Showing posts with label ধর্মচিন্তা. Show all posts

অদ্ভুতুড়ে 6:19 AM



 حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
উচ্চারণ: ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল।’

অর্থ: ‘আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই উত্তম সাহায্যকারী, কার্যসম্পাদনকারী।’ -সূরা আল ইমরান : ১৭৩

উত্তম সাহায্যকারী কে: বর্ণিত আয়াতে আল্লাহতায়ালার ওপর ভরসা করার বিষয়ে বলা হয়েছে। আল্লাহর ওপর ভরসা করার নানা পর্যায় রয়েছে। কেউ মুখে মুখে ভরসার কথা বলে, কেউ সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের ভরসা করে, কেউ-বা সর্বদাই সব কাজে আল্লাহর ওপর ভরসা করে। এটি তাওয়াক্কুলের সর্বোচ্চ পর্যায়।

আল্লাহর ওপর যার আস্থা যত বেশি, তার সফলতার পরিপূর্ণতা তত বেশি। তাওয়াক্কুল একটি গুণ, একটি ইবাদত। এটি অর্জন ছাড়া ঈমান অসম্পূর্ণ থাকে। সে কারণে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ওপর তাওয়াক্কুল করা যায় না। মৃত বা জীবিত কোনো ওলি-আল্লাহ, পীর-বুজুর্গ, নবী-রাসূলের ওপর ভরসা করা শিরক। আর শিরক হচ্ছে সবচেয়ে বড় জুলুম।
আমল: বর্ণিত আয়াতাংশটি বেশি বেশি পাঠে আল্লাহর ওপর ভরসা দৃঢ় হয়। প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর এ আয়াত কয়েকবার পাঠ করার ফজিলত অনেক বেশি। আর এ কথা প্রমাণিত যে, আল্লাহর ওপর ভরসাকারীই প্রকৃত মুমিন ও সঠিক পথপ্রাপ্ত সফল ব্যক্তি।

আল্লাহর ওপর ভরসা করার কারণে কঠিন বিপদও মোকাবেলা সহজ হয়। ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন, তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) হলো- ঈমানের অর্ধেক। আর দ্বিতীয় অর্ধেক হলো- আল্লাহর দিকে রুজু হওয়া।
কোরআনে কারিমে তাওয়াক্কুল ৯ বার, বহুবচনে মুতাওয়াক্কিল ৪ বার, বিভিন্ন ক্রিয়াপদে ৩৩ বার এবং ওয়াকিল ২৪ বার ব্যবহৃত হয়েছে।

ইসলামি শরিয়তে তাকদিরে বিশ্বাস রাখা ওয়াজিব। তাই তাকদিরে বিশ্বাস রাখার পাশাপাশি চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। সফল হলে যে কোনো ব্যাপারে কৃতজ্ঞতা আদায় করতে হবে। আর সফল না হলে ধৈর্য ধারণ করতে হবে।
প্রচেষ্টা ও তাওয়াক্কুল উভয়টাই থাকতে হবে। তাকদিরের দোহাই দিয়ে রোগ হলে চিকি‍ৎসা না করা, শত্রুর হাত থেকে আত্মরক্ষার চেষ্টা না করা ইসলামসম্মত নয়।

আয়াতের শিক্ষা : বর্ণিত আয়াতের শিক্ষা হলো, সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং আল্লাহকে নিজেদের জন্য যথেষ্ট মনে, আল্লাহকে সব শক্তির উৎস মনে করা। এ ছাড়া এই আয়াতের আরও শিক্ষণীয় বিষয় হলো, শত্রুপক্ষের অনুপ্রবেশ এবং আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য তাদের ছড়িয়ে দেওয়া প্রচারণা সম্পর্কে সাবধান থাকা, শত্রুরা যত বেশিসংখ্যক কিংবা শক্তিশালী হোক না কেন- আল্লাহর ক্ষমতা তার চেয়েও বেশি- এমন বিশ্বাস মনে দৃঢ় রাখা।

আসলে, দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি নিতান্ত অনিচ্ছায় এবং প্রস্তুতি বা আগ্রহ ছাড়া কোনো কাজ সম্পন্ন করে, তবে সে কাজের কোনো মূল্য নেই। তদ্রুপ যার মধ্যে খোদাভীরুতা নেই এবং সৎকাজের ইচ্ছাও নেই- সে যুদ্ধে অংশ নিলেও তা হবে মূল্যহীন।

অদ্ভুতুড়ে 6:16 AM

মানবতার মুক্তির দূত হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিসে ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আমাকে তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী জিনিস (জিহ্বা) এবং দুই উরুর মধ্যবর্তী জিনিসের (লজ্জাস্থান) হেফাজতের নিশ্চয়তা দিবে। আমি তার জন্য, জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব।’


হাদিসে বর্ণিত এই তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বর্তমান সমাজের বাস্তবতা হচ্ছে, দুনিয়ার যত গোনাহ, মারামারি, কাটাকাটি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, জেল-জুলুম, খুন-খারাবি, নারী-নির্যাতন, বেহায়াপনা, অশ্লীলতা থেকে শুরু করে যত ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়- তার প্রধান কারণ এ দু’টিই জিনিস।

যেমন, জিহ্বার অসংলগ্নতা- যাতে খারাপ ভাষা, যেমন সম্পৃক্ত, তেমনি পেটের চাহিদা পূরণ করার জন্য কৃত অপরাধ কিংবা কুপ্রবৃক্তি। মানুষ যদি নামাজ-রোজা ইত্যাদি ব্যক্তিগত আমলে ত্রুটি করে তবে তার কুফল ও পরিণতি ওই ব্যক্তি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে। অথচ জিহ্বা ও লজ্জাস্থানের অসংলগ্নতার কারণে সমাজের সর্বত্র এর কুপ্রভাব বিস্তার লাভ করে থাকে। এমনকি অবশেষে তা পুরো সমাজকে ধ্বংসের অতলে ডুবিয়ে ছাড়ে।

সুতরাং ইসলাম উপযুক্ত কারণেই এ দু’টি অসংলগ্নতা দূর করার শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ আহকাম দান করেছে। জৈবিক চাহিদা হচ্ছে, মানুষের সহজাত, যার ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় কাঙ্ক্ষিত। পবিত্রতার সঙ্গে তার প্রয়োগ করতে পারলে তা জীবনে প্রশান্তি আনয়ন করে। এটা মানব সৃষ্টির ধারা টিকিয়ে রাখার উপায়। এর মাধ্যমে সম্পর্ক ও ভালোবাসা মজবুত বন্ধনে স্থাপিত হয়। কিন্তু এ চাহিদা যদি সীমালঙ্ঘন করে আর পশুত্বসূলভ পথ অবলম্বন করে, তাহলে পুরো জীবন ধারাকে পারস্পারিক সম্পর্ক ও বন্ধন কেবলই কৃত্রিমতার রূপ প্ররিগ্রহ করে। চারিত্রিক ও শারীরিক অসুখের ব্যাপকতা দেখা দেয়। পারস্পরিক হিংসা ও বিদ্বেষের দহন বাড়তে থাকে। ঐক্যবদ্ধ কর্মপন্থায় ব্যাঘাত ঘটে।

যে সব কাজের মাধ্যমে মানুষের চিন্তাধারা বিকৃত হতে পারে, যার দ্বারা তাদের কুপ্রবৃত্তি লাগামহীন হতে পারে। যার কারণে, জৈবিক উন্মাদনা বাড়তে পারে এবং যা সমাজের মধ্যে কোনো না কোনোভাবে নগ্নতা ও অশ্লীলতা ছড়ানোর জন্য দায়ী- ইসলাম এসব কিছুর পথ গোড়াতেই বন্ধ করে দিয়েছে।

এ লক্ষ্য অর্জনের জন্যই পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে নবী! আপনি মুসলমানদের বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটা তাদের জন্য পবিত্রতার মাধ্যম। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছু জানেন যা কতিপয় লোক করে থাকে।’ -সূরা আন নূর : ৩০
 
কোরআনে কারিমে বারবার সমগ্র সমাজ কাঠামোতে মানুষের কামনা-বাসনা, পূতঃপবিত্র রাখার জন্য প্রচার মাধ্যমকে সর্তক করা হয়েছে। এ জাতীয় অসংখ্য নির্দেশনা দ্বারা মানুষের কান, চোখ অন্তর এবং তার সমস্ত ধ্যান- ধারণার ওপর আল্লাহর ভয় ও পরকাল ভাবনার ব্যাপারটি প্রয়োগ করা হয়েছে। এত কিছুর পরও যদি কোনো সুযোগ তালাশের মাধ্যমে অসদুপায় অবলম্বন করে- তবে তার জন্য রয়েছে ভয়াবহ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা ও প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষার প্রভাব এমন ছিল যে, নবী আমলের লোকেরা নিষ্কলুষ চরিত্র, সতীত্ব ও পবিত্রতা এবং জৈবিক চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপারে সমগ্র পৃথিবীতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। সত্যিকারের মুসলমানদের এমন চরিত্রের হওয়া দরকার।

আমাদের সামনে বেহায়াপনা ও চারিত্রিক স্খলনের যে সব কাহিনী দৃশমান- তা খুবই পীড়াদায়ক। বর্তমানে অন্য সব অসৎ ক্রিয়া-কর্মের সঙ্গে এ বিষয়টি সমাজের প্রকৃতিকে অস্বাভাবিক ক্ষিপ্রতায় বদলে দিচ্ছে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই বলা চলে, বিপথগামিতার এই জোয়ার রুখে দাঁড়ানোর সময় এখনই।

অদ্ভুতুড়ে 12:44 AM

গলায় ছুরি ধরলেও বলব না, ভারত মাতা কি জয়। সঙঘ প্রধান মোহন ভাগবতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে একথা বললেন এআইএমআইএম-এর নেতা তথা হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াসি। তার এই বক্তব্যে শিবসেনা পাল্টা তোপ দেগে বলেছে, 'ভারত মাতা কি জয়' না বলতে চাইলে, ওয়াসির পাকিস্তান চলে যাওয়া উচিত।

ভারত মাতা কি জয় বলবো না গলায় ছুরি ধরলেও

চলতি মাসের ৩ তারিখ মোহন ভাগবত দলীয় কর্মিসভায় বলেছিলেন, নতুন প্রজন্মকে ভারত মাতার জয় স্লোগান শেখানোর সময় এসেছে। এই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মহারাষ্ট্রের লাতুরে একটি দলীয় সভায় হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াসি বললেন, 'আপনি আমার গলায় ছুরি ধরলেও আমি ওই স্লোগান দেব না। ভাগবত সাহেব, আপনি কি করবেন? সংবিধানের কোথায় এটা লেখা নেই যে, সবাইকে ভারত মাতা কি জয় স্লোগান দিতে হবে।'

