অদ্ভুতুড়ে 5:19 AM



বর্তমান দিনের খুব সাধারণ দৃশ্য এমন যে ছেলে অথবা মেয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার মুঠোফোনের স্ক্রিনের দিকে, সাথে আঙুল চলচ্ছে কি-প্যাডে, মাঝে মাঝে আপন মনেই হেসে উঠছে । রাস্তায় বের হলে এমন দৃশ্য তো হর হামেসাই চোখে পড়ে । আর শুধু ঘরেরে বাইরের কথাই বা বলব কেন? ঘরের ভেতরেও তো সারাদিন একই অবস্থা চলছে । একটা সময় ছিল মানুষ একসাথে হলে সারাক্ষণ আড্ডায় মেতে থাকতো আর এখন সেখানে কিছুক্ষণ কথাবার্তার পরই সবাই মুঠোফোনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে । এ সব আধুনিক প্রযুক্তি যুগের সুফল নাকি কুফল বলব তাই ভাবছি ।

বর্তমান সময়ে প্রতিদিন গড়ে চার ঘন্টা একজন মানুষ মুখ গুঁজে পড়ে থাকে মুঠোফোন অথবা ল্যাপটপের স্ক্রিনে, বইয়ের পাতার মাঝে, বছরে প্রায় ১৪৬০ ঘন্টা । কিন্তু চিন্তা করে দেখেছেন কি কখনো চিন্তা করে দেখেছেন কি সামান্য এই মাথা নিচু করে তাকাতে আমাদের শরীরের উপর কতটা চাপ পড়ে?

কিছুদিন আগে এমনই একটি হিসাব প্রকাশ করেছেন Surgical Technology International জার্নালে নিউ ইয়র্কের ব্যাক সার্জন (Back Surgeon) কেনেথ হ্যান্সরাজ মানুষের মেরুদণ্ডের কম্পিউটার মডেলের সাহায্যে ।



হ্যান্সরাজ বলেছেন যে আমরা যখন ফেসবুক ব্যবহার করি, মোবাইলে এসএমএস আদান-প্রদান করি কিংবা অন্যান্য কাজে ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকি (০ ডিগ্রি কোণ) তখন আমাদের মাথায় যে ওজনের চাপ পড়ে তা প্রায় ১২ পাউন্ডের সমান ।
মাথা ঝোঁকানোর মাত্রা সামনের দিকে যত বাড়তে থাকে, ঘাড়ের উপর চাপ ততই বৃদ্ধি পেতে থাকে । মাথা যখন ১৫ ডিগ্রি কোনে ঝুঁকে থাকে ওজন তখন ২৭ পাউন্ডের মতো, ৩০ ডিগ্রির সময় ৪০ পাউন্ড । এভাবে আমাদের স্বাভাবিক যে অবস্থা হয় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের সময় (৬০ ডিগ্রি) তাতে প্রায় ৬০ পাউন্ডের মতো ওজন আমাদের ঘাড়ের ওপর থাকে ।


ভাবছেন কতটা ওজন? এই ওজন প্রায় চারটি বোলিং বল অথবা আট বছর বয়সী কোনো বাচ্চার গড় ওজনের সমান । আপনি যখন মাথা ঝুঁকিয়ে ফেসবুকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তখন একটা বাচ্চা আপনার ঘাড়ের উপর বসে মনের আনন্দে আপনাকে ঘোড়া বানিয়ে খেলছে ।


তবে কি এখন মোবাইল-ল্যাপটপ বাদ দিয়ে দিন-রাত মূর্তির মতো বসে থাকতে হবে?

এ ব্যাপারে মাসক্যুলোস্কেলেটাল (Musculoskeletal) ফিজিওথেরাপিস্ট টামের সাবেট বলেন, শুধুমাত্র মোবাইল ফোন ব্যবহারকেই ঘাড় ব্যাথার জন্য দায়ী করা উচিত হবে না । এর পেছনে একইসাথে বয়স, লিঙ্গ, পেশার ধরণ, পেশাগত চাপ, পেশাগত ভিন্নতা এবং নানা ধরণের সাইকো-স্যোশাল ফ্যাক্টর জড়িত আছে । শুধু মোবাইল ফোনের কথা বললে আসলে বাকিগুলোর অস্তিত্বকে অস্বীকার করা হয় ।

Post a Comment

'; (function() { var dsq = document.createElement('script'); dsq.type = 'text/javascript'; dsq.async = true; dsq.src = '//' + disqus_shortname + '.disqus.com/embed.js'; (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(dsq); })();
Powered by Blogger.