একটি সাপ তার ফনার ওপর পৃথিবীকে ধরে আছে। চন্দ্রগ্রহণ হয় রাহু নামে একতা রাক্ষসের গ্রাসে। চন্দ্রেরর কলা হচ্ছে প্রজাপতি দক্ষের অভিশাপে চন্দ্রের ক্ষয়রোগগ্রাস্ত হওয়ার ফল ইত্যাদি। এদিকে চিনারা ভাবত একটি ড্রাগন সূর্যকে গ্রাস করে বলেই সূর্যগ্রহণ ঘটে। সমস্বরে চিৎকার জুড়ে দিয়ে তারা এই ড্রাগনকে তাড়াবার চেষ্টা করত।

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এই রকম অজস্র  অঞ্চলে পৃথিবী , সূর্য , চাঁদ, গ্রহ, নক্ষত্র নিয়ে এমনি সব উদ্ভুট কাহিনী প্রচলিত ছিল। এসব কাহিনী যদিও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই উদ্ভুট তার পরও বোঝা যায় মানুষ অতি প্রাচীনকাল থেকে মহাবিশ্বকে নিয়ে ভাবতে শুরু করে। এই সব প্রচলিত ঘটনা থেকেই আস্তে আস্তে বর্তমানের আধুনিক মহাকাশ বিজ্ঞানের সূত্রপাত ঘটে।

অদ্ভুতুড়ে 1:44 AM

মহাকাশ শত্রুর হাত থেকে পৃথিবিকে রক্ষা করছে ফোর্স-ফিল্ড! পৃথিবীকে ঘিরে রয়েছে অসংখ্য ক্ষতিকর ইলেকট্রন, আর তাদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করে চলেছে এমন এক অদৃশ্য “ফোর্স ফিল্ড” বা নিরাপত্তা বলয় যেমনটা আমরা কল্পকাহিনীতে দেখি।

মহাকাশ শত্রুর হাত থেকে পৃথিবিকে রক্ষা করছে ফোর্স-ফিল্ড


এসব ক্ষতিকর ইলেকট্রন হলো পৃথিবী ঘিরে থাকা ভ্যান অ্যালেন রেডিয়েশন বেল্টের অংশবিশেষ। এরা বিভিন্ন স্যাটেলাইটকে অকেজো করে দেবার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণার তথ্যে জানা যায়, এসব ইলেকট্রন ভূপৃষ্ঠ থেকে ৭,২০০ মাইল ওপরে হঠাৎ করেই শেষ হয়ে যায়।

“ব্যাপারটা দেখে মনে হয় এই অঞ্চলে এসে একটা কাঁচের দেয়ালে বাধা পাচ্ছে এসব ইলেকট্রন,” বলেন এই গবেষণার সাথে জড়িত প্রফেসর ড্যানিয়েল বেকার। এই অদৃশ্য “ফোর্স ফিল্ড” বা দেয়াল নিয়ে বেশ ঔৎসুক্য তৈরি হয়েছে তাদের মাঝে।

ধারণা করা হচ্ছিলো পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা মানুষের ব্যবহৃত রেডিও সিগন্যাল এসব ইলেকট্রনকে বাধা দিচ্ছে। কিন্তু এর কোনোটাই এই দেয়ালের উপস্থিতি ব্যাখ্যা করতে পারে না। বিশেষ করে উচ্চমাত্রায় উত্তেজিত ইলেকট্রনকে পৃথিবীর কাছে একেবারেই ঘেঁষতে দেয় না এই দেয়াল। সেকেন্ডে ১০০,০০০ মাইল বেগে ছুটে আসতে থাকে এসব ইলেকট্রন।

একটা সম্ভাবনা হতে পারে পৃথিবীর প্লাজমাস্ফিয়ারের থেকে আসা কম কম্পাঙ্কের তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গের ধাক্কা, যা এসব ইলেকট্রনের গতিকে বাধাপ্রাপ্ত করে এবং তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কিন্তু “ফোর্স ফিল্ড” এফেক্টের জন্য এটাই একমাত্র কারণ নয় বলে মনে করেন প্রফেসর বেকার।

এই রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য মহাকাশের ওই অঞ্চলকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। নাসার ভ্যান অ্যালেন প্রোবগুলোতে থাকা শক্তিশালী যন্ত্রগুলোর সাহায্যে তা করা যাবে। কারণ পৃথিবীর ম্যাগনেটোস্ফিয়ারের ওপরে যদি সূর্য থেকে অনেক বড় মাত্রার একটি সৌর ঝড়ের প্রভাব এসে পড়ে, তবে এই অদৃশ্য ফোর্স ফিল্ডে সৃষ্টি হতে পারে ছিদ্র।

অদ্ভুতুড়ে 11:56 PM

যেহেতু বিশ্বাস করা হয় মহাবিশ্বের কোন কেন্দ্র অথবা প্রান্ত নেই, সেহেতু মহাবিশ্বে পৃথিবীর অবস্থান সামগ্রিকভাবে চিহ্নিত করার জন্যেও নির্দিষ্ট কোন  মুলবিন্দু নেই। বিভিন্ন স্কেলে নির্দিষ্ট কিছু কাঠামোকে রেফারেন্স ধরে পৃথিবীর অবস্থান দেখান যায় -

পৃথিবী → সৌরজগত → নক্ষত্রমণ্ডলীয় মেঘ → আকাশগঙ্গা ছায়াপথ → গ্যালাক্টিক জোট → কন্যারাশি সুপারক্লাস্টার → মীনরাশি-তিমিমন্ডল সুপারক্লাস্টার কমপ্লেক্স → দৃশ্যমান মহাবিশ্ব → মহাবিশ্ব 


পৃথিবী (Earth) - ব্যাস ১২,৭০০ কিলোমিটার – সৌরজগতের তৃতীয় গ্রহ। এটি সূর্যের চারপাশে ২৯.৮ কিলোমিটার/সেকেন্ড বেগে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরছে। 

মহাকাশে পৃথিবীর রহস্য


সৌরজগত (Solar System) – আড়াআড়িভাবে ৪ আলোকবর্ষ(১ আলোকবর্ষ = ৯.৫ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার) -  আমাদের নিজস্ব গ্রহমণ্ডল। সূর্য, আটটি গ্রহ(বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন) এবং তাদের উপগ্রহ নিয়ে গঠিত। এছাড়াও আরো কিছু ছোট ছোট গ্রহাণু আছে, যেমন মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝে অ্যাস্টরয়েড বেল্ট(গ্রহাণুপুঞ্জ) এবং নেপচুনের কক্ষপথের বাইরে কাইপার বেল্ট(এর মধ্যে Ceres, Pluto, Haumea, Makemake ও Eris উল্লেখযোগ্য)। এই এলাকার বাইরে সূর্যের  মাধ্যাকর্ষণ আশেপাশের নক্ষত্রের আকর্ষনের কাছে পরাস্ত হয়। 