সঙ্ঘ প্রধানের বিরুদ্ধে তোপ দেগে ওয়েসি আরও বলেন, 'ওনি কাকে ভয় দেখাতে চাইছেন? তিনি কখনওই তার আদর্শ অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে পারেন না।'

ওয়াসির এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে শিবসেনা। শিবসেনা শীর্ষ নেতা তথা মন্ত্রী রামদাস কদম বলেছেন, 'ওয়াসির পাকিস্তানে চলে যাওয়া উচিত। আমি মহারাষ্ট্র সরকারকে বলেছি, ওনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।'- সংবাদমাধ্যম

অদ্ভুতুড়ে 11:18 AM
অবাক হওয়ার কিছু নেই। রোজ কয়েকশো মানুষ আসে দেয়ালটি ধরে কাঁদতে। ইতিহাস বলে প্রায় চার হাজার ফুট দেয়ালের এখন মাত্র ১৬০০ ফুট দাঁড়িয়ে রয়েছে। বাকিটা এখন আর নেই। ইংরেজিতে বলে ওয়েলিং ওয়াল, হিব্রুতে স্রেফ কোটেল বা দেওয়াল, তা ছোঁয়ার জন্য লম্বা লাইনে ধৈর্য ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন রোজ কয়েকশো মানুষ।
এখন জানা যাক কেন মানুয় কাঁদতে আসে। মুসলিমদের বিশ্বাস, যে জায়গাটায় ছিল ইহুদিদের মন্দির, সেখান থেকেই ‘বুরক’ নামের এক ডানাওয়ালা অতিজাগতিক জীবের পিঠে চেপে স্বর্গে গিয়েছিলেন পয়গম্বর মহম্মদ। জেরুজালেমের বিলাপ দেওয়ালকে তাঁরা বলেন ‘বুরক’ দেওয়াল। তাঁদের কাছে মক্কা আর মদিনার পরেই তৃতীয় পবিত্রতম তীর্থ এই আকসা মসজিদ। 

অবশ্য ওইখানেই যিশুর ক্রুশ ছিল কিনা, এটা নিয়ে এথনও বিতর্ক আছে। কিন্তু দেওয়ালের ওই টুকরোটা তখনও ওই ভাবেই ছিল, তাতে সন্দেহ নেই।

কান্নার ঐ দেয়ালে এসব ধর্মের মানুষ জামার ভাঁজ, কী ব্যাগের পকেট থেকে এক টুকরো কাগজ বার করে গুঁজে দেয় পাথরের খাঁজে। কী অসম্ভব অ্যাঙ্গেলে, কত যে উচ্চতায় দেখা যায় ইচ্ছে-লেখা কাগজ! ‘‘দেওয়ালেরও কান আছে,’’ কথাটা নাকি জেরুজালেমের এই দেওয়াল থেকেই এসেছে।

*** ভিডিওটি দেখুনঃ

অদ্ভুতুড়ে 1:12 AM
সিয়াম সাধনার মাস রমজান যেহেতু এই মাসে খাবার দাবারের নিয়মের পরিবর্তন হয় তাই সঠিক যত্ন না নিলে সহজেই এর প্রভাব ত্বক ও চুলের ওপর পড়তে পারে। এ সময়ের ত্বকের জন্য বিশেষ যত্নের প্রয়োজন।

ত্বকের যত্ন : রমজান মাসে যারা বাইরে বের হন, তারা বাইরে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন অবশ্যই লাগিয়ে নেবেন, সেই সাথে ছাতা ব্যবহার করতে ভুলবেন না।
এ সময়ে ত্বকের যত্নে কিছু পরিচর্চা করা প্রয়োজন। ধুলোবালু, গরম, রোদের তাপ প্রভৃতি থেকে ত্বককে সুরক্ষা দেয়ার জন্য নিয়মিত স্ক্রাবিং করুন। ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষায় স্ক্রাবিং খুব ভালো কাজ করে। স্ক্রাবিং ত্বকের মরা কোষ দূর করে ত্বককে করে তোলে সতেজ। কমলার বীজ এক টেবিল চামচ, এক চা চামচ চাল, এক চা চামচ মুগডাল ও এক চা চামচ ময়দা নিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে দিন। তবে খুব মসৃণ করবেন না। মোটা দানা রেখে স্ক্রাবিংয়ের মিশ্রণ তৈরি করুন। গোসলের আগে অল্প পানি মিশিয়ে এই মিশ্রণ দিয়ে পেস্ট তৈরি করে ব্যবহার করুন। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ফেসিয়াল করুন। বিভিন্ন ত্বকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ফেসিয়াল ব্যবহার করাই বেশি উপকারী।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য : এক চা চামচ ময়দা, এক চা চামচ বেসন, এক চা চামচ হলুদ বাটা অল্প পানি দিয়েImage result for রোজায় পরিচর্যা
মিশিয়ে ফেসিয়াল তৈরি করে মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে নিন। এই মিশ্রণ ত্বক সতেজ ও উজ্জ্বল করবে।
শুষ্ক ত্বক : এক টেবিল চামচ পেস্তাবাদাম বাটা, এক টেবিল চামচ ময়দা অল্প দুধের সরের সাথে মিশিয়ে নিন। আধা ঘণ্টা ত্বকে লাগিয়ে রাখার পর ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক শুষ্ক ত্বকে পুষ্টি জোগাবে, ত্বককে রাখবে মসৃণ ও কোমল। স্বাভাবিক ত্বকের জন্য : শসার পেস্ট, গাজরের পেস্ট, ময়দা ও ডিম পরিমাণমতো নিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। আধা ঘণ্টা মুখের ত্বকে লাগিয়ে রাখার পর ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখার সাথে সাথে ত্বককে রাখবে কোমল ও সতেজ।

চুলের যত্ন
ত্বকের সাথে চুলের জন্যও চাই পরিচর্যা। চুল ভালো রাখতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সাথে সাথে চুলে পুষ্টি জোগানো জরুরি। এক কাপ তিলের তেলের সাথে দু-তিনটি জবাফুল ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। এবার চুলায় কিছুক্ষণ ফুটিয়ে ছেঁকে নিন। এই তেল সপ্তাহে দুই দিন অল্প গরম করে ত্বকে ম্যাসাজ করুন। পরের দিন শ্যাম্পু করে নিন। এটি চুলে পুষ্টি জোগাবে ও রোদে পুড়ে চুলে যে ক্ষতি হয়, সেটি দূর করতে সাহায্য করবে। এক টেবিল চামচ টকদই, একটি পাকা কলা, এক চা চামচ মেথিগুঁড়া মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিতে হবে। ৪০ মিনিট চুলে লাগিয়ে রাখার পর শ্যাম্পু করে নিন। এতে চুল নরম ও চকচকে হবে। সপ্তাহে দুই দিন এই প্যাক ব্যবহার করুন।
এ ছাড়া ত্বক ও চুলের যত্নে এই সময়ে খাবারের প্রতিও লক্ষ রাখা প্রয়োজন। সারা দিন যেহেতু পানাহার থেকে বিরত থাকতে হয়, তাই ইফতারের পর প্রচুর পানি পান করুন। ফলের জুস ভালো। এতে পানির সাথে সাথে পুষ্টিও জোগাবে শরীরে। অনেকের এসিডিটির সমস্যা থাকে, তারা ভাজা ও বেশি তেলে রান্না করা খাবার কম খান। কারণ, হজমের সমস্যা ত্বক ও চুলের ওপর প্রভাব ফেলে। এ ছাড়া খাদ্য তালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখুন, এতে শরীর, ত্বক ও চুল সবই ভালো থাকবে। নিয়মিত যত্নই হচ্ছে সুন্দর থাকার মূল উপায়।

অদ্ভুতুড়ে 1:09 AM
নামাজ প্রত্যেক মুসলমানের জন্য বাধ্যতামূলক। নামাজ যথাযথভাবে পড়ার জন্য নামাজ শিখতে হয়, নামাজের সূরা-কেরাত শিখতে হয়। সঠিকভাবে নামাজ শেখার জন্য গুগলের প্লে স্টোরে ‘পূর্ণাঙ্গ নামাজ শিক্ষা› নামে একটি অ্যাপ রয়েছে। অ্যাপটি নামাজের নিয়ম, নিয়ত, সূরা শেখাতে বেশ সহায়ক।Image result for নামাজ শেখার অ্যাপ

 অ্যাপটির ফিচারগুলোর মধ্যে রয়েছে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচী, নামাজের ফরজসমূহ, অজুর নিয়মাবলী। এছাড়া অ্যাপটিতে নামাজ পড়তে লাগে এমন দোয়াগুলোর আরবী উচ্চারণসহ বাংলায় অর্থ দেওয়া আছে। ফলে আরবী না জানলেও বাংলা অর্থ বোঝা যাবে। রয়েছে বিভিন্ন নামাজের বর্ণনা এবং নামাজ পড়ার নিয়ামাবলী।Image result for নামাজ শেখার অ্যাপ

অদ্ভুতুড়ে 11:20 AM
ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক (গ্রীনল্যন্ড), রাশিয়া, আইসল্যান্ড, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার কিছু অংশে গ্রীষ্মকালের একটি বড় সময় সূর্য অস্তমিত হয় না যাকে নিশীথ সূর্য (Midnight Sun) নামে অভিহিত করা হয়। কুমেরু বৃত্তের (Antarctic Circle) দক্ষিণ মেরুতে কোনো স্থায়ী বসতি না থাকায় সুমেরু বৃত্তের (Arctic Circle) উত্তরাঞ্চলের জনসাধারণ সীমিত আকারে এ ঘটনার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। বস্তুত ফিনল্যান্ডের একেবারে উত্তরপ্রান্তে (Nothernmost point) ৭০ দিনেরও বেশি সময় ধরে সূর্য অস্তমিত হয় না। অপরদিকে ইউরোপের সর্ব উত্তরপ্রান্ত নরওয়ের স্বালবার্ড (Svalbard) অঞ্চলে ১৯ এপ্রিল থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত চার মাসের বেশি সময় সূর্যাস্ত হয় না। কোনো কোনো জায়গায় একটানা ছয়মাস পর্যন্ত সূর্য দৃশ্যমান থাকে।

ভিডিওটি দেখুনঃ

অদ্ভুতুড়ে 11:08 AM
ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের রাজধানী ভোপালের কাছে রাইসেনে রমজান মাসে সেহরি ও ইফতারের সূচনা হয় কামানের গোলার শব্দে। ২০০ বছরের বেশী সময় ধরে সেখানে এ ঐতিহ্য চালু রয়েছে।

রমজানের চাঁদ দেখার পরেই স্থানীয় দুর্গ থেকে বেশ কয়েকটি তোপের শব্দে রমজানকে স্বাগত জানানো হয়। এরপর থেকে এক মাস ধরে সেহরি এবং ইফতারের সময় তোপ দাগা হয়। দেশের মধ্যে একমাত্র রাইসেন শহরের রোজাদাররা কামানের তোপের শব্দ শুনে সেহরি এবং ইফতার শুরু করেন।

ভিডিওটি দেখুনঃ

অদ্ভুতুড়ে 10:29 AM
পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা সুন্দর ৫টি মসজিদ [ছবিসহ]






মসজিদ মুসলমানদের দলবদ্ধভাবে নামাজ পড়ার জন্য নির্মিত স্থাপনা। শব্দটির উৎপত্তি আরবি "মসজিদ" থেকে, যার আভিধানিক অর্থ শ্রদ্ধাভরে মাথা অবনত করা অর্থৎ সিজদাহ করা। সাধারণভাবে, যেসব ইমারত বা স্থাপনায় মুসলমানেরা একত্র হয়ে প্রাত্যহিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ (আরবি: صلاة‎ সালাত) আদায় করেন, তাকে মসজিদ বলে। আবার যেসব বড় আকারের মসজিদগুলো নিয়মিত নামাজের সাথে সাথে শুক্রবারের জুম'আর নামাজ আদায় হয় এবং অন্যান্য ইসলামিক কার্যাবলী (যেমন: কোরআন শিক্ষা দেওয়া) সম্পাদিত হয়, সেগুলো জামে মসজিদ (مسجد جامع) নামে অভিহিত। ইমাম নামাজের ইমামতি করেন বা নেতৃত্ব দেন।
সৃষ্টিকর্তার এই পৃথিবীতে মসজিদের সংখ্যা অগণিত, তবে এই অগণিত মসজিদ থেকে আজকে আমরা জানবো পৃথিবীর ৫টি সুন্দর মসজিদের কথা।


১) আল মসজিদুল হারাম (Al-Masjid Al-Haram, Holy Makkah of Saudi Arabia)
আল মসজিদুল হারাম। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ও প্রধান মসজিদ হচ্ছে মসজিদুল হারাম। ৬৩৮ সালে স্হাপিত মসজিদটি সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে অবস্হিত। মসজিদটি পবিত্র ক্কাবা ঘরের চতুর্বেষ্টিত। ৩৫৬৮০০ স্কয়ার মিটার আয়তন (৮৮.২ একর) বিশিষ্ট মসজিদটির লোক ধারন ক্ষমতা প্রায় বিশ লাখ। এখানে সর্বমোট ৯টি মিনার রয়েছে।
ইতিহাসে জানা যায়, আল্লাহর হুকুমে হযরত ইব্রাহিম (আ.) ক্কাবা ঘর ও তৎসংলগ্ন এই মসজিদ নির্মাণ করেন। ক্কাবা ঘরের দিকে নির্দেশনা করেই পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে নামাজ আদায় করা হয়।


২) মসজিদে নববী (Masjid Nababi of Saudi Arabia)
আমাদের প্রিয় নবীজির মসজিদ এটি। মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় পবিত্র জায়গা এটি। এটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও মার্বেল পাথর দিয়ে ডেকরেট করা। পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর এবং শান্তিময় শহর মদিনা যা 'মদিনা আল মনোয়ারা' নামে সুপরিচিত। ৬২২ সালে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর নিজ বাসস্থানের পাশেই মহানবী (সা.) তার পবিত্র হাতে এই মসজিদ গড়ার কাজে অংশ নেন। খেজুর গাছের কাণ্ড আর মাটির দেয়াল ঘেরা এ মসজিদের তিনটি দরজা ছিল। যা যথাক্রমে রহমতের দরজা, জিবরাইল (আ.)-এর দরজা এবং মহিলাদের দরজা নামে পরিচিত ছিল।
গবেষণায় জানা যায়, পরবর্তীকালে পৃথিবীতে যত মসজিদ গড়ে উঠেছে, তা মূলত 'মসজিদ আল নববীকে অনুসরণ করেছে। মসজিদ আল নববীর বর্তমান অবয়বের পেছনে রয়েছে বহু ঘটনা, দুর্ঘটনা, যুদ্ধ, অবরোধ, ত্যাগ, তিতিক্ষা প্রভৃতি। প্রতিষ্ঠাকালীন আয়তন থেকে মসজিদের বর্তমান আয়তন প্রায় ১০০ গুণ বেশি। যেখানে একসঙ্গে প্রায় ৬ লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারে।


৩) হাসানাল বলখিয়া মসজিদ (James Asr Hassanal Bolkiah Mosque of Brunei)
এই মসজিদটি সুলতান হাসানাল বলখিয়া মু'জাদিন ওয়াদ্দুলাহ এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। এর নির্মাণ কাজ ১৯৮৮ সালে শুরু হয় এবং ৫ বছর পর ১৯৯৪ সালের ১৪ই জুলাই সুলতানের জন্মদিনের আগের রাতে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এটি ব্রুনাই এ অবস্থিত। এটি সুলতানের সিংহাসন আরোহনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ব্রুনাইবাসিদের প্রতি সুলতানের উপহার ছিল। এখানে একসাথে ৩০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারে।


৪) শেখ যায়েদ মসজিদ (Sheikh Zayed Mosque of Abu Dhabi, U.A.E)
এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অবস্থিত। এখানে একসাথে ৪০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারে। এখানে মহিলাদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা আছে। এর চার কোনায় চারটি মিনার আছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাইয়ান এই মসজিদ নির্মাণে উদ্দোগ নেন। এই মসজিদে ৮২ টা ডোম, ১০০০ অধিক কলাম, ২৪ ক্যারেট সোনা দিয়ে বানানো ঝাড়বাতি ও পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হাতে তৈরি কার্পেট দিয়ে সাজানো। মুল হলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ঝাড়বাতিটি আছে যা ১০ মিটার ছড়ানো, ১০ মিটার উচ্চতার ও ১২ টন ওজনের। মসজিদটির চারপাশে পানির পুল দিয়ে ঘেরা যা মসজিদটির সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দেয়।


৫) গ্রান্ড মসজিদ (Grand Mosque of Djenné of Djenné, Mali)
মসজিদটির নাম গ্র্যান্ড মস্ক অব ডিজেনি। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মাটির মসজিদ এটি। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির ডিজেনি শহরে এর অবস্থান। নির্মাণকাল সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য না থাকলেও ১২০০ শতাব্দী থেকে ১৩০০ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে এটি নির্মিত হয়েছে বলে বেশির ভাগের মত। তবে বর্তমানে যে কাঠামোটি দেখা যায় এটি নির্মাণ করা হয়েছে ১৯০৭ সালে। আর ইউনেস্কো মসজিদসহ এর চার পাশের ঐতিহাসিক স্থানগুলোকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করে ১৯৮৮ সালে।

অদ্ভুতুড়ে 10:13 AM
পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা সুন্দর ৫টি মসজিদ [ছবিসহ]






মসজিদ মুসলমানদের দলবদ্ধভাবে নামাজ পড়ার জন্য নির্মিত স্থাপনা। শব্দটির উৎপত্তি আরবি "মসজিদ" থেকে, যার আভিধানিক অর্থ শ্রদ্ধাভরে মাথা অবনত করা অর্থৎ সিজদাহ করা। সাধারণভাবে, যেসব ইমারত বা স্থাপনায় মুসলমানেরা একত্র হয়ে প্রাত্যহিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ (আরবি: صلاة‎ সালাত) আদায় করেন, তাকে মসজিদ বলে। আবার যেসব বড় আকারের মসজিদগুলো নিয়মিত নামাজের সাথে সাথে শুক্রবারের জুম'আর নামাজ আদায় হয় এবং অন্যান্য ইসলামিক কার্যাবলী (যেমন: কোরআন শিক্ষা দেওয়া) সম্পাদিত হয়, সেগুলো জামে মসজিদ (مسجد جامع) নামে অভিহিত। ইমাম নামাজের ইমামতি করেন বা নেতৃত্ব দেন।
সৃষ্টিকর্তার এই পৃথিবীতে মসজিদের সংখ্যা অগণিত, তবে এই অগণিত মসজিদ থেকে আজকে আমরা জানবো পৃথিবীর ৫টি সুন্দর মসজিদের কথা।


১) আল মসজিদুল হারাম (Al-Masjid Al-Haram, Holy Makkah of Saudi Arabia)
আল মসজিদুল হারাম। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ও প্রধান মসজিদ হচ্ছে মসজিদুল হারাম। ৬৩৮ সালে স্হাপিত মসজিদটি সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে অবস্হিত। মসজিদটি পবিত্র ক্কাবা ঘরের চতুর্বেষ্টিত। ৩৫৬৮০০ স্কয়ার মিটার আয়তন (৮৮.২ একর) বিশিষ্ট মসজিদটির লোক ধারন ক্ষমতা প্রায় বিশ লাখ। এখানে সর্বমোট ৯টি মিনার রয়েছে।
ইতিহাসে জানা যায়, আল্লাহর হুকুমে হযরত ইব্রাহিম (আ.) ক্কাবা ঘর ও তৎসংলগ্ন এই মসজিদ নির্মাণ করেন। ক্কাবা ঘরের দিকে নির্দেশনা করেই পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে নামাজ আদায় করা হয়।


২) মসজিদে নববী (Masjid Nababi of Saudi Arabia)
আমাদের প্রিয় নবীজির মসজিদ এটি। মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় পবিত্র জায়গা এটি। এটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও মার্বেল পাথর দিয়ে ডেকরেট করা। পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর এবং শান্তিময় শহর মদিনা যা 'মদিনা আল মনোয়ারা' নামে সুপরিচিত। ৬২২ সালে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর নিজ বাসস্থানের পাশেই মহানবী (সা.) তার পবিত্র হাতে এই মসজিদ গড়ার কাজে অংশ নেন। খেজুর গাছের কাণ্ড আর মাটির দেয়াল ঘেরা এ মসজিদের তিনটি দরজা ছিল। যা যথাক্রমে রহমতের দরজা, জিবরাইল (আ.)-এর দরজা এবং মহিলাদের দরজা নামে পরিচিত ছিল।
গবেষণায় জানা যায়, পরবর্তীকালে পৃথিবীতে যত মসজিদ গড়ে উঠেছে, তা মূলত 'মসজিদ আল নববীকে অনুসরণ করেছে। মসজিদ আল নববীর বর্তমান অবয়বের পেছনে রয়েছে বহু ঘটনা, দুর্ঘটনা, যুদ্ধ, অবরোধ, ত্যাগ, তিতিক্ষা প্রভৃতি। প্রতিষ্ঠাকালীন আয়তন থেকে মসজিদের বর্তমান আয়তন প্রায় ১০০ গুণ বেশি। যেখানে একসঙ্গে প্রায় ৬ লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারে।


৩) হাসানাল বলখিয়া মসজিদ (James Asr Hassanal Bolkiah Mosque of Brunei)
এই মসজিদটি সুলতান হাসানাল বলখিয়া মু'জাদিন ওয়াদ্দুলাহ এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। এর নির্মাণ কাজ ১৯৮৮ সালে শুরু হয় এবং ৫ বছর পর ১৯৯৪ সালের ১৪ই জুলাই সুলতানের জন্মদিনের আগের রাতে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এটি ব্রুনাই এ অবস্থিত। এটি সুলতানের সিংহাসন আরোহনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ব্রুনাইবাসিদের প্রতি সুলতানের উপহার ছিল। এখানে একসাথে ৩০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারে।


৪) শেখ যায়েদ মসজিদ (Sheikh Zayed Mosque of Abu Dhabi, U.A.E)
এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অবস্থিত। এখানে একসাথে ৪০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারে। এখানে মহিলাদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা আছে। এর চার কোনায় চারটি মিনার আছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাইয়ান এই মসজিদ নির্মাণে উদ্দোগ নেন। এই মসজিদে ৮২ টা ডোম, ১০০০ অধিক কলাম, ২৪ ক্যারেট সোনা দিয়ে বানানো ঝাড়বাতি ও পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হাতে তৈরি কার্পেট দিয়ে সাজানো। মুল হলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ঝাড়বাতিটি আছে যা ১০ মিটার ছড়ানো, ১০ মিটার উচ্চতার ও ১২ টন ওজনের। মসজিদটির চারপাশে পানির পুল দিয়ে ঘেরা যা মসজিদটির সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দেয়।


৫) গ্রান্ড মসজিদ (Grand Mosque of Djenné of Djenné, Mali)
মসজিদটির নাম গ্র্যান্ড মস্ক অব ডিজেনি। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মাটির মসজিদ এটি। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির ডিজেনি শহরে এর অবস্থান। নির্মাণকাল সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য না থাকলেও ১২০০ শতাব্দী থেকে ১৩০০ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে এটি নির্মিত হয়েছে বলে বেশির ভাগের মত। তবে বর্তমানে যে কাঠামোটি দেখা যায় এটি নির্মাণ করা হয়েছে ১৯০৭ সালে। আর ইউনেস্কো মসজিদসহ এর চার পাশের ঐতিহাসিক স্থানগুলোকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করে ১৯৮৮ সালে।

অদ্ভুতুড়ে 10:57 AM

বিশ্বের প্রতিটি দেশেই একজন করে শাসনকর্তা রয়েছেন। একটি রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তি হিসেবে সারা বিশ্বজুড়েই তারা স্বাভাবিকভাবে পরিচিতি লাভ করেন। কিন্তু সবাই সমানভাবে পরিচিতি লাভ করেন না। নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পরই মানুষ তাদের ভুলে যান। কিন্তু সবাইকে মানুষ ভুলে যায় না। এমন অনেক দেশের শাসনকর্তা রয়েছেন যারা যুগ যুগ ধরে মানুষের হৃদয়ে থাকবেন। এমনই একজন হচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ।
 
ধরুন আপনি একটি শহরের মেয়র। তাহলে আপনি কি করবেন? নিশ্চয়ই সকাল বেলা দামী গাড়িতে করে অফিসে এসে এসি রুমে বসে সারাদিন অফিস করবেন আর দিনশেষে আবার দামী গাড়িতে করে বাসায় যাবেন। কিন্তু শুনে অবাক হতে হয় যে, মাহমুদ আহমেদিনেজাদ যখন তেহরানের মেয়র ছিলেন তখন তিনি নিজ হাতে তেহরানের রাস্তা ঝাড়ু দিতেন। আমাদের দেশে এরকমটি হলে সেটি সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম দাবীদার। আমাদের দেশে কেনো বিশ্বের আর কোনো দেশে এমন নজিড় আছে কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে।
 
কে এই আহমেদিনেজাদ?
আহমেদিনেজাদ এর বাবা ছিলেন একজন সামান্য কামার। এটা তেমন কোনো আশ্চর্যজনক তথ্য নয়। বিশ্বে এরকম আরও অনেক ভুরি ভুরি তথ্য রয়েছে। তবে  কামারের ছেলে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও তিনি নিজেকে অর্থলোভী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন নি এ রকম উদাহরণ বাইনোকুলার দিয়ে খুঁজে আরও দু একটি পাওয়া যেতে পারে। ১৯৭৯ সালে ইরানের যে হাজার হাজার ছাত্র আমেরিকান দূতাবাস আক্রমণ করে ৫৩ জন কূটনীতিক কে বন্দী করে আহমেদিনেজাদ ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। মাহমুদ আহমেদিনেজাদ পেশায় একজন পিএইচডি ধারী সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। এছাড়াও তিনি ছিলেন তেহরান ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির অধ্যাপক, রাজধানী তেহরানের মেয়র এবং ইরান রেভলুশনারি গার্ড এর প্রধান। ইরানের ষষ্ট প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০০৫ – ২০১৩ মেয়াদে তিনি নির্বাচিত হন।
 
জন্ম:
মাহমুদ আহমেদিনেজাদ ১৯৫৬ সালের ২৮ আক্টোবর সেমনান প্রদেশের গারমশার নামক এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। খুব গরিব পরিবারে জন্মগ্রহন করেন তিনি।তার বাবা ছিলেন পেশায় একজন কামার আর মায়ের নাম খানম। মায়ের উপাধি ছিল সাইয়েদা যা শুধু মাত্র মুহাম্মদ (সা ) এর বংশধর হলেই এই উপাধিতে ডাকা হয়।
 
শিক্ষা জীবন:
আহমেদিনেজাদের বয়স যখন চার বছর তখন তার বাবা জীবিকার সন্ধানে পরিবারসহ তেহরানে চলে আসেন। সেখানেই আহমেদিনেজাদের স্কুল জীবন শুরু। ১৯৭৬ সালে আহমেদিনেজাদ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেন এবং তিনি ৪০০,০০০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩২তম স্থান দখল করেন। তিনি ইরান ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড টেকনোলোজিতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হন এবং ১৯৯৭ সালে তিনি ট্রান্সপর্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড প্লানিংয়ে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন।
 
 
একেবারেই সাদামাটা জীবনযাপন:
প্রেসিডেন্ট হবার আগে তার জীবনযাপন যেমনটি ছিল এখনও ঠিক তেমনটিই রয়েছে। আভিজাত্য তাকে কখনও স্পর্শ করতে পারে নি। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর বিলাসবহুল এক বাড়ি তার জন্য অপেক্ষা করছিল কিন্তু সেই বাড়িকে তুচ্ছজ্ঞান করে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া বস্তির সেই দুই রুমের ছোট্ট বাড়িতেই বসবাস করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নিরাপত্তার কারনে সরকারের কর্মকর্তাগণের অনুরোধে তিনি প্রেসিডেন্ট ভবনেই বসবাস করেন তিনি। তার নিজের বাড়িতে যে আসবাবপত্র রয়েছে তা আমাদের দেশের অনেক কেরানির বাড়িতেও এর চাইতে ভালো আসবাবপত্র রয়েছে। তার বাসায় কয়েকটি কাঠের চেয়ার ছাড়া আর কোনও আসবাবপত্র নেই। তাহলে ঘুমায় কোথায়? ঘুমানোর জন্য রয়েছে মাটির বিছানা। প্রেসিডেন্ট ভবনেও তিনি ফ্লোরে কার্পেটের উপর ঘুমাতেন।  
 
প্রেসিডেন্টের ছেলের বিয়েতে পোলাও-কোরমা নেই!
ভাবতে অবাক লাগে একটি দেশের প্রেসিডেন্টের ছেলের বিয়ে। সেখানে হাজার হাজার লোক আমন্ত্রিত হবে, কোরমা-পোলাও দিয়ে আপ্যায়ন করা হবে। কিন্তু হাজার তো দূরের কথা দাওয়াত দিয়েছিলেন মাত্র ৪৫ জন অতিথিকে। আর পোলাও-কোরমা তো কোনো ছাড়। অতিথিদের আপ্যায়নের কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। শুধুমাত্র কমলা, আপেল, কলা ও ছোট এক টুকরো কেক দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়েছিল। অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ এর চেয়ে বেশি অতিথি দাওয়াত করে ওই ফলটুকুও খাওয়ানোর সামর্থ্য তার নেই।  
 
 
ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ ও সংসার খরচ:
তিনি ইরানের সরকার প্রধান তারপরও ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলতে তার আছে তেহরানের বস্তিতে অবস্থিত ছোট্ট একটি বাড়ি, যা ৪০ বছর আগে তিনি তার বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন। বাড়িটির নাম Peugeot 504. শুনলে অবাক লাগে তার ব্যাংক একাউন্টে বেতনের জমানো কিছু টাকা ছাড়া আর কোনও সম্পদ নেই। বেতন হিসেবে তিনি তেহরান ইউনিভার্সিটি থেকে মাত্র ২৫০ ইউ এস ডলার পান। তিনি রাষ্ট্রের প্রধান অথচ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য রাষ্ট্র থেকে তিনি কোনও টাকা নেন না। তিনি ইউনিভার্সিটি থেকে প্রাপ্ত বেতনের টাকা দিয়ে সংসার পরিচালনা করেন।
 
 
নিতান্তই সাদামাটা একজন মানুষ:
সময়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আহমেদিনেজাদ সকাল ৭ টায় অফিসে যান। স্ত্রীর হাতে বানানো সাদামাটা নাস্তা খেয়েই রওনা হন অফিসের দিকে। যাওয়ার সময় সাথে করে কালো ব্যাগে করে নিয়ে যান দুপুরের খাবার। দুপুরে অফিসে সবার সামনে মেঝের কার্পেটে বসে সেই খাবার খান। দিনের একটা উল্লেখযোগ্য সময় তিনি বাসার দারোয়ান, পথচারী ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে কাটান এবং তাদের সাথে সুখ-দুঃখ শেয়ার করেন।
 
 
 
 
প্রতিদিন মাত্র ৩ ঘন্টা ঘুমান!
আহমেদিনেজাদের দিন শুরু হয় ভোর ৫ টায় এবং শেষ হয় রাত ২ টায়। মাঝখানের এই ৩ ঘন্টা সময় তিনি ঘুমান। বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। তারপরও যে মানুষটি প্রেসিডেন্ট হয়ে ছেড়া জামা পড়ে অফিসে যেতে পারেন, বস্তিতে থাকতে পারেন তার পক্ষে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। প্রতিদিন সকাল ৫ টায় ফজরের নামায পড়ে কাজ শুরু করেন আর রাত ২ টায় এশার নামায ও ব্যক্তিগত স্টাডি শেষ করে ঘুমাতে যান। এই লোকটি কখনও নামায বাদ দেন না। রাস্তায় থাকাকালে নামাযের সময় হলে তিনি রাস্তায় ছোট্ট কাপড় বিছিয়ে সেখানেই নামায আদায় করে নেন। রাষ্ট্রীয় সব বড় বড় নামাযের জামাতে তিনি সব সময় পিছনের সারিতে সাধারণ মানুষের সাথে বসতে ভালবাসেন। তিনি তার নিজের জীবন নিয়েও শঙ্কিত থাকে না। সেজন্য অধিকাংশ সময় সামরিক বাহিনী ছাড়াই তিনি চলাফেরা করেন। তিনি মনে করেন মহান আল্লাহ তার সর্বোত্তম দেহরক্ষী।
 
রাজনৈতিক জীবন:
আহমেদিনেজাদ রাজনীতিতে আসেন ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পরপরই। ২০০৩ সালে মেয়র নির্বাচিত হন তেহরানের। এরপর ক্রমশ এগিয়ে যান তিনি। দুই বছর তেহরানের মেয়র থাকার পর ২০০৫ সালে ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে আহমাদিনেজাদ ক্ষমতায় আসেন। ২০০৯ সালে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচিত হন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরপরই তিনি তার অফিসে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনেন। প্রেসিডেন্ট ভবনের দরজা-জানালা খুলে দেয়া হয় সাধারণের জন্য। প্রেসিডেন্ট অফিসে সপ্তায় পাঁচ দিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সাধারণ ইরানিদের চিঠি গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়।
 
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েই প্রেসিডেন্ট ভবনের দামি কার্পেটগুলো তেহরাণের মসজিদে দান করে দেন। এরপরিবর্তে সাধারণ মানের কার্পেট বিছানো হয় প্রেসিডেন্ট ভবনে। প্রেসিডেন্ট ভবনের ভিআইপি অতিথিশালাও বন্ধ করে দেয়া হয়। একটি সাধারণ ঘরেই ভিআইপিদের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা রাখা হয়।
 
প্রেসিডেন্ট পদ থেকে বিদায় গ্রহণ:
৩ আগস্ট, ২০১৩ ইরানের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে বিদায় নেয়ার আগেও ইতিহাস তৈরি করে গেলেন আহমেদিনেজাদ। ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান আয়াতুল্লাহ সাদেক লারিজানির কাছে লেখা এক চিঠিতে আট বছরে অর্জিত সম্পদের হিসাব দিয়ে যান তিনি। যে হিসাবে দেখা যায়, ২০০৫ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর তার সম্পদে যে পরিবর্তন এসেছে, তা হলো- তিনি তার পুরোনো বাড়িটি পুনর্নিমাণ করেছেন। তবে বাড়িটি পুনর্নিমাণের জন্য তিনি ব্যাংক ও প্রেসিডেন্ট দপ্তরের ফান্ড থেকে ঋণ নেন। প্রেসিডেন্টের দপ্তরের ফান্ড ও ব্যাংক থেকে বাড়ি নির্মাণের জন্য অসংখ্য মানুষ ঋণ নিয়েছেন। প্রেসিডেন্টও সাধারণ একজন নাগরিক হিসেবে সেই ঋণ নিয়েছেন। ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট হিসেবে কোন ধরনের প্রভাব খাটাননি। একইসঙ্গে বাড়ি পুনর্নিমাণের ক্ষেত্রে তার স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনরাও সহযোগিতা করেছেন। পুনর্নিমিত দুই তলা ভবনে চারটি ফ্লাট রয়েছে। ওই ভবনেই তিনি ও তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বসবাস করবেন। যে জমিতে বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে, সেটার আয়তন মাত্র ১৭৫ বর্গমিটার। জমিটুকু বাবার কাছ থেকে পাওয়া।
 
পরিশেষে:
বর্তমান সময়ে বিশ্বে ইরানের অবস্থান কোথায় তা আমরা সকলেই জানি। এই সাদামাটা একজন মানুষই ইরানকে এই অবস্থানে নিয়ে গেছেন। কিন্তু তিনি এখন আর ইরানের প্রেসিডেন্ট নন। তাহলে কি ইরানের জনগণ তাকে ভোট দেননি? না সেরকম নয়। সম্ভব হলে ইরানের জনগণ তাকে সারাজীবন প্রেসিডেন্ট করে রাখতো। ইরানের আইনে পরপর দুইবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তৃতীয়বার সে আর প্রার্থী হতে পারেন না। সারা বিশ্বের শাসনকর্তাদের জন্য তিনি একজন রোল মডেল। তার গুণের ৫% যদি অনুন্নত অন্য কোনো দেশের প্রেসিডেন্টের মধ্যে থাকে তাহলে সেই দেশ উন্নতি কেউ ঠেকাতে পারবে না বলে বিশ্বাস করি।  
 
 

অদ্ভুতুড়ে 1:54 AM
বাংলাদেশে যেসব মেয়ে ঘরে বা ঘরের বাইরে যৌন হয়রানির শিকার হন, তাদের একটা বিরাট অংশই সেটা মুখ বুঁজে সয়ে যান। কিন্তু অবস্থা পাল্টাচ্ছে। অনেক মেয়েই এখন সংকোচ ঝেড়ে ফেলে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদের পথ বেছে নিচ্ছেন, এমনকি উত্ত্যক্তকারী পুরুষকে হাতে-নাতে ধরে নাকালও করছেন। এরকম কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলে নিচের প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিদিনের মতো কারওয়ান বাজারের অফিসে দিনের কাজ শেষে বাসে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন সিরাজুম মুনিরা। বাসে নিত্যদিনের মতো সেদিনও বেশ ভিড়। সেই ভিড়ের মধ্যে সেদিন এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন তিনি।

''আমি কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ করে অনুভব করছিলাম, আমার শরীরের পেছনের স্পর্শকাতর অংশে শক্ত কিছু এসে লাগছে। প্রথমে ভেবেছিলাম আমার পেছনের যাত্রীর হাতে হয়তো ফাইল জাতীয় কিছু আছে, যেটা আমার গায়ে লাগছে। অনেক ভিড় ছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম না। বার বার সরে যাচ্ছিলাম।''

ব্যাপারটা ভালো করে বোঝার জন্য মুনিরা ঘুরে দাঁড়ালেন। দেখলেন, সুবেশী এক মানুষ, চোখে রিমলেস চশমা। এই মানুষটি এতক্ষণ তার পুরুষাঙ্গ ঘষছিলেন তাঁর পেছনে। মুনিরা ছেড়ে দেবার পাত্র নন। তিনি প্রতিবাদ করলেন। কিন্তু বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলেন, উল্টো তাকেই দুষছেন লোকটি।

যে লোকটা আমার সঙ্গে এ রকম একটা কাণ্ড করলো, সে উল্টো দাবি করতে লাগলো যে আমিই নাকি তাকে উত্তেজিত করেছি। কিন্তু একটু দূরে বসা অন্য দুজন যাত্রী ব্যাপারটা দেখেছেন। তারা আমার পক্ষে সাক্ষী দিলেন। এই দুজন আমার পক্ষে দাঁড়ানোর পরই কেবল বাসের অন্য যাত্রীরা বিশ্বাস করলেন যে ওই সুবেশি লোকটি আমাকে উত্ত্যক্ত করছিল।

ঢাকায় গণপরিবহনে যে মেয়েদের চলাচল করতে হয়, তাদের সবার কম-বেশি এ রকম অভিজ্ঞতা আছে। কারওয়ান বাজারে সিরাজুম মুনিরার অফিস থেকে বেরিয়ে আমি উঠে পড়ি মতিঝিলগামী এক বাসে। সামনের দিকে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনে তিন মহিলা যাত্রী। পুরো বাসে আর সব পুরুষ যাত্রী।

পুরুষ যাত্রীর ভূমিকা
বাসের ভেতর যখন নারী যাত্রীদের এ রকম যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়, তখন সহযাত্রী পুরুষরা কি করেন? ''আমি সব সময় প্রতিবাদ করার চেষ্টা করি, বাধা দেওয়ার চেষ্টা করি,'' বললেন এক তরুণ যাত্রী।

মেয়েরা এ রকম ঘটনার শিকার হলে যখন প্রতিবাদ করেন, তখন কিন্তু অন্যান্য যাত্রীরা তার সঙ্গে প্রতিবাদে সামিল হন, দাবি করলেন আরেক পুরুষ যাত্রী।

কিন্তু তৃতীয় পুরুষ যাত্রী এ রকম ঘটনার দায় চাপালেন মেয়েদের ওপরই। ''মেয়েরা কেমন পোশাকে ঘুরছে, সেটা তাদের খেয়াল রাখতে হবে। এটা তো বিদেশ নয়, বাংলাদেশ। তারা কেন বাংলাদেশে এমন পোশাকে ঘুরবে?''

সমস্যা আমাদের পোশাকে নয়, পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে, জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে বললেন দুই নারী যাত্রী। আমি বৃদ্ধ লোককেও দেখেছি মেয়েদেরকে উত্ত্যক্ত করতে, ক্ষোভের সঙ্গে বললেন একজন।

''বাসে একটু বেশি ভিড় থাকলেই ইচ্ছে করে এসে ধাক্কা দিয়ে গায়ে পড়ে। তখন বলে যে বাস ব্রেক করায় ধাক্কা লাগছে,'' বললেন অপরজন।

বোরকায় সুরক্ষা?
বাসে উঠলেন এক বোরকা পরা নারী। তার কণ্ঠে শোনা গেল একেবারেই ভিন্ন ভাষ্য। ''আমরা মেয়েরা যদি উচ্ছৃঙ্খল আর খোলামেলা পোশাক পরি, তাহলে ছেলেরা এ রকম করতেই পারে। আমরা যদি ধর্মীয় বিধান মেনে পোশাক পরতাম, চলাফেরা করতাম, তাহলে এ রকম ঘটতো না।''

প্রতিবাদী নারী

রাস্তাঘাটে এ রকম ঘটনার শিকার যারা হন, তাদের অনেকেই লজ্জায় মুখ বুঁজে সয়ে যান। কিন্তু অবস্থা পাল্টাচ্ছে, অনেক মেয়েই এখন প্রতিবাদ করছেন, প্রতিরোধেও পিছপা হচ্ছেন না।

শিক্ষার্থী লাভলি আক্তার এ রকম এক অভিজ্ঞতার কথা শোনাচ্ছিলেন আমাকে।

''একদিন রাস্তার পার হওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ দেখি বাসের দরোজায় ফর্মাল কাপড়-চোপড় পরা এক পুরুষ আমাকে জিহ্বা দেখিয়ে কুৎসিত ইঙ্গিত করছে, ইশারা করে আমাকে তার সঙ্গে যেতে বলছে। আমি একটু ভাবলাম, তারপর এগিয়ে গিয়ে তার কলার চেপে ধরলাম। তাকে মারতে শুরু করলাম। বাস চলছে, তার মধ্যে আমি এই লোকটাকে পেটাচ্ছি।''

লাভলির মতো আরও অনেকেই এখন প্রতিবাদী হচ্ছেন, কিন্তু তাদের সংখ্যা হাতে গোনা, বলছেন 'ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান রোকসানা সুলতানা। শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করছেন তিনি।

''আমরা কেবল ধর্ষণকেই কেবল যৌন নির্যাতন বলে গণ্য করি। কিন্তু মেয়েরা যে আরও কতরকমের যৌন নির্যাতনের মুখোমুখি হন, টাচিং, ফন্ডলিং, যৌনাঙ্গ দেখানো, যৌনাঙ্গ স্পর্শ করা----এগুলোও তো যৌন নির্যাতন। কিন্তু কেউই আমরা এগুলো নিয়ে কথা বলি না লোকলজ্জার ভয়ে।''

''মুখ বুঁজে সয়ে গেলে এর কোন সমাধান নেই, প্রতিবাদে সোচ্চার হলেই কেবল এর প্রতিকার সম্ভব - See more at: http://www.kalerkantho.com/online/national/2015/05/25/226040?utm_source=vuukle&utm_medium=referral#sthash.r8N6vX9X.dpuf
বাংলাদেশে যেসব মেয়ে ঘরে বা ঘরের বাইরে যৌন হয়রানির শিকার হন, তাদের একটা বিরাট অংশই সেটা মুখ বুঁজে সয়ে যান। কিন্তু অবস্থা পাল্টাচ্ছে। অনেক মেয়েই এখন সংকোচ ঝেড়ে ফেলে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদের পথ বেছে নিচ্ছেন, এমনকি উত্ত্যক্তকারী পুরুষকে হাতে-নাতে ধরে নাকালও করছেন। এরকম কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলে নিচের প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিদিনের মতো কারওয়ান বাজারের অফিসে দিনের কাজ শেষে বাসে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন সিরাজুম মুনিরা। বাসে নিত্যদিনের মতো সেদিনও বেশ ভিড়। সেই ভিড়ের মধ্যে সেদিন এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন তিনি।

''আমি কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ করে অনুভব করছিলাম, আমার শরীরের পেছনের স্পর্শকাতর অংশে শক্ত কিছু এসে লাগছে। প্রথমে ভেবেছিলাম আমার পেছনের যাত্রীর হাতে হয়তো ফাইল জাতীয় কিছু আছে, যেটা আমার গায়ে লাগছে। অনেক ভিড় ছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম না। বার বার সরে যাচ্ছিলাম।''

ব্যাপারটা ভালো করে বোঝার জন্য মুনিরা ঘুরে দাঁড়ালেন। দেখলেন, সুবেশী এক মানুষ, চোখে রিমলেস চশমা। এই মানুষটি এতক্ষণ তার পুরুষাঙ্গ ঘষছিলেন তাঁর পেছনে। মুনিরা ছেড়ে দেবার পাত্র নন। তিনি প্রতিবাদ করলেন। কিন্তু বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলেন, উল্টো তাকেই দুষছেন লোকটি।

যে লোকটা আমার সঙ্গে এ রকম একটা কাণ্ড করলো, সে উল্টো দাবি করতে লাগলো যে আমিই নাকি তাকে উত্তেজিত করেছি। কিন্তু একটু দূরে বসা অন্য দুজন যাত্রী ব্যাপারটা দেখেছেন। তারা আমার পক্ষে সাক্ষী দিলেন। এই দুজন আমার পক্ষে দাঁড়ানোর পরই কেবল বাসের অন্য যাত্রীরা বিশ্বাস করলেন যে ওই সুবেশি লোকটি আমাকে উত্ত্যক্ত করছিল।

ঢাকায় গণপরিবহনে যে মেয়েদের চলাচল করতে হয়, তাদের সবার কম-বেশি এ রকম অভিজ্ঞতা আছে। কারওয়ান বাজারে সিরাজুম মুনিরার অফিস থেকে বেরিয়ে আমি উঠে পড়ি মতিঝিলগামী এক বাসে। সামনের দিকে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনে তিন মহিলা যাত্রী। পুরো বাসে আর সব পুরুষ যাত্রী।

পুরুষ যাত্রীর ভূমিকা
বাসের ভেতর যখন নারী যাত্রীদের এ রকম যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়, তখন সহযাত্রী পুরুষরা কি করেন? ''আমি সব সময় প্রতিবাদ করার চেষ্টা করি, বাধা দেওয়ার চেষ্টা করি,'' বললেন এক তরুণ যাত্রী।

মেয়েরা এ রকম ঘটনার শিকার হলে যখন প্রতিবাদ করেন, তখন কিন্তু অন্যান্য যাত্রীরা তার সঙ্গে প্রতিবাদে সামিল হন, দাবি করলেন আরেক পুরুষ যাত্রী।

কিন্তু তৃতীয় পুরুষ যাত্রী এ রকম ঘটনার দায় চাপালেন মেয়েদের ওপরই। ''মেয়েরা কেমন পোশাকে ঘুরছে, সেটা তাদের খেয়াল রাখতে হবে। এটা তো বিদেশ নয়, বাংলাদেশ। তারা কেন বাংলাদেশে এমন পোশাকে ঘুরবে?''

সমস্যা আমাদের পোশাকে নয়, পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে, জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে বললেন দুই নারী যাত্রী। আমি বৃদ্ধ লোককেও দেখেছি মেয়েদেরকে উত্ত্যক্ত করতে, ক্ষোভের সঙ্গে বললেন একজন।

''বাসে একটু বেশি ভিড় থাকলেই ইচ্ছে করে এসে ধাক্কা দিয়ে গায়ে পড়ে। তখন বলে যে বাস ব্রেক করায় ধাক্কা লাগছে,'' বললেন অপরজন।

বোরকায় সুরক্ষা?
বাসে উঠলেন এক বোরকা পরা নারী। তার কণ্ঠে শোনা গেল একেবারেই ভিন্ন ভাষ্য। ''আমরা মেয়েরা যদি উচ্ছৃঙ্খল আর খোলামেলা পোশাক পরি, তাহলে ছেলেরা এ রকম করতেই পারে। আমরা যদি ধর্মীয় বিধান মেনে পোশাক পরতাম, চলাফেরা করতাম, তাহলে এ রকম ঘটতো না।''

প্রতিবাদী নারী

রাস্তাঘাটে এ রকম ঘটনার শিকার যারা হন, তাদের অনেকেই লজ্জায় মুখ বুঁজে সয়ে যান। কিন্তু অবস্থা পাল্টাচ্ছে, অনেক মেয়েই এখন প্রতিবাদ করছেন, প্রতিরোধেও পিছপা হচ্ছেন না।

শিক্ষার্থী লাভলি আক্তার এ রকম এক অভিজ্ঞতার কথা শোনাচ্ছিলেন আমাকে।

''একদিন রাস্তার পার হওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ দেখি বাসের দরোজায় ফর্মাল কাপড়-চোপড় পরা এক পুরুষ আমাকে জিহ্বা দেখিয়ে কুৎসিত ইঙ্গিত করছে, ইশারা করে আমাকে তার সঙ্গে যেতে বলছে। আমি একটু ভাবলাম, তারপর এগিয়ে গিয়ে তার কলার চেপে ধরলাম। তাকে মারতে শুরু করলাম। বাস চলছে, তার মধ্যে আমি এই লোকটাকে পেটাচ্ছি।''

লাভলির মতো আরও অনেকেই এখন প্রতিবাদী হচ্ছেন, কিন্তু তাদের সংখ্যা হাতে গোনা, বলছেন 'ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান রোকসানা সুলতানা। শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করছেন তিনি।

''আমরা কেবল ধর্ষণকেই কেবল যৌন নির্যাতন বলে গণ্য করি। কিন্তু মেয়েরা যে আরও কতরকমের যৌন নির্যাতনের মুখোমুখি হন, টাচিং, ফন্ডলিং, যৌনাঙ্গ দেখানো, যৌনাঙ্গ স্পর্শ করা----এগুলোও তো যৌন নির্যাতন। কিন্তু কেউই আমরা এগুলো নিয়ে কথা বলি না লোকলজ্জার ভয়ে।''

''মুখ বুঁজে সয়ে গেলে এর কোন সমাধান নেই, প্রতিবাদে সোচ্চার হলেই কেবল এর প্রতিকার সম্ভব - See more at: http://www.kalerkantho.com/online/national/2015/05/25/226040?utm_source=vuukle&utm_medium=referral#sthash.r8N6vX9X.dpuf
বাংলাদেশে যেসব মেয়ে ঘরে বা ঘরের বাইরে যৌন হয়রানির শিকার হন, তাদের একটা বিরাট অংশই সেটা মুখ বুঁজে সয়ে যান। কিন্তু অবস্থা পাল্টাচ্ছে। অনেক মেয়েই এখন সংকোচ ঝেড়ে ফেলে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদের পথ বেছে নিচ্ছেন, এমনকি উত্ত্যক্তকারী পুরুষকে হাতে-নাতে ধরে নাকালও করছেন। এরকম কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলে নিচের প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিদিনের মতো কারওয়ান বাজারের অফিসে দিনের কাজ শেষে বাসে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন সিরাজুম মুনিরা। বাসে নিত্যদিনের মতো সেদিনও বেশ ভিড়। সেই ভিড়ের মধ্যে সেদিন এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন তিনি।

''আমি কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ করে অনুভব করছিলাম, আমার শরীরের পেছনের স্পর্শকাতর অংশে শক্ত কিছু এসে লাগছে। প্রথমে ভেবেছিলাম আমার পেছনের যাত্রীর হাতে হয়তো ফাইল জাতীয় কিছু আছে, যেটা আমার গায়ে লাগছে। অনেক ভিড় ছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম না। বার বার সরে যাচ্ছিলাম।''

ব্যাপারটা ভালো করে বোঝার জন্য মুনিরা ঘুরে দাঁড়ালেন। দেখলেন, সুবেশী এক মানুষ, চোখে রিমলেস চশমা। এই মানুষটি এতক্ষণ তার পুরুষাঙ্গ ঘষছিলেন তাঁর পেছনে। মুনিরা ছেড়ে দেবার পাত্র নন। তিনি প্রতিবাদ করলেন। কিন্তু বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলেন, উল্টো তাকেই দুষছেন লোকটি।

যে লোকটা আমার সঙ্গে এ রকম একটা কাণ্ড করলো, সে উল্টো দাবি করতে লাগলো যে আমিই নাকি তাকে উত্তেজিত করেছি। কিন্তু একটু দূরে বসা অন্য দুজন যাত্রী ব্যাপারটা দেখেছেন। তারা আমার পক্ষে সাক্ষী দিলেন। এই দুজন আমার পক্ষে দাঁড়ানোর পরই কেবল বাসের অন্য যাত্রীরা বিশ্বাস করলেন যে ওই সুবেশি লোকটি আমাকে উত্ত্যক্ত করছিল।

ঢাকায় গণপরিবহনে যে মেয়েদের চলাচল করতে হয়, তাদের সবার কম-বেশি এ রকম অভিজ্ঞতা আছে। কারওয়ান বাজারে সিরাজুম মুনিরার অফিস থেকে বেরিয়ে আমি উঠে পড়ি মতিঝিলগামী এক বাসে। সামনের দিকে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনে তিন মহিলা যাত্রী। পুরো বাসে আর সব পুরুষ যাত্রী।

পুরুষ যাত্রীর ভূমিকা
বাসের ভেতর যখন নারী যাত্রীদের এ রকম যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়, তখন সহযাত্রী পুরুষরা কি করেন? ''আমি সব সময় প্রতিবাদ করার চেষ্টা করি, বাধা দেওয়ার চেষ্টা করি,'' বললেন এক তরুণ যাত্রী।

মেয়েরা এ রকম ঘটনার শিকার হলে যখন প্রতিবাদ করেন, তখন কিন্তু অন্যান্য যাত্রীরা তার সঙ্গে প্রতিবাদে সামিল হন, দাবি করলেন আরেক পুরুষ যাত্রী।

কিন্তু তৃতীয় পুরুষ যাত্রী এ রকম ঘটনার দায় চাপালেন মেয়েদের ওপরই। ''মেয়েরা কেমন পোশাকে ঘুরছে, সেটা তাদের খেয়াল রাখতে হবে। এটা তো বিদেশ নয়, বাংলাদেশ। তারা কেন বাংলাদেশে এমন পোশাকে ঘুরবে?''

সমস্যা আমাদের পোশাকে নয়, পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে, জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে বললেন দুই নারী যাত্রী। আমি বৃদ্ধ লোককেও দেখেছি মেয়েদেরকে উত্ত্যক্ত করতে, ক্ষোভের সঙ্গে বললেন একজন।

''বাসে একটু বেশি ভিড় থাকলেই ইচ্ছে করে এসে ধাক্কা দিয়ে গায়ে পড়ে। তখন বলে যে বাস ব্রেক করায় ধাক্কা লাগছে,'' বললেন অপরজন।

বোরকায় সুরক্ষা?
বাসে উঠলেন এক বোরকা পরা নারী। তার কণ্ঠে শোনা গেল একেবারেই ভিন্ন ভাষ্য। ''আমরা মেয়েরা যদি উচ্ছৃঙ্খল আর খোলামেলা পোশাক পরি, তাহলে ছেলেরা এ রকম করতেই পারে। আমরা যদি ধর্মীয় বিধান মেনে পোশাক পরতাম, চলাফেরা করতাম, তাহলে এ রকম ঘটতো না।''

প্রতিবাদী নারী

রাস্তাঘাটে এ রকম ঘটনার শিকার যারা হন, তাদের অনেকেই লজ্জায় মুখ বুঁজে সয়ে যান। কিন্তু অবস্থা পাল্টাচ্ছে, অনেক মেয়েই এখন প্রতিবাদ করছেন, প্রতিরোধেও পিছপা হচ্ছেন না।

শিক্ষার্থী লাভলি আক্তার এ রকম এক অভিজ্ঞতার কথা শোনাচ্ছিলেন আমাকে।

''একদিন রাস্তার পার হওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ দেখি বাসের দরোজায় ফর্মাল কাপড়-চোপড় পরা এক পুরুষ আমাকে জিহ্বা দেখিয়ে কুৎসিত ইঙ্গিত করছে, ইশারা করে আমাকে তার সঙ্গে যেতে বলছে। আমি একটু ভাবলাম, তারপর এগিয়ে গিয়ে তার কলার চেপে ধরলাম। তাকে মারতে শুরু করলাম। বাস চলছে, তার মধ্যে আমি এই লোকটাকে পেটাচ্ছি।''

লাভলির মতো আরও অনেকেই এখন প্রতিবাদী হচ্ছেন, কিন্তু তাদের সংখ্যা হাতে গোনা, বলছেন 'ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান রোকসানা সুলতানা। শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করছেন তিনি।

''আমরা কেবল ধর্ষণকেই কেবল যৌন নির্যাতন বলে গণ্য করি। কিন্তু মেয়েরা যে আরও কতরকমের যৌন নির্যাতনের মুখোমুখি হন, টাচিং, ফন্ডলিং, যৌনাঙ্গ দেখানো, যৌনাঙ্গ স্পর্শ করা----এগুলোও তো যৌন নির্যাতন। কিন্তু কেউই আমরা এগুলো নিয়ে কথা বলি না লোকলজ্জার ভয়ে।''

''মুখ বুঁজে সয়ে গেলে এর কোন সমাধান নেই, প্রতিবাদে সোচ্চার হলেই কেবল এর প্রতিকার সম্ভব - See more at: http://www.kalerkantho.com/online/national/2015/05/25/226040?utm_source=vuukle&utm_medium=referral#sthash.r8N6vX9X.dpuf
বাংলাদেশে যেসব মেয়ে ঘরে বা ঘরের বাইরে যৌন হয়রানির শিকার হন, তাদের একটা বিরাট অংশই সেটা মুখ বুঁজে সয়ে যান। কিন্তু অবস্থা পাল্টাচ্ছে। অনেক মেয়েই এখন সংকোচ ঝেড়ে ফেলে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদের পথ বেছে নিচ্ছেন, এমনকি উত্ত্যক্তকারী পুরুষকে হাতে-নাতে ধরে নাকালও করছেন। এরকম কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলে নিচের প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিদিনের মতো কারওয়ান বাজারের অফিসে দিনের কাজ শেষে বাসে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন সিরাজুম মুনিরা। বাসে নিত্যদিনের মতো সেদিনও বেশ ভিড়। সেই ভিড়ের মধ্যে সেদিন এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন তিনি।

''আমি কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ করে অনুভব করছিলাম, আমার শরীরের পেছনের স্পর্শকাতর অংশে শক্ত কিছু এসে লাগছে। প্রথমে ভেবেছিলাম আমার পেছনের যাত্রীর হাতে হয়তো ফাইল জাতীয় কিছু আছে, যেটা আমার গায়ে লাগছে। অনেক ভিড় ছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম না। বার বার সরে যাচ্ছিলাম।''

ব্যাপারটা ভালো করে বোঝার জন্য মুনিরা ঘুরে দাঁড়ালেন। দেখলেন, সুবেশী এক মানুষ, চোখে রিমলেস চশমা। এই মানুষটি এতক্ষণ তার পুরুষাঙ্গ ঘষছিলেন তাঁর পেছনে। মুনিরা ছেড়ে দেবার পাত্র নন। তিনি প্রতিবাদ করলেন। কিন্তু বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলেন, উল্টো তাকেই দুষছেন লোকটি।

যে লোকটা আমার সঙ্গে এ রকম একটা কাণ্ড করলো, সে উল্টো দাবি করতে লাগলো যে আমিই নাকি তাকে উত্তেজিত করেছি। কিন্তু একটু দূরে বসা অন্য দুজন যাত্রী ব্যাপারটা দেখেছেন। তারা আমার পক্ষে সাক্ষী দিলেন। এই দুজন আমার পক্ষে দাঁড়ানোর পরই কেবল বাসের অন্য যাত্রীরা বিশ্বাস করলেন যে ওই সুবেশি লোকটি আমাকে উত্ত্যক্ত করছিল।

ঢাকায় গণপরিবহনে যে মেয়েদের চলাচল করতে হয়, তাদের সবার কম-বেশি এ রকম অভিজ্ঞতা আছে। কারওয়ান বাজারে সিরাজুম মুনিরার অফিস থেকে বেরিয়ে আমি উঠে পড়ি মতিঝিলগামী এক বাসে। সামনের দিকে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনে তিন মহিলা যাত্রী। পুরো বাসে আর সব পুরুষ যাত্রী।

পুরুষ যাত্রীর ভূমিকা
বাসের ভেতর যখন নারী যাত্রীদের এ রকম যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়, তখন সহযাত্রী পুরুষরা কি করেন? ''আমি সব সময় প্রতিবাদ করার চেষ্টা করি, বাধা দেওয়ার চেষ্টা করি,'' বললেন এক তরুণ যাত্রী।

মেয়েরা এ রকম ঘটনার শিকার হলে যখন প্রতিবাদ করেন, তখন কিন্তু অন্যান্য যাত্রীরা তার সঙ্গে প্রতিবাদে সামিল হন, দাবি করলেন আরেক পুরুষ যাত্রী।

কিন্তু তৃতীয় পুরুষ যাত্রী এ রকম ঘটনার দায় চাপালেন মেয়েদের ওপরই। ''মেয়েরা কেমন পোশাকে ঘুরছে, সেটা তাদের খেয়াল রাখতে হবে। এটা তো বিদেশ নয়, বাংলাদেশ। তারা কেন বাংলাদেশে এমন পোশাকে ঘুরবে?''

সমস্যা আমাদের পোশাকে নয়, পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে, জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে বললেন দুই নারী যাত্রী। আমি বৃদ্ধ লোককেও দেখেছি মেয়েদেরকে উত্ত্যক্ত করতে, ক্ষোভের সঙ্গে বললেন একজন।

''বাসে একটু বেশি ভিড় থাকলেই ইচ্ছে করে এসে ধাক্কা দিয়ে গায়ে পড়ে। তখন বলে যে বাস ব্রেক করায় ধাক্কা লাগছে,'' বললেন অপরজন।

বোরকায় সুরক্ষা?
বাসে উঠলেন এক বোরকা পরা নারী। তার কণ্ঠে শোনা গেল একেবারেই ভিন্ন ভাষ্য। ''আমরা মেয়েরা যদি উচ্ছৃঙ্খল আর খোলামেলা পোশাক পরি, তাহলে ছেলেরা এ রকম করতেই পারে। আমরা যদি ধর্মীয় বিধান মেনে পোশাক পরতাম, চলাফেরা করতাম, তাহলে এ রকম ঘটতো না।''

প্রতিবাদী নারী

রাস্তাঘাটে এ রকম ঘটনার শিকার যারা হন, তাদের অনেকেই লজ্জায় মুখ বুঁজে সয়ে যান। কিন্তু অবস্থা পাল্টাচ্ছে, অনেক মেয়েই এখন প্রতিবাদ করছেন, প্রতিরোধেও পিছপা হচ্ছেন না।

শিক্ষার্থী লাভলি আক্তার এ রকম এক অভিজ্ঞতার কথা শোনাচ্ছিলেন আমাকে।

''একদিন রাস্তার পার হওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ দেখি বাসের দরোজায় ফর্মাল কাপড়-চোপড় পরা এক পুরুষ আমাকে জিহ্বা দেখিয়ে কুৎসিত ইঙ্গিত করছে, ইশারা করে আমাকে তার সঙ্গে যেতে বলছে। আমি একটু ভাবলাম, তারপর এগিয়ে গিয়ে তার কলার চেপে ধরলাম। তাকে মারতে শুরু করলাম। বাস চলছে, তার মধ্যে আমি এই লোকটাকে পেটাচ্ছি।''

লাভলির মতো আরও অনেকেই এখন প্রতিবাদী হচ্ছেন, কিন্তু তাদের সংখ্যা হাতে গোনা, বলছেন 'ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান রোকসানা সুলতানা। শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করছেন তিনি।

''আমরা কেবল ধর্ষণকেই কেবল যৌন নির্যাতন বলে গণ্য করি। কিন্তু মেয়েরা যে আরও কতরকমের যৌন নির্যাতনের মুখোমুখি হন, টাচিং, ফন্ডলিং, যৌনাঙ্গ দেখানো, যৌনাঙ্গ স্পর্শ করা----এগুলোও তো যৌন নির্যাতন। কিন্তু কেউই আমরা এগুলো নিয়ে কথা বলি না লোকলজ্জার ভয়ে।''

''মুখ বুঁজে সয়ে গেলে এর কোন সমাধান নেই, প্রতিবাদে সোচ্চার হলেই কেবল এর প্রতিকার সম্ভব - See more at: http://www.kalerkantho.com/online/national/2015/05/25/226040?utm_source=vuukle&utm_medium=referral#sthash.r8N6vX9X.dpuf
বাংলাদেশে যেসব মেয়ে ঘরে বা ঘরের বাইরে যৌন হয়রানির শিকার হন, তাদের একটা বিরাট অংশই সেটা মুখ বুঁজে সয়ে যান। কিন্তু অবস্থা পাল্টাচ্ছে। অনেক মেয়েই এখন সংকোচ ঝেড়ে ফেলে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদের পথ বেছে নিচ্ছেন, এমনকি উত্ত্যক্তকারী পুরুষকে হাতে-নাতে ধরে নাকালও করছেন। এরকম কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলে নিচের প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিদিনের মতো কারওয়ান বাজারের অফিসে দিনের কাজ শেষে বাসে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন সিরাজুম মুনিরা। বাসে নিত্যদিনের মতো সেদিনও বেশ ভিড়। সেই ভিড়ের মধ্যে সেদিন এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন তিনি।

''আমি কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ করে অনুভব করছিলাম, আমার শরীরের পেছনের স্পর্শকাতর অংশে শক্ত কিছু এসে লাগছে। প্রথমে ভেবেছিলাম আমার পেছনের যাত্রীর হাতে হয়তো ফাইল জাতীয় কিছু আছে, যেটা আমার গায়ে লাগছে। অনেক ভিড় ছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম না। বার বার সরে যাচ্ছিলাম।''

ব্যাপারটা ভালো করে বোঝার জন্য মুনিরা ঘুরে দাঁড়ালেন। দেখলেন, সুবেশী এক মানুষ, চোখে রিমলেস চশমা। এই মানুষটি এতক্ষণ তার পুরুষাঙ্গ ঘষছিলেন তাঁর পেছনে। মুনিরা ছেড়ে দেবার পাত্র নন। তিনি প্রতিবাদ করলেন। কিন্তু বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলেন, উল্টো তাকেই দুষছেন লোকটি।

যে লোকটা আমার সঙ্গে এ রকম একটা কাণ্ড করলো, সে উল্টো দাবি করতে লাগলো যে আমিই নাকি তাকে উত্তেজিত করেছি। কিন্তু একটু দূরে বসা অন্য দুজন যাত্রী ব্যাপারটা দেখেছেন। তারা আমার পক্ষে সাক্ষী দিলেন। এই দুজন আমার পক্ষে দাঁড়ানোর পরই কেবল বাসের অন্য যাত্রীরা বিশ্বাস করলেন যে ওই সুবেশি লোকটি আমাকে উত্ত্যক্ত করছিল।

ঢাকায় গণপরিবহনে যে মেয়েদের চলাচল করতে হয়, তাদের সবার কম-বেশি এ রকম অভিজ্ঞতা আছে। কারওয়ান বাজারে সিরাজুম মুনিরার অফিস থেকে বেরিয়ে আমি উঠে পড়ি মতিঝিলগামী এক বাসে। সামনের দিকে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনে তিন মহিলা যাত্রী। পুরো বাসে আর সব পুরুষ যাত্রী।

পুরুষ যাত্রীর ভূমিকা
বাসের ভেতর যখন নারী যাত্রীদের এ রকম যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়, তখন সহযাত্রী পুরুষরা কি করেন? ''আমি সব সময় প্রতিবাদ করার চেষ্টা করি, বাধা দেওয়ার চেষ্টা করি,'' বললেন এক তরুণ যাত্রী।

মেয়েরা এ রকম ঘটনার শিকার হলে যখন প্রতিবাদ করেন, তখন কিন্তু অন্যান্য যাত্রীরা তার সঙ্গে প্রতিবাদে সামিল হন, দাবি করলেন আরেক পুরুষ যাত্রী।

কিন্তু তৃতীয় পুরুষ যাত্রী এ রকম ঘটনার দায় চাপালেন মেয়েদের ওপরই। ''মেয়েরা কেমন পোশাকে ঘুরছে, সেটা তাদের খেয়াল রাখতে হবে। এটা তো বিদেশ নয়, বাংলাদেশ। তারা কেন বাংলাদেশে এমন পোশাকে ঘুরবে?''

সমস্যা আমাদের পোশাকে নয়, পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে, জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে বললেন দুই নারী যাত্রী। আমি বৃদ্ধ লোককেও দেখেছি মেয়েদেরকে উত্ত্যক্ত করতে, ক্ষোভের সঙ্গে বললেন একজন।

''বাসে একটু বেশি ভিড় থাকলেই ইচ্ছে করে এসে ধাক্কা দিয়ে গায়ে পড়ে। তখন বলে যে বাস ব্রেক করায় ধাক্কা লাগছে,'' বললেন অপরজন।

বোরকায় সুরক্ষা?
বাসে উঠলেন এক বোরকা পরা নারী। তার কণ্ঠে শোনা গেল একেবারেই ভিন্ন ভাষ্য। ''আমরা মেয়েরা যদি উচ্ছৃঙ্খল আর খোলামেলা পোশাক পরি, তাহলে ছেলেরা এ রকম করতেই পারে। আমরা যদি ধর্মীয় বিধান মেনে পোশাক পরতাম, চলাফেরা করতাম, তাহলে এ রকম ঘটতো না।''

প্রতিবাদী নারী

রাস্তাঘাটে এ রকম ঘটনার শিকার যারা হন, তাদের অনেকেই লজ্জায় মুখ বুঁজে সয়ে যান। কিন্তু অবস্থা পাল্টাচ্ছে, অনেক মেয়েই এখন প্রতিবাদ করছেন, প্রতিরোধেও পিছপা হচ্ছেন না।

শিক্ষার্থী লাভলি আক্তার এ রকম এক অভিজ্ঞতার কথা শোনাচ্ছিলেন আমাকে।

''একদিন রাস্তার পার হওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ দেখি বাসের দরোজায় ফর্মাল কাপড়-চোপড় পরা এক পুরুষ আমাকে জিহ্বা দেখিয়ে কুৎসিত ইঙ্গিত করছে, ইশারা করে আমাকে তার সঙ্গে যেতে বলছে। আমি একটু ভাবলাম, তারপর এগিয়ে গিয়ে তার কলার চেপে ধরলাম। তাকে মারতে শুরু করলাম। বাস চলছে, তার মধ্যে আমি এই লোকটাকে পেটাচ্ছি।''

লাভলির মতো আরও অনেকেই এখন প্রতিবাদী হচ্ছেন, কিন্তু তাদের সংখ্যা হাতে গোনা, বলছেন 'ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান রোকসানা সুলতানা। শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করছেন তিনি।

''আমরা কেবল ধর্ষণকেই কেবল যৌন নির্যাতন বলে গণ্য করি। কিন্তু মেয়েরা যে আরও কতরকমের যৌন নির্যাতনের মুখোমুখি হন, টাচিং, ফন্ডলিং, যৌনাঙ্গ দেখানো, যৌনাঙ্গ স্পর্শ করা----এগুলোও তো যৌন নির্যাতন। কিন্তু কেউই আমরা এগুলো নিয়ে কথা বলি না লোকলজ্জার ভয়ে।''

''মুখ বুঁজে সয়ে গেলে এর কোন সমাধান নেই, প্রতিবাদে সোচ্চার হলেই কেবল এর প্রতিকার সম্ভব - See more at: http://www.kalerkantho.com/online/national/2015/05/25/226040?utm_source=vuukle&utm_medium=referral#sthash.r8N6vX9X.dpuf
Powered by Blogger.