অদ্ভুতুড়ে 5:27 AM

আমাদের শখের পোষা প্রাণীগুলোর যদি নামের তালিকা তৈরি করি তাহলে নিঃসন্দেহে বিড়াল সেখানে উপরের দিকের স্থান দখল করবে । কিন্তু বিজ্ঞানের ইতিহাসে এই বিড়ালের যে অনেক অবদান আছে তা আমরা কতজন জানি? এক অসাধারণ বিজ্ঞানীর ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনে দিয়েছিলো এক বিড়ালই সেই খবর আমরা কি জানতাম? আজকে এসব নিয়েই একটু আধটু আড্ডা হয়ে যাক...

তিন পর্বের ১ম পর্ব আজ ।


২০০১ সালের কথা । এন্ড এম ইউনিভার্সিটি- টেক্সাস এ ‘অপারেশন কপিক্যাট’ নামে চালানো হয় একটি গবেষণা । এই গবেষণার ফসল হিসেবে জন্ম হয় বিশ্বের সর্বপ্রথম ক্লোন বিড়াল সিসি (CC) । এখানে সিসি-এর পূর্ণরূপ হলো ‘কার্বন কপি (Carbon Copy)’।
সিসিকে ক্লোন করার জন্য রেইনবো নামক একটি স্ত্রী-বিড়ালের ডিএনএ এমন একটি এগ সেলে প্রতিস্থাপন করা হয় যার নিউক্লিয়াস আগেই অপসারণ করা হয়েছিলো । পরবর্তীতে এই ভ্রূণটিকে অ্যালি নামক অপর একটি বিড়ালের দেহে প্রতিস্থাপন করা হয় ।
জন্মের পর আর আট-দশটা সাধারণ বিড়ালের মতোই জীবন-যাপন করেছিলো এই সিসি । এমনকি ২০১১ সালে পাওয়া সর্বশেষ খবর অনুযায়ী সে বেশ কয়েকটি সুস্থ বাচ্চারও জন্ম দিয়েছিলো ।



বিশ্ববিখ্যাত আমেরিকান জ্যোতির্বিদ এডউইন হাবলের কোলে আরাম করে শুয়ে থাকা এই বিড়ালটির নাম নিকোলাস কোপার্নিকাস ! বিড়ালের নামটি কি চেনা চেনা লাগছে? বলুন তো এই নিকোলাস কোপার্নিকাসই বা কে?
ক্যালিফোর্নিয়ার সান ম্যারিনোতে অবস্থিত হান্টিংটন লাইব্রেরিতে পাওয়া হাবলের স্ত্রীর একটি চিঠি থেকে হাবলের সাথে কোপার্নিকাসের সম্পর্কের গাঢ়ত্ব বোঝা যায়ঃ
“When E worked in the study at his big desk, Nicolas solemnly sprawled over as many pages as he could cover. ‘He is helping me,’ E explained. When he sat on E’s lap, he purred differently, a slow, lion-like purr…. ‘Is that your cat purring?’ I would ask, and E would look up from his book, smile, and nod his head”
কিন্তু কোপার্নিকাস আসলে হাবলকে কোন কাজে সাহায্য করেছিলো? তা হাবল সাহেবই ভালো জানেন...



কথিত আছে জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইন নাকি তারহীন টেলিগ্রাফের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে বলেছিলেন, “দেখো, তারযুক্ত টেলিগ্রাফ আসলে একটি অনেক, অনেক লম্বা বিড়ালের মতো। তুমি নিউ ইয়র্কে বসে এর লেজ ধরে টান দেবে আর এর মাথাটি লস অ্যাঞ্জেলসে মিউমিউ করে উঠবে। ব্যাপারটি কি বুঝতে পেরেছো? আর রেডিও ঠিক একই নীতিতে কাজ করে। তুমি এখানে বসে সিগন্যাল পাঠাবে আর ওরা আরেক জায়গায় বসেই সেই সিগন্যাল রিসিভ করবে। পার্থক্য হলো তখন আর কোনো বিড়ালের দরকার হচ্ছে না”।
তবে উপরোক্ত কথাগুলো আইনস্টাইন আসলেই বলেছিলেন কি না সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।



১৯৬০ সালের দিকে সিআইএ এক অদ্ভুত অপারেশনে নামে যার নাম ছিলো ‘Operation Acoustic Kitty’। এই অপারেশনের মূল উদ্দেশ্য ছিলো বিড়ালদের ট্রেনিং দিয়ে তাদেরকে রাশিয়ান নানা গোপন সংবাদ আড়ি পেতে শোনার ব্যবস্থা করা !
বিড়াল আবার কীভাবে মানুষের কথা বুঝবে? আসলে ব্যাপারটি ছিলো অনেকটা আমাদের ছোট বেলায় গল্পে পড়া ‘বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধা’র মতোই । এখানে বিড়ালগুলোর কানে মাইক্রোফোন আটকানো থাকতো, কলারের কাছে থাকতো একটি ট্রান্সমিটার আর লেজের সাথে থাকতো অ্যান্টেনা!
সব ঠিকঠাক, প্রথম জেমস বন্ড বিড়ালটিকে কাজে পাঠানো হলো। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিড়ালটি মারা যায় । না, শত্রুপক্ষের হাতে না । এক ট্যাক্সি তার উপর দিয়ে চলে গিয়েছিলো...
১৯৬৭ সালে প্রকাশিত এক স্মারকলিপিতে এই প্রজেক্টটি সম্পর্কে এভাবেই উপসংহার টানা হয়েছিলো, ‘the program would not lend itself in a practical sense to our highly specialized needs’।

Post a Comment

'; (function() { var dsq = document.createElement('script'); dsq.type = 'text/javascript'; dsq.async = true; dsq.src = '//' + disqus_shortname + '.disqus.com/embed.js'; (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(dsq); })();
Powered by Blogger.