মহাবিশ্বে-পৃথিবীর-অবস্থান-2

নক্ষত্রমণ্ডলীয় মেঘ (Local Interstellar Cloud) - আড়াআড়িভাবে ৩০ আলোকবর্ষ -  নক্ষত্রমণ্ডলীয় গ্যাসের মেঘ যার মধ্য দিয়ে সূর্য ও আরো কিছু নক্ষত্র(Alpha Centauri, Altair, Vega, Fomalhaut ও Arcturus) বর্তমানে পরিভ্রমনশীল। 

মহাবিশ্বে-পৃথিবীর-অবস্থান-3

আকাশগঙ্গা ছায়াপথ (Milky Way Galaxy) -  আড়াআড়িভাবে ১,০০,০০০ আলোকবর্ষ -  আমাদের নিজস্ব ছায়াপথ, ২০০ বিলিয়ন থেকে ৪০০ বিলিয়ন নক্ষত্রের সমন্বয়ে গঠিত। এটি একটি সর্পিলাকার ছায়াপথ। রাতের বেলা পরিষ্কার আকাশের এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে বিস্তৃত হালকা সাদা মেঘের সমষ্টির মত দেখায়। 

মহাবিশ্বে-পৃথিবীর-অবস্থান-মিল্কিওয়ে

গ্যালাক্টিক জোট (Local Galactic Group) - আড়াআড়িভাবে ৩ মেগাপারসেক(১ মেগাপারসেক = ১ মিলিয়ন পারসেক = ৩.২৬ মিলিয়ন আলোকবর্ষ) -  অন্তত ৪৭টি ছায়াপথের জোট। প্রধানত এন্ড্রোমিডা(সর্ববৃহৎ), আকাশগঙ্গা ও ট্রায়াঙ্গুলাম; বাদবাকি ছোট বামন ছায়াপথ। এর মহাকর্ষীয় কেন্দ্র এন্ড্রোমিডা ও আকাশগঙ্গার মাঝামাঝি কোথাও অবস্থিত। 

মহাবিশ্বে-পৃথিবীর-অবস্থান-5

কন্যারাশি সুপারক্লাস্টার (Virgo Supercluster) -  আড়াআড়িভাবে ৩৩ মেগাপারসেক – আমাদের গ্যালাক্টিক জোট যে সুপারক্লাস্টারের অংশ। মোটামুটিভাবে ১০০ ছায়াপথ জোট ও ক্লাস্টার নিয়ে গঠিত। এর আয়তন আমাদের গ্যালাক্টিক জোটের প্রায় ৭০০০ গুন এবং আকাশগঙ্গার প্রায় ১০০ বিলিয়ন গুন। 

মহাবিশ্বে-পৃথিবীর-অবস্থান-6

মীনরাশি-তিমিমন্ডল সুপারক্লাস্টার কমপ্লেক্স(Pisces-Cetus Supercluster Complex) - আড়াআড়িভাবে ৩০০ মেগাপারসেক – কন্যারাশি সুপারক্লাস্টার যে গ্যালাক্সী ফিলামেন্টের অংশ। এতে প্রায় ৬০টির মত গ্যালাক্টিক ক্লাস্টার আছে। হিসাবমতে এ অংশের ভর প্রায় ১০১৮ টি সূর্যের সমান(১ সৌর ভর = ১.৯৮৮৯২ × ১০৩০ কেজি)। 

মহাবিশ্বে-পৃথিবীর-অবস্থান-7

দৃশ্যমান মহাবিশ্ব (Observable Universe) - আড়াআড়িভাবে ২৮,০০০ মেগাপারসেক – মহাবিশ্বের যে অংশ আমাদের কাছে দৃশ্যমান। এতে আছে ১০০ বিলিয়নেরও বেশি ছায়াপথ, যেগুলো মিলিয়ন মিলিয়ন সুপারক্লাস্টার, গ্যালাক্টিক ফিলামেন্ট ও শূণ্যস্থান নিয়ে সজ্জিত। মোট নক্ষত্রের সংখ্যা প্রায় ৩ থেকে ১০০ × ১০২২ টি। 

মহাবিশ্বে-পৃথিবীর-অবস্থান-8

মহাবিশ্ব (Universe) -  আড়াআড়িভাবে কমপক্ষে ২৮,০০০ মেগাপারসেক – পৃথিবী এবং অন্যান্য সমস্ত গ্রহ, নক্ষত্র, এবং তাদের অন্তর্বর্তী শূণ্যস্থান বা মহাকাশ সব কিছু মিলে যে জগৎ তাকেই বলে মহাবিশ্ব বা বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ড। মহাবিশ্বের যেকোন স্থানই পদার্থবিজ্ঞানের একইরকম সূত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। 

যেসব নক্ষত্র থেকে আলো এসে আমাদের পৃথিবীতে পৌঁছায় আমরা শুধু সেগুলোই দেখতে পাই। দৃশ্যমান মহাবিশ্বের বাইরে আরও অনেক অদৃশ্য এলাকা রয়েছে যেখান থেকে কোন আলো এসে এখনও পৃথিবীতে পৌঁছেনি। সেসব এলাকা সম্পর্কে কোন প্রকার তথ্য জানা যায়নি, কারন আলোই তথ্য পাওয়ার সবচেয়ে দ্রুততম মাধ্যম। তবুও এটাই ধারনা করা যায় যে মহাবিশ্বে আরও অনেক অনেক ছায়াপথ রয়েছে।

অদ্ভুতুড়ে 5:30 AM

রহস্যময় বামন গ্রহ প্লুটোর রহস্য ভেদ করার দ্বারপ্রান্তে নাসার বিজ্ঞানীরা। প্লুটো পর্যবেক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির পাঠানো নিউ হরাইজনস নভোযানটির ঘুম ভাঙছে আগামী মাসেই। এরপর টানা ছয় মাস প্লুটোকে পর্যবেক্ষণ করবে এই যানটি। ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই প্লুটোর খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাবে নিউ হরাইজনস। এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে আইএএনএস। 

নাসার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ছয় মাসের জন্য প্লুটোর রহস্য জানার যে কর্মযজ্ঞ শুরু হতে যাচ্ছে, তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া সম্পন্ন হয়ে গেছে।

নিউ হরাইজনস মিশনের পরিচালন ব্যবস্থাপক অ্যালিস বোম্যান জানিয়েছেন, ‘নিউ হরাইজনস যানটির সব ঠিকঠাক চলছে এবং গভীর মহাশূন্যের মধ্য দিয়ে নীরবে ছুটে যাচ্ছে। পৃথিবী থেকে ৩০০ কোটি মাইল দূরে পাড়ি দিচ্ছে এই নভোযানটি। বিশ্রামের পালা এবার শেষ হচ্ছে। এখন সময় এর জেগে ওঠার, কাজের। নিউ হরাইজনসের এখন ইতিহাস গড়ার সময়।’

অদ্ভুতুড়ে 2:46 AM

বিখ্যাত জোতির্বিজ্ঞানী এবং পদার্থবিদ, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রফেসর স্যার ফ্রেড হয়েলি (Sir Fred Hoyle), -যিনি প্রথম ব্যাখ্যা করেন কিভাবে তারা বা সূর্যের অভ্যন্তরে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে হালকা পদার্থ (Hydrogen or Helium) থেকে ভারী পদার্থের (Carbon) সৃষ্টি হয়,- তিনি তার জীবদ্দশায় বিগ ব্যাং তত্ব মেনে নেন নি। বরং তিনি ছিলেন 'স্টিডি স্টেট' থিওরির (Steady State Theory) সমর্থক এবং জনক। 'স্টিডি স্টেট' থিওরি মতে এই বিশ্ব ব্রম্মান্ডের কোনো শুরুও নেই এবং শেষও নেই, এই মহাবিশ্ব পূর্বে যেমন ছিল ভবিষ্যতেও তেমনি থাকবে- অপরিবর্তনীয় এক 'স্টিডি স্টেট ' অবস্থায়। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত মহাবিশ্ব সৃষ্টির এই 'স্টিডি স্টেট ' থিওরি ছিল বেশ শক্তিশালী অবস্থানে। 


মহা বিজ্ঞানী আইনস্টাইনও 'স্টিডি স্টেট' থিওরিতে বিশ্বাসী বা সমর্থক ছিলেন, আর এ কারণেই তিনি তার বিখ্যাত 'জেনারেল থিওরি অফ রিলেটিভিটি'র গাণিতিক সূত্রে ইচ্ছাকৃত ভাবেই একটা কনস্টান্ট (Cosmological constant) বসিয়েছিলেন! এই কনস্টান্ট বসানোর কারণ হচ্ছে তার 'জেনারেল থিওরি অফ রিলেটিভিটি' এর গানিতিক সূত্র পরিষ্কার ভাবে নির্দেশ করছিল যে এই মহাবিশ্ব সদা সম্প্রসারিত হচ্ছে! একটা অদৃশ্য শক্তি বা বল (ফোর্স) মহাবিশ্বকে বাইরের দিকে ঠেলে সম্প্রসারিত করছে! - যা কিনা 'স্টিডি স্টেট' থিওরির পরিপন্থী। যেহেতু আইনস্টাইন মহাবিশ্ব সম্প্রসারণে বিশ্বাসী ছিলেন না তাই তিনি তার গাণিতিক সূত্রে একটা কনস্ট্যান্ট মান বসিয়ে দিলেন যাতে করে তার সূত্রটি মহা বিশ্বকে গাণিতিক ভাবে স্টিডি স্টেট বা অসম্প্রসারনশীল অবস্থায় রাখে। পরবর্তিতে অবশ্য যখন বিজ্ঞানী এডুইন হাবল (Edwin Hubble) প্রমান করলেন যে মহাবিশ্ব প্রকৃত অর্থেই সম্প্রসারনশীল, তখন আইনস্টাইন আফসোস করে বলেছিলেন 'কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্ট' তার জীবনে একটা বড় ভুল! 

মহাবিশ্বের সম্প্রসারণশীলতার এই আবিস্কার বিগ ব্যাং থিওরি কে অনেকটাই লাইম লাইট এ নিয়ে আসলো। তখন বিজ্ঞানীদের কাছে একটাই প্রশ্ন, এই মহাবিশ্ব যদি সম্প্রসারনশীলই হয়ে থাকে তাহলে এর শুরু হয়েছে কখন এবং কিভাবে? বিগ ব্যাং থিওরি মতে একটা প্রচন্ড বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে অতি-ঘনত্ব সম্পন্ন, অতি-ক্ষুদ্র আকৃতির, এক অতি-উত্তপ্ত বস্তু বা অবস্থা থেকে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি। আর এই বিগ ব্যং এর পর থেকে এখন পর্যন্ত মহাবিশ্ব সদা সম্প্রসারিত হয়ে চলছে। মজার ব্যাপার হলো, ফ্রেড হয়েলিই প্রথম বিগ ব্যাং শব্দটির অবতারণা করেন, কিন্তু বিগ ব্যাং তত্বটাকে তিনি কোনদিন ও যথাযথ তত্ব হিসেবে গ্রহণ করেন নি; বরং বিগ ব্যাং তত্বকে তিনি বলতেন 'সিউডো সাইন্স' বা 'ভ্রান্ত বিজ্ঞান'। কিন্তু কেন? ফ্রেড হয়েলি’র ভাষ্য মতে, যদি মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে বিগ ব্যাং থিওরি সত্য হয় তাহলে বিগ ব্যাং এর এর পূর্বে কি ছিল? তিনি বলেন, বিগ ব্যাং এর পূর্বে কোনো স্পেস, বস্তু বা ম্যাটার বা সময় এর অস্তিত্ব ছিল না; এবং এ কারণে কোনো বৈজ্ঞানিক সূত্র বিগ ব্যাং পূর্ব অবস্থার ব্যাখ্যা করতে পারে না। ফ্রেড হয়েলি’র মতে এই বিগ ব্যাং-পূর্ব অবস্থা ধর্ম বিশ্বাসীদের কে আরো উস্কে দিবে এই মর্মে যে সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বর ছিল বিগ ব্যাং পূর্ব সময়, এবং ঈশ্বরই সৃষ্টি করেছে এই বিশ্ব ব্রম্মান্ড। তার মতে সাইন্স এ সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বর এর কোনো অস্তিত্ব থাকতে পারে না। বস্তুত: এই কারনেই তিনি বিগ ব্যাং থিওরি কখনোই মেনে নিতে পারেননি। তবে তাতে কি? বিজ্ঞান চলে সত্যের ধারায়। 

১৯৬৩ সালে তার ডিপার্টমেনটেই আগমন ঘটে আরেক বিখ্যাত পদার্থবিদ এবং কসমোলজিস্ট স্টিভেন হকিং এর! অক্সফোর্ড থকে আন্ডারগ্রজুএশোন শেষ করে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিনিটি কলেজে ফ্রেড হয়েলি’র ডিপার্টমেন্ট এ পিএইচডি করতে আসলেন স্টিভেন হকিং। তিনি সেখানে তার পিএইচডি Advisor আরেক সনামধন্য বিজ্ঞানী স্যার রজার পেনরোজের 'স্পেস -টাইম সিঙ্গুলারিটি' এবং আইনস্টাইন এর 'জেনারেল থিওরি অফ রিলেটিভিটি' সূত্রের সমন্নয় ঘটিয়ে উদঘাটন করলেন ব্ল্যাক হোল এবং বিগ ব্যাং তত্বের রহস্য। রজার পেনরোজ গাণিতিক ভাবে দেখালেন যে একটা তারা'র যখন মৃত্যু ঘটে তখন মৃত তারার অস্তিত্ব একটা বিন্দুতে গিয়ে পৌছে, যেখানে স্পেস এবং সময় সব মিলেমিশে একটি বিশেষ ভৌত অবস্থার তৈরী হয়: যাকে রজার পেনরোজ বলেন 'সিঙ্গুলারিটি'। অন্যদিকে স্টিভেন হকিং গাণিতিক ভাবে দেখালেন যে এই সিঙ্গুলারিটি অবস্থাকে বিপরীত দিকে চালিত বা ধাবিত করলে এক প্রচন্ড বিস্ফোরণের (ব্যাং) মাধ্যমে সূত্রপাত হয় এই মহাবিশ্বের! গত চার দশকে বিগ ব্যাং থিওরির অনেক উন্নতি স্বাধন হয়েছে। কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েসন আবিষ্কৃত হয়েছে, যা প্রমান করে যে বিগ ব্যাং এর সময় এক প্রচন্ড শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছিল। প্রচন্ড শক্তিশালী বিস্ফোরণে যে উচ্চ তাপমাত্রার সৃষ্টি হয়েছিল কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েসন হচ্ছে তারই ফল। 

এখন, সাদামাটা ভাবে উপরের আলোচনা থেকে আমরা যা জানতে পারলাম তা হলো: 

১) সৃষ্টির শুরুতে এই মহাবিশ্ব ছিল একটি সিঙ্গেল এনটিটি: অর্থাৎ সমস্ত বস্তু, স্পেস এবং সময় সবই এক বিন্দুতে আবধ্য ছিল (joined together) 


২) এক প্রচন্ড শক্তিশালী বিস্ফোরণের বা বিগ ব্যাং এর মধ্যে দিয়ে এই মহা বিশ্বের উত্পত্তি, এবং 

৩) বিগ ব্যাং এর পর সম্প্রসারণশীলতার মধ্যে দিয়ে এই মহাবিশ্ব রুপান্তরিত হয় এবং প্রাণী বসবাস যোগ্যে পরিনত হয়।

উপরের এই তিনটি ঘটনা মাথায় রেখে আমি এখন আলোচনা করব ১৪০০ বছর আগে আল-কোরানে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি প্রক্রিয়া সমন্ধে কি উল্লেখ করা হয়েছে? 

নিচে আমি আল-কোরানের ২১ নাম্বার অধ্যের ৩০ নাম্বার আয়াত এর ইংরেজি অনুবাদ তুলে দিচ্ছি। অনুবাদটি নেয়া হয়েছে http://corpus.quran.com ওয়েব সাইট থেকে। 

Verse 21:30. “Have those who disbelieved not known that the heavens and the earth were a joined entity, and We separated them and made from water every living thing? Then will they not believe?” 

আয়াতটির বাংলা অনুবাদ করলে দাড়ায় এমন: "অবিশ্বাসীরা কি অবগত নয় যে পূর্বে পৃথিবী এবং সাত-আসমান সমূহ একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে এক অবিছেদ্য অবস্থায় ছিল, এবং আমি (আল্লাহ) তাদের কে একে অপর থেকে আলাদা করি এবং প্রত্যেকটি জীবিত বস্তুকে সৃষ্টি করি পানি থেকে? তাহলে তারা কি বিশ্বাস আনবে না?” এখন এই আয়াতটির অন্তর্নিহিত তাত্পর্য বোঝার জন্য আমি আয়াতটিতে উল্লেখিত মূল শব্দ সমূহের 'শাব্দিক' এবং 'প্রাসঙ্গিক' দিক নিয়ে নিয়ে আলোচনা করব। প্রথমে আসা যাক 'the heaven' শব্দটা দিয়ে এখানে কি বোঝানো হয়েছে। Heaven বলতে আমরা সাধারণত: বেহেস্ত বুঝে থাকি; কিন্তু ‘heaven’ এর অর্থ হতে পারে একাধিক। উপরের আয়াতটিতে ‘السماوات’ এর ইংরেজি প্রতি শব্দ করা হয়েছে 'the heavens'. কোরানে 'السماوات ' শব্দটি এসেছে বহুবার। ইংরাজি সাহিত্যে 'heaven' শব্দটাও ‘বেহেস্ত’ ব্যতিত বিভিন্ন অর্থে ব্যাবহিত হয়। যেমন এখানে আমি রিচার্ড ডকিন্স এর 
'The God Delusion' বই থেকে একটা লাইন হুবুহু তুলে দিচ্ছি: 

“Indeed, exobiologists searching for evidence of extraterrestrial life are scanning the heavens, in practice, for sign of water (Dawkins 2007, Page-162).” 

পরিস্কার অর্থেই এখানে উপরোল্লেখিত 'the heavens' ইংরেজি শব্দটি দিয়ে রিচার্ড ডকিন্স আমাদের পৃথিবীর বাইরের বিশ্বটাকে, অর্থাত অন্য কোনো মহাবিশ্ব বা গ্রহকে বোঝাচ্ছেন যেখানে প্রানের অস্তিত্ব থাকতে পারে। সুতরাং, সঙ্গত কারণেই এবং উপরোল্লেখিত আয়াতটির পটভূমি বিচারে এটা বলা যায় যে 'السماوات' দিয়ে এখানে মহাবিশ্বকেই বোঝানো হয়েছে। উপরন্তু 'السماوات ' এর পরে পৃথিবী শব্দটি ও এসেছে। সব মিলিয়ে বলা যায় যে এই আয়াতটির প্রথম অংশ পরিষ্কার ভাবে ইঙ্গিত করছে যে সৃষ্টির শুরুতে এই পৃথিবী, এই সৌর জগত, এই মহাবিশ্ব সব একত্রিত ছিল (a mass all sewn up)। পরে এক বিশেষ প্রক্রিয়ায় এদেরকে পৃথক করা হয়। সৃষ্টি হয় এই বিশ্বব্রম্মান্ড! বিগ ব্যাং! বিগ ব্যাং এর ঠিক পূর্ব মুহুর্তে বস্তু (matter), শক্তি (energy), স্পেস এবং সময় সব মিলে মিশে একাকার অবস্থায় ছিল: যেটাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় 'সিঙ্গুলারিটি'। কোরানে 'সিঙ্গুলারিটি' শব্দটি নেই; তার স্থলে যে শব্দটি এসেছে তা হলো 'رَتْقًا '- যার অর্থ ‘a joined entity’ or ‘a mass all sewn up’. বিশিষ্ট কোরানের তর্জমাকারী এবং স্বনামধন্য ইংলিশ কোরান ইন্টারপ্রিটার, প্রাক্তন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এর Arabic Study Department এর প্রফেসর Arthur John Arberry 'رَتْقًا ' শব্দটির ইংরেজি অনুবাদ করেছেন ‘a mass all sewn up’ (Source: http://corpus.quran.com). সবচেয়ে আশ্চর্য জনক ব্যাপার হলো এই 'رَتْقًا ' শব্দটি কোরানে মাত্র 'একবারই' এসেছে! A single appearance! Technical দিকটা বাদ দিলে 'رَتْقًا’ এবং ‘Singularity’ এর অর্থ কিন্তু অনেকটা একই রকম দাড়ায়! তাহলে কোরান কি অনেক আগেই আমাদের 'বিগ ব্যাং' এবং 'সিঙ্গুলারিটির' ব্যপারে ইঙ্গিত বা আইডিয়া দেয় নি? 

এখন মহা বিশ্বের ব্যাপকতার বিচারে এটা সহজেই অনুমেয় যে বিগ ব্যাং এবং তার পরবর্তী ধাপ কসমিক ইনফ্লেশন এবং সম্প্রসারণ এর সময় প্রচন্ড মাত্রার শক্তির প্রয়োজন পরে। আমাদের হাতে এ মুহুর্তে যে তথ্য আছে তাতে এই শক্তির ব্যাপ্তি সম্পর্কে কিছুটা অনুমান করা যায়। একটা উদহারণ দেয়া যাক: বর্তমান মহাবিশ্বের তাপমাত্রা হলো ৩ কেলভিন আর বিগ ব্যাং এর সময় এই তাপমাত্রা ছিল, ১০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০ কেলভিন! এই পরিমান তাপমাত্রা তৈরী করতে কত শক্তির প্রয়োজন তা সম্ভবত আমাদের চিন্তারও উর্ধে। আমরা একটা ডিম সেদ্ধ করতে কত কেলভিন তাপ খরচ করি জানেন? ৩৭১ কেলভিন, যা কিনা ১০০ ডিগ্রী তাপমাত্রা'র সৃষ্টি করে। সে যাই হোক, ডিম সিদ্ধ করতে কত কেলভিন তাপের প্রয়েজন এটা নিয়ে আমার তেমন মাথা ব্যথা নেই। আমার সহধর্মিনীই এই কাজটি খুব দক্ষতার সাথেই করে ফেলে। কিন্তু বিগ ব্যাং এর মত এত বৃহত পরিসরের কাজটি কে করলো? আমি আল কোরানের ৫১ নাম্বার অধ্যের ৪৭ নাম্বার আয়াতের ইংরেজি অনুবাদ তুলে দিচ্ছি। অনুবাদটি নেয়া হয়েছে উপরোল্লেখিত একই উত্স্য থেকে। 

Verse 51:47. “We have built the heaven with might, and We it is Who make the vast extent (thereof).” 

আয়াতটি বিশ্লেষণের পূর্বে জেনে নেই 'might' এবং 'vast' শব্দ দুটির অর্থ। অক্সফোর্ড ডিকশনারি অনুযায় 'might' এর ডেফিনেশন হলো: ‘Great and impressive power or strength, especially of a nation, large organization, or natural force’. আর 'vast' এর ডেফিনেশন হলো ‘Of very great extent or quantity; immense’. অর্থাত এই আয়াতটিতে বলা হচ্ছে, "আমি (আল্লাহ) এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছি প্রচন্ড এক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এবং আমিই একে দিই এক বিশাল ব্যাপ্তি।" আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে যা বলে তা হলো: এখানে কোরান পরিস্কার ভাবেই উল্লেখ করেছে যে মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময় প্রচন্ড মাত্রার শক্তি ব্যয়িত হয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞানও তো সেই একই কথাই বলে, তবে একক হিসেবে বিজ্ঞানীগণ ব্যবহার করে ‘কেলভিন’ অথবা ‘গিগা ইলেকট্রন ভোল্ট’ ইত্যাদি একক সমূহ। মূল কথা বা আইডিয়া কিন্তু ওই একই! 

কোরান কোনো কোয়ান্টাম মেকানিক্স অথবা জীব বিদ্যার বই হিসেবে নাজিল হয়নি। আর এ কারণেই এই বই এ কোনো গাণিতিক সমীকরণ নেই, নেই কোনো ফসিল তত্ব বা জেনেটিক তত্ব। তবে রয়েছে অনেক অনেক বৈজ্ঞানিক আইডিয়া, অনেক অনেক সংকেত। এটা আমাদের ব্যর্থতা যে আমরা শুধু কোরান থেকে বেহেস্ত-দোজখ-হুর-জেনা-মুনকার-নাকির-হারাম-হালাল-গিলমান নিয়েই পড়ে আছি। একজন বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে আমি জানি যে 'আইডিয়া' ই হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিগ আইডিয়া (Big Idea) বলে একটা কথা আছে বিজ্ঞানের জগতে। আইনস্টাইনের ছিল বিগ আইডিয়া, নিউটনের ছিল বিগ আইডিয়া, রিচার্ড ফাইনম্যানের ছিল বিগ আইডিয়া। এরাই বিজ্ঞানকে এগিয়ে নিয়ে গেছে অনেক দূর। আইডিয়া আসলে কি? খুব সাধারণ ভাবে বলা যায়, সুচিন্তিত অনুমানই আইডিয়া। 

লিখাটা এখন শেষ করা প্রয়োজন! একটি কথা বলে শেষ করছি। আমরা জানি বর্তমানে জতির্বিজ্ঞানিগন ভিন্ন গ্রহে প্রানের অস্তিত্ব খুঁজে বেড়াচ্ছে। একের পর এক মহাশূন্য যান পাঠাচ্ছে মহাকাশে প্রাণীর অস্তিত্বের খোজে। মহাশূন্য যানগুলো আসলে কিসের সন্ধান করছে? এগুলো কি খুঁজে বেড়াচ্ছে যে দূর কোনো গ্রহে কোনো প্রাণী হাটাহাটি করছে কিনা, অথবা কোনো এক মেষ পালক তার মেষের পাল মাঠে চড়াচ্ছে কিনা? সঙ্গত কারণেই এর উত্তর 'না'। মহাশূন্য যানগুলো আসলে সন্ধ্যান চালাচ্ছে অন্য কোনো গ্রহে 'পানি'র (water) অস্তিত্ব রয়েছে কিনা। বিজ্ঞানীরা জানেন যেখানে পানি সেখানেই প্রাণ! এখন আমি কোরানের ২১:৩০ আয়াতির অংশ বিশেষ আবার নিচে তুলে দিচ্ছি: 

“……We separated them and made from water every living thing……” 
অর্থাত, এখানে বলা হচ্ছে সকল জীবিত প্রাণীই সৃষ্টি হয়েছে 'পানি' (water) থেকে। কি বুঝলেন পাঠকগণ? ভবিষ্যতে সময় পেলে হয়ত লিখাটি আরেকটু প্রলম্বিত করে এই বিষয়টি আরেকটু ভালো ভাবে ব্যখ্যা করার চেষ্টা করব। ততদিন পর্যন্ত ভালো থাকবেন সবাই। 

অদ্ভুতুড়ে 3:27 AM

আমাদের এই মহাবিশ্ব ধীরে ধীরে ডার্ক এনার্জি বা গুপ্ত শক্তির গ্রাসে পরিণত হচ্ছে। মহাকাশ গবেষকেরা দাবি করেছেন, ডার্ক এনার্জি বা গুপ্ত শক্তি আমাদের এই মহাবিশ্বকে ধীরে ধীরে মুছে দেবে সে সংকেত তাঁরা পেয়েছেন। এক খবরে পিটিআই এ তথ্য জানিয়েছে। 


কী এই রহস্যময় গুপ্ত শক্তি বা ডার্ক এনার্জি? পদার্থবিজ্ঞানীদের ধারণা, ডার্ক ম্যাটারের প্রতিক্রিয়ায় তৈরি হয় ডার্ক এনার্জি বা গুপ্ত শক্তি। আর এই ডার্ক ম্যাটারই মহাবিশ্বকে একত্রে ধরে রেখেছে। সবখানেই আমাদের ঘিরে রেখেছে ডার্ক ম্যাটার অথচ আমরা ডার্ক ম্যাটারের কোনো অস্তিত্ব টের পাই না। এর কারণ ডার্ক ম্যাটার থেকে কোনো আলোর বিচ্ছুরণ, প্রতিফলন বা আলো তৈরি হয় না। এই ডার্ক ম্যাটার পুরো বিশ্বের ৮৪ শতাংশ দখল করে রেখেছে। মহাজাগতিক এই শক্তিতেই তৈরি মহাবিশ্ব।

যুক্তরাজ্যের পোর্টসমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক জ্যোতির্বিদ্যার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ডার্ক ম্যাটারের প্রতিক্রিয়ায় ডার্ক এনার্জি বাড়ছে যার ফলে মহাজাগতিক কাঠামোর সম্প্রসারণ ধীরগতিতে হচ্ছে। 

অদ্ভুতুড়ে 2:13 AM
রহস্যে ভরা মঙ্গলের পৃষ্ঠে ইদানিং অদ্ভুত আকৃতির এতো সব বস্তুর দেখা পাওয়া যাচ্ছে যে এখন আর তা আমাদের অবাক করে না, আমরা ধরেই নেই তা দৃষ্টিবিভ্রম অথবা নিতান্তই কাকতালীয় কোনো ঘটনা। এই তো, এই ছবিটি দেখেই বলুন না, মঙ্গলের বালিতে অর্ধেক ডুবে থাকা এই বস্তুটি কি আসলেই একটি মানুষের মাথার খুলি, নাকি নিতান্তই সাধারন একটি পাথর? 

মঙ্গল রহস্য


এই ছবিটি নতুন কিছু নয়। বেশ কয়েক বছর আগে Spirit রোভারের প্যানোরামিক ক্যামেরায় ধরা পড়ে এটি। ছয় বছর কাজ করার পর ২০১০ সালের মার্চে Spirit এর সাথে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে NASA। Paranormal Crucible নামের এক ওয়েবসাইট সম্প্রতি এই ছবি সহ একটি ভিডিও প্রকাশ করে ইউটিউবে। তবে তারা এই ছবিতে বেশ রঙ চড়িয়ে প্রকাশ করে, যাতে এই পাথরকে আসলেই একটি খুলির মতো দেখতে মনে হয়। এই পোস্টে ব্যবহৃত ছবিটি NASA থেকে নেওয়া, যাতে কোনো রকম পরিবর্তন করা হয়নি।

UFO Sightings Daily নামের ওয়েবসাইট দাবি করেছে এই বস্তুটি আসল খুলি হবার সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ, আর এটা মানুষের স্বাভাবিক খুলির চাইতে ১৫-২০ শতাংশ বেশি লম্বা। এর অর্থ হলো, এটা যে প্রাণীর খুলি সে মতামুতি ৯-১০ ফুট লম্বা। এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ছবিতেও ঘষামাজা করে অক্ষিকোটর এবং নাকের অস্তিত্ব প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা দাবি করছে, এক সময়ে মঙ্গলের বুকে মানুষের মতো অবয়বের এমন বিশাল প্রাণীরা চলাফেরা করতো। 

অদ্ভুতুড়ে 2:04 AM

ঐতিহাসিক মহাকাশ যান ফিলি ল্যান্ডার বন্ধ হয়ে গেলো! 67P/Churyumov-Gerasimenko ধূমকেতুর ব্যাপারে বিজ্ঞানীদের চমকপ্রদ সব তথ্য পাঠানোর পর শনিবার বন্ধ হয়ে যায় ESA এর পাঠানো রোজেটা মহাকাশযানের ফিলি ল্যান্ডার। গবেষকেরা জানান, ফিলির ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়ায় তা বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবেই শেষ হয় ওয়াশিং-মেশিন আকৃতির ফিলি ল্যান্ডারের ৫৭ ঘন্টার মিশন। 




গত বৃহস্পতিবার রোজেটা থেকে এই ধূমকেতুর ওপর অবতরণ করে ফিলি ল্যান্ডার। কিন্তু এই ধূমকেতুর শরীরে হারপুন গেঁথে ফেলার কাজটি করা সম্ভব হয়নি তার পক্ষে। ধূমকেতুটির শক্ত শরীরে অবতরণের পর এটি দুবার ছিটকে চলে যায় এবং আসলে তার যেখানে অবতরণ করার কথা তার চাইতে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে গিয়ে পড়ে। এর পাঠানো বিভিন্ন ছবি ও অন্যান্য তথ্য থেকে জানা যায়, ফিলি অবস্থান করছে কোনো খাদের ভেতরে যেখানে এর সৌর ব্যাটারি রিচার্জ করার মতো যথেষ্ট সূর্যালোক নেই। এ তথ্য জানার পর খুব দ্রুত একে দিয়ে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান গবেষকেরা। সবশেষে একে এমন নির্দেশ দেওয়া হয় যাতে সে নিজেকে সূর্যের দিকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এতে কোনো এক সময়ে এর ব্যাটারি আবার রিচার্জ হতে পারে এবং নতুন করে পরীক্ষা শুরু করা যেতে পারে। 

এই ধূমকেতুর শরীরে ড্রিল করে যেসব নমুনা পাওয়া গেছে, তার মাঝে কোনো জৈব অণু আছে কিনা এবং থাকলে তার রাসায়নিক গঠন কেমন, মূলত সে ব্যাপারে আগ্রহী বিজ্ঞানীরা। ধারণা করা হয় ধূমকেতুরা ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে আমাদের সৌরজগত সৃষ্টির সময় থেকেই বিদ্যমান। এদের মাঝে থাকা পাথর এবং বরফ সেই প্রাচীন সময়ের জৈব অণু টিকিয়ে রেখেছে এখনো। এসব থেকে প্রাণের উৎপত্তির ব্যাপারে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। 67P/Churyumov-Gerasimenko ধূমকেতুর শরীরে প্রায় ১০ ইঞ্চি গভীর পর্যন্ত ড্রিল করেছিলো ফিলি। 

অদ্ভুতুড়ে 1:29 AM


মহাকাশ আমাদের কাছে এক অজানা বিস্ময়কর বিষয়। আর এই অজানা বিষয়টিতে আছে হাজার অজানা বস্তু, যার কিছু কিছুর সন্ধান আমরা জানি।আর কিছুর সন্ধান হয়তো এখনো জানি না। আর এ সকল বস্তুর মধ্যে কিছু বস্তু মানুষের মনে মনেক কৌতূহল সৃষ্টি করে।তার মধ্যে ধুমকেতু একটি। প্রাচীন কালে মানুষ এগুলো দেখে বিস্ময়ে হতোবাক হয়ে যেত। আর ভাবত এটি বুঝি অশুভ কিছু। কালের পরিবর্তনে মানুষের ভাবনারও পরিবর্তন হয়েছে। তারপরেও ধুমকেতুর  সম্পর্কে আমাদের অনেক কিছুই অজানা রয়ে গেছে। কি এই ধূমকেতু?


ধূমকেতুর জন্মঃ
     ধারণা করা হয় স্বল্পকালীন ধূমকেতুর জন্ম বামন গ্রহগুলো বা সেন্টর থেকে এবং কুইপার বেল্ট ও নেপচুনের কক্ষপথের বাইরের এলাকায় যে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন বস্তুর চাকতির মত এলাকা আছে সেখান থেকে; দীর্ঘকালীন ধূমকেতুর জন্ম ওরট মেঘ থেকে যা সৌরজগতের সবচে দূরের এলাকা এবং এখানে বরফপিণ্ডের মত অনেক বস্তু গোলাকার কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান বলে মনে করা হয়। কুইপার বেল্টে বড় গ্রহগুলোর মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাবে বা ওরট মেঘে নিকটবর্তী কোনও নক্ষত্রের প্রভাবে কোনও বস্তু উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যের দিকে এলে নতুন ধূমকেতুর জন্ম হবে। কিন্তু ধূমকেতুর জন্মের এই প্রক্রিয়া হিসাব করে বের করা সম্ভব হয়নি। কিছু ধূমকেতুর পর্যায়কাল বড় গ্রহগুলোর মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। যেমন 11P/Tempel-Swift-LINEAR ধূমকেতু ১৮৬৯ সালে আবিষ্কৃত হলেও ১৯০৮ সালের পর আর দেখা যায় নি কারণ হল বৃহস্পতি। পরে ২০০১ সালে LINEAR দ্বারা পুনরায় আবিষ্কৃত হয়।

সৌরজগত ছেড়ে চলে যাওয়াঃ
    বৃহস্পতির মত বড় গ্রহগুলোর মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাবে একটি ধূমকেতু সৌরজগত ছেড়ে চলে যেতে পারে।কারন এই রকম বড় গ্রহের মহাকর্ষীয় টান অনেক সময় সূর্যের চেয়ে বেশী হওয়ায় সেটি সূর্যের আকর্ষণ ভেদ করে মহাকাশে চলে যায়।


উদ্বায়ী পদার্থ শেষ হওয়াঃ
    এই কারণে বৃহস্পতি পরিবারের ধূমকেতুর আয়ু ১০০০০ বছর বা প্রায় ১০০০ বার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করা। কিন্তু দীর্ঘকালীন ধূমকেতুগুলোর ১০% মাত্র ৫০বার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে পারে এবং মাত্র ১% প্রায় ২০০০ বার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে পারে। এরপরে ভেতরের উদ্বায়ী পদার্থ পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়।

খণ্ড খণ্ড হয়ে যাওয়াঃ
    প্রাচীন ইতিহাসবিদ ইফোরাস প্রথম খ্রি. পূর্ব ৪র্থ শতকে বলেন একটি ধূমকেতু দুইভাগে ভাগ হয়ে গেছিল। বিশাল সেপ্টেম্বর (1882 II) ধূমকেতুর নিউক্লিয়াস সূর্যের খুব কাছে গিয়ে চারটি স্বতন্ত্র নিউক্লিয়াসে ভাগ হয় যা ২৫০০ থেকে ২৯০০ সালের মধ্যে আবার ফিরে আসবে। এছাড়া ১৯৯৫ সালে Comet 73P/Schwassmann-Wachmann 3 ধূমকেতু ভেঙ্গে যেতে শুরু করে। এগুলোকে ক্রেজ সানগ্রেজার পরিবারের ধূমকেতু বলা হয়। এই ভাঙ্গন সূর্যের খুব কাছ দিয়ে গেলে সৌর জোয়ার বা বড় গ্রহগুলোর মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাবে হতে পারে।

সংঘর্ষ ও আত্মাহুতিঃ
   কোনও ধূমকেতু সূর্যে সফলভাবে পতিত হতে পারে যেমন হাওয়ার্ড-কূমন-মিশেল (1979 XI) ১৯৭৯ সালের আগস্টের শেষে অথবা গ্রহের সাথে সংঘর্ষ হতে পারে যেমন Shoemaker-Levy ধূমকেতু ১৯৯৪ সালের জুলাইতে খণ্ড খণ্ড হয়ে বৃহস্পতিতে পতিত হয়। লুইস ও ওয়াল্টার আলভারেজের মতে ৬.৫ কোটি বছর আগে কোনও ধূমকেতু বা বৃহৎ কোন উল্কাপাতের ফলে ডাইনোসরসহ অনেক প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যায়। অনেকের ধারণা পৃথিবীর জন্মের পর যথেষ্ট পরিমাণ পানি ধূমকেতু থেকে এসেছিল । তবে এ ব্যাপারে কোন প্রমান পাওয়া যায় নি। 

   তথ্যসহায়িকা  : উইকিপিডিয়া

অদ্ভুতুড়ে 1:56 AM

নাসা’র সোলার ডাইনামিকস অবজারভেটরি(SDO) সম্প্রতি সূর্যের পৃষ্ঠে অদ্ভুর এক ব্যাপার পর্যবেক্ষণ করে। যেনতেন কিছু নয়, একেবারে চৌকোণা আকৃতির এক “ছিদ্র”! এই ছিদ্র দিয়ে বিপুল বেগে প্রবাহিত হচ্ছে সৌরঝড়। 


এই ছিদ্র অংশে কোনো পদার্থ উপস্থিত না থাকায় আল্ট্রাভায়োলেট ইমেজে আশেপাশের অঞ্চলের তুলনায় একেবারে কালো কুচকুচে লাগে একে। মে মাসের ৫-৭ তারিখ পর্যন্ত ধারণ করা তথ্যের ভিডিওতে এই ছিদ্র শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

SDO এর এই ইউটিউব ভিডিওতে বলা হয়, এই ছিদ্রের ভেতরে দেখা যায় উজ্জ্বল সব কুণ্ডলী যেখানে উত্তপ্ত প্লাজমা সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্র বরাবর সজ্জিত হয়ে আছে। এটা সূর্যের দক্ষিণ অঞ্চলে থাকার কারণে পৃথিবীর ওপর এই সৌরঝড়ের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম।

সূর্যে এ ধরণের ছিদ্র ঠিক কি কারণে তৈরি হয় এ ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত নন গবেষকেরা। তবে সোলার সাইকেলের সময়ে যখন সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্র উল্টে যায়, তার সাথে এর সংযোগ রয়েছে।

অদ্ভুতুড়ে 12:51 AM

সৌরজগতে যতগুলো গ্রহ আছে, প্রত্যেকটির প্রতিই আগ্রহ রয়েছে বিজ্ঞানীদের এবং কোন গ্রহে কি হচ্ছে না হচ্ছে, তা জানার জন্য তারা সবসময়েই চেয়ে আছে উপগ্রহগুলোর আপডেটের উপর। কিন্তু ভাবুন তো, এবার অন্য কোনো গ্রহ চোখ রাখছে পৃথিবীর ওপরে, তবে কেমন হবে? কি আশ্চর্য!!! কি আশ্চর্য!!!



সম্প্রতি দেখা গেছে, বৃহস্পতি-গ্রহ চোখ রাখছে পৃথিবীর ওপর। অন্তত বৃহস্পতির এক সাম্প্রতিক ছবি দেখে তাই মনে হচ্ছে। এপ্রিলের ২১ তারিখে হাবল স্পেস টেলিস্কোপের তোলা এই ছবিতে মনে হচ্ছে বৃহস্পতির পৃষ্ঠে এক অতিকায় চোখ আর তা নজর রাখছে পৃথিবীর দিকেই। এই “চোখ” আসলে বৃহস্পতির পৃষ্ঠে চলমান বিশাল এক সাইক্লোন যাকে ডাকা হয় Jupiter’s Great Red Spot। নাসা’র মতে, জুপিটারের চাঁদ গ্যানিমিডের ছায়া পড়েছে ঠিক এই সাইক্লোনের মাঝখানে, যার ফলে একে দেখাচ্ছে চোখের মতো।

নাসা এক বিবৃতিতে বলে, তাদের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হচ্ছে সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহের অদ্ভুত সুন্দর এসব রূপ। কিন্তু যখন দেখা যায় এই গ্রহ উলটো আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে, কি আশ্চর্য!!! এই বিশাল গ্রহের ১০ হাজার মাইল ব্যাসের “চোখ” এর ওপর গ্যানিমিডের ছায়া পড়ে সেই চোখের তারা(Pupil) তৈরি করেছে। কি আশ্চর্য!!! কি আশ্চর্য!!!
সৌরজগতে যত গ্রহ আছে, সবগুলোর প্রতিই আগ্রহ রয়েছে বিজ্ঞানীদের এবং কোন গ্রহে কি হচ্ছে না হচ্ছে, তা জানার জন্য তারা সবসময়েই উন্মুখ। কিন্তু ভাবুন তো, এবার অন্য কোনো চোখ রাখছে পৃথিবীর ওপরে, তবে কেমন হবে?
সম্প্রতি দেখা গেছে, বৃহস্পতি চোখ রাখছে পৃথিবীর ওপর। অন্তত বৃহস্পতির এক সাম্প্রতিক ছবি দেখে তাই মনে হচ্ছে। এপ্রিলের ২১ তারিখে হাবল স্পেস টেলিস্কোপের তোলা এই ছবিতে মনে হচ্ছে বৃহস্পতির পৃষ্ঠে এক অতিকায় চোখ আর তা নজর রাখছে পৃথিবীর দিকেই। এই “চোখ” আসলে বৃহস্পতির পৃষ্ঠে চলমান বিশাল এক সাইক্লোন যাকে ডাকা হয় Jupiter’s Great Red Spot। নাসা’র মতে, জুপিটারের চাঁদ গ্যানিমিডের ছায়া পড়েছে ঠিক এই সাইক্লোনের মাঝখানে, যার ফলে একে দেখাচ্ছে চোখের মতো।
নাসা এক বিবৃতিতে বলে, তাদের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হচ্ছে সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহের অদ্ভুত সুন্দর এসব রূপ। কিন্তু যখন দেখা যায় এই গ্রহ উলটো আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে, তখন ভয় পেতে হয় বই কি। এই বিশাল গ্রহের ১০ হাজার মাইল ব্যাসের “চোখ” এর ওপর গ্যানিমিডের ছায়া পড়ে সেই চোখের তারা(Pupil) তৈরি করেছে।
Powered by Blogger.