অদ্ভুতুড়ে 12:06 AM

সিটি অব জয়' কলকাতায় এখন সাকিব আল হাসান। সেখানে মিষ্টি দই নাকি রসগোল্লা সেরা ঠিক করতে কষ্ট হয় সাকিবের। তবে লুচিটা তো মিস করা যায় না! সেই সাথে বলিউড মুভি দেখার সুযোগও ছাড়া যায় না।

 তবে কি আইপিএল ছেড়ে চলে আসছে  সাকিব?
 "শাহরুখ খান ছাড়া আমির খানও আমার পছন্দ। অভিনেত্রীদের মধ্যে ভালো লাগে কাজল, ক্যাটরিনা কাইফ আর দিপিকা পাড়ুকোনকে। পিকুটা খুব ভালো লেগেছে।" বললেন সাকিব।

ভারতের জনপ্রিয় সংবাদপত্র হিন্দুস্তান টাইমসকে সাকিব সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। বর্তমান সময়ের সেরা এই অল রাউন্ডার সেখানে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স নিয়ে কথা বলেছেন। বলেছেন নিজেকে নিয়ে। জাতীয় দর নিয়ে। উঠে এসেছে বেঙ্গালুরুতে ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নাটকীয় ম্যাচও। যে ম্যাচের শেষ ওভারের শেষ তিন বলে ৩ উইকেট হারিয়ে ১ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম আউট হওয়ার পর মাহমুদ উল্লাহ যে কোনো মূল্যে ১ রান নেবেন বলে ভেবেছিলেন সাকিব। বাকিটা তো ইতিহাস। কালের কণ্ঠের পাঠকদের জন্য সাকিবের সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করে দেয়া হলো।

প্রশ্ন: হতাশার বিশ্বকাপ গেলো। কিন্তু কি শিখলেন?
সাকিব: প্রত্যেক ম্যাচেই শেখার থাকে। অবশ্য আমি বলবো না এটা হতাশার ছিল। বলতে পারেন যে প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে পারিনি। এই ব্যাপারটি ছাড়া আমরা তো ভালো ক্রিকেট খেলেছি। একটা দুটো ম্যাচ জিততে পারলে দলটাকে অন্যরকম লাগতো। টি-টোয়েন্টি ম্যাচে কঠিন পরিস্থিতি বারবার আসে। তা থেকে অনেক কিছুই শেখার থাকে।

প্রশ্ন: ২০১৫'র সাফল্যে দেশের প্রত্যাশা নিশ্চয়ই অনেক বেড়েছিল। এটা কিভাবে সামলান?
সাকিব: জানি আমরা ভালো করলে প্রত্যাশা বাড়বেই। এটা নেতিবাচকভাবে নেয়ার কিছু নেই। আসলে আমরা এভাবে ভাবি যে 'আমাদের কাছে যেহেতু প্রত্যাশা অনেক তাহলে আমাদের সেই সামর্থ্যও আছে'। ইতিবাচকভাবে নেই আমরা।

প্রশ্ন: ভারতের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে। মাঠ ও মাঠের বাইরে। এটা কিভাবে দেখেন?
সাকিব: এটা আসলে মাঠের বাইরে বেশি। মাঠে দুই দলই জানে যার দিন ভালো যাবে সে জিতবে। দুই দলই সেরা খেলাটা খেলতে চায়। এর বাইরে কেউ কিছু ভাবে বলে মনে হয় না। এটা আপনি বলছেন সমর্থক ও মিডিয়ার তৈরি হাইপের কারণে।

প্রশ্ন: বেঙ্গালুরু ম্যাচে (ভারতের বিপক্ষে) শেষ সময়ে আপনার মনে কি চলছিল?
সাকিব: দুটি বাউন্ডারি মারার পর মুশফিক ভাই (মুশফিকুর রহিম) আউট হয়ে গেলেন। প্রথমেই আমার মাথায় এলো, যে কোনো মূল্যে রিয়াদ ভাইকে (মাহমুদ উল্লাহ) একটি রান নিতে হবে। তিনি তা পেলে তাদের শেষ ডেলিভারির জন্য মাঠ সাজাতে হতো। বাজে ব্যাপার হলো যখন ম্যাচটা টাই করার সুযোগ থাকলেও তা করতে পারিনি আমরা। ক্রিকেট এমনই।

প্রশ্ন: দুই বছর আগে বোর্ডের সাথে আপনার ঝামেলা হলো। খেলা ছাড়ার হুমকিও দিয়েছিলেন। সেই পরিস্থিতি থেকে উঠে এলেন কিভাবে?
সাকিব: ওই পরিস্থিতি থেকে বের হতে অনেক মানসিক জোরের দরকার পড়েছিল। আমার স্ত্রী, বাবা-মা ও বন্ধুদের অনেক সহায়তা পেয়েছি। তা না পেলে এখানে থাকতাম না। তারা বলেছিল আমি আমার অবস্থান ফিরে পাবো। ওটাই কাজে এসেছে।

প্রশ্ন: কেকেআর আপনার কাছে স্পেশাল কেন?
সাকিব: সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো এখানে আমার ঘরের মতোই লাগে। জাতীয় দল ছাড়া এখানেই আমি এত দীর্ঘ সময় ধরে খেলছি। আমাদের ভাষা এক, সংস্কৃতি এক, আবহাওয়াও এক। এমনকি বিমানে আসতে মাত্র ৩০ মিনিট লাগে! ভারতের অন্য রাজ্য থেকে খেলোয়াড়দের কলকাতায় আসতে এর চেয়ে বেশি সময় লাগে। শুধু কাটাতারের জন্যই আমাকে বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে খেলতে হয়। এখানকার মানুষ আমাকে তাদের একজন মনে করে। এখানকার আন্তরিকতাও বিস্ময়কর।

প্রশ্ন: কেকেআর সুপারস্টারের দল না। এই ফর্মুলা এখনো কাজে আসবে বলে মানেন?
সাকিব: আমাদের সুপারস্টার নেই কিন্তু প্রত্যেকে টিমম্যান। এটাই আমাদের শক্তি। সবাই শতভাগ দেয়। আমাদের সবার কাছে প্রত্যাশা এটাই।

প্রশ্ন: ৭ নম্বরে ব্যাট করে খুশি আপনি?
সাকিব: দলের প্রয়োজনে যে কোনো জায়গায় ব্যাট করতে খুশি আমি। যতোটা সম্ভব অবদান রাখতে চাই। তবে সব ম্যাচে তো আর ৭ নম্বরে ব্যাট করি না। এমন পরিস্থিতি আসে যখন আমাকে ৪ নম্বরে পাঠানো হয়। এসব নিয়ে আমি ভাবি না।

প্রশ্ন: সুনিল নারিন এখন খেলতে পারবেন। দল তাকে নিয়ে কতোটা আত্মবিশ্বাসী?
সাকিব: তার সাথে সবসময় কথা হয় আমার। ডাগআউট বসে দলের পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ হয়। আমাদের দুটি শিরোপা জয়েই তার বড় ভূমিকা ছিল। তার উপস্থিতি দলকে উজ্জীবীত করে। ছোটো সংস্করণের ক্রিকেটে সেই সম্ভবত সেরা স্পিনার।

প্রশ্ন: দলে আপনার কাছের বন্ধু কারা?
সাকিব: নারিন ও আন্দ্রে রাসেল। সবার সাথে বন্ধুত্ব আমার। কিন্তু যদি জানতে চান তাহলে বলবো এই দুজনের সাথে আমার খাতির বেশি।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়দের খাতির একটু বেশি নাকি?
সাকিব: এটা তাদের বন্ধুভাবাপন্ন আচরণের কারণে। আমি তাদের কাছে না গেলেও তারা আমার কাছে আসবে। এভাবেই সম্পর্ক তৈরি হয়।

Post a Comment

'; (function() { var dsq = document.createElement('script'); dsq.type = 'text/javascript'; dsq.async = true; dsq.src = '//' + disqus_shortname + '.disqus.com/embed.js'; (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(dsq); })();
Powered by Blogger